Jump to ratings and reviews
Rate this book

জীবনের স্মৃতিদীপে

Rate this book

260 pages

Published December 9, 1959

3 people are currently reading
73 people want to read

About the author

R.C. Majumdar

86 books185 followers
Ramesh Chandra Majumdar (known as R. C. Majumdar; 4 December 1888 – 11 February 1980) was a historian and professor of Indian history.

Born at Khandarpara, in Faridpur District (now in Bangladesh) on 4 December 1888, to Haladhar Majumdar and Bidhumukhi, Majumdar passed his childhood in poverty. In 1905, he passed his Entrance Examination from Ravenshaw College, Cuttack. In 1907, he passed F.A. with first class scholarship from Ripon College (now Surendranath College) and joined Presidency College, Calcutta. Graduating in B.A.(Honours) in 1909 and MA from Calcutta University in 1911, he won the Premchand Roychand scholarship from the University of Calcutta for his research work in 1913.

Majumdar started his teaching career as a lecturer at Dacca Government Training College. Since 1914, he spent seven years as a professor of history at the University of Calcutta. He got his doctorate for his thesis "Corporate Life in Ancient India".[3] In 1921 he joined the newly established University of Dacca as a professor of history. He also served, until he became its vice chancellor, as the head of the Department of History as well as the dean of the Faculty of Arts. Between 1924 and 1936 he was Provost of Jagannath Hall. Then he became the vice chancellor of that University, for five years from 1937 to 1942. From 1950, he was Principal of the College of Indology, Benares Hindu University. He was elected the general president of the Indian History Congress and also became the vice president of the International Commission set up by the UNESCO for the history of mankind.

Majumdar started his research on ancient India. After extensive travels to Southeast Asia and research, he wrote detailed histories of Champa (1927), Suvarnadvipa (1929) and Kambuja Desa. On the initiative of Bharatiya Vidya Bhavan, he took up the mantle of editing a multi-volume tome on Indian history. Starting in 1951, he toiled for twenty six long years to describe the history of the Indian people from the Vedic Period to the present day in eleven volumes. In 1955, Majumdar became the founder-principal of the College of Indology of Nagpur University. In 1958-59, he taught Indian history in the University of Chicago and University of Pennsylvania. He was also the president of the Asiatic Society (1966–68) and the Bangiya Sahitya Parishad (1968–69). For some time he was also the Sheriff of Calcutta (1967–68).

When the final volume of "The History and Culture of the Indian People" was published in 1977, he had turned eighty-eight. He also edited the three-volume history of Bengal published by Dacca University. His last book was "Jivaner Smritidvipe".

When the Government of India set up an editorial Committee to author a history of the freedom struggle of India, he was its principal member. But, following a conflict with the then Education Minister Maulana Abul Kalam Azad on the Sepoy Mutiny, he left the government job and published his own book. The Sepoy Mutiny & Revolt of 1857. According to him the origins of India's freedom struggle lie in the English-educated Indian middle-class and the freedom struggle started with the Banga Bhanga movement in 1905. His views on the freedom struggle are found in his book History of the Freedom Movement in India. He was an admirer of Swami Vivekananda and Ramakrishna Paramahamsa.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
6 (37%)
4 stars
3 (18%)
3 stars
2 (12%)
2 stars
0 (0%)
1 star
5 (31%)
Displaying 1 - 6 of 6 reviews
Profile Image for Shadin Pranto.
1,482 reviews563 followers
October 5, 2019
"কোন বাঙালি আজ পর্যন্ত আত্মজীবনী লেখে নি, কেননা আত্মজীবনী লেখার জন্যে দরকার সততা। বাঙালির আত্মজীবনী হচ্ছে শয়তানের লেখা ফেরেশতার আত্মজীবনী।"(প্রবচন নং ৯৩)
হুমায়ুন আজাদের প্রবচনটি বিনাকারণেই আনলাম।আত্মকথা পড়তে বড্ড ভালো পাই। যেকোনো বাঙালির আত্মজীবনী আরো মনোযোগ দিয়ে পাঠ করি এবং প্রভূত জ্ঞান লাভ করি। যদিও অর্থনীতির বিচারে এই জ্ঞানের কানাকড়ি দামও নেই।

রমেশচন্দ্র মজুমদারের আত্মজীবনীর নামই "জীবনের স্মৃতিদীপে"। ইতিহাসবিদ হিসেবে তিনি যতটা আলোচিত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যাপক ও প্রথমদিককার উপাচার্য হিসেবে তাঁর কর্মজীবন ততটা সাধারণে আলোকপ্রাপ্ত নয়।

