Manik Bandopadhyay (Bengali: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়) was an Indian Bengali novelist and is considered one of the leading lights of modern Bangla fiction. During a short lifespan of forty-eight years, plagued simultaneously by illness and financial crisis, he produced 36 novels and 177 short-stories. His important works include Padma Nadir Majhi (The Boatman on The River Padma, 1936) and Putul Nacher Itikatha (The Puppet's Tale, 1936), Shahartali (The Suburbia, 1941) and Chatushkone (The Quadrilateral, 1948).
৩.৫/৫ মানিকের একেবারেই দলছুট একটা উপন্যাস।মানুষজন অনেক ভালো, সৎ,আদর্শবান,সরল।মূল চরিত্র নাগা তার শ্রেণি অবস্থান অনুযায়ী একটু অবিশ্বাস্য কিন্তু তার দৃঢ়তা ও সরলতা ভালো লাগে।নাগার মালিক যাদববাবুর মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের মাধ্যমে চিরাচরিত মানিকের দেখা মেলে। বইয়ের উন্মুক্ত উপসংহার মনে বিষণ্ণতা ছড়িয়ে যায়।নাগা বেঁচে থাকুক,দীর্ঘজীবন লাভ করুক- এই প্রত্যাশা করা ছাড়া কী-ই বা করার আছে?!!
বৃষ্টিমুখর রাতে নদীঘেরা এই উপন্যাসটা পড়লাম। নাগা আর যাদববাবুর জুটি চমককাড়া। আটখামারের মাঝির ছেলে নাগা, তার দুরন্ত কিন্তু প্রত্যয়ী একটা মন...তার ভালোলাগা মন্দলাগা, এডভেঞ্চার সব মিলায়ে উপন্যাস। বেশ ভালো লেগেছে।
এক তেজী আর আদর্শবান কিশোরের সমুদ্রের প্রতি ভালোবাসা, ব্যক্তিগত জীবনের নানান চড়াই উৎরাই এবং ঘাত প্রতিঘাতের গল্প... বাবা-মা, চাল চুলোহীন এই কিশোরের প্রতি কেমন একটা মায়া বসে গিয়েছিলো... শেষ অব্দি সে আর সমুদ্রযাত্রা করতে পেরেছিলো কিনা জানা হলো না............
❝রূপা হিংসুটি? না, কণিকার মতো স্বার্থপরতা বা হিংসা রূপার নেই, কিন্তু হিংসুটি না হোক, কণিকার তুলনায় রূপা সত্যই বড় নোংরা। কণিকার প্রতিমার মতো জমকালো পুতুল সেজে থাকা নয়, সমস্ত খুঁটিনাটিতে সহজ স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস রূপার নেই বলে নাগার মাঝে-মাঝে বড় আপসোস হয়। এঁটো থালা-বাটির পরিষ্কার কোণে একটু হাত ঠেকালে রূপা সঙ্গে-সঙ্গে হাত ধোয়, কিন্তু হাত না ধুয়ে অনায়াসেই নোংরা হাতে খাবার জিনিস ধরে। সে নিজেও কি ধরে না? ধরে। হয়তো উকুন আছে রূপার মাথায়। তার মাথায় কি নেই? এখন নেই, কিন্তু কিছুকাল আগে ছিল। রূপা নোংরা, সেও নোংরা। গরিব মাঝির ছেলে-মেয়ে বলে নয়, পয়সা লাগে না এমন অনেক পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা তাদের হয়নি।❞
সারা জীবন মাথা কুটে মরলেও জীবন কি বোঝা হবে না। এখানে মানিকবাবুরাই সহায় সম্বল। উনাদের ছুঁয়ে দেখা জীবনের এপিঠ ওপিঠের গল্প পড়ে তাও কিছু খুঁজে পাই! বুঝতে পারি অল্প সল্প। জীবন গুলো তাহলে এমন।
নদী ঘিরে যাদের জীবন তাদের আর্থ সামাজিক ব্যবস্থা ,ধনী -গরিবের বৈষম্য ফুটে উঠে এই গল্পে। নাগা যে কিনা মাঝির ছেলে তার অদম্য সাহস এবং সমুদ্রের প্রতি অসীম আকর্ষণ এই গল্পের মূল উপজীব্য। সমুদ্র আর নাগার একাকার হওয়ার মাধ্যমেই এই গল্পের সমাপ্তি।
🔹 'মাঝির ছেলে' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একমাত্র সম্পূর্ণ কিশোর উপন্যাস। এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র নাগার জীবনসূত্রেই মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় উন্মোচন করেছেন আমাদের সমাজসত্যের কিছু নির্মম দিক। উপন্যাসে নাগার বয়স সতেরো-আঠারো বছর, পিতৃমাতৃহীন সে। শুধু তাই নয়, একেবারেই অনাত্মীয় পরিবেশে অতিবাহিত হয় তার জীবন। একমাত্র নিকটজন পিতৃব্য ও তার পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কও আত্মীয়তার নয়, বরং মালিক-কর্মচারীর। দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতায় সে লালিত-পালিত ও বর্ধিত। ফলে ক্ষুধাতাড়না তার অন্যতম জীবনবৈশিষ্ট্য।
