মল্লিকা সেনগুপ্ত সাম্প্রতিক সময়ের বিশিষ্ট কবি। প্রকৃত স্বাধীনতাকামী নারীর কণ্ঠস্বর দৃঢ় হয়ে আছে তাঁর কবিতায়। কবি হিসেবে মল্লিকার স্বাতন্ত্র এখানেই যে, আন্দোলনকারী নারীবাদীদের চিৎকার ও ঘৃণা তিনি কবিতায় ব্যবহার করেননি, বরং নম্র গলায় বলেছেন নিপীড়িত, প্রতারিত নারীর বিষাদ ও অভিমানের কথা। তাঁর ভাষ্যে মিশে আছে পুরাণ, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান। নতুন দৃষ্টিকোণ নিয়ে গড়ে উঠেছে এক গভীর, স্পর্শকাতর নারীজীবন। সর্বোপরি মল্লিকার কবিতা শেষপর্যন্ত কবিতাই থেকেছে, তা হয়ে যায়নি কোনও মোটা দাগের ইস্তাহার। রহস্যময় ‘চল্লিশ চাঁদের আয়ু’ থেকে অসামান্য ‘আমি সিন্ধুর মেয়ে’ হয়ে ‘পুরুষকে লেখা চিঠি’ বা ‘বৃষ্টিমিছিল বারুদমিছিল’-এর দিকে ছুটে যাওয়ার সময় অজস্র কবিতায় মল্লিকা প্রকৃতপক্ষে ধারণ করেছেন সৃজনশীল, অফুরন্ত এক মানবী সত্তাকে। তাঁর অকালপ্রয়াণের পর মুগ্ধ পাঠকের জন্য একত্রিত করা হল সমস্ত কবিতা। মল্লিকা সেনগুপ্তর ‘কবিতাসমগ্র’ গ্রন্থটি বাংলা কবিতার এক বিশেষ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।
মল্লিকা সেনগুপ্ত-র জন্ম ২৭ মার্চ ১৯৬০, কলকাতায়। পেশায় সমাজতত্ত্বের অধ্যাপক। ডক্টরেট, গবেষণার বিষয় ছিল বাংলা উপন্যাসে বিবাহবিচ্ছিন্না নারীদের উপস্থাপনার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। ১৯৮৫তে অধ্যাপনার কাজ শুরু করেন। মহারাণী কাশীশ্বরী কলেজে। কবিতা লেখার শুরু ১৯৮২ সাল থেকে তখন এম এ ক্লাসের ছাত্রী। কবিতার পাশাপাশি লিখেছেন তিনটি উপন্যাস ও তিনটি নারীচেতনার প্রবন্ধগ্রন্থ। পেয়েছেন সুকান্ত পুরস্কার, কেন্দ্রীয় সরকারের জুনিয়র রাইটারস ফেলোশিপ, অনীতা-সুনীল বসু পুরস্কার, আলপনা আচার্য স্মৃতি পুরস্কার ইত্যাদি। কবিতাপাঠ ও আলোচনায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছেন সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, ইউ এস এ, চেক রিপাবলিক ও ঢাকায়। উইকিপিডিয়া, ইনডিয়া পোয়েট্রি ইনটারন্যাশনাল, দি আনসেভারড টাঙ, ইনডিয়া টুগেদার ইত্যাদি নানা ওয়েবসাইটে তাঁর কবিতা ও জীবনতথ্য পাওয়া যায়। ১৯৮৯ থেকে আমৃত্যু ‘ভাষানগর’-এর সম্পাদক, কবি সুবোধ সরকারের সঙ্গে। প্রয়াণ ২৮ মে ২০১১।