Eleven men, upstanding citizens of their town, find themselves locked up. They're not sure why. Possibly because they had been drinking. They meet other people in jail, some friendly, some not: prison guards, other prisoners, journalists. They think they should be released soon, but they're not sure. The influential people they know outside might or might not help them. Do they get out? Is a prison something more than a jail cell?
কারাগার ব্যাপারটাই আমি ঠিক মেনে নিতে পারি না। আমার মনে হয় কোন মানবিক বা সভ্য সমাজব্যবস্থায় কারাগার নামের বস্তুটি থাকতেই পারে না। বাংলাদেশের কারাগার ব্যবস্থা ও প্রিজন ভ্যানের ছোট ছোট খোপ থেকে প্রিয়জনদের স্পর্শ করার আকুল আকাঙ্খা নিয়ে কাঁপতে থাকা আঙুল আর দিশেহারা সব চোখ দেখেই আমার এমন বোধদয় হয়েছে। এ যেন এক অবর্ণনীয় ব্যবস্থা। আর সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ড তো কোনভাবেই মানতে পারি না। এর অনেক কারণ আছে। সেসবের ব্যাখ্যা নাই বা দিলাম। এক বাক্যে বলতে গেলে অপরাধ, অপরাধী ও শাস্তির মাঝে কখনও প্রেতাত্মার মত আবার কখনও বা নির্বিকার এক নিরপরাধ সত্বা ভেসে বেড়ায়। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই যা অধরাই থেকে যায়।
রাষ্ট্র ও কারাগার নিয়ে বক্তৃতায় সিরাজুল ইসলাম চৌধূরী স্যারও লিখেছিলেন অনেকটা এমন কথাই। বলেছিলেন, অপরাধী দেখলে সমাজ চীৎকার করে, রাষ্ট্র তাকে ধরে, পারলে ধরে আনে। যদিও সব সময়ে নয়। ওদিকে অপরাধের ক্ষেত্রটা কিন্তু রয়েই যায়। মোটামুটি অক্ষত। সেখানে নতুন নতুন অপরাধ ও অপরাধীর জন্ম হয়। ফাদে পরে নিরপরাধও পেয়ে যায় অপরাধীর তকমা। উপচে পড়ে কারাগার। মান নেমে যায় কারা ব্যবস্থাপনায়। কারাবন্দীরা জর্জরিত হতে থাকে....।
ইচক দুয়েন্দের লালঘর পড়ার সময় যখন কারা ব্যবস্থা নিয়ে আমার ভাবনার সাথে মিলে যায় এমন বাক্য খুঁজে পাই আমি, তখন একটু নড়েচড়েই বসি। আর বইটাও কী ভীষণ অন্যরকম। শুরুতে মনে হচ্ছিল রাশিয়ান কোন লেখকের অনুবাদ বই পড়ছি। এর আগে লেখকের অন্য কোন লেখা পড়া না থাকার কারণেই হয়তো এমন ভাবনা।
লালঘরের চরিত্রগুলো অর্থ্যাৎ কারারক্ষী আর কারাবন্দীর নামগুলোও কেমন অন্যরকম! যেন ভীন্ন কোন গ্রহের মানুষ সবাই। এই যেমন- চিকচাক রুই, আনচান ভাই, তুনির চুমক, পুঁই চুলভি, ইন্টুম কাসকেট, মিয়ান টিনটুই, হ্যাংলং ব্রিংলার ইত্যাদি। লালঘরের বন্দিদের হাজতবাস মাত্র একদিনের জন্য। এরা কেউই জানে না তাদের অপরাধ কী?
স্যাটায়ারধর্মী লেখা পড়তে আমি বরাবরই আরামবোধ করি। স্যাটায়ারের আড়ালে লালঘরের বাসিন্দাদের মুখ থেকে উঠে আসা নির্মম এই সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার চিত্র দেখতে দেখতে ভালোই এগুচ্ছিল বইটা। প্রাণিকূলের মধ্যে মানুষই যে স্বজাতির প্রতি সবচেয়ে নির্মম তা নিয়ে হাহাকার করে ফিটিক চ্যাক বলছে, “...আমরা সবাই ঐ পিপড়েগুলির চেয়েও অধম। কোন পিপড়ে তার স্বজাতি পিপড়েদের গ্রেফতার করে হাজতে পোরে না। কিন্তু আমরা পুরি। হে প্রভূ, কেন তুমি আমাদের এত নিকৃষ্ট করে সৃষ্টি করেছো?”
