ধীরে অখচ নিশ্চিত প্রত্যয়ে আত্মজীবনীমূলক লেখাগুলো আমাদের তমসাচ্ছন্ন রাজনৈতিক স্মৃতির আকাশ আলোকিত করে তুলেছে । এই সমস্ত আত্মজীবনী শুধুমাত্র অতীতকে জানার রসদই জোগায় না বরং আমাদের রাজনৈতিক আত্মার উৎসকে বিশ্লেষিত করে। অলি আহাদ যে কোন হিসেবেই আমাদের কালের অন্যতম বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিতর্কমূলক রাজনৈতিক বক্তব্যের জনক প্রকৃতপক্ষে একজন নির্ভেজাল দলীয় রাজনীতিবিদের পরিচয়কে ছাপিয়ে সামরিক শাসন বিরোধী তাঁর আপোষহীন ভূমিকা ও সমালোচনা তাঁকে স্বনাম ধন্য করেছে। যদি কোন কিছু তাঁর ব্যক্তিত্বকে গৌরবোজ্জ্বল করে থাকে তা হচ্ছে তাঁর সদা সাহসী স্পষ্টবাদিতা ।
যাঁরা সমস্ত প্রলোভনকে জয় করে স্বীয় বিশ্বাসে নিবেদিত তা ভুল বা নির্ভুল যাই হোক না কেন, আজকের দিনে নিশ্চিতভাবেই সেই চরিত্রের লোকের সংখ্যা বিরল ।
সহজ, সরল, স্পষ্টবাদী অথচ খুবই ঝাঁঝাঁলো স্বরগ্রামে বাঁধা ৫৭৫ পৃষ্ঠার এই বই একটি চলন্তিকা যেন। এ স্মৃতিচারণায় মোলায়েমভাবে কথা ভলার বাসনা অলি আহাদের নেই। তা তিনি করেনও নি । তাঁর দৃষ্টিকোণ হচ্ছে একজন একগুঁয়ে ব্যক্তির, যিনি লোকে কি বলবে বা ভাববে তার তোয়াক্কা করেন না। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, যখন ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে দ্বিচারণই সার্বজনীন, তখন অলি আহাদের ক্রুদ্ধ ও সত্যনিষ্ঠ আওয়াজ বহুলাংশে প্রেরণাদায়ক । এমনকি তাঁর মতামতসমূহও মৌলিক। এবং যেহেতু তিনি তাঁর অতীতের কোন কাজকে ন্যায়সঙ্গত বলে প্রমাণ বা প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেননি, সেগুলো সত্য বলে স্বপ্রমাণিত এবং এজন্য সেগুলো মূল্যবান ।
বহু স্মৃতিকথা ও অভিমতের সমন্বয়ে অলঙ্কার বিবর্জিত এই বইটি একটি প্রধান ঐতিহাসিক দলিল। কারণ এটি আমাদেরকে বাংলাদেশের এমন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পটভূমি বুঝতে সাহায্য করে যিনি তাঁর রাজনৈতিক সততা ও দুর্নীতিমুক্ত চরিত্রের জন্য সকলের শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন, যদিও কারো কারো কাছ থেকে এসেছে ঈর্ষামিশ্রিত শ্রদ্ধা ।
রাজনীতিক, ভাষাসৈনিক জনাব অলি আহাদের ৫৬৬ পৃষ্ঠার বিশাল কলেবরের বই।
জনাব অলি আহাদ দুর্দান্ত প্রপাগান্ডিস্ট। তিনি ছয়দফাকে বলেন, সিআইএর প্রেসক্রিপশন, মুজিবকে বলেন সিআরএর চর। আবার, পরের পৃষ্ঠায় লিখেন ছয়দফার পক্ষ জনতা একাট্টা হয়েছে, মানুষের নেতা শেখ মুজিব!
ভারত বিরোধীতাকে তিনি ঘৃণা করেন, আবার নিজেই হন উগ্র ভারতবিরোধী! সাম্রাজ্যবাদকে বাদ দিয়ে ন্যাপে যোগ দেন, নিজেই বলেন সমাজতন্ত্রীরা ভুয়া।