বাংলাদেশের মেয়ে বিদিশার আত্মজৈবনিক গ্রন্থ। বাংলাদেশের সমান বয়সী বিদিশার ঘটনাবহুল। তার শৈশব, কৈশোর, যৌবনের ঘটনাগুলোর প্রতিটি পরতে পরতে রয়েছে নানা বিস্ময় কৈশোর না পেরুতেই বিদেশী স্বামীর ঘরে চলে যান তিনি। বিদেশ থেকে ফেরার পর তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের খপ্পরে পড়েন। প্রতারিত হন তার প্রেমের অভিনয়ে। এরশাদের সংসারে ছিলেন তিনি পাঁচ বছরের ও বেশী সময়। দীর্ঘে এই সময়ে অত্যন্ত কাছে থেকে দেখেছেন তিনি একজন স্বৈরশাসককে। বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী পটুয়া কামরুল হাসান মৃত্যুর পর মুহুর্তে যাকে ‘বিশ্ব বেহায়া’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এঁকেছেন তার অন্তগত কুৎসিত চেহারা, ৫ বছর অত্যন্ত কাছে থেকে বিদিশা অবলোকন করেছেন তার সেই বেহায়াপনা। মুক্তবুদ্ধির ধারক হিসাবে পরিচিত প্রয়াত হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন, ‘এরশাদ দূষিত করেছে এদেশের নারীদেরও । একই ঘরে থেকে বিদিশা প্রত্যক্ষ করেছেন এরশাদের সেই বিভৎস চরিত্র। রাজনীতিক হিসাবে কতটা শঠ হতে পারে একজন মানুষ, বিদিশার বিশ্লেষণে এরশাদের সে চরিত্রও স্পষ্ট হয়ে গেছে। এরশাদ কতটা মন্দ সে সম্পর্কে এদেশের মানুষের মনে অনেক ধরনের পেতে ‘শত্রুর সঙ্গে বসবাস’ বিবেচিত হতে পারে একটি সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে। এরশাদ প্রসঙ্গ প্রাধান্য পেলেও সব মিলিয়ে বইটি বাঙালী এক নারীর জীবন কাথা। পুরুষ শাসিত এই সমাজে একা একজন নারীকে প্রতিনিয়ত কত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়তে হয়, সেটাও স্পষ্ট হয়েছে এই বইয়ে।
লেখক পরিচিতি: বিদিশার জন্ম ১৯৭১ সালের ৬ মার্চ। পিতা আবু বকর সিদ্দিক ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। বিদিশার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে রাজশাহী বিশ্ববিধ্যালয় ক্যাম্পাসে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিয়ে দেয়া হয় তাকে ইংল্যান্ডের নাগরিক পিটার উইসনের সঙ্গে। এরপর বিদিশা লেখাপড়া করেছেন ইংল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে। ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের উপর ডিগ্রি নিয়েছেন লা-সালের সিঙ্গাপুর শাখা থেকে। ১৯৯৮ সাল থেকে জড়িয়ে পড়েন তিনি সাবেক সেনাশাসক এইচ এম এরশাদের সঙ্গে এক গভীর সম্পর্কে। এর পরিণিতিতে বিয়ে, সংসার। ২০০৫ সালে ভেঙ্গেও যায় এ বিয়ে। এরশাদের দেয়া চুরির মামলায় জেলে যান বিদিশা, মুক্তিও পান। এরপর থেকে গত তিনবছর ধরে দেশে অবস্থান করছেন তিনি, লিখেছেন এই বই ‘শত্রুর সঙ্গে বসবাস।’ এটাই তার প্রথম বই। এছাড়া তার রয়েছে দুই পুত্র ও এক কন্যা।
