রানীওয়াড়া টাউনশিপ নামটি কাল্পনিক। চরিত্রগুলির নামও যে তাই—জানাতে ভোলেননি বুদ্ধদেব গুহ।কিন্তু এর বাইরে?বিন্ধ্যাচলের অদূরের এক জনপদ এবং তার স্থায়ী ও প্রবাসী বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা, আচার-সংস্কার, উৎসব-উদ্দীপনার যে-ছবিটি সূক্ষ্ম ও আন্তরিক আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। বুদ্ধদেব গুহ, তা কিন্তু একেবারেই কাল্পনিক মনে হয় না। এই পটভূমিতে যে-দলটি পুজোর ছুটিতে সেবার বেড়াতে গেল, তারাও প্রত্যেকে যেন অতি জীবন্ত।পুজোর ছুটি মানেই বাঙালীর মনে উৎসবের এক মায়াময় আবেশ। সেই আবেশের রেশটিকেই যেন দুর্লভ কৃতিত্বে আদ্যন্ত ধরে রেখেছেন বুদ্ধদেব গুহ। কয়েকটি মাত্র দিন। তবু প্রতিটি তিথি যেন অচেনা রাগে রঞ্জিত। হাসিতে, মস্করায়, পানে, ভোজনে, গানে, শিকারে, পুজোমণ্ডপের আরতিতে, জলসায়। আর? আর প্রেমে।একটি ছিন্ন প্রেম সম্মান পেল বাঞ্ছিত সম্মিলনে। একটি অজানা প্রেমের কুঁড়ি একটু-একটু করে মেলে দিল তার অপরূপ পাপড়ি ও মাধুরী। কীভাবে, তাই নিয়েই এই স্নিগ্ধ, মরমী উপন্যাস।
Buddhadeb Guha (Bengali: বুদ্ধদেব গুহ) is a popular Bengali fiction writer. He studied at the well-known St Xavier's College of the University of Calcutta.
His novels and short stories are characterized by their dreamy abstractness and romantic appeal. His essays reveal the soul of a true wanderer providing some of the most beautiful renditions of travel in Bengal. His love for forests and nature provide the background for many of his novels.
A highly successful chartered accountant by profession, and an accomplished musician, Guha is very urbane in his lifestyle. He was one of the first to create characters representing easy-going, upper middle-class modern Bengali families, whom readers could identify with, and that gave him instant popularity.
He is the recipient of many awards including Ananda Puraskar, 1976; Shiromani Puraskar; and Sharat Puraskar.
The Library of Congress has over fifty titles by him. His most famous novel, according to many, is Madhukori. It is considered a milestone in Bengali literature. He is also the creator of Rijuda, an imaginary character who moves about in jungles with his sidekick Rudra. The jungles that he wrote about were mainly in Eastern India.
"প্রেম ও তো পূজোই একরকমের। মস্ত বড় ধরনের পূজো। যে পূজোর মন্ত্র খুব কম পুরোহিতরাই জানেন।"
"ডিগ্ৰির কাগজ তো আলমারির ভ্যাপসা ড্রয়ারের মধ্যে ন্যাপথলিনের গুলি ঘেরা অবস্থাতে সযত্নে পাকানোই থাকে। মানুষ পণ্ডিত কি উচ্চবংশজাত তা শুধু তার ব্যবহারে, আচারে, কথাবার্তায়, আচরণেই প্রকাশ পায়। মানুষ যদি মনুষ্যপদবাচ্য না হয় তাহলে তার জাতের উচ্চতা ঘর্মাক্ত গেঞ্জির তলায় উপবীতের মতো তার উচ্চবর্ণের এবং ডিগ্ৰির প্রমাণ চাপা পড়ে থাকে।"
"আসলে আমরা সবাই-ই একা। একা আসা, একা ভাসা, একা চলে যাওয়া।"
"প্রত্যেক মানুষেরই জীবনের একটা মানে থাকা দরকার। জন্মালে মানুষকে মরতে হয়ই। কিন্তু জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়টুকুকে ঠিক কীভাবে কাজে লাগানো উচিত সে সম্বন্ধে যখন মনে এক স্পষ্ট ধারণা গড়ে উঠতে থাকে তখন বড়ই দেরি হয়ে যায় বোধহয়। জীবনের প্রায়রিটিজ যারা অল্পবয়সে স্থির করে নিতে না পারে তাদের পরবর্তী জীবনের সমস্ত প্রাপ্তিই বোধহয় সম্পূর্ণ নিরর্থক হয়ে যায়।"
"একটাই জীবন। জীবনের দাবার গুটি ভুল চেলে দিলে আর তা ফেরানো যায় না। এর চেয়ে বড় বাস্তব সত্য আর নেই।"
"আমরা প্রত্যেক মানুষই আলাদা আলাদা ইণ্ডিভিজুয়াল। অন্য ইণ্ডিভিজুয়ালের ইণ্ডিভিজুয়ালিটিকে যে মানুষ সম্মান করতে পারে না তার নিজের পক্ষেও সম্মানিত হওয়া দুরূহ।"
"মাথা উঁচু করে বোধহয় জীবনে সবই পাওয়া যায় শুধু ভালোবাসা ছাড়া।"
"প্রত্যেক পুরুষ এবং নারীর জীবনেই দেবদূর্লভ কিছু মুহূর্ত আসে, যখন কথা বলে যতটুকু বলা যায়; কথা না বলে হয়তো বলা যায় তার চেয়ে অনেকই বেশি।"
বুদ্ধদেব গুহের পড়া প্রথম বই এটি। ভাল লেগেছে বইয়ের ক্যারেক্টারগুলো ও তাঁদের সারগর্ভ কথাগুলো। প্রথম দিকে একটু বিরক্তি লাগলেও পরবর্তীতে কেবল মোহিত হয়েছি। বিশেষ করে সঙ্গীত নিয়ে উচ্চ-মার্গীয় আলোচনা। আর দুই ভাই পগাদা ও ভগাদার প্রেমে না পরে থাকতে পারিনি। বিশেষত ভগাদার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কেবল "ভোগলা" খাওয়ানোর জন্য।
সূক্ষ্মভাবে পুরনো বোতলে পুরনো মদের সাথে ইন্টেলেকচুয়ালিটি পরিবেশন করা হয়েছে। বাণিজ্যিক হিসেবে যা যা দরকার তা মেন্যুতে বিদ্যমান। হাসি, রবীন্দ্রনাথের নায়ক, নায়িকা, লেখকের শিকার, গান, আঁতেল, দেশ প্রায় সবকিছু যা লেখকের অন্য সাধারণ উপন্যাসে থাকে। বাণিজ্যিক হিসেবে বইটি সফল হয়েছিল কিনা জানি না তবে হওয়ার কথা।
পুজোর সময়ে is more than just a festive tale. It is a meditation on the passage of time, the importance of heritage, the changing India and the bittersweet beauty of Indian culture. Guha’s ability to juxtapose the grandeur of the Indian society with the quiet, often unspoken emotions of his characters is what makes this work so profoundly moving.