Awarded the Nobel Prize in Literature in 1913 "because of his profoundly sensitive, fresh and beautiful verse, by which, with consummate skill, he has made his poetic thought, expressed in his own English words, a part of the literature of the West."
Tagore modernised Bengali art by spurning rigid classical forms and resisting linguistic strictures. His novels, stories, songs, dance-dramas, and essays spoke to topics political and personal. Gitanjali (Song Offerings), Gora (Fair-Faced), and Ghare-Baire (The Home and the World) are his best-known works, and his verse, short stories, and novels were acclaimed—or panned—for their lyricism, colloquialism, naturalism, and unnatural contemplation. His compositions were chosen by two nations as national anthems: India's Jana Gana Mana and Bangladesh's Amar Shonar Bangla.
সপ্তাহখানেকের মধ্যে সকলেই বুঝিল, নববধু বােবা। তা কেহ বুঝিল না সেটা তাহার দোষ নহে। সে কাহাকেও প্রতারণা করে নাই। তাহার দুটি চক্ষু সকল কথাই বলিয়াছিল, কিন্তু কেহ তাহা বুঝিতে পারে নাই। সে চারি দিকে চায়— ভাষা পায় না— যাহারা বোবার ভাষা বুঝিত সেই আজন্মপরিচিত মুখগুলি দেখিতে পায় না— বালিকার চিরনীরব হৃদয়ের মধ্যে একটা অসীম অব্যক্ত ক্রন্দন বাজিতে লাগিল— অন্তর্যামী ছাড়া আর-কেহ তাহা শুনিতে পাইল না।
এবার তাহার স্বামী চক্ষু এবং কর্ণেন্দ্রিয়ের দ্বারা পরীক্ষা করিয়া এক ভাষাবিশিষ্ট কন্যা বিবাহ করিয়া আনিল।
নবম-দশম শ্রেণীতে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প ‘সুভা’ পড়েছিলাম। তখন কেবল পাশ করতে হবে, পরীক্ষার খাতায় ভালো নম্বর পেতে হবে এই ভেবেই পড়ে গেছি। কখনো এর ভেতরে লুকায়িত মর্মার্থ বোঝার চেষ্টা করিনি। ক্লাসের শিক্ষক গল্পটির পাঠ পরিচিতি বিশ্লেষণ করলেও যতটুকু পরীক্ষার খাতায় লিখার জন্য প্রয়োজন ততটুকুইু মাথায় নিয়েছিলাম কেবল। কিংবা আমার ছোট মাথা গভীর অর্থের সন্ধান পায়নি তখন পর্যন্তও!
সেই যে এসএসসি পরীক্ষা দিলাম, এরপর আজ আবার নতুন করে গল্পটি পড়তে ইচ্ছে হলো। জানতে ইচ্ছে করছিল সকল অজানা প্রশ্নের উত্তর। আমি জানতাম, গল্পটা যতই পড়ি সমাপ্তিতে কোনোরূপ পরিবর্তন আসবে না। তবুও পড়েছি, যদি কোনো পরিবর্তন আসে! যদি বোবা মেয়েটি তার একটিমাত্র শেষ আশ্রয় খুঁজে পায়! কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমাদের সমাজে কালো-সাদা, লম্বা-বেঁটে, বোবা, কানা, কালা এসবকে ব্যক্তির নিজস্ব ত্রুটি হিসেবেই ধরা হয়। কেউ একবারও ভাবে না, যদি আমাদের নিজেদের তৈরি করার দায়িত্ব নিজেদের উপরেই বর্তানো হতো, তবে আমরা নিজের সর্বস্বটা দিয়ে নিজেকে আকর্ষণীয় করার জন্যই লেগে পড়তাম। স্বেচ্ছায় কেউ কখনো নিজের ত্রুটি ধরে রাখতো না।
‘সুভা’ গল্পের প্রধান চরিত্র সুভাষিণী। মেয়েটির নাম যখন রাখা হয় তখন কেউ জানতোই না মেয়েটি আদতে বোবা। বয়সের সাথে সাথে যখন সত্যটা উন্মুক্ত হচ্ছিল, মেয়েটির চারপাশের পরিবেশও পাল্টে গেলো হঠাৎই। মেয়েটির মা তো সুভাকে নিজের ত্রুটি বলেই মন থেকে মেনে নিয়েছিল। কিন্তু সুভার বাবা অন্য দুই মেয়ের থেকে তাঁকেই অধিক স্নেহ করতেন। হয়তো এটাই ছিল সুভার জীবনের প্রথম ও শেষ প্রাপ্তি!
