🪀বইয়ের নাম - সাবধান! সাসপেন্স!🪀
✍🏻লেখক - ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায়
🖨️প্রকাশক - পত্রভারতী
📕প্রচ্ছদ - সৌজন্য চক্রবর্তী
💰মূল্য - ২৯৯/-
⛳ কি ভাবছেন বইটা কেমন হবে? বইটা কি কেনা যাবে? কী আছে এই বইতে? আসুন দেখে নিই.......
📜🔎সদ্য পড়ে শেষ করলাম সাহিত্যিক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের লেখা “সাবধান! সাসপেন্স!” বইটি। বইটিতে রয়েছে একটি উপন্যাস ও পনেরোটি গল্প। কি নেই ভয়, রহস্য, মার্ডার, অলৌকিক, থ্রিলার সাসপেন্স-এর সব মসলাই রয়েছে বইটির মাধ্যে........
📜🔎এই আঁধারে ~ তিনদিন ধরে বৃষ্টি হয়েই চলেছে। ঘোর বর্ষা, এই আবহাওয়া তেও অনাথবাবু কে বেরোতেই হবে কারণ পেনশানের টাকা না তুলে আনলে সংসার চলবে না। চারিদিকে রাস্তায় জল জমেছে, পেনশানের টাকা তুলে ফেরার পথে ঘটে যায় এক অদ্ভুত ঘটনা - অনাথবাবু দেখেন একটা অন্ধকার গলির মধ্যে কিছু লোক দাঁড়িয়ে আছে আর ঠিক অপর দিকে থেকে একটি মহিলা হেঁটে আসছে....
ওই লোক গুলো মহিলাকে ধরে তারকাছ থেকে সবকিছু ছিনিয়ে নেয়, দূরে দাঁড়িয়েই অনাথবাবু চেঁচিয়ে ওঠেন এই বৃদ্ধ বয়সে এগিয়ে গিয়ে ওদের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা নেই। লোক গুলোই অনাথবাবুর কাছে এগিয়ে আসে আর সমস্ত টাকাও কেড়ে নেয় !
ঠিক এই সময়ে অনাথবাবুর পিছন থেকে এগিয়ে আসে ‘সাড়ে ছফুট লম্বা কালো পাহাড়ের মতো এক মানুষ’। মানুষটা শূন্যে ঝাঁপ দিল। অনাথবাবু বিস্ফারিত চোখে দেখলেন, জেট প্লেনের মতো কালো শরীরটা সমান্তরাল গতিতে ধেয়ে গেল সামনের দিকে। তারপর এক অলৌকিক লড়াই। অন্ধকারে বিশেষ কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না অনাথবাবু। তবে শব্দ শুনছিলেন। মিনিটখানেকের মধ্যেই সব নিস্তব্ধ হয়ে যায়। অনাথবাবু হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাঁর চৌষট্টি বছরের জীবনে এমন দৃশ্য তিনি কখনও দেখেননি। এর পর দুজনেই সাথে পরিচয় হয়ে বুঝতে পারে এরা দুজন ই একে অপরের পরিচিত। এ বি বলে পরিচয় দেয় অনাথবাবুর কাছে, আরও বলে তারা নাকি ক্রিমিন্যালদের নিয়ে একটা গবেষণা করছে......
এ, মানে অনিন্দ্য। আর বি মানে বনানী! অনিন্দ্য অনাথবাবুর হাতে একটা আংটির মতো বস্তু দেয়।অদ্ভুত নীল আলো বেরুচ্ছে তার মধ্যে থেকে। ‘সিগন্যাল মেসেঞ্জার’ অনাথবাবু চাইলেই অনিন্দ্য আর বনানীর সাথে দেখা করতে পারবে এই আংটির মাধ্যমে.......
এরপর আসে গল্প নতুন মোড়। একের পর এক চমক....... অনাথবাবু কি শেষ পর্যন্ত অনিন্দ্য আর বনানী-এর আসল পরিচয় জানতে পারবে? কি ঘটতে চলেছে অনাথবাবুর জীবনে ?? জানতে হলে অবশ্যই উপন্যাসটি পড়তে হবে!