১৯৭৩ সালে তিনি তার এই জীবনকথা লিখেছেন। জন্মেছিলেন বিক্রমপুরের এক ব্রাহ্মণ পরিবারে। উনিশ শতককের শেষভাগের পূর্ববঙ্গের গ্রামীণ পরিবেশের একটি নির্ভেজাল চিত্রের সন্ধান দিয়ে স্মৃতিরোমন্থন শুরু করেন এই প্রবীণ।সেসময়কার একটি হিন্দুসংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রাম কেমন হতে পারে তার বর্ণনা রমেশচন্দ্র অতিউত্তমভাবে দিয়েছেন। নদী ভাঙন বাংলার একটি বড় সমস্যা। লেখক নিজের জেলায় নদীভাঙনে কতোশতো ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি নদী জবরদখল করেছে তার একটি লিস্টি দিতে চেষ্টা করছেন।

রমেশচন্দ্র নিজের বংশলতিকা বিশ্লেষণ করে আগেই পাঠককে জানিয়ে দিচ্ছেন, তিনি সাধারণ মাপের ব্রাহ্মণ নন, স্বয়ং রাজাগজাদের রক্ত পাতায় লতায় তাদের শরীরে বহমান।
রাজাগজা থাকুক। ছেলেবেলায় যাই। লেখকের গ্রামে কুলীন ব্রাহ্মণমশাইদের খুব প্রকোপ ছিল। তার সাক্ষ্য হাজিরে তিনি লিখেছেন-
"আমার এক সহপাঠী ছিলেন কুলীন ব্রাহ্মণ, তার বাবা পঞ্চাশ ষাটটি বিবাহ করেছিলেন, এরমধ্যে পাঁচ ছজন স্ত্রী আমাদের গ্রামে অর্থাৎ,শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন। তাদের গ্রামের নামেই তাদের ডাকা হত। এঁর একভাইও চল্লিশ পঁয়তাল্লিশটি বিবাহ করেছিলেন।"
আরেকটি ঘটনা বেশ মজার ও কুলীনত্বের হ্যাপা বুঝবার মতো -
"একদিন সকালে গ্রামের ডাকঘরে যথারীতি সকলে সমাবেত হয়েছেন। একটি যুবক এসে জিজ্ঞেস করল-শ্যামাচরণ মুখার্জির বাড়ি কোনদিকে? একজন জিজ্ঞেস করল তিনি তোমার কে হন? যুবক উত্তরে বলল তিনি আমার পিতা। উক্ত শ্যামাচরণ মুখার্জিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বলা বাহুল্য, পুত্রকে তিনি কোনদিন দেখেন নি। তিনি লজ্জিত হলেন ও পুত্রকে বাড়ি নিয়ে গেলেন।"
আবার, গ্রামে হিন্দুমুসলমানের মাঝে সাম্প্রদায়িকতা তীব্র ছিল না। রমেশচন্দ্রের ছেলেবেলার সবচে প্রিয়বন্ধু একজন মুসলমান। এই চিত্র একটি ইঙ্গিতবহন করছে। বিশশতকের শেষভাগেও সাম্প্রদায়িকতা ততটা জঘন্যরূপ নেয়নি।
১৯০০ সালে কলিকাতায় প্রথম আসেন রমেশচন্দ্র মজুমদার। পরে আবার ঢাকায় চলে যান। গিয়ে ভর্তি হন কলেজিয়েট স্কুলে। সেখানথেকে পাকাপাকি পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন। এখানথেকেই এন্ট্রান্স পাশ করেন ১৯০৬ সালে, তারপর রিপন কলেজে ভর্তি হন। তখন সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি দেশব্যাপী খ্যাতনামা জননেতা। সেই সুরেন ব্যানার্জি রিপন কলেজে ক্লাস নিতেন। ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লব তখনো দানাবাঁধেনি প্রবলভাবে। তবুও সেইসময়কার যুবসমাজের চিন্তারাজ্য ধারণা কিছুটা হলেও দিতে চেষ্টা করেন। তবে তাঁর লেখনীতে মুসলমান জনগোষ্ঠীর কথা এখানে পাচ্ছি না। হয়তো কলিকাতায় তিনি শিক্ষাজীবনে কোনো মুসলমান শিক্ষার্থী দেখেনই নি কিংবা সান্নিধ্য পাননি।

