যারা আমাদের অগ্রজ তারা স্বভাবতই আমাদের চেয়ে বেশি দেখেছেন, জীবনের প্রতি বাঁক পাড়ি দেবার সময় জমিয়েছেন ভালো-মন্দের মিশেলে নানান সব অভিজ্ঞতা,যা সমৃদ্ধ করেছে তাদের জীবন কে। এমন ই একজন অগ্রজ সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও কলামিস্ট ফারুক চৌধুরী, তার ই আশি বছরের সুদীর্ঘ জীবনের কথকতা নিয়ে আত্মস্মৃতি "জীবনের বালুকাবেলায় "। ফারুক চৌধুরী সেই ষাটের দশকে তৎকালীন সিভিল সার্ভিস অফ পাকিস্তানে যোগ দিয়ে কর্মক্ষেত্রে বিদেশে কাটিয়েছেন দীর্ঘকাল সেই সুবাদে পররাষ্ট্র দপ্তর, পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নানা ঘটনার স্বাক্ষী হয়েছেন, সান্নিধ্য পেয়েছেন অনেক রথী,মহারথীর যা তার লেখায় বেশ ভালো ভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন।স্বাধীনতাপূর্ব কূটনীতি আর স্বাধীন দেশের কূটনীতির পার্থক্যটা ভালোই দেখিয়েছেন।কীভাবে বাঙালি জাতি অন্যের দারস্থ না হয়ে,নিজেদের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা লাভের মাত্র সাড়ে তিনবছরের মধ্যে বিশ্বের প্রায় সব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন করেছিল তার বেশ চমৎপ্রদ কিছু বর্ণনা আছে।কৌশলী ফারুক সাহেব বঙ্গবন্ধুর সাথে যেমন কাজ করেছেন তেমনি কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে একনায়কদের শাসনামলেও। যারা দেশের বাইরে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের ক্রিয়াকলাপ নিয়ে জানতে আগ্রহী তারা পড়ে দেখতে পারেন।
এক তারকা হাতে রাখব দিবো কারণ-
ঘটনার ধারাবাহিকতার বেশ অভাব ছিলো, শব্দ চয়নে সার্থকতার কোনো প্রমাণ পাইনি। ভাষা আন্দোলনের সময়ে তিনি ঢাকা কলেজের ছাত্র ছিলেন, নিজে তো অংশ নেন ই নি এমনকি তার লেখনীতেও সেই উত্তাল গৌরবময় সময় ছিলো অনুপস্থিত। আবার,একই কান্ড ঘটিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের সময়েও। সে সময়ে যখন সারা দেশের মুক্তিকামী জনতা সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলো তখন জনাব ফারুক সাহেব ঢাকায় নিরাপদে নয়মাস অফিস করেছেন আর আত্মস্মৃতি তে সযত্নে এড়িয়ে গিয়েছেন মুক্তিসংগ্রাম কে।ব্যক্তি আর পরিবার নিয়ে কচকচানি ছিলো বিরক্তি উৎপাদনে যথেষ্ট।
ভদ্রলোকের নিজের জীবনের গল্প, কিভাবে সার্ভিসে ঢুকলেন এবং হালকা পাতলা বিবরণ দিয়েছেন, তবে ভেতরের অনেক কথা ভদ্রলোক চেপে গেছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে কিছুটা ধারণ পাওয়া যাবে, বিশেষত উনার পররাষ্ট্রসচিব থাকার সময়টা বেশ ইন্টারেস্টিং।