কথা বলতে পারে না বলে মেয়েটির কোনো বন্ধু নেই এমনটি ভাবা উচিত নয়। মেয়েটি নিজের মতো অনেকগুলো স্বার্থহীন বন্ধু জুটিয়ে নিতে পেরেছিল জীবনে। গোয়ালের দুটো গাঁভী, ছাগল, বিড়ালশাবলসহ নিজের দিককার বিপরীত একজন বন্ধুও ছিল তার। যার কিনা আবার নিজস্ব ভাষাও আছে! তবু সে সুভার গুরুত্ব বুঝতে পারতো। তার অবশ্য কারণও আছে। মাছ ধরার ক্ষেত্রে যে বাক্যহীন বন্ধুই শ্রেয়! সেই অদ্ভুত ছেলেটির নাম প্রতাপ। অকর্মণ্য এই ছেলেটি নিজের পরিবারের আপন না হতে পারলেও দুঃসম্পর্কের অনেকেরই খুব কাছের হয়ে উঠেছিল। যেমনটা সুভাষিণীর সাথে ঘটেছে। সুভা কি কেবল তাকে বন্ধু বলেই মানতো? নাকি ভেতরে ছিল অনেক না বলা কথা? উত্তরটা জানা হবে না কখনোই।
মেয়ের বয়স বাড়ছে। চারপাশের কানাঘুষাও বাড়ছে। কিন্তু পাত্রের সন্ধান নেই। বোবা এই মেয়েকে কে-ই বা বিয়ে করবে? কিন্তু একদিন হঠাৎই বিয়ে হয়ে গেলো সুভার। বাবা-মা তার অগোচরে কলকাতা যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করলো। আসল কারণটা ধরতে না পারলেও সুভা জানতো কোনো একটা অস্বাভাবিকতা অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু কে জানতো বিয়ের চেয়েও বড় অস্বাভাবিকতা তখন পর্যন্ত তার জীবনে অপেক্ষা করছিল?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সুভা’ শুধুমাত্র একটি সুভার গল্প নয়। বরং এটি হাজার হাজার সুভার জীবনকাহিনী তুলে ধরেছে। এই গল্পের সুভা শুধুমাত্র নিজের মুখের ভাষাহীনতার কারণে জন্মের পর থেকে কম হেয় হয়নি। এমনকি তার স্বামীও তাকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেয়নি। এমন হাজারো সুভা আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। যাদের আমরা দেখি কিন্তু বুঝতে পারি না। বুঝলেও মেনে নিতে পারি না। বহুকাল থেকেই এমনটা হয়ে আসছি। আরো বহু যুগ হয়তো চলবেও!