রাজশাহীর মেয়ে বিদিশা। আর এটা তার ৪৫০ পৃষ্ঠার আত্নজীবনি। আপনি যদি ২০০৪-০৫ সালের দিকের পত্রিকার পাঠক হয়ে থাকেন, তবে নামটি হয়ত খুব পরিচিত মনে হবে। আর দশটি বাঙ্গালী মেয়ের মত বড় হয়ে উঠে বিদিশার বাকি জীবনটা অন্যদের থেকে অনেক আলদা। মাত্র বারো বছর বয়সেই "বিয়ে" শব্দ বুঝে উঠার আগেই বিয়ে হয়ে তার ব্রিটিশ নাগরিক পিটারের সঙ্গে। বিদিশা পাড়ি জমায় ইংল্যান্ডে। সেখানে বিদিশা পায় নতুন এক পরিবার, যা তাকে খুব আপন করে নেয়। বিদশা পড়ালেখা করে, নিজের পায়ে দাঁড়াতে শুরু করে। ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে নিজের নাম কুড়ায়। স্বামীর সাথে বয়সের তফাৎ ছিল ২০ বছরের অধিক। ১৯ বছর বয়সেই বিদিশা দুই সন্তানের জননী। সবকিছুই ঠিক চলছিল, কিন্ত বিদিশার এত সুখ ভালো লাগেনি।
বিদিশার জীবনে আসে নতুন এক পুরুষ, নাম তার বিশ্ব বেহায়া বলে খ্যাত পল্লীবন্ধু এরশাদ। এরশাদ তার 'কারিশমা' দিয়ে আস্তে আস্তে বশ করে নিতে থাকে বিদিশাকে, এরশাদের বয়স তখন ৭০ এর অধিক। আঁটকুড়ে বলে পরিচিত এরশাদ নীল ভায়াগ্রার শক্তিতে উঠেপড়ে লাগে, তার পুরুষত্ব প্রমান করতে। বিদিশা এই বুড়ার কৃত্তিম শক্তির মধ্যেই সুখ পায়। প্রথম স্ত্রী রওশান এরশাদের নাকের ডগাতে চলতে থাকে তার দ্বিতীয় প্রেম। কিন্তু বিদিশার জন্য অবাক হওয়া এখনো বাকি। প্রথম থেকে সবাই এরশাদের বিষয় সতর্ক করে দিলেও, বিদিশার জন্য তখন অনেক দের হয়ে গিয়েছে সবকিছু।
এরশাদ ছিল সবসময় একটা রহস্যচরিত্র আমার কাছে। বইয়ের লেখক এরশাদকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন দীর্ঘ পাঁচটি বছর। বিদিশার লেখনিতে উঠে এসেছে এরশাদ সম্পর্কে অনেক অজানা বিষয়। খুব স্পষ্ট হয়েছে এরশাদের বিশ্ব লম্পট এরশাদের "বিকৃত অসুস্থ যৌন চাহিদা।" যে এরশাদই পরে বিদিশাকে জেলে পাঠায়।
বিদিশা খুব খোলামেলা ভাবেই আলোচনা করেছেন তার অন্ধকারময় কারজীবন আর রিমান্ডের অকথ্য নির্যাতনের মধ্যে কাটানো দিনগুলো নিয়ে। ৯০ এর দশকে জেল থেকে বিদিশার কাছে লেখা এরশাদের চিঠিতে উঠে এসেছে দুই নেত্রী বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এরশাদ কিভাবে দেখে তা।রাজনীতিক হিসাবে কতটা শঠ হতে পারে একজন মানুষ, বিদিশার বিশ্লেষণে এরশাদের সে চরিত্রও স্পষ্ট হয়ে গেছে। এরশাদ কতটা মন্দ সে সম্পর্কে ধারনা পেতে ‘শত্রুর সঙ্গে বসবাস’ বিবেচিত হতে পারে একটি সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে।