অনার্সে দ্বিতীয়শ্রেণিতে প্রথম হন এবং কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন আশুতোষ মুখার্জির যুগ চলছে। প্রবলপ্রতাপশালী এই ব্যক্তিকে রমেশচন্দ্রের আত্মকথায় বহুমুখী ভূমিকায় পাব।
মাস্টার্সে প্রথমশ্রেণি পান তবে হন দ্বিতীয়। তাই নিয়মানুযায়ী যিনি প্রথম তিনি শিক্ষক হন কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের।
শিক্ষাজীবন শেষ করে ইতিহাসে উচ্চতর গবেষণা করতে চান লেখক। হাজির হন বিখ্যাত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয়ের কাছে। প্রথমে গাঁইগুই করলেও তাঁর মাধ্যমেই গবেষণার হাতেখড়ি পান রমেশচন্দ্র মজুমদার। কিন্তু মানবমনে কৃতজ্ঞতাবোধ বড়বেশি কম।গুরু শাস্ত্রী মহাশয়ের কৃতজ্ঞতা সারা বইতে কোথাও তো স্বীকার করেন ই নি বরং অবস্থাবিশেষে তাকে হেয় করার ঘটনাও প্রফুল্লচিত্তে বয়ান করেছেন!

চাকরি পান না, পান না অবশেষে আশুতোষ মুখার্জির চেষ্টায় ও নিজের যোগ্যতাবলে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পেয়ে যান। এইখানে এক নবীন শিক্ষককে কীভাবে তাঁর সহকর্মী প্রবীণ শিক্ষকরা পদেপদে বিপদে ফেলতে চেয়েছে তা নিয়ে কিছু ঘটনা লিখেছেন যা সত্যিই ঘৃণার জন্ম দেয় (স্মরণযোগ্য, আপনি একপক্ষের বয়ান পড়ছেন) ।

মহেঞ্জোদাড়োর আবিষ্কারক রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে মেধার একটি অলিখিত দ্বন্দ্ব আজীবন ছিল লেখকের। আবার,ঐতিহাসিকদের দুদল আছে,একদলে আশুতোষ, রমেশচন্দ্র সহ অনেকে, ওপরদলে আচার্য যদুনাথ সরকার,হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ও রাখালদাস। এঁরা গবেষণায় মেতে উঠতে গিয়ে প্রতিযোগিতাকে নিয়ে যান ব্যক্তিগতজীবনে। কাঁদা ছোড়াছুড়ি করেছেন দুদল, একে অপরের কীর্তিকে মলিন করতে চেয়েছেন নোংরাভাবে। তাতে তাঁরা কতটুকু উপকৃত হয়েছেন জানি না, তবে ভারতের ইতিহাসচর্চা পিছিয়েছে অনেক। সারাবইতে এসব দলাদলির ঘটনা অনেক আছে।

কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাতবছর শিক্ষকতা করেছেন লেখক। এরপর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে তাতে আশুতোষ মুখার্জির সুপারিশে নিয়োগ পান ভারত বিষয়ক ইতিহাসের অধ্যাপক পদে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা চাইতেন না। তারা একে "সাংস্কৃতিক" ভাঙন বলে প্রচার করতেন। সত্যি হল, এতে যতটা না সাংস্কৃতিক ভাঙানের যুক্তি, তারচে বেশি তাদের স্বার্থ ছিল পূর্ববাংলাকে দাবিয়ে রাখবার চেষ্টা।
এই ঢাবি বিরোধী আন্দোলনের চাঁই ছিলেন আশুতোষ। তিনি কোনোভাবেই মানতে পারতেন না কলিকাতার সমান্তরালে একটি বিশ্ববিদ্যালয় পাবে পূর্ববঙ্গের মানুষরা;বিশেষত, পূর্ববঙ্গ আবার মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ! এ হতে পারে না।

কীভাবে আশুতোষ গং তুষ্ট হলেন তার বিস্তারিত লিখেছেন লেখক।আমি মনে করি এই ঘটনার বর্ণনার ঐতিহাসিক মূল্য অপরিসীম। আশুতোষ গভর্ণরের সাথে 'ঢাকা প্যাক্ট' এ আসেন যে, ঢাবির বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে হবে ঠুঁটো জগন্নাথ কেননা এর ক্ষমতা থাকবে ঢাকার মাত্র দশমাইলের মধ্য! দীর্ঘদিন ঢাবির ক্ষমতা ছিল এটুকুই।

