ডিবির এক জুনিয়র অফিসার সৌরভ।ডেস্ক জবের বেড়াজাল পেরিয়ে পায় নিজের জীবনের প্রথম কেস।খুন হয়েছে এক মেয়ে।সন্দেহের তীর মেয়েটির এক্স-বয়ফ্রেন্ডের দিকে।জাল গুটিয়ে আনার পর বোঝা গেল অবস্থা আপাতদৃষ্টিতে যা মনে হচ্ছে তার থেকেও জটিল।খুন হয়ে গেল আরো দুটো।তবে কি ঢাকার রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে উন্মত্ত কোন সিরিয়াল কিলার?!জীবনের প্রথম কেসেরই সমাধান কি সৌরভ খুঁজে পাবে না?!
কিছু আবেগের অনুভূতি কখনও যায় না বরং সময়ের সাথে ধীরে ধীরে বিষফোঁড়ার রূপ নেয়...
বনানী এলাকায় বস্তার ভেতর এক তরুণীর বিভৎস ছিন্নভিন্ন লাশ পাওয়া গেছে। সাধারণ কেস হিসেবেই আসে ডিবি কর্মকর্তাদের কাছে। দেশে খুন তো আর কম হচ্ছে না। ফিল্ড ওয়ার্কে নেমে পড়ে তরুণ অফিসার সৌরভ। কিন্তু জল ঘোলা হতে থাকে ক্রমশই। পরপর খুন হয়ে যায় আরও দুই তরুণী! সাইকোকিলারের আবির্ভাবে কেঁপে উঠে ডিপার্টমেন্ট। হন্যে হয়ে খোঁজা শুরু হয় কিন্তু সবজায়গায় পাওয়া যায় এক রহস্যময় নারীর পদচারণ। কাকতালীয় নাকি অন্যকিছু?
অফিসার সৌরভের জবানিতে লেখা ❝ছায়াবাজি❞। শুরুর দিকের ঘটনা গড়িয়েছে খুবই ধীরে। পুলিশি প্রসিডিওর মোটামুটিভাবে দেখানো হয়েছে, সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার দায়িত্ব পেলে যা হয় আরকি। যদিও খুব একটা অভিজ্ঞ অফিসার নয় সৌরভ লেখক এমনটা দেখানোর জন্যই কাহিনী জমে ওঠে নায় তেমন। খুনি, মোটিভ, প্লট ভালো হলেও কিছু খটকা আছে। ডায়েরিতে খুনি ভিক্টিমদের ঘটনা পরপর যেভাবে বর্ণনা করেছে যেন সারাক্ষণই তাদের সাথে ছিল! বিশেষ করে ইরিনার কেসে। তাদের গুপ্ত আচারের কথা কীভাবে জেনেছে তারা তো লুকিয়েই করতো? এ বিষয়গুলো অস্পষ্ট থেকে গেছে। সবচেয়ে বড় অসংগতি হলো ছদ্মবেশ, ছেলে মেয়ের ছদ্মবেশ নিতেই পারে কিন্তু শারীরিক গঠন যেমন মনে হয়েছে তাতে যতো ভালো করেই সাজা হোক না কেন সন্দেহের জায়গা থাকেই। আবার ভিক্টিমরা খুনির এত কাছে যাওয়া এবং স্পর্শের পরও বুঝলো না যে পুরুষ নাকি নারী! এটলিস্ট নিতুর ক্ষেত্রে এমনটা মানায় না।
দিবাকর দাস এর প্রথম দিকের লেখা, সেটার ছাপ পাওয়া গিয়েছে পুরো বই জুড়েই।
থ্রি স্টার দিতাম, কিন্তু নিতুকে হত্যা করার ব্যাপারে কিছুটা খটকা আছে। একটা মহিলার সাথে তার বাসায় গিয়ে কোন মেয়ে 'অগোছালো ব্যাচেলার বাসা' গুছিয়ে দেবে না বিনা প্রশ্নে, মহিলার ছদ্মবেশ খোলার জন্য নিতুর জ্ঞান ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষার প্রয়োজন নেই, তাছাড়া নিতুর নাম ইয়াসমিন হয়ে থাকলে সে ডিবি-র ওয়ার্নিং পেয়েছে, সেক্ষেত্রে মাত্র দুমাসের পরিচয়ে মহিলার সাথে মহিলার গাড়িতে করেই তার বাসায় যাবেনা।
কাহিনি ঝুলে গিয়েছে কেবল এখানেই। নিতুকে পটিয়ে বাসায় এনে হত্যা করার জন্য মহিলার ছদ্মবেশ নেওয়ার প্রয়োজনই ছিলো না। ডিবির অফিসারের সাথে রিলেশন করবেই যেকোনো মেয়ে, আর বইয়ের মূল কথা মতো যদি সে মেয়ে প্লেগার্ল টাইপের হয় তবে তো সুযোগ লুফে নেবে৷
আবার, একজন পুরুষ যতই ভালোভাবে মহিলার ছদ্মবেশ নিক, তার শরীরে হাত দিলে বা খুব কাছে আসলে ব্যাপারটা যেকোনো মেয়ে অন্তত বুঝে ফেলবে। অথচ ঢাবির সেই মেয়ে কিংবা নিতু দুজনেই 'অসুস্থ' মহিলাকে সাহায্য করেছে; টের পেলো না কেন?
This entire review has been hidden because of spoilers.