মহাভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চরিত্র পিতামহ ভীষ্ম। কিন্তু ভীষ্ম কি সত্যি মহান? তিনি কি মহাভারতের ব্যার্থতম পুরুষও নন? অন্য আলোয় উদ্ভাসিত অনন্য মহাভারত.........নতুন ভাবে
Bhishma, the pivotal character of the epic Mahabharata is usually portrayed as the immortal who is infallible. Read this book to know the other side of this Great.
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এসসি। শিশু কিশোর ও প্রাপ্তমনস্ক সাহিত্যের ইতিহাস, বিজ্ঞান, রহস্য, হাসিমজা...নানা শাখায় বিচরণ। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রচুর লেখালিখি। প্রকাশিত ও সম্পাদিত বইয়ের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে। জনপ্রিয় চরিত্র বিজ্ঞানী জগুমামা ও টুকলু। ১৯৯৫ থেকে কিশোর ভারতী পত্রিকার সম্পাদক। ২০০৭ সালে পেয়েছেন শিশু সাহিত্যে রাষ্ট্রপতি সম্মান। শিশু-কিশোর সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিদ্যাসাগর স্মৃতি পুরস্কারে সম্মানিত। মধ্যবর্তী সময়ে পেয়েছেন রোটারি বঙ্গরত্ন, অতুল্য ঘোষ স্মৃতি সম্মান, প্রথম আলো সম্মান ও নানা পুরস্কার
মহাভারত নিয়ে লেখা বইয়ের সংখ্যা খুব একটা কম নয়। যা এখনও ক্রমবর্ধমান হারে লেখা হয়ে চলেছে। অনেকেই এমন আছেন যারা সমস্ত মহাভারত ও মহাভারত নিয়ে লেখা বই গুলে খেয়েছেন তাদের কাছে এই বই অতটাও নতুন কিছু দাঁড় করাতে পারবে না। তবে যাদের জ্ঞান আমার মতোই সীমিত তাদের কাছে এই বই পিতামহ ভীষ্মকে এক সম্পূর্ণ অন্যভাবে ভাবতে বাধ্য করবে। এমনকি অম্বার জন্য চোখের জল ফেলতেও বাধ্য করবে এই বই। মহান প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ভীষ্ম শুধুই কি এক অলৌকিক পুরুষ ছিলেন নাকি বেশিরভাগটাই ছিলেন চির অসহায়?! এসব প্রশ্ন এই বই থেকে মনে আসতে বাধ্য। লেখকের লেখনী অত্যন্ত সাবলীল, কোথাও এতটুকু বুঝতে অসুবিধা হয়না। মহাভারত এর উপর ভিত্তি করে লেখা বিভিন্ন লেখকের বই যারা পড়তে ভালোবাসেন তাদের এই বই কোনোমতেই খারাপ লাগবে না।
Mahabharat is a story of love, politics and a lot more but most importantly, it is a story of regret. From the POV of Bhishma, even though he is shown as a valiant warrior and a man of his word, it also shows his inner conflict and how he feels useless for the same reasons.