১৯২১ সালে ঢাবিতে শিক্ষকতা শুরু করেন। দীর্ঘ একুশ বছর ছিলেন ঢাকায়। ঢাবির ইতিহাস ও ঢাকার তৎকালীন পরিস্থিতি বুঝতে লেখকের এই অধ্যায়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৩৭ সালে এ এফ রহমানের পর ভিসি হন রমেশচন্দ্র মজুমদার। এখানে তিনি আমার অজানা দারুণ একটি তথ্য দিয়েছেন। তিনি দাবী করেছেন, ঢাবির এক্সিকিউটিভ কমিটি ভিসি হিসেবে নামের মনোনয়ন পাঠান চ্যান্সেলর অর্থাৎ গভর্ণরের কাছে। নাম দুটি ছিল-
১.হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
২.রমেশচন্দ্র মজুমদার
সোহরাওয়ার্দীকে যে ঢাবির ভিসি নিয়োগের কথা উঠেছিল তা বেশ আগ্রহউদ্দীপক।

ভিসি ছিলেন রমেশচন্দ্র সাড়ে পাঁচবছর। এই সময়ে নানা গুণীজনের সান্নিধ্য পেয়েছেন ভিসিত্বের সুবাদে। তাঁদের মধ্যে যাঁদের কথা তিনি লিখেছেন বিশদভাবে তাঁরা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,শরৎচন্দ্র(এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের ঢাকাবাসীরা অনেকেই চান নি শরৎকে সম্মাননা দেয়া হোক!) , আল্লামা ইকবাল, সরোজিনী নাইডু ও হায়দ্রাবাদের স্যার আকবর হায়দার।

ভিসি রমেশচন্দ্রের ঢাবি বিষয়ক স্মৃতিচারণা পড়ে বোঝার উপায় নেই যে ঢাবিতে মুসলমান শিক্ষার্থী ও শিক্ষক ছিল। এক "মৌলভি শহিদুল্লার " কথা তিনি লিখেছেন।
ঢাকার রায়টের কথা লিখতে গিয়ে দোষ চাপিয়েছেন মুসলমানদের ওপর।

১৯৪২ সালে ঢাবি থেকে অবসরে যান। এরপর আজীবন ইতিহাস হাতড়ে বেরিয়েছেন, শিক্ষকতা করেছেন, বই লিখেছেন হিন্দু যুগ, মুসলমান যুগ আর ইংরেজযুগ ভাগ করে।

