এই সময়ের দলিল। প্রেম, লোভ, হিংসা, অপরাধ, মায়া-মমতা, রাজনীতি, বিশ্বাস ভঙ্গ আর বিশ্বাস গড়া দিয়ে এই দলিল তৈরি হয়েছে। ঝকঝকে বুদ্ধিমতী এক তরুণীকে ঘিরে কাহিনি ডালপালা মেলেছে। তরুণীর নাম বারিধারা। সে এই সময়ের তরুণ প্রজন্মের ভালোবাসা, প্রতিবাদ, আধুনিকতা আর মূল্যবোধের প্রতীক। কাহিনি জুরে বহু চরিত্র, ঘটনা অজস্র। কাহিনি যেমন এই সময়ের কথা বলেছে, তেমন সময়কে ছাপিয়ে এগিয়েও গেছে। কাহিনির ব্যাপ্তি চমকে দেওয়ার মতো। অভিনবও বটে। টানটান এই লেখা একবার পড়তে শুরু করলে থামা অসম্ভব। কখনও স্নিগ্ধ, কখনও ক্ষুরধার, প্রচেত গুপ্ত এই উপন্যাসে নিজেকে উজাড় করেছেন। একটু পরে রোদ উঠবে এমন এক কাহিনি যা পরলে পাঠকের মনে হবে, নিজেকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি। যে ছিল গোপনে।
Prachet Gupta(alternative spelling Procheto Gupta or Prachet Gupta or Procheta Gupta; Bengali: প্রচেত গুপ্ত, porocheto gupto) born 14 October 1962) is a Bengali writer and journalist. In 2007, his work Chander Bari has been adapted into a Bengali film by director Tarun Majumdar. In 2011, director Sekhar Das made film on Gupta's story Chor-er bou ("Wife of a thief"), the film was named Necklace. One of the front runners in contemporary Begali literature, few of his stories have been translated into Hindi, Oriya and Marathi language. He is a key writer of the magazine Unish-Kuri, Sananda, Desh.
Early Life: Gupta spent his childhood in Bangur Avenue and studied in Bangur Boys school. He started writing from his childhood. His first story was published in Anandamela when he was only 12 years old. Later his literary works were published in many more magazines. He completed his graduation from Scottish Church College, Kolkata.
Awards: Bangla Academy's Sutapa Roychowdhury Smarak Puraskar (2007) Shailajananda Smarak Samman (2009) Sera Sahityik Puraskar by Akash Bangla(2209) Ashapurna Devi Birth Centinary Literature Award (2009) Gajendra Kumar Mitra O Sumathanath Ghosh Smarak Samman (2010) Barna Parichay Sharad Sahitya Samman(2010) Most Promising Writer Award By Publishers and Bookseller's Guild (Kolkata Book Fair)-2011
এই বইটি কেনার পিছনে একটি ঘটনা আছে। যা বলে ফেলাই মঙ্গল। লেখকের নাম আমি আগেও শুনেছি কারণ তিনি আমাদেরই স্কুলের প্রাক্তনী ছিলেন। কিন্তু তেমন করে তার কোনো বই পড়া হয়নি। ২০১৮ এর আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় ঢুকে ওনার একটি গল্প সমগ্রের বই কিনি, খানিক পরেই তাকের কোণ থেকে উঁকি মারা এই বইটি মনে ধরে যায়। বিশেষত বইটির নাম আমাকে তাড়িয়ে বেরিয়েছিল বেশ কিছুক্ষণ। প্রায় জোড় করে, বাবার সাথে তুমুল ঝগড়া করেই দুটো বইই কিনে ফেলি, এবং বিশ্বাস করবেন না, জোড় করে ঝগড়া করে প্রথম একটা ভালো কাজ করেছিলাম এই বইটি কিনে।