"কন্যার পিতা বাণীকণ্ঠ সুভাকে তাঁহার অন্য মেয়েদের অপেক্ষা যেন একটু বেশি ভালোবাসিতেন, কিন্তু মাতা তাহাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক জ্ঞান করিয়া তাহার প্রতি বড় বিরক্ত ছিলেন।"
"সুভার কথা ছিল না, কিন্তু তাহার সুদীর্ঘপল্লববিশিষ্ট বড়ো বড়ো দুটি কালো চোখ ছিল-- এবং তাহার ওষ্ঠাধর ভাবের আভাসমাত্রে কচি কিশলয়ের মতো কাঁপিয়া উঠিত।"
"মুখের ভাব বৈ আজন্মকাল যাহার অন্য ভাষা নাই, তাহার চোখের ভাষা অসীম উদার এবং অতলস্পর্শ গভীর-- অনেকটা স্বচ্ছ আকাশের মতো, উদয়াস্ত এবং ছায়ালোকের নিস্তব্ধ রঙ্গভূমি।"
" সাধারণ বালকবালিকারা তাহাকে একপ্রকার ভয় করিত, তাহার সহিত খেলা করিত না। সে নির্জন দ্বিপ্রহরের মতো শব্দহীন এবং সঙ্গীহীন।"
"সপ্তাহখানেকের মধ্যে সকলেই বুঝিল, নববধূ বোবা। তা কেহ বুঝিল না, সেটা তাহার দোষ নহে। সে কাহাকেও প্রতারণা করে নাই। তাহার দুটি চক্ষু সকল কথাই বলিয়াছিল, কিন্তু কেহ তাহা বুঝিতে পারে নাই। সে চারি দিকে চায়-- ভাষা পায় না, যাহারা বোবার ভাষা বুঝিত সেই আজন্মপরিচিত মুখগুলি দেখিতে পায় না-- বালিকার চিরনীরব হৃদয়ের মধ্যে একটা অসীম অব্যক্ত ক্রন্দন বাজিতে লাগিল-- অন্তর্যামী ছাড়া আর-কেহ তাহা শুনিতে পাইল না।
এবার তাহার স্বামী চক্ষু এবং কর্ণেন্দ্রিয়ের দ্বারা পরীক্ষা করিয়া এক ভাষাবিশিষ্ট কন্যা বিবাহ করিয়া আনিল।"
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিরচিত সেরা ছোটগল্পগুলির অন্যতম 'সুভা' ছোটগল্প। মূলত সমাজ সমস্যামূলক গল্প এটি। এক সুন্দরী অথচ বোবা বাঙালি মেয়ের ঘরে-বাইরে উপেক্ষা ও বঞ্চনার উপাখ্যান 'সুভা'। অবস্থাপন্ন বাণীকন্ঠের কনিষ্ঠা কন্যা সুভাষিণীর অসম্পূর্ণতার জন্য বাপের আদরের 'সুভা' হলেও মায়ের অংশ হিসেবে সে গর্ভের কলঙ্কস্বরূপ। অনুভূতি শক্তিতে প্রবল সক্ষম সুভা মানব সংসারে নিঃসঙ্গ, একাকী হলেও তাদের গৃহপালিত ছাগল, বিড়াল শাবক ও সর্বশী ও পাঙ্গুলি নামক দুটি গাভী তার নিঃসঙ্গতা ঘুচিয়ে তার মনোবেদনার সমব্যথী হত। এহেন বালিকা সুভার দেহ-মনে পূর্ণিমার জোয়ারের অনির্বচনীয় চেতনা এবং অন্যদিকে সমাজ মানুষের সমালোচনায় বিদ্ধ বাণীকণ্ঠ কলকাতায় চুপিসাড়ে মূক মেয়েকে পরের হাতে সমর্পণে জাতি ও পরকাল রক্ষা হল বটে কিন্তু বালিকার চিরনীরব হৃদয়ের অসীম, অব্যক্ত কান্না অন্তহীন হয়ে উঠলো। বাল্যবিবাহ ও সমাজের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত হল অপাপবিদ্ধা মূক সুভা। সুভার এই পরিণতি আসলে গল্পকারের নীরব প্রতিবাদ। বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ছোটোগল্পগুলির অন্যতম এই গল্প।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শব্দ চয়ন এতো অসাধারণ হয়...তার সব লেখায় মুগ্ধ হয়ে যাই পড়ার পর। হয়তো সব গল্পের কাহিনি আপনর মন মতো হবে না কিন্তু প্রতিটা গল্পে এমন কোন উপমা, উদ্ধৃতি বা বর্ণনা থাকবেই যা পড়তে গিয়ে আপনি একটু থেমে যাবেন, ঐ অংশের মুগ্ধতা আপনাকে দ্বিতীয় বার ঐ অংশটি পড়তে বাধ্য করবে। কবিগুরু তো তাঁকে আর এমনি এমনি বলা হয়নি।