দেশভাগের দায় অনেকটা মুসলিম লীগের ঘাড়ে চাপিয়েছেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বলেছেন "বিদ্রোহ " এবং সেই কার্যে যেহেতু ভারত তথা হিন্দুরা সহায়তা দিয়েছে তাই তিনি নেতৃবৃন্দের কাছে দাবী জানিয়েছেন "বাংলাদেশের সীমান্তের একটি অংশ পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের দিয়ে দিতে।"
জীবন বড়ই বৈচিত্র্যময় ও পঙ্কিলময়। সেই পঙ্কিলতা কারো কম, তো কারো বেশি। কিন্নর ড. রমেশচন্দ্র মজুমদারের জীবনপাঠে জ্ঞান লাভ হল তাঁর জীবনপথে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেন নি, কারো অনিষ্ঠ করা তো দূরে থাকুক চিন্তায় করেন নি। এবং সার্বিক বিবেচনায় তিনি গৃহে থেকেও সন্ন্যাসিরর জীবনযাপন করেছেন।
"জীবনের স্মৃতিদীপে" পাঠ শেষ। আসুন, এখন আমরা মনে করি হুমায়ুন আজাদ তাঁর প্রবচনগুচ্ছের ৯৩ নং প্রবচনে কী বলেছিলেন।
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 37 books1,866 followers
April 26, 2022
ভারতের, বিশেষত বাংলার ইতিহাস লেখায় ও পরিবেশনে ডক্টর রমেশচন্দ্র মজুমদারের ভূমিকা ঐতিহাসিক বললে অতিশয়োক্তি হবে না। কিন্তু স্বাধীন ভারতে, মূলত রাজনৈতিক কারণে, তাঁর লেখাজোখা প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার শিকার হয়। একইভাবে, দেশভাগের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে তাঁর নানা কীর্তি ও অবদানও হারিয়ে গেছে বিস্মৃতির অতলে। অথচ দীর্ঘ জীবনে রমেশচন্দ্র শুধু গবেষণা বা অধ্যাপনাই করেননি। নিঃসঙ্কোচ সততায় তিনি সাম্প্রতিক ইতিহাসকেও ফুটিয়ে তুলেছেন নিজের লেখায়— যা এই সময়ের তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের ধারণাতীত। এই অবস্থায় পারুল প্রকাশনী রমেশচন্দ্রের এই আত্মজীবনীটি এপারে প্রকাশ করে বাংলা ও বাঙালির কাছে কৃতজ্ঞতাভাজন হলেন।
বইটি শুরু হয়েছে একটি ক্ষুদ্র 'ভূমিকা'-র মাধ্যমে। তারপর এসেছে বারিদবরণ ঘোষের 'পরিচায়িকা'— যা রমেশচন্দ্রের লেখায় বর্ণিত সময় ও নানা বিতর্ককে খুব সংক্ষেপে তুলে ধরেছে। এরপর এসেছে এইক'টি অধ্যায়~
১. বংশ পরিচয়
২. ছাত্রজীবন
৩. সাহিত্যচর্চা
৪. অধ্যাপনা: কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
৫. ঐতিহাসিক গবেষণা: বাংলাদেশে পুরাতত্ত্ব আন্দোলন
৬. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান
৭. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা
৮. গবেষণা, বিদেশযাত্রা ও দেশভ্রমণ
৯. বাংলার ইতিহাস রচনা
১০. ঢাকায় রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্র
১১. ভাইস-চ্যান্সেলরের পদলাভ
১২. ভারতভ্রমণ
১৩. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সামাজিক জীবন
১৪. ভারতের মুক্তিসংগ্রাম
১৫. শচীন ও ব্যবসায়ের কথা
১৬. ভারতবর্ষের ইতিহাস রচনা
১৭. অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ
১৮. স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস: অন্যান্য ঐতিহাসিক গবেষণা
১৯. ইউনেস্কোর অধিবেশন
২০. দেশভ্রমণ ও অন্যান্য কর্ম— পূর্ববঙ্গের বাস্তুহারা
পরিশিষ্ট ১~ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঢাকায় আগমন (কিছু পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের তথ্যনিষ্ঠ প্রতিবাদ হিসেবে এটি রচিত);
পরিশিষ্ট ২~ দেশভ্রমণ (মূলত ইউরোপ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এখানে লিপিবদ্ধ হয়েছে);
পরিশিষ্ট ৩~ ভারতের মুক্তিসংগ্রামে নেতাজির অবদান সম্বন্ধে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অভিমত (যা স্বাধীন ভারতের নেতাদের চোখে রমেশচন্দ্র ও তাঁর কাজকে দূষণীয় করে তুলেছিল)।
Appendix অংশে রমেশচন্দ্রের সম্পর্কে কিছু তথ্য দেওয়া আছে।
শেষে এসেছে 'নির্দেশিকা' এবং কিছু সাদা-কালো আলোকচিত্র।
ডক্টর মজুমদার সেই বিরল মানুষদের একজন ছিলেন, যিনি দীর্ঘ জীবনে দেখেছেন অনেক, করেছেন অনেক, সর্বোপরি নির্দ্বিধায় বলেছেন ও লিখেছেনও অনেক। তাঁর এই 'পলিটিকালি ইনকারেক্ট' অথচ সৎ ভাবনা তাঁকে নানা সময়ে সমালোচনা ও বিরোধিতার সম্মুখীন করেছে। তবু তিনি নিজের অবস্থান এবং কর্তব্য থেকে পিছিয়ে যাননি। এই নিষ্করুণ ও নির্ভয় সততার জন্য তাঁর এই বইটিই শুধু নয়, যাবতীয় কাজই অন্ধকারে দীপের মতো উজ্জ্বল হয়ে থাকে।
স্মৃতিদীপ নয়, বরং এই বই এক "আত্মদীপ ভব" ভাবনারই প্রকাশ।
ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর বাংলা তথা ভারতের কিছু সময় ও ঘটনাকে ছুঁয়ে দেখতে চাইলে এই বইটি অবশ্যই পড়ুন।
বইটির মুদ্রণ ও পরিবেশন সযত্ন। মূল্যটিও অস্বাভাবিক নয়। প্রকাশককে এজন্য আবারও ধন্যবাদ দিই। সেই সঙ্গে অনুরোধ রাখি, যাতে রমেশচন্দ্রের অধুনা-অপ্রাপ্য কাজগুলো তাঁরা নতুন করে এপারের পাঠকের জন্য ফিরিয়ে আনেন।
অলমিতি।
Profile Image for Kazi Shoaib.
78 reviews21 followers
February 7, 2017
লেখক ঢাকা ভার্সিটির সাথে একদম প্রথম থেকেই যুক্ত ছিলেন। ভার্সিটি প্রতিষ্ঠা হবার পরই ইতিহাসের অধ্যাপক হিসাবে যোগ দেন। ১৯৩৬ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত ভিসি ছিলেন। সেসময় ভার্সিটির জন্য সরকার বার্ষিক চার লক্ষ টাকা বরাদ্দ করত। অধ্যাপকদের মাসিক বেতন ১০০০ টাকা থেকে শুরু হত। তখন ভাল মানের চালের মণ (এক মণ ৩৭ কেজি থেকে সামান্য বেশি) ছিল আট টাকা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুযোগ সুবিধা বেশি হবার কারণে অনেক বিশিষ্ট পন্ডিত সেসময় কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ছিল প্রকৃতই আন্তর্জাতিক মানের। এই একই বিশ্ববিদ্যালয়ই পরে আহমদ ছফার "গাভী বিত্তান্ত" উপন্যাসের বিষয় হয়েছে ভাবতেই কষ্ট হয়।

