বইটা চব্বিশ বছর বয়সে এসে পড়ার কথা ছিল না আমার, পড়তে হতো কৈশোর পেরোনোর আগে। হয়তো কোনো চরিত্রের জন্য কাঁদতে পারতাম, কারো ওপর রাগে চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসতো। এই বয়সে এসে গল্পের কিছু আর আমার কাছে অভিনব নাই, প্রতিটা চরিত্রের সাথেই জীবনে দেখা হয়ে গেছে। গল্পটাও তেমন অভিনব কিছু না, গল্পের জন্য সেঁটে থাকার কথা না আমার, রুদ্ধশ্বাসে পড়ার প্রশ্নই নেই।
অথচ, অনায়াসে শুরু থেকে আটকে ছিলাম বইটাতে। যখন পড়ার সময় পেয়েছি, কখন শত পৃষ্ঠার বেশি পড়েছি খেয়াল করিনি। যখন ঘুম পেয়েছে, বই বন্ধ করে উঠে গেছি। বইয়ে ফেরত আসার তীব্র আকর্ষণ কখনো বোধ করিনি, কেবল সময় পেলেই পড়তে নিয়েছি, তবুও পড়ার সময়টুকু কখনো মনেই হয়নি, যে, পড়তে ভালো লাগছে না।
বলেছিলাম বইয়ের চরিত্রদের সাথে দেখা হয়েছে বাস্তবে। সত্যি। মানুষের মনস্তত্ত্ব কিভাবে এত নিখুঁত করে বুঝতে পারতেন হুমায়ুন আহমেদ, ভাবা যায় না। চরিত্র হোক আর গল্প, কোথাও অতিরঞ্জন মনে হয়নি।
২৫ বর্ষপূর্তি বিশেষ মুদ্রণ সংস্করণে বইটা পড়লাম। ২১৭ পৃষ্ঠা, মুদ্রিত মূল্য ৫০০ টাকা। সংগ্রহে রাখার মতো একটা কাজ। সংগ্রহ করতে পারেন আফসার ব্রাদার্সের পেইজে নক করে।