তুষারশুভ্র কিরীটশোভিত হিমালয়ের রহস্যময় পর্বত কন্দর, কোস্টারিকার ক্লাউড ফরেস্ট বা মেঘ-অরণ্য, রাব-আল-খালি-র কুখ্যাত মরুভূমির হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন নগরী, আফ্রিকার বনভূমির 'চাইল্ড আর্মি', অথবা ইতিহাসের গন্ধমাখা রবিনহুডের সেই শেরউড বন ! কখনও অদেখা পৃথিবী, কখনও ইতিহাসের গন্ধমাখা পটভূমিতে পাঁচটি রহস্যময় রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস এক মলাটে সংকলিত ।
সূচী-
বরফ দেশের ছায়ামানুষ কোস্টারিকার রক্তচোষা বিছে মানুষের দাঁড়া চাঁদের বাজনা শেরউড বনের শিঙ্গা
ক্রিপ্টোজুলজিস্ট হেরম্যান ও তাঁর সঙ্গী সুদীপ্ত'র তিনটি রোমাঞ্চকর কাহিনি দিয়ে শুরু হয়েছে এই বই। এরা হল~ ১. বরফ দেশের ছায়ামানুষ ২. কোস্টারিকার রক্তচোষা ৩. বিছে মানুষের দাঁড়া গল্প হিসেবে এদের প্রতিটিই একেবারে ডি-লা-গ্র্যান্ডি লেভেলের। কিন্তু বানান, মুদ্রণপ্রমাদ, আর একটি কাহিনিতে তথ্যগত ভ্রান্তি মনকে ভারাক্রান্ত করে তোলে। মূলত সেই জন্যই এই বইয়ের একটি তারা খসল। এরপর এসেছে লেখকের অন্য 'সিরিজ' প্রফেসর জুয়ান এবং তাঁর সহকারী দীপাঞ্জনের দুটি অভিজ্ঞতা~ ৪. চাদের বাজনা ৫. শেরউড বনের শিঙা এই দুটি কাহিনিই মানবেতিহাসের একটি অতীত আর একটি সাম্প্রতিক, অথচ সমভাবে উপেক্ষিত রক্তিম অধ্যায়ের দিকে দৃষ্টিপাত করায়। এমন গতিময়, তথ্যানুগ অথচ মানবিক লেখাই আজকের কিশোরদের পক্ষে জরুরি। পরবর্তী সংস্করণে বইটির সম্পাদনার ব্যাপারে যত্নশীল হলে তা বইটিকে পাঠকদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে। ইতিমধ্যে, যদি ওই ত্রুটিগুলো উপেক্ষা করে কিছু রুদ্ধশ্বাস অ্যাডভেঞ্চার পড়তে চান, তাহলে এই বইটিকে অবশ্যই আপন করে নিতে পারেন।
শীতকাল এলেই মনটা কেমন ভ্রমণপিপাসু হয়ে ওঠে।কোথাও যেন পড়েছিলাম বই এমন এক জিনিস যার মাধ্যমে এক স্থানে থেকে সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়ানো যায়।তাই আমিও হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তের অ্যাডভেঞ্চার সমগ্রের হাত ধরে ভ্রমণে বেড়িয়ে পড়লাম। এর আগেও আমি অ্যাডভেঞ্চার গল্প পড়েছি কিন্তু এ যেনো এক্কেবারে আলাদা ধরনের বই। এককথায় ভয়ংকর সুন্দর।
(১)বরফ দেশের ছায়ামানুষ :(৩ স্টার) ক্রিপ্টোজুলজিস্ট হেরম্যানের সাথে আলাপ হয় সুদীপ্তর। তারা এসেছে ভয়ংকর সুন্দর হিমালয়ে। ক্রিপ্টজুলজি শব্দের অর্থ হলো ধাঁধা জীববিদ্যা।এই পৃথিবীতে পরিচিত প্রাণীকুলের বাইরেও বিভিন্ন লোককথা উপকথায় এমন অনেক প্রাণীর কথা শোনা যায়,যাদের মানুষ কল্পলোকের প্রাণী বলেই ভাবে, অথবা এমন কোনো প্রাণী যারা লক্ষ কোটি বছর আগে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে ধারণা আধুনিক পৃথিবীর।এসব প্রাণীকে বলে ক্রিপটিড।আর যারা তাদের নিয়ে চর্চা করে তাদের বলা হয় ক্রিপ্টজুলজিস্ট। এখান কার মিগু গুম্ফাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি রহস্যময় খবর লোকমুখে প্রচারিত আছে। তিব্বতী ভাষায় এই 'মিগু' শব্দের অর্থ হল বরফের বুনো মানুষ অর্থাৎ ইয়েতি।আর হেরম্যান এসেছে এই রহস্যময় প্রাণী ইয়েতির খোঁজে।এরপর দুজনে অনেক টা পথ অতিক্রম করে মিগু গুম্ফার কাছে উপস্থিত হয় এবং মঠাধ্যক্ষ লামা ডং রিম্পুচির কাছে আশ্রয় গ্রহণ করে।সেদিন রাতেই তারা এক আশ্চর্য জিনিস দেখতে পায়....আলো অন্ধকারে ঠিক দেখা না গেলেও তুষার চিতা বলেই মনে হয়।দিন কয়েক পেরিয়ে গেলে সেই প্রাণীর দেখা তারা পায়না, তবে পায়ের ছাপ দেখতে পায়, সেই সঙ্গে লামা ডং এর অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ডও তাদের চোখে পড়ে।তবে সত্যিই কি তারা ইয়েতির দেখা পাবে নাকি যুগ যুগ ধরে চলে আসা সব গল্পই মিথ্যে !!? নাকি নতুন কোনো রহস্যের সন্ধান পায় তারা ?