📜🔎অসিত আসছে না ~ এই গল্পে বিকাশবাবু বেনারস যাওয়ার জন্য বেড়িয়েছেন। সাথে যাবে অসিত, কিন্তু ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার পর ও বিকাশবাবু দেখলেন অসিত এর কোনো পাত্তা নেই তখনই ফোন করে অসিত ফোনে জানায় যে একদম শেষ মুহূর্তে এসে পৌঁছেছে তাই অন্য কামরাতে উঠেছে। বিকাশবাবুর এই ব্যাপারটা ভীষণ খটকা লাগে, ট্রেন যখন বেনারস এসে পৌঁছালো তখন কোথা থেকে যেন অসিত এসে হাজির হলো। এরপর কোনো এক ফাঁকে প্লাটফর্ম এ হাজারো মানুষের ভিড়ে হারিয়ে গেলো.....
ঠিক এমন সময় বিকাশবাবুর বাড়ি থেকে একটা ফোন আসে, এমন কিছু বলে যার কারণে বিকাশবাবুর পায়ের তলার মাটি কেঁপে ওঠে....
কি এমন খবর পায় বিকাশবাবু ? জানতে হলে অবশ্যই গল্পটি পড়তে হবে!
📜🔎দুর্ঘটনার পরে ~ প্রায় কুড়ি বছর মর্নিং ওয়াকের অভ্যেস পতিতপাবন বাবুর এই এক রুটিন। ভবানীপুরের জাস্টিস চন্দ্রমাধব রোড থেকে কাকভোরে এই স্কুটার নিয়ে ভিক্টোরিয়া পর্যন্ত আসা। স্কুটার পার্ক করে ভিক্টোরিয়া থেকে হাঁটতে-হাঁটতে ব্রিগেডের শেষ মাথা পর্যন্ত যাওয়া। বড় গাছগুলোর মগডালে রোদ পৌঁছোলে স্কুটার চালিয়ে বাড়ি ফিরে আসা। আচমকা দুর্ঘটনা ঘটে গেল, রোজকার মতো প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছিলেন পতিতপাবনবাবু। ভিক্টোরিয়ার গেটে স্কুটার দাঁড় করাতে যাচ্ছেন, ঠিক এমন সময় যমদূতের মতো ছুটে এল কর্পোরেশনের জঞ্জালভর্তি লরিটা। ব্রেক ফেল করেছিল। ধাক্কা মারল, স্কুটার গুঁড়িয়ে গেল! কয়েকফুট দূরে ছিটকে পড়লেন পতিতপাবন........
এরপর কি হলো? পতিতপাবন বাবু কি শেষ পর্যন্ত বেঁচে ফিরতে পারবে? জানতে হলে অবশ্যই গল্পটি পড়তে হবে!
📜🔎 বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় ~ বাস থেকে নামতে হঠাৎ বৃষ্টি বেড়ে গেল। পিনাকী চটপট ছাতা খুলে ফেলল। তারপর জোরে-জোরে হাঁটতে শুরু করল। এমনিতেই আজ দেরি হয়ে গেছে। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে দেখে, ছোটমামা। অনেকদিন পরে দিল্লি থেকে এসেছে। তাই কিছুক্ষণ সময় দিতে হয়েছে। কোচিং-এর প্রণব স্যার সময়ের ব্যাপারে খুব কড়া। আজ পিনাকীর কপালেও সেই ফাঁড়া ঝুলছে। রাস্তা ফাঁকা। ট্রাঙ্গুলার পার্ক থেকে মনোহরপুকুর রোড দিয়ে হনহন করে হাঁটছে পিনাকী।বৃষ্টির জোর আরও বেড়ে গেল। পিঠ-ব্যাগের বই-খাতা সব ভিজে যাবার ভয়ে সে পাশেই একটা একতলা পুরোন বাড়ির গাড়ি-বারান্দায় উঠে পড়ল। ঠিক এমন সময় আসে একটা ফোন......... অসীম বলে কেউ একজন ফোন করে কিন্তু পিনাকী ওই নামে কাউকে ই চেনে বলে মনে করতেও পারছে না। অসীম বলে আমি তোমাকে নিতে আসছি.............
