সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. নোরার চেম্বারে একটি অদ্ভুত সমস্যা নিয়ে হাজির হলো এক যুবক! নর্থ হাইওয়েতে পাওয়া লাশগুলোর সঙ্গে কী সম্পর্ক মিরাণ্ডা, লারা কিংবা পুরুষ এসকর্ট, জেফ কার্টারের? স্ত্রীকে রক্ষা করতে সত্যিই কি শেষতক পিশাচের মুখোমুখি হবে মানিক? দেবদূতের আদেশে সপ্ত পাহাড়ের পবিত্র গুহা থেকে কী নিয়ে ফিরবে কিকা? বুড়ো হিউগোর নির্দেশ অমান্য করে কীসের লোভে নিষিদ্ধ এলাকায় পা বাড়াল বেপরোয়া মিচেল? সত্যিই কি গোল্ড ক্রীকের তলায় বসবাস করে কিংবদন্তীর চিতাবাঘ, মিশিবিঝিউ?
তৌফির হাসান উর রাকিব (Toufir Hasan Ur Rakib) একজন কথাসাহিত্যিক, কবি এবং অনুবাদক। জন্ম ও বেড়ে ওঠা কুমিল্লায়। পেশায় একজন চিকিৎসক।
রহস্যপত্রিকার তুমুল জনপ্রিয় লেখক হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর থেকে সাহিত্য অঙ্গনে শুরু হয় তার দৃপ্ত পথচলা। সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে তার অতিপ্রাকৃত ঘরানার বইগুলো।
সেবা প্রকাশনীতে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথম প্রকাশিত হয় তার ‘ঈশ্বরী’ বইটি। এর পরে মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ এর সাথে যৌথ ভাবে লিখেন আগাথা ক্রিস্টির ‘সিরিয়াল কিলার’ এবং যৌথ ভাবে আরো দুইটি আগাথা ক্রিস্টির বই ‘পোয়েটিক জাস্টিস’ (২০১৭) ও ‘গেম ওভার’ (২০১৯) প্রকাশিত হয় তার। তিনি অনুবাদ করেন বিক্ষাত লেখক হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর ‘ডক্টর থার্ন’। তার সম্পাদনায় বের হয় বেশ কিছু বই, যার সাথে আছে স্যার আর্থার কোনান ডয়েল ও আগাথা ক্রিস্টির ‘শার্লক হোমস ভার্সাস এরকুল পোয়ার’, কান্তজীউয়ের পিশাচ, দেবী, নিশিডাকিনী, শাঁখিনী, হাতকাটা তান্ত্রিক। কিছু অতিপ্রাকৃত ও হরর গল্পগুচ্ছ নিয়ে বর করেন ‘অপদেবী ’, ‘ট্যাবু’ সহ সব মিলিয়ে ৬টি বই। এছাড়া তৌফির হাসান উর রাকিব ও মারুফ হোসেন যৌথ ভাবে লিখেন এরিক মারিয়া রেমার্ক এর দুটি বই ‘স্পার্ক অভ লাইফ’ ও ‘হেভেন হ্যায নো ফেভারিট’। ওয়েস্টার্ন সিরিজের ২৯০তম বই ‘ডুয়েল’ এর লেখকও তিনি।
দেশে বিদেশে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে - সমকালীন, ফ্যান্টাসি, ক্রিমিনাল মাইন্ড এমনকি ওয়েস্টার্ন ঘরানাতে বিচরণ করেও গল্পগুলোর মূল উপজীব্য বিষয় ছিল রহস্য-রোমাঞ্চ আর অলৌকিকতা। সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে এই ব্যাপারটাই।
লেখার ধরণ বরাবরেই মতোই উপভোগ্য। তবে অভিযোগ সেই একটাই, সবগুলো গল্পেই শেষে এসে কিছুটা তাড়াহুড়ার ছাপ। বেশ যত্ন করে কাঠামো সাজিয়ে আগ্রহ ধরে রাখতে পারেন লেখক, কিন্তু মূল ঘটনায় ঢুকে শেষ করে দেন অতি দ্রুত। প্রতিটা গল্পই দারুণ আগ্রহ নিয়ে শুরু করেছি, সবটুকু হৃদয়ঙ্গম করে, চরিত্রগুলোকে আপন করে ভাবতে শুরু করেছি যখন; ঠিক এমন সময়ে এসে "ফুরিয়ে যাওয়ার" দুঃখ। পেটপুরে খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে গিয়ে অতৃপ্ত হয়ে ফিরে আসা - অনুভূতিটা ঠিক এমনই।
সংকলনে সবচেয়ে ভালো লেগেছে 'ইনফার্নো' 'ওরাকল' এবং 'ট্যাবু'। ছাপোষা চাকুরীজীবী বিমল কর, ইদুর, মিথ, নরকের প্রবেশপথ - বেশ গা ছমছমে ছিল ইনফার্নো গল্পটা।
'ওরাকল' আবার নিখুত ফ্যান্টাসি ধাচের রোমাঞ্চ গল্প, অদ্ভুত সুন্দর বর্ণনাভঙ্গির কারণে যা স্বাতন্ত্র অর্জন করেছে। রাজপুত্র কিকার সাথে ঘুরে বেড়িয়েছি প্রাচীন মন্দিরে, দেবদূতের আবির্ভাবে ভীত হয়েছি, শিহরিত হয়েছি মূল রহস্য উন্মোচনের পর।
'ট্যাবু' গল্পের মিচেল বুড়ো হিউগোর নির্দেশ অমান্য করে কীসের লোভে নিষিদ্ধ এলাকায় পা বাড়াল? সত্যিই কি গোল্ড ক্রীকের তলায় বসবাস করে কিংবদন্তীর চিতাবাঘ, মিশিবিঝিউ? কে নিয়ন্ত্রন করে তাকে? জানতে হলে পড়তে তো হবেই!