(২) কোস্টারিকার রক্তচোষা : (৩স্টার) রক্তচোষা শব্দটার মধ্যেই কেমন যেন একটা ভয়ংকর ভাব আছে। হেরম্যান ও সুদীপ্তর এবারের অভিযান কোস্টারিকার কুয়াশা বন।কিছুদিন ধরেই সেখানে এক রক্তচোষা প্রাণীর উৎপাত শুরু হয়েছে - প্রথমে তার শিকার হত পশুরা, পরে মানুষও এর শিকার হতে শুরু করে।কুয়াশা বন থেকে রাতের অন্ধকারে নেমে আসে সেই রক্তচোষা চুপাকাবরা। হৃৎপিন্ডে ছিদ্র করে রক্ত চুষে খায়।লোকমুখে শোনা যায় এ কোনো প্রেতাত্মা,আবার শোনা যায় এ কোনো ভিনদেশী প্রাণী। হেরম্যান - সুদীপ্ত কি শেষ পর্যন্ত এই রহস্য সমাধান করতে পারে ? নাকি তারা শিকার হয় অজানা কোনো ফাঁদের !?
(৩) বিছে মানুষের দাঁড়া : (৪ স্টার) আরবের বিখ্যাত বা কুখ্যাত রাব আল খালি মরুভূমি, যাকে বলা যায় জীবাশ্মের ভান্ডার।এবার সেখানের উদ্দেশ্যেই বেরিয়েছে হেরম্যান ও সুদীপ্ত, তবে এবার তাদের সঙ্গে আছে প্যালিয়েন্টোলজিস্ট বা জীবাশ্মবিদ বার্টন।মরু যাযাবরেরা বলে সেখানে নাকি মাঝে মাঝে দেখা যায় দানব কাঁকড়া বিছে। কিন্তু লক্ষ কোটি বছর আগে পৃথিবী থেকে লুপ্ত হয়ে গেছে দানব কাঁকড়া বিছে ইউরেপুটেরাস ; এরই খোঁজে বেরিয়েছে হেরম্যানরা, আর বার্টন বেরিয়েছে এদের জীবাশ্ম উদ্ধারে।মৃত নগরীতে পৌঁছাবার জন্য বার্টন একজনের সাহায্য নেয়, যে কিনা এক অদ্ভুত ধরনের মানুষ আবার রহস্যময়ও বটে, তবে ঠিক মানুষ না যাকে বলে বিছে মানুষ। বুকের ওপর ভর করে কাঁকড়া বিছেদের মতো তার চলন,নাম টিম্বার। কে এই টিম্বার? কি তার আসল পরিচয় ? শেষ পর্যন্ত কি তারা দানব কাঁকড়া বিছের দেখা পায়?
(৪) চাদের বাজনা : (৪ স্টার) চাইল্ড আর্মি বা শিশু সৈন্য নিয়ে বাংলায় লেখা এটিই প্রথম(সম্ভবত) কিশোর উপন্যাস। এই গল্পের দুজন কেন্দ্রীয় চরিত্র - ইতিহাস গবেষক অধ্যাপক জুয়ান এবং তার ভ্রমণপিপাসু ভারতীয় বন্ধু দীপাঞ্জন সেন।গল্পের পটভূমি আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ চাদ। ইউনেস্কোর এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে তারা এখানে আসে। সেখানে তাদের সাথে আলাপ হয় এক ফরাসী ভদ্রলোক শ্যাঁপেলিও। সেইই তাদের গাইড এমি কুস্যিকে বলে চাদের এক বিশেষ বাজনা 'ফুলানি ট্যামট্যাম' কিনতে চায়। এই উদ্দেশ্যে তারা যাত্রা শুরু করে চাইল্ড আর্মির হাতে ধরা পড়ে।কিভাবে তারা মুক্তি পায় ? এবং শেষপর্যন্ত কি 'ফুলানি ট্যামট্যাম' শ্যাঁপেলিও হাতে পায় ?
(৫) শেরউড বনের শিঙা : (২ স্টার) প্রফেসর জুয়ান ও তার বন্ধু দীপাঞ্জন ইতিহাসের খোঁজে এবার হাজির হয় লন্ডনে। সেখান থেকে কিছুটা দূরেই অবস্থিত ইতিহাসের গন্ধমাখা শেরউড বনের জমিদারবাড়ি।জুয়ান ও দীপাঞ্জন এবার এই জমিদার বাড়িতেই ওঠে। এই জমিদারবাড়িতে এমনিতে কোনো রক্ষীকে দেখা যায় না, তবে শোনা যায় এখানে সব অদৃশ্য প্রহরী পাহারা দেয়। এছাড়াও এক স্কন্দকাটা প্রেতাত্মা ঘুরে বেড়ায়। কিসের খোঁজে আসে সেই প্রেতাত্মা ? আর কি রহস্য লুকিয়ে আছে এই বাড়িতে ?
সত্যি বলতে লাস্ট গল্পটা পড়তে আমার একদম ভালো লাগেনি, খুব bore হয়েছি। তবে বাকিগুলো বেশ ভালো। অ্যাডভেঞ্চার সমগ্রের বাকি পার্ট গুলো পড়ার ইচ্ছা রইল।
রেটিং 4 দিলাম যদিও কিন্তু দে জ পাবলিশিং এ এত বানান ভুল প্রচন্ড বিরক্তিকর। এডভেঞ্চার সমগ্র 1 এর থেকে 2 এর গল্প অনেক বেশি পরিণত। দ্বিতীয়ত প্রফেসর জুয়ান ও দীপাঞ্জন এর গল্প গুলো হেরমান ও সুদীপ্ত র গল্পের তুলনায় বেশি ভালো।