কিশোর ভারতী পত্রিকার পয়তাল্লিশ বছরের মোট পাঁচশো আঠাশটি কপি ঘেঁটে ১০১টি গল্প বাছাই করা খুবই কঠিন কাজ। তার ওপর প্রত্যেক লেখকের মাত্র একটি করে গল্প বাছাই করা মানে তো সাংঘাতিক ব্যাপার। তারপর সেই নির্বাচিত গল্পের সংকলনটিকে সুন্দরভাবে পরিবেশন করাও একটি কঠিন কাজ। সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় এই কঠিন তিনটি কাজ সম্পন্ন করে আরও একবার প্রমাণ করেছেন, শিশু-কিশোর সাহিত্যকে তিনি কতটা ভালোভাবে চেনেন।
তবে সংকলনটি পড়তে গিয়ে বেশ ক'টি বিষয় দেখে কিঞ্চিৎ হতাশ হতে হল।
প্রথমত, অলৌকিক ও রহস্য গল্পের পরিবর্তে যেকোনো একটি থিমকে বেছে নিলে বোধহয় ভালো হত।
দ্বিতীয়ত, বাংলা শিশু-কিশোর সাহিত্যের "স্বর্ণিম ঐতিহ্য" মেনে এই ১০১টি গল্পই নারী-চরিত্র বর্জিত। এই ব্যাপারটা যে কী পরিমাণে অবাস্তব এবং অযৌক্তিক তা প্রকাশকেরা বোঝার আগেই পত্রিকাগুলোর না অবলুপ্তি ঘটে!
তৃতীয়ত, একজন লেখকের একটিই গল্প বাছতে গিয়ে মুড়ি-মিছরি একদর হয়ে গেছে। এমন বহু লেখা এই সংকলনে ঢুকেছে যা আজকের স্মার্ট পাঠকের কাছে খুবই গতে বাঁধা বলে মনে হবে।
তবু, যদি হাতে সময় থাকে, তাহলে এই হৃষ্টপুষ্ট সংকলনটি পড়ে দেখতে পারেন। সময়টা বেশ কাটবে।