তবে দিনশেষে নির্যাতিত বঞ্চিত বিদিশার জন্য আমার বিন্দুমাত্র সমবেদনা নাই, আর এরশাদ নামক এই "দূষিত কীট" টার জন্য বরাদ্দ রইল এক দলা থু।
রাজশাহীর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের মেয়ে দীনা স্কুলে নিজের নাম পাল্টে রাখল বিদিশা। সেই থেকে বাবা অতিআদরের দীনা হয়েগেল বিদিশা। আর দীনা তার নামটি ধার করেছিল জীবনানন্দের "বনলতা সেন" থেকে।
বাবা আবু বকর সিদ্দিক ছিলেন কিছুটা ক্ষ্যাপাটে লোক। বাসার খেয়াল খুব একটা রাখতেন না তিনি। তাই বাসায় সৃষ্টি হয়েছিল তিক্ত পরিস্থিতি। সেই পরিস্থিতির শোধ তুলতে মায়ের হাতে মার খাওয়াটা যেন অভ্যেসে পরিণত হয়েছিল। বিদিশাকে এই অচলঅবস্থা থেকে মুক্তি দেন পিতৃবন্ধু পিটার। বাবা কী বুঝে তার বন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ব্রিটিশ নাগরিক পিটারের সঙ্গে দশম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বিদিশার বিয়ে দিয়ে দেন।
যাইহোক, এই পিটার ই বিদিশাকে পড়াশোনা করিয়েছে বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে। বানিয়েছে নামিদামী ফ্যাশন ডিজাইনার। বিদিশা পিটার দম্পতির রয়েছে দুই সন্তান।
১৯৯৮ এ এক অনুষ্ঠানে পরিচিত হন এদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি স্বৈরাচার এরশাদের সাথে। দুঃখিত সাবেক প্রেসিডেন্ট বলাটা এরশাদের পছন্দ নয় কেননা "ওয়ান্স এ প্রেসিডেন্ট অলওয়েজ এ প্রেসিডেন্ট "
বিদিশাকে দেখার পরই বিশ্বপ্রেমিক এরশাদের প্রেম জেগে ওঠে (আসলে তার প্রেম কখনও ঘুমায় না)। নানা ধান্দায় তিনি বিদিশাকে ইমপ্রেস করতে চেষ্টা করেন। বিদিশা বুঝতে পারেনা "আঙ্কেল " কেন তাকে এতো গুরুত্ব দিচ্ছে। যখন বুঝতে পারলো তখন সর্বনাশ যা হবার হয়েগেছে। বিদিশা এরশাদের প্রেমময় আচরণে মুগ্ধ বললে কম বলা হবে, সে পিটারকে ডিভোর্স দিয়ে দেয় কেননা এরশাদের অক্সিজেন বিদিশা।
বিয়ে হবার আগেই জন্মনেয় এরশাদ আর বিদিশার পুত্র এরিক। যারা কাকুকে অক্ষম ভাবে তাদের মুখে... পড়ুক। তিনি অক্ষম নন এটা প্রমাণ করতে পেরে তিনি খুশিতে বিদিশাকে বিয়ে করে বসেন।
হায় ঈশ্বর! একি ভুল করলেন বিশ্বপ্রেমিক। এই হাটুর বয়সী মেয়েটাতো থাকে অন্যান্য ফুল হতে মধু খেতে দিচ্ছে না। তার রস আস্বাদনে বাঁধা দেয়। এইসময়ে বিদিশা বেশ চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন এরশাদের নারীকেলেঙ্কারীর বিষয়টি। পড়তে গিয়ে গা গুলিয়ে আসছিলো।
