অনেক পাঠকের কাছে বইটির ভাষা, লেখার ধাঁচ জটিল মনে হতে পারে। নবারুণের রাজনৈতিক অবস্থান এবং দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার জন্য প্রয়োজন পরে গভীর মনোযোগের। তবু, এই জটিলতা এক অনিবার্য সৌন্দর্য তৈরি করে যায়। ফেলে যায় এক গভীর ছাপ।
নবারুণ ভট্টাচার্যের "যুদ্ধ পরিস্থিতি" বাংলা সাহিত্যের একটি প্রথাভাঙা উপন্যাস। যেখানে যুদ্ধ, মানবতা ও অস্তিত্বের সংকট এক অনন্য নৈরাজ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরা হয়েছে। বইটির মূল প্রেক্ষাপট যুদ্ধকালীন সমাজ এবং তার প্রভাবিত মানুষের জীবন। লেখক সমাজতান্ত্রিক আদর্শ, রাজনীতি এবং যুদ্ধোত্তর শূন্যতাকে কাব্যময় অথচ তীক্ষ্ণ ভাষায় প্রকাশ করেছেন, "রনজয়" এর দৃষ্টি দিয়ে।
এ উপন্যাসে নবারুণের ভাষার দৃঢ়তা, এক সেলুলয়েড চিত্রকল্পের দ্বারা পাঠককে নিয়ে যায় এক ধ্বংসপ্রাপ্ত অথচ প্রতিরোধমুখী বাস্তবতার সামনে। তার লেখায় স্যাটায়ারের তীক্ষ্ণ ধার এবং মানবতাবাদের গভীর বোধ একসঙ্গে মিশে গেছে। বইটি শুধুমাত্র যুদ্ধের ভয়াবহতা নয় বরং যুদ্ধের মাধ্যমে ক্ষমতা ও লোভের নগ্ন প্রকৃতিকে উন্মোচন করে।
শেষ পর্যন্ত, "যুদ্ধ পরিস্থিতি" একটি প্রশ্ন তুলে যায়, যুদ্ধের মূল শিকার কি শুধু মানুষ, নাকি আমাদের মানবতাবোধও এক অনিবার্য মৃত্যু বরণ করে?
#সাহিত্যানুশীলন