ফয়সাল, তকি, লিমন, আকরাম ও আশরাফ। এই পাঁচজনকে নিয়েই দুঃসাহসী পাঁচ এর প্রথম অভিযানের গল্প এই ভয়াল ভয়ঙ্কর। এই সিরিজের বইগুলো আমি প্রথম পড়েছিলাম আজ থেকে বহু বছর আগে, যখন আমি স্কুলে পড়তাম। কিশোর এডভেঞ্চার সিরিজের এই বইগুলো ছাপা হয়েছিল সেবা প্রকাশনী থেকে। ১৯৮৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল এই বইটা। এই সিরিজের এটাই প্রথম বই। এই সিরিজের অনেকগুলো বই ছাপা হয়েছিল। সবগুলোর নাম আমার এখন আর খেয়াল নেই। প্রবল আগ্রহে তখন এই সিরিজের প্রায় বেশিরভাগ বই পড়েছিলাম তখন। আজ এত বছর পর আবার এই বইগুলো পড়তে বসে কেমন যেন একটা অদ্ভুত অনুভূতি হলো। অবিশ্বাস্য হলো সত্য যে, এত বছর পরেও এই বইটা পড়ার সময় এতোটুকুও খারাপ লাগেনি। বরং বেশ আগ্রহ নিয়ে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ১৬৭ পৃষ্ঠার বইটা শেষ করলাম। দুর্দান্ত অ্যাডভেঞ্চার ও থ্রিলারের অনুভূতি পেলাম প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত।
কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সিরিজের এই বইতে কী নেই? রক্তচোষা ড্রাকুলা থেকে শুরু করে পর্তুগিজ জাদুকর বেনেত্তা আর তার ভয়ংকর সব কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি উঠে এসেছে এই বইয়ের পাতায় পাতায়। সেন্টমার্টিন, হিমছড়ি, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় একের পর এক নীল চোখের কিশোর ছেলেদের হত্যা করে চোখগুলো সংগ্রহ করতো কোনো এক ভয়ংকর আততায়ী। নীল চোখের আশরাফকে এই আততায়ী চেষ্টা করে মেরে ফেলার। বন্ধু আশরাফকে বাঁচাতেই জাদুকর বেনেত্তাকে ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠে ওর বাকি চারজন বন্ধু। হিমছড়ির গহীন এক জঙ্গলে শত শত বছরে পুরনো এক দুর্গবাড়িতে পূর্বপুরুষ জলদস্যু সিস্তান বাতিস্তার দেহকে আবার পুরনো কবরস্থান থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসে জাদুকর। যেভাবেই হোক ওর পূর্বপুরুষকে আবার ড্রাকুলার মতো জীবন দান করতে হবে। তাহলেই সে উদ্ধার করতে পারবে জলদস্যু সিস্তানের লুকিয়ে রাখা অনেক ধন-সম্পদ। অবশেষে মরিয়া হয়ে পাঁচ জন সাহসী কিশোর ছেলে সেই দুর্গ বাড়িতে হানা দেয় জাদুকর বেনেত্তাকে প্রতিহত করার জন্য।
এই বইটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে হিমছড়ি, সেন্টমার্টিন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি ও সামুদ্রিক এলাকার অপূর্ব বর্ণনা। বিশেষ করে সমুদ্রের নিচের জলজ প্রাণীগুলোর বর্ণনা ছিল রীতিমত রোমাঞ্চকর। এই সিরিজের বাকি বইগুলো যোগাড় করতে পারলে পড়ে ফেলবো। তিন গোয়েন্দা সিরিজের চাইতেও এই সিরিজটা বেশি আকর্ষণীয়।