বইটির মুখ্য চরিত্রের নাম বারিধারা। সে বর্তমান যুগের ভালোবাসা, প্রতিবাদ, আধুনিকতা এবং মূল্যবোধের প্রতীক। ঝকঝকে বুদ্ধিমতী এই তরুণীকে ঘিরেই কাহিনী তার ডালপালা মেলেছে। কাহিনী জুড়ে বহু চরিত্র, ঘটনা অজস্র। প্রত্যেকটি ঘটনা প্রত্যেকটির সাথে অত্যন্ত দক্ষতার সহিত যুক্ত। এ কাহিনী যেমন সুনিপুণ ভাবে এই সময়ের কথা তুলে ধরেছে, তেমনি সময়কে ছাপিয়ে এগিয়েও গেছে। এই কাহিনী অনেকটা প্রেম, লোভ, হিংসা, অপরাধ, মায়া-মমতা, রাজনীতি, বিশ্বাস ভঙ্গ, আর বিশ্বাস-গড়া দিয়ে তৈরী এক দলিল। কাহিনীর ব্যাপ্তি যে কোনো পাঠককে চমকে দিতে বাধ্য। এছাড়াও কাহিনীর পরোতে পরোতে রয়েছে রাজনীতি এবং রাজনীতি কেন্দ্রিক ঘটনার সমাবেশ। যা মন কাড়তে বাধ্য।
এই বই সমাজকে নতুন করে বোঝার জন্য অনবদ্য। টানটান এই লেখা একবার পড়তে শুরু করলে থামা অসম্ভব। কখনও স্নিগ্ধ, কখনও ক্ষুরধার এই লেখা পাঠককে ভাবতে বাধ্য করবে।
আমার ভাবনা:- বইটির নাম ভীষণভাবে পছন্দ আমার। যারা প্রথম বইটি দেখবেন তাদের মনে একটি রহস্যের সৃষ্টি করে এই নাম, যা বেশ চমকপ্রদ। বইটির প্রচ্ছদও আমার বেশ পছন্দের। কোনো বিশাল রঙের সম্ভার নেই, শুধু আছে যেটুকু দরকার। এছাড়াও মন কাড়ে মুখ্য চরিত্রের নাম, এবং প্রত্যেকটি রাজনৈতিক ঘটনা। প্রচেত গুপ্তের বই যারা এখনও পড়েননি তারা নির্দ্বিধায় এই বই দিয়ে শুরু করতেই পারেন, এবং আপনার টাকা ও সময় কোনোটাই নষ্ট হবে না কথা দিলাম।
একজন মানুষ কি কখনও অন্য কেউ হয়ে যেতে পারে? তার চোখে পৃথিবী দেখতে পায়? এমনই এক ঘটনা দিয়ে শুরু হয় কাহিনি। কাহিনির কেন্দ্রে সেনবাড়ি। উপন্যাস বিমলকান্তি সেনকে নিয়ে শুরু হলেও পরপর যুক্ত হয় অনেক চরিত্র। কাহিনির এক উল্লেখযোগ্য চরিত্র বারিধারার। বারিধারা ছটফটে, খোলামেলা, সাহসী। তাকে দমিয়ে রাখা যায়না কিন্তু তার অনেকটা জুড়ে আছে ভালোবাসা। কিন্তু একানব্বই বছরের কমলকান্তি এবং তাঁর আধুনিক ও উদার মানসিকতা, বুদ্ধিমতী গৃহবধূ মণিকুন্তলা, সাধারণ মানুষের জন্য ভাবা অর্চিন-প্রেমিকা ঋষা, সাহসী শেখর-তমসা, সরল সাদাসিধে শ্রবণ ইত্যাদিকে বাদ দিলে গল্প সম্পূর্ণ হয়না। উপন্যাসটি চরিত্রকেন্দ্রিক। রয়েছে অজস্র চরিত্র। ভালো আবার খারাপও। প্রতিটি চরিত্রের ভূমিকা ও নিজস্ব গল্প আলাদা। খুব পরিষ্কারভাবে তাঁদের চেনানো হয়েছে। তাই বুঝতে অসুবিধা হয়না।
কাহিনিতে রাজনীতি, বিশেষ করে বামপন্থী আদর্শকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন লেখক। শিক্ষাসংস্থানে, কর্মসংস্থানের রাজনীতি এবং একজন সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে রাজনীতি যেরকম স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়েছেন তার জন্য লেখককে কুর্নিশ জানাই।
আরো অনেক বিষয় নিয়ে লেখক গভীর আলোচনা করেছেন। রন্ধনশিল্প, পদার্থবিদ্যার আপেক্ষিকতাবাদ, নারীবাদ, দুষ্কার্য। অন্যায়-প্রতিবাদ, ভালোবাসা-হিংসা, বিশ্বাস ইত্যাদি নিয়ে গড়ে উঠেছে গল্প। আর গল্পে রয়েছে ভালোবাসার অনেক ধরণ। মা-পুত্রের হোক, প্রেমিক-প্রেমিকা, পরিবার, বিবাহিত দম্পতি বা সাধারণ মানুষের প্রতি। প্রতিটি সম্পর্কই খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
লেখনী অত্যন্ত সাবলীল। একটা ছোট্টো বিষয়কেও এত দার্শনিকতার সঙ্গে লেখায় লেখকের দক্ষতা সত্যিই প্রশংসনীয়।