একপর্যায়ে বিদিশাকে তার দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য করে। অসুস্থতার চিকিৎসা করাতে ৪০ দিন ভারতে থাকে বিদিশা।এদিকে দেশে বিদিশাকে ফাঁদে ফেলতে সব চক্রান্ত চূড়ান্ত। দেশে এসে বিদিশা জানতে পারেন তাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য হতে বাদ দেন। ভয় দেখান বিদেশে পালিয়ে যেতে নতুবা জেলে যেতে হবে।
বিদিশা বিদেশে যেতে রাজি হয় না। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। অভিযোগ তিনি এরশাদের মোবাইল চুরি করেছেন,স্বর্ণ চুরি করেছেন!!! পুলিশ তাকে চরমভাবে নির্যাতন করে। বিদিশার মতে,এরশাদই পুলিশকে লেলিয়ে দিয়েছে।জোট সরকার বিদিশাকে নির্যাতন করে এই বলে যে,সে জাতীয় পার্টিকে আওয়ামীলীগের জোটে নিয়ে যেতে চায়। এই কঠিন দুঃসময়ে এরশাদ বিদিশার পাশে এসে দাড়ায়নি বরং তাকে তালাক দিয়েছে। আর এদিকে,পুলিশ তাকে রিমান্ডে নিয়ে অকথ্য নির্যাতন চালায়। যার বিবরণ বইতে রয়েছে তা বলে আমি কথা বাড়াবো না। একসময়ে জামিন পান বিদিশা। কিন্তু তার পাশে কেউ নেই। নেই পুত্র এরিক,নেই শুভাকাঙ্খীরা।
তিন দিয়েছি কারণ বিদিশার লেখার গতি অসাধারণ, কিন্তু সমস্ত ঘটনা তার দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা। কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যা, বিদের কোন তথ্য আপনি নিবেন কোনটি নিবেন না তা পুরোপুরি আপনার ওপর।তবে এই বইতে আপনি লেজেহোমোকে নিয়ে এতদিন যা শুনে এসেছেন তার প্রতিফলন দেখতে পাবেন। আপনি যদি প্রেমিক হতে চান তবে এই বইটি আপনার জন্য অবশ্যপাঠ্য।
অনেকদিন পর পড়েছি বইটি। আগ্রহ তৈরি হয়েছিলো ২০১২ সালে। কিন্তু সংগ্রহ করতে পারিনি। পাইনি অথবা সেরকম চেষ্টাও করিনি। আফসোস হচ্ছে, এরকম বই থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছি বলে।
যাইহোক পরবর্তীতে কিছুদিন পর পর বিভিন্ন সূত্র ধরে মনে পড়তো বইটির কথা। আবারও পড়ার আগ্রহ নিয়ে কিছুদিন পিডিএফ খুঁজতাম। আবারও ভুলে যেতাম। কিন্তু কিছুদিন আগে একটা পিডিএফ পেয়েছি এবং অতীতের মত আর কালক্ষেপণ না করে পড়া শুরু করে দিয়েছি। (বিঃদ্রঃ পিডিএফ পড়তে ভালো লাগে না, হার্ডকপি পড়তে অভ্যস্ত) একসময় মনে হলো পিডিএফ পূর্ণাঙ্গ নয়। কিন্তু বইটার এতোটাই গভীরে পৌঁছে গ��য়েছিলাম যে এর ঘোর থেকে সহযে বের হওয়া যাবে না। তাই তড়িঘড়ি করে অনলাইমে অর্ডার করতে গিয়ে ব্যর্থ হলাম। অগত্যা নীলক্ষেত গিয়ে পুরাতন একটি বই সংগ্রহ করেছিলাম অবশেষে।
বিদিশা সিদ্দিক বলি বা শুধু বিদিশা বলি তাকে কখনই চিনতাম না। কিন্তু বইয়ের নাম আমাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিলো। আর বিশ্ববেহায়া এরশাদ নিয়ে কার ই বা আগ্রহ নেই!!