৪৭ এর দেশভাগ, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে লেখক খুবই অদ্ভূত একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। উনার মতে বাংলাদেশের সীমান্তের কিছু অংশ শুধুমাত্র হিন্দুদের বসবাসের জন্য ভারতকে ছেড়ে দেয়া উচিত। এবং এর বিনিময়ে পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী সকল বাঙালি মুসলিমকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো যেতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ যখন ভারতের সাহায্যপ্রার্থী ছিল তখন ভারত সরকার খুব সহজেই এই বন্দোবস্তটি করে নিতে পারত বলে তিনি আক্ষেপ করেছেন।
Profile Image for Shakil Akther.
99 reviews6 followers
April 13, 2020
One word "Boring". It seems like I was reading a personal diary - full of I did this and that and everybody who opposed me is wrong.
If he was alive , he would have been a poster child of Modi. His opinion that Muslims in Bangladesh would always terrorize the hindus , take down all their asset and belongings based on opinion of some middle class migrant from Bangladesh not on facts or the experience he had in Dhaka. If he was alive, I would ask him - he like it or not Muslims ruled India for six hundred years while the English less than 200 years. But why only one volume on Muslim rule and two volumes on English rule.
Profile Image for Morshed Alam.
5 reviews4 followers
March 26, 2022
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যাপক ও প্রথমদিককার উপাচার্য (মেয়াদকাল ১৯৩৬-১৯৪২) রমেশচন্দ্র মজুমদারের আত্মজীবনীর নাম "জীবনের স্মৃতিদীপে"......।
বইটি পড়তে গিয়ে ক্ষণে ক্ষণে রোমাঞ্চ অনুভব করেছি।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর হাত ধরে গবেষণা শুরু হলেও জীবনের পরবর্তী সময়ে কেন জানি উনার সাথে মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন!
ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় হবে;এটি মেনে নিতে পারেননি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। তবুও নিজের প্রিয় ছাত্রকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ পদে চাকরি দেওয়ার জন্য ‘রিকমেন্ডেশন লেটার‘ লিখতে একটুও কার্পণ্য করেননি ।
পুরো বইতে নিজের শিক্ষক স্যার আশুতোষকে বারবার শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন। বইতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (অধ্যাপক , প্রভোস্ট, ভিসি) প্রমুখ দায়িত্বে থাকা কালিন সময়কার স্মৃতি প্রাধান্য পেয়েছে।
খুবই সুখপাঠ্য একটি বই।নানান জায়গায় 'কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট' অবশ্য রয়েছে ।কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক ‘স্পর্শকাতর' বিষয়ে কথা বলেছেন।
অল্প কিছু বিতর্কিত জায়গা বাদ দিলে আমি বলবো সবার জন্য মাস্ট-রিড একটা বই। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই বই না পড়লে লেখকের আত্মা শান্তি পাবে না।
ভিডিও রিভিউ দিলাম ।
https://www.facebook.com/Morshed728/p...
Displaying 1 - 6 of 6 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.