সবথেকে বেশি মন কেড়ে নেওয়া জিনিস হল - বারিধারা এবং কমলকান্তির মধ্যে দাদু-নাতনির বন্ধুত্ব, তাদের এক দুর্দান্ত প্রকল্পের পরিকল্পনা এবং সেটা নিয়ে তাদের উত্তেজনা।
উপন্যাসে কিছু জিনিস পড়তে বাড়তি সময় লাগলেও পড়া থামানো যায়নি। কাহিনিতে আছে নাটক, রহস্য, রোমাঞ্চ যেগুলো পড়ে চোখের সামনে ভেসে উঠেছে। মনে হয়েছে আমিও কাহিনির এক অংশ। কখনও পড়তে পড়তে ডুবে গেছি পাতার মধ্যে। আর আছে এমন অনেক কথা যেগুলো পড়লে পড়া থামিয়ে কিছুক্ষণ ভাবতে হয়েছে। কথাগুলো খুব সহজ ভাষায় লেখা হলেও শিখিয়েছে অনেক কিছু, মনে দাগ কেটে গেছে। বইটা থেকে যতটা প্রত্যাশা ছিল, প্রাপ্তি হয়েছে তার অনেকগুণ বেশি।
বইটার নামকরণের মধ্যেও আছে দার্শনিকতা, যা আমার বেশ ভালো লেগেছে। গল্পের শেষ হয় মনে এক ভালোলাগার অনুভূতি নিয়ে। এই সমাপ্তি খুব পরিতৃপ্তির। কাহিনি আমায় শেখায় যে জীবনে খারাপ সময় আসবেই। খারাপ ছাড়া তো জীবন সম্পূর্ণ হয় না। কিন্তু তারপর ভালো সময়ও আসে জীবন উজ্জ্বল করে। তারজন্য অপেক্ষা করতে হয়।
বইটির প্রচ্ছদ নজর কাড়ার মতনই। আর আমি অবশ্যই সবাইকে বলব হাতে সময় নিয়ে উপন্যাসটি একবার অবশ্যই পড়ে দেখতে।
এই কাহিনীর বিশেষত্ব বলতে - চরিত্রের সমারোহ আর তাদের বিচিত্রতা। এই কাহিনী এই সময়েরই দলিল। প্রেম, লোভ, হিংসা, অপরাধ, মায়া, মমতা, রাজনীতি, বিস্বাসভঙ্গ আর বিশ্বাসগড়া দিয়ে তৈরি এই দলিল। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সেনবাড়ি। সেই বাড়ির সদস্য এবং তার সাথে জড়িত বেশ কয়েক চরিত্র আর তাদের বিভিন্নতা স্থান পেয়েছে এতে। গল্পের নায়ক তেমন কেউ না থাকলেও, নায়িকা এক ঝকঝকে তরুণী বারিধারা সেন। . 🌞 . রাজনীতির সংযোজন কাহিনীটির কলেবরে নতুন রং দিয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টির অন্তরের ভাব, আর হার না মানা দুই মানুষের সংগ্রামের কথা পাঠককে বেশ ভাববে। এক নেতা সম্পর্কে সাধারণের মনোভাব আর তার ব্যতিক্রম সবটাই নতুন মাত্রা দিয়েছে এই লেখাকে। . 🌞 . প্রগতিশীলতা ঠিক কি তা বারবার লেখকের কলমের যুপকাষ্ঠে খণ্ডিত হয়েছে। সব থেকে বড় হয়ে উঠেছে এই উপন্যাসে ভালোবাসার কথা। ভালোবাসা যে সেই মানুষটির মূল্যবোধ আর আদর্শকেও সন্মান করতে শেখায় তা ফুটে উঠেছে দুই জোড়া প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যে দিয়ে। . 🌞 . বইটির ভাষা অত্যন্ত প্রাঞ্জল। কিন্তু এর ভিতরেই রয়েছে এক নব্বই উত্তীর্ণ বৃদ্ধের আধুনিক মনোভাব ও এক গৃহবধূর তার পরিবারের প্রতি ভালোবাসা আর আন্তরিকতার কথা। অতএব বুঝতেই পারছেন , বহু চরিত্র ও অজস্র ঘটনা নিয়ে এই কাহিনীর বুনন। . 🌞 . এই কাহিনীর ব্যাপ্তি কিংবা চরিত্রের সমারোহ,যে কারণেই হোক বইটি পড়লে না শেষ করে মাঝে থেমে থাকা বড় কষ্টকর। যদিও গল্পের কিছু জায়গায় কিছু ঘটনার বর্ণনা আমার নিষ্প্রয়োজন ও জোর করে বলা বলে মনে হয়েছে । তবু গোটা উপন্যাসের সাথে তা বেশ মানিয়ে যায়। এই কাহিনীর স্নিগ্ধ অথচ ক্ষুরধার বর্ণনায় লেখক যেমন এই সময়ের কথা বলেছেন, আবার তেমনি বলেছেন এই সময়কে ছাপিয়ে গিয়েও। হাসি-ঠাট্টা, দুঃখ-বেদনা, অভিমান- অনুরাগে ভরা এই কাহিনীর শেষটি অত্যন্ত মনোরম। নামের রহস্যটি বই না পড়লে কিন্তু বোঝানো মুশকিল!