উত্তরায়ণের পথ চেয়ে শরশয্যায় শায়িত পিতামহ। দৈহিক ব্যাথাকে ক্রমেই ছাপিয়ে যাচ্ছে বিবেকের দংশন, মহত্বের আড়ালে লুকিয়ে থাকা জীবনের পাপের অধ্যায়গুলো পর্দা ঠেলে বেরিয়ে আসতে চাইছে আজ। চিরকুমার দেবব্রতর "ভীষ্ম" পদবী যেন অভিশাপ রূপে প্রকট হচ্ছে আজ।
সরযূর তীরে ঋষি বশিষ্ঠের আশ্রমে কাটানো শৈশবের স্নিগ্ধ মুহূর্ত, পরশুরামের শিক্ষায় বীরত্বের অধিকারী, বানের জলকে রোধ করতে নিজ হাতে দায়িত্ব পালনের অদম্য জেদ কোথায় যেন ভেজালের মিশ্রণে ফিকে হয়ে গেলো হস্তিনাপুরে এসে। মা হওয়া সত্ত্বেও দেবলোকের কর্তব্য পালনেই সদা ব্যস্ত দেবী গঙ্গার সাহচর্যও পেলেন না দুরূহ সময়ে।
আর অম্বা ? সোনালী মনের এই অধিকারিণীও শেষে বলী হলেন "ভীষ্ম" নামক অভিশপ্ত আখ্যার যাঁতাকলে বিদ্ধ হয়ে।
সমগ্র জীবন প্রতিজ্ঞা নামক শৃঙ্খলের দাস হয়ে থেকে শেষ পরিণতি তাঁর এক প্রকার অরাজকীয় মৃত্যু !
উপন্যাস শেষে খানিক চোখের জল ফেলতেই হয় অম্বার জন্য, এবং একইভাবে সহানুভূতি এবং ক্রোধ মিশ্রিত এক প্রতিক্রিয়া জন্মাবে পিতামহের প্রতি।
উপন্যাসের বুনন এতটাই সহজ এবং বহুস্তরীও যে পাঠক একইসাথে চরিত্রান্বেষণ এবং ঘটনাবলী উভয়ই প্রত্যক্ষ করতে পারবেন।
লেখক এতটাই গভীরভাবে ভীষ্ম চরিত্রকে অন্বেষণ করেছেন যে এই উপন্যাসের পাঠ প্রতিক্রিয়া না লিখে পাঠানুভব লেখাই শ্রেয় বলে মনে করলাম। যাঁরা মহাভারত গুলে খেয়েছেন তাঁদের কাছে অনন্য না লাগলেও আমার সীমিত জ্ঞানের পরিধিকে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়ে এই উপন্যাস আমার কাছে সত্যিই এক অন্য ভীষ্ম এবং এক অনন্য মহাভারতকে প্রতিষ্ঠা করলো।
ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায়ের “তুমি পিতামহ” বইটি পড়ে মনে হলো ভীষ্মকে আমরা যেভাবে কেবল এক মহাপুরুষ, প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যোদ্ধা হিসেবে জানি—তার বাইরে তিনি এক নিঃসঙ্গ, দ্বন্দ্বে জর্জরিত মানুষও ছিলেন। লেখক ভীষ্মের মনের ভেতরের যন্ত্রণা, প্রেম-অপ্রেম, প্রতিজ্ঞার বোঝা আর অসহায়তার দিকটি তুলে ধরে আমাদের ভাবতে বাধ্য করেছেন।
বইটির ভাষা সহজ অথচ আবেগময়, পড়তে গিয়ে কখনো মনে হয়েছে যেন ভীষ্ম নিজের মুখে কথা বলছেন। বিশেষ করে গঙ্গা ও অম্বার প্রসঙ্গগুলো ভীষ্মকে মানবিক রূপে প্রকাশ করেছেন।
সামগ্রিকভাবে বলতে পারি, “তুমি পিতামহ” শুধু মহাভারতের পুনঃকথন নয়, বরং ভীষ্মকে নতুন দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ দেয়। বইটি পড়ে ইতিহাস নয়, মানুষের ভেতরের লড়াইটাই বেশি অনুভূত হয়। পাঠ শেষেও এক ধরনের নীরবতা থেকে যায় মনে।
মহাভারতের সব কাহিনী আমার জানা নেই, যতটুকু জানি তা দিয়েই বইটা পড়া শুরু করছিলাম, বেশ ভালোই লাগলো,পিতামহ ভীষ্মের জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনা ,লেখকের দৃষ্টিকোণ থেকে বেশ সাবলীল ভাবে প্রকাশ পেয়েছে বইটিতে। বেশ ভালোই লাগলো বইটি পড়ে।