লালঘরের বন্দিদের এমন উত্তরহীন সব প্রশ্ন আর সংলাপ দিয়ে এগুতে এগুতে হঠাৎ করেই যেন শেষ হয়ে যায় বইটা। দেশে চলমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা, পুলিশ, প্রশাসন, গণমাধ্যম এসব নিয়ে সাহিত্যে, নাটকে, চলচ্চিত্রে টিপিক্যাল যে সংলাপগুলো আমরা পাই ঠিক সেগুলোই তুলে ধরেছেন ‘হিপ হিপ হুররে’ বা ‘উল্লাস ছাপ্পান্ন’ নামের চরিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে।
পুরোপুরি কারাগার আর কারাব্যবস্থার সমালোচনা নিয়ে একটা চমৎকার বই পড়তে যাচ্ছি এমন পূর্বানুমান নিয়ে বইটি পড়তে শুরু করা এই আমি যেন শেষ পর্যন্ত এসে খানিকটা ধোকা খেয়ে যাই। মানে বইটা পড়ার শুরুতে যেমন টেক্সট অনুমান করেছিলাম শেষ পর্যন্ত যেন তা মিললো না। মনে হচ্ছিল, চমৎকার একটি বই হয়েও কেন জানি হয়ে উঠলো না বইটা।
তবে এমন ধোকা খাওয়ার পর একেবারে শেষে এসে লালঘর থেকে মুক্তির সময় চিকচাক রুইয়ের ভাবনাগুলো আবারও বইটির সাথে একাত্ব করে দেয় আমাকে। এক্ষেত্রে কিছু অংশ এখানে তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মনে করছি-
“পৃথিবীতে যে কারাগার নিয়ে একটা জিনিস আছে, এ আমার জানাই ছিল না। ....এরকম একটি মর্মান্তিক জিনিস পৃথিবীতে আছে, সিরিয়াসলি কি তা নিয়ে ভেবেছিলাম।”
“আইনভঙ্গ করলেই প্রায় বিনা ব্যতিক্রমে মানুষের হাতে কেন পরাতে হবে হাতকরা? কেন করতে হবে বন্দি? এই নিয়ম তো চালু হয়েছিল ‘জোর যার মুল্লুক তার’ যখন চালু ছিল পৃথিবীতে তখন”।
“সাম্য, মৈত্রী, গণতন্ত্রে পরিচালিত একটি রাষ্ট্র কী করে তার নাগরিকদের শাস্তি দেবার জন্য কারাগার রাখে?”
“সুস্থ ও সুখী মানুষেরা কখনো অপরাধ করে না। অপরাধ করে যারা অসুস্থ ও অসুখী। সেই তথাকথিত অপরাধীদের দরকার সুচিকিৎসা, শাস্তি নয়।”
“শুনেছি ভাসানী, বঙ্গবন্ধু জীবনের একটা দীর্ঘ সময় জেলে কাটিয়েছিলেন। তাঁদের মতো মহৎ মানুষেরা কতো অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধেই না আন্দোলন করেছিলেন। কেন তাদের অ্যাজেন্ডায় জেল এল না? কেন তাঁরা দাবি করলেন না, জেল তুলে দিতে হবে? তাঁরা দাবি তুলতে পারতেন জেলখানাগুলোকে স্কুল বা হাসপাতালে পরিনত করার।”
জেলখানা বিরোধী সংলাপের এক পর্যায়ে পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার সিস্টেমগুলোকেই জেলখানা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন লেখক। বলেছেন,
আমাদের এই পৃথিবীটাকেই শূণ্যে ভাসমান এক বিরাট কারাগার। একটা বের হবার আর বাহির হবার পথ। ফ্ল্যাট বাড়ি। গ্রীলে ঢাকা ব্যালকনি। সেও এক কারাগার। দেশ, রাষ্ট্র, ভিসা সবচেয়ে বড় কারাগার। কবর, আরেক কারাগার। অদৃশ্য মৃতলোক, সবচেয়ে বড় কারাগার। লালঘর থেকে মুক্তি মিললেও সেখান থেকে আর মুক্তি মেলে না। লালঘর নিপাত যাক। লেখকের সাথে একাত্ম হয়ে আমিও বলে উঠতে চাই।
এগারোজন প্রফেসর নদীর পাড় থেকে গ্রেফতার হয়ে যান। আর তারা জানেন না কেন গ্রেফতার হলেন। গ্রেফতার হওয়ার পর লালঘরে তারা সাক্ষী হয় নানান অদ্ভুত অভিজ্ঞতার। বন্দি হয়ে নানা ঝামেলার কথা মনে করতে থাকেন সবাই। লোকলজ্জার ভয়, মিডিয়ার ভয়। সবকিছু ছাপিয়ে যখন তারা ছাড়া পাবেন সেখানেও নাটকীয়তা। আর সেই নাটকীয়তার মধ্যে কথক বলতে থাকেন এই দুনিয়ার সবকিছুই কারাগার।