🔹 উপন্যাসের প্রধান চরিত্র নাগার মনোজগৎকে আচ্ছন্ন করে আছে নদীজলের মাদকতা। নদীর পরিচ্ছন্ন সুশীতল মুক্ত বায়ুর পরশ তার জীবনভাবনায়ও সঞ্চার করে সংস্কারমুক্ত ঔদার্য। নদীপৃষ্ঠে বসবাসের মধ্যেই সে অনুভব করে জীবনের সার্থকতা ও সুখ।
🔹 শুধু নদী নয়, নাগার মনে সমুদ্রের প্রতিও রয়েছে তীব্র আকর্ষণ। একবার সমুদ্রে গিয়ে একটুখানি স্বাদ পেয়েই সমুদ্রের প্রতি তার টান হয়ে উঠেছে দুরন্ত। তখন রূপাকে বিয়ের কথা বলেও সমুদ্রের কথা ভেবে সে দ্বিধান্বিত হয়। তার মনে হয়: রক্তমাংসের একটা মেয়ের জন্য কি সমুদ্রকে ছেঁটে ফেলা যায় জীবন থেকে! সে সমুদ্রের এক প্রান্তের আনাচে-কানাচে পর্যন্ত পাড়ি দিলে রোমাঞ্চকর উল্লাসের সঙ্গে মনে হয় এই সমুদ্রই হাজার হাজার মাইল দূরে অজানা অচেনা রহস্যময় দেশের প্রান্ত স্পর্শ করে আছে।
🔹 শুধু মাঝির ছেলে নাগার মনেই যে নদী বা সমুদ্রপ্রীতি তীব্র তা নয়, জমিদার যাদববাবুর কাছেও নদী এক তীব্র রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। দিনরাত শুধু জলে ভেসে কাটিয়ে দিতেই স্বাদ জাগে তার মনে। এ কারণেই তার নিশ্চিত ধারণা: "মাঝিগো মতন সুখী মানুষ জগতে নাই।"
🔹 কিশোর উপন্যাস হিসেবে 'মাঝির ছেলে'র সার্থকতার সূত্রটি নাগার সমুদ্রস্বপ্নের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। সমুদ্রকে অবলম্বন করে নাগার মধ্যে যে কৈশোরক স্বপ্ন বর্ধিত হয়েছে তা অসীমের প্রতি মানবাত্মার এক চির আকর্ষণের সঙ্গে যুক্ত।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একমাত্র কিশোর উপন্যাস ‘মাঝির ছেলে’। তিনি অনেকগুলো কিশোর উপযোগী ছোটগল্প লিখলেও তাঁর একমাত্র পূর্ণাঙ্গ কিশোর উপন্যাস এটিই। মাঝির ছেলে-কে পদ্মানদীর মাঝি-র লাইট ভার্সন বলা যেতে পারে। পদ্মানদীর মাঝি যেমন কুবের, মাঝির ছেলে তেমনি নাগা, দুজনেই মাঝি। নাগা এক অনাথ মাঝির ছেলে। তার কাকার বাড়িতেই প্রতিপালিত। নাগাকে আমরা কিশোর বয়সে উপন্যাসে পাই। সেই নাগার জীবনযাপন, তার চারপাশের মানুষদের সাথে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন এ উপন্যাসে এসেছে। আমি বেশ আগে উপন্যাসটি পড়েছি, পুরো ঘটনা মনে নেই। হয়তো আর একবার পড়তে হবে। নদীমাতৃক এ বাংলাদেশে একসময় হয়তো অন্যতম পেশা ছিল মাছ ধরা বা মাঝিগিরি। আজ তা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। এখন আর জলপথ বহুল ব্যবহৃত নয়, স্থলযানেরই আধিপত্য। এখন কেউ বিয়ে করে কনেকে বিয়ে করে কনেকে নদীপথে আনে না, বা শ্বশুরবাড়ি নাইওর করতে নদীপথে যায় না। কিন্তু একসময় তো নদীই এদেশের প্রধান পথ। এই নদীর সাথে যাদের জীবনের কারবার অর্থাৎ ধীবর বা মাঝি সম্প্রদায় তাদের নিয়ে বোধহয় মানিক বাবুর উৎসুক্য ছিল সবচেয়ে বেশি। এই কারণে পদ্মানদীর মাঝি লিখে লেখকজীবনের প্রাক্কালেই যেমন নিজের আসনটি বাংলা সাহিত্যে চিরস্থায়ী করলেন, তেমনি শেষ বয়সে তারই একটি লাইট ভার্সন আনলেন কিশোরদে��� জন্য- মাঝির ছেলে॥ উল্লেখ্য, এই উপন্যাসটি মানিক বাবুর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। পাঠক হিসেবে বলতে পারি, ক্লাসিক একটি উপন্যাস, পড়লে আপনার সময় বৃথা যাবে না।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্য চরিত্রগুলোতে যেরকম ভালো মন্দের একটা "গ্রে জোন" থাকে, এই উপন্যাসের চরিত্রে সেটা দেখলাম না। কিশোর উপন্যাস বলেই হয়তো, যে ভালো তার সবটি ভালো, যে খারাপ সে শুধুই খারাপ। মানব চরিত্রের মধ্যে যে জটিলতা, তা সচরাচর মানিকীয় রচনাশৈলীতে আর প্রকাশ পায় নি।