চমৎকার! চমৎকার লেখনী। লেখক প্রথম দিকে ডিটেইলিং দিতে পছন্দ করেন -- এতে আরও উপভোগ্য হয় গল্প। তবে প্রথমে ডিটেইলিং করে, শেষের ঘটনাগুলো একটু দ্রুত ঘটিয়ে ফেলেন -- আরেকটু ধীরস্থিরভাবে শেষার্ধ করলে ব্যক্তিগতভাবে ভাল্লাগত আরও বেশি।
রকমারি.কম-কে গলাকাটা পোস্টেজ দিয়ে কেনা এই বইটা পড়তে গিয়ে নিজেকে বলদ ছাড়া আর কিছু মনে হচ্ছিল না। লেখকের লেখনী নিয়ে কিছু বলার নেই। কিন্তু এই চরম বালখিল্য প্লটের ভিত্তিতে এখনও গল্প লেখা হয়! আর সেগুলো আমি এত টাকা আর তার দ্বিগুণ পোস্টেজ দিয়ে আনাই!!! এরপর নিজেকে বলদ, বোকাপাঁঠা, রামছাগল - এইসব সম্বোধনে ভূষিত করলে কোনো ট্যাবু ভাঙা হবে না। আপনি এগুলো পড়বেন কি না, তা একান্তই আপনার সিদ্ধান্ত। আমি কপাল ঠোকার জন্য একটা পরিচ্ছন্ন গোছের দেওয়ালের খোঁজে যাই।
তৌফির হাসান উর রাকিবের 'ট্যাবু' বইটি যেন রহস্য আর রোমাঞ্চের এক দারুণ প্যাকেজ। সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. নোরার চেম্বারে অদ্ভুত সমস্যা নিয়ে আসা যুবক থেকে শুরু করে নর্থ হাইওয়েতে পাওয়া লাশ, মিরাণ্ডা, লারা, পুরুষ এসকর্ট জেফ কার্টার- সবকিছু মিলে এক দারুণ রহস্যের জাল বোনা হয়েছে। লেখক দক্ষতার সাথে প্রশ্ন তুলেছেন, স্ত্রীকে রক্ষা করতে মানিক কি সত্যিই পিশাচের মুখোমুখি হবে? দেবদূতের আদেশে কিকা কী নিয়ে ফিরবে সপ্ত পাহাড়ের পবিত্র গুহা থেকে? বুড়ো হিউগোর নির্দেশ অমান্য করে মিচেল কেনই বা পা বাড়ালো নিষিদ্ধ এলাকায়? আর গোল্ড ক্রীকের তলায় কি কিংবদন্তীর চিতাবাঘ মিশিবিঝিউ সত্যিই বসবাস করে? এই সব প্রশ্ন পাঠককে গল্পের গভীরে টেনে নিয়ে যায়।
বইটিতে মোট ১১টি গল্প স্থান পেয়েছে: হনন, সী-কুইন, চিলেকোঠা, ওরাকল, ক্ষুধানল, ইনফার্নো, প্রাগৈতিহাসিক, এসকর্ট, মার্জার সমাচার, প্রণয় এবং ট্যাবু। প্রতিটি গল্পই নিজস্ব স্বকীয়তায় উজ্জ্বল এবং পাঠককে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতার স্বাদ দেবে।
আমার কাছে, এই সংকলনের প্রায় প্রতিটি গল্পই দারুণ লেগেছে। যদিও কিছু গল্প আমার কাছে প্রেডিক্টেবল মনে হয়েছে, তবুও সেগুলোর প্রেজেন্টেশন আর লেখার ভঙ্গি আমাকে মুগ্ধ করেছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে 'ট্যাবু' গল্পটি কেন জানি আমার ভালো লাগেনি, খাপছাড়া মনে হয়েছে। যা হয়তো আমার নিজস্ব রুচির ভিন্নতার কারণে।
সব মিলিয়ে, 'ট্যাবু' এমন একটি বই যা এক বসায় হালকা মেজাজে পড়ার জন্য পারফেক্ট।
হরর - থ্রিলার মিলিয়ে বেশ ভালো একটা সংকলন। চিলেকোঠা, প্রণয় গল্প দুটো পড়ে সত্যিকার অর্থেই ভয় পেয়েছি। ওরাকল গল্পটি কিছুটা হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড স্বাদের, পাওনা হিসাবে আছে শেষের ট্যুইস্ট। তবে এই গল্পের শেষটা যেন বেশ তাড়াতাড়িই শেষ হয়ে গেছে, একটু বড় হলে আরো ভালো লাগতো। এসকর্ট, ট্যাবু দুটো গল্প দারুন। বাকিগুলো মোটামুটি লেগেছে। লেখকের লেখনশৈলী ভালো যার জন্য বই পড়ে আরাম পেয়েছি। সব মিলিয়ে বলা যায় বেশ ভালো একটা বই।