বইয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে গিয়ে আবেগ, চিন্তা, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ আর দায়িত্বহীনতা এসবের মারাত্মক ব্যাখ্যা পেয়েছি। এরশাদের ভালোবাসা-ভণ্ডামো, পিটারের লৌকিকতামুক্ত ভালোবাসা-দায়িত্ববোধ একই সাথে আমাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছে। পাশাপাশি রাজনীতি আর পুলিশের নগ্ন বেহায়াপনার সাথে কিঞ্চিত পরিচিত হয়েছি।
সবমিলিয়ে বলতে গেলে অসাধারণ ছিলো বইটা। ৯/১০ আমার রেটিং। অন্তত আমাকে মুগ্ধ করেছে। মানুষের আত্মজীবনী সব সময় ভালো লাগে না। কিন্তু কেন জানি এই বইটি আমার হৃদয়কে মারাত্মকভাবে নাড়া দিয়েছে।
যদি বিদিশার দশ শতাংশ কথাও সত্যি হয় তাহলে এরশাদ খুবই অমানবিক এবং পশু হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছে। আর যদি শতভাগ সত্যি হয় তাহলে তাকে আমি মানুষই মনে করবো না। কুকুরবিড়ালের সাথে তুলনা করবো। এরকম নির্জলা মিথ্যাচার আর কাউকে করতে দেখিনি। অন্তত এরকম একজন মানুষ থেকে তো নয়ই যিনি একসময় এদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন।
বিদিশার সহ লেখক হিসেবে মাসুদ কামাল সাহেব যথেষ্ট ভালো লিখেছেন।
কিছু কিছু মানুষের জীবনে এতকিছু ঘটে যায় যে তাকে কলম নিতে হয়, লিখতে হয় আত্মজীবনী। তাদের আত্মজীবনী পড়ে আমরা ভাবি কত বিচিত্র মানুষের এই জীবন। ছোটবেলায় পত্রিকায় লেখিকা সম্পর্কে নিউজ শুনেছিলাম। অনেক হেডলাইন পড়েছিলাম। তাঁর বইতে তাঁর আত্মকথা শুনলাম। সত্যিই তিনি দোজখের মধ্যে ছিলেন। আশা করি উনি এখন ভাল আছেন।
বইঃ শত্রুর সঙ্গে বসবাস লেখিকাঃ বিদিশা (এরশাদ) প্রকাশনীঃ ইজাবেল প্রকাশন
সাহিত্য কিংবা ইতিহাস উভয় বিবেচনাতেই নিম্নমানের। কিন্তু বইটা আমার ভালো লেগেছে। রাজনীতি নিয়ে যাদের টুকটাক জানাশোনা এবং আগ্রহ আছে তারা নিশ্চয়ই এরশাদের লাম্পট্য সম্পর্কে সচেতন। তাদের জন্য এই বই একটা আনন্দের খোরাক হতে পারে। বিদিশার শৈশব-কৈশোর-যৌবন, সংসার, এরশাদের সাথে পরিচয়-প্রেম-বিয়ে, রাজনীতিবিদ ও প্রেমিক এরশাদ, লম্পট ও নিঃসন্তান এরশাদ, সবই খুব ভালোভাবে এসেছে এই বইয়ে। বিদিশা ঘৃণাও উগড়ে দিয়েছেন প্রতিটি পৃষ্ঠায়। তবুও বইটা পড়ে মজা পেয়েছি, হেসেছি, কখনো কখনো অবাক হয়েছি। সর্বোপরি রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের নিয়ে আগ্রহী মানুষজন চাইলে সিরিয়াস বইয়ের পাশাপাশি একটি মজার বই পড়তে পারেন।
আচ্ছা আমি বইটা শেষ করতে পারি নি। যেসব বই শেষ করি না সেসব বইয়ের রিভিউ লিখি না কিন্তু এ বইটা মারাত্মক যন্ত্রণা দিয়েছে।
আমি অনেক আগ্রহ নিয়ে বইটিতে পড়তে বসেছিলাম। বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে তুলনামূলকভাবে নির্ভরযোগ্য আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ কম আছে। এবং এটা পেয়ে আমি অনেকটা বর্তে যাই। মনোযোগ দিয়ে পড়ার চেষ্টা করি। কিন্তু “আমি কতটুকুই আর বুঝতাম”, “এরশাদের লাম্পট্যের এ দিকটা সম্পর্কে পরে জানতে পারি”, “তবুও তাকে আমি ক্ষমা করে দেই”, “পিটার আমাকে কখনো ভালোবাসেনি, এরশাদের কাছে সে ভালোবাসা পেয়েছি”, "অমুক আমার কাজের অনেক প্রশংসা করতো” বাক্যগুলো ৪৩১ পৃষ্ঠা জুড়ে আমি কেন পড়বো?