এরপর কি ঘটতে চলেছে পিনাকীর সাথে জানতে হলে অবশ্যই গল্পটি পড়তে হবে!
📜🔎লাস্ট ট্রেনের বন্ধুরা ~ এই গল্প বেশ অদ্ভুত। বন্ধুর বাড়ি থেকে বেরোতে অনেক রাত হয়ে যায়। লাস্ট ট্রেনের উঠে পড়ে, এই সাইডে শেষ ট্রেনে বেশি ডাকাতি হয়। ট্রেনে উঠে দেখে একটা লোক জানালার ধারে চাদর মুড়ি দিয়ে বসে রয়েছে ....... একবার ভাবে তার দিকে এগিয়ে যাবে, ঠিক এমন সময় দুটো পুলিশ ওই কামরায় উঠে আসে ওদের কিছু জিজ্ঞাসা করে আবার ও চলে যায়। যেই লোক টা এতক্ষণ জানালার ধারে চাদর মুড়ি দিয়ে বসে ছিল তাকে চিনতে পারে ছোট বেলার বন্ধু.........
তাদের বেশ কিছুক্ষণ কথাবার্তা ও হয়, আবার হঠাৎ করেই ট্রেন থামতেই ওই বন্ধু ট্রেন থেকে লাফিয়ে নেমে কোথায় যেন হারিয়ে যায় ওই রাতেই.........
ভিষন অদ্ভুত, বাকি রহস্য জানতে হলে অবশ্যই গল্পটি পড়তে হবে!
🍀🕊️ব্যক্তিগত মতামত 🕊️🍀
ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের লেখা এই প্রথম পড়লাম। অভিজ্ঞতা ভীষণ ভালো, গল্পের বলার ধরন এতো সুন্দর যা একবার শুরু করলে শেষ না হওয়া পর্যন্ত থামা যায় না। ১৫ টি গল্প নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয় তার মধ্যে থেকে বেশ কয়েকটি গল্প ও একটি উপন্যাস নিয়ে আলোচনা করলাম। আমার ভীষন ভালো লেগেছে এইই সংকলনটি। ছোট থেকে বড় সবাই এই বই পড়তে পারে। প্রতিটি গল্পের মধ্যে লেখক এতো সুন্দর সাসপেন্স তৈরি করছেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বইয়ের সমস্ত ঘটনাই অভিজ্ঞতাভিত্তিক। ঘটনাগুলো রোমাঞ্চকর তাতে কোনও সন্দেহ নেই। লেখকের চিন্তাধারার মধ্যে দিয়ে ঘটনাবলি যখন পাঠকের চোখের সামনে হেঁটে চলে বেড়ায়, তখনই সেই লেখা পাঠকের মন ছুঁয়ে যায়।
বইটি হার্ড কভার, ভালো কাগজ, ঝকঝকে ছাপা ও আকর্ষণীয় প্রচ্ছদ সমৃদ্ধ। লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপনার লেখার দীর্ঘায়ু কামনা করি। ভালো থাকবেন........
📥🗒️2024 Book Review ~ 63
যদি এই বইটি পূর্বেই কেউ পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনাদের ব্যক্তিগত মতামত জানাবেন। এছাড়াও আমার রিভিউ কেমন লাগছে সেটাও জানাবেন নিচের কমেন্ট বক্সে। যদি কিছু ভুল ত্রুটি হয় সেটাও জানতে ভুলবেননা।
🍀 আবারো দেখা হবে পরের রিভিউতে। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন আর অনেক অনেক বই পড়ুন। 🙂
🙏🏻 !! ধন্যবাদ !! 🙏🏻
#বই #স��বধান_সাসপেন্স #ত্রিদিবকুমার_চট্টোপাধ্যায়
#পত্রভারতী #রিভিউ #গল্প #আলোচনা
#পাঠক_পতিক্রিয়া #বইপোকা #উপন্যাস