পুরো ঘর খালি। তবে খালি ঘর বলে সহজেই ইরফানের চোখ চলে গেলো সেই জিনিসটার দিকে। ওটার দিকে একবার তাকিয়ে তৌহিদসাহেবের দিকে আরেকবার তাকাল সে। তৌহিদ মাথা নেড়ে বুঝিয়ে দিল এটাই সেই জিনিস।
Javed Rasin (Bengali: জাবেদ রাসিন) is a Bangladeshi poet & fiction writer. He was born in Mymensingh but has raised in Dhaka from childhood. Javed completed his graduation & post-graduation in law from the University of Dhaka. He likes the charm of prosody and playing with words which fits into poetry. Shunno Pother Opekkhay (শূন্য পথের অপেক্ষায়) was his maiden published poetry.
Also the world of fiction, especially thriller & horror fiction fascinated him and he started writing in this genre. His first published thriller fiction novel was Blackgate (ব্ল্যাকগেট), co-authored with Tarim Fuad. His other works are horror novel Tomisra (তমিস্রা) & conspiracy novel Circle (সার্কেল). He continued to produce poetry and to work on fiction novels.
বেশ লেগেছে। পিচ্চি সাইজের বই। কিন্তু গল্পের গাথুনি, প্লট দুটোই দুর্দান্ত। ইরফান সাহেব যেহেতু সিরিজটার প্রধান চরিত্র হতে যাচ্ছে সেহেতু তাকে নিয়ে একটা পার্শ্ব গল্পের ভীষণ প্রয়োজন ছিল। লেখক সেটা সম্পন্ন করেছেন নিপুন হাতে। তমিস্রাতে পাওয়া সুলেমানি আংটির খেল দেখতে চেয়েছিলাম। ওটা লেখক হয়তো পরবর্তী বইয়ের জন্য তুলে রেখেছেন। এখন চলে যাচ্ছি তৃতীয় বইতে। টা টা।
১. প্লট খুবই দুর্বল। ২. এক বাক্যের পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করার মত! একই কথা ঘুড়ায় ফিরায় লেখা পুরো গল্পে! ৩. লেখার ধরন immature. ৪. ১১০ পেজের বইয়ে ১০৫ পেজ পর্যন্ত কিছু নেই। আর শেষের ৩ পেজের মিস্ট্রি সলভড। ১০৫ পেজ পর্যন্ত একই কথা বারবার লেখা। ৫. "তমিস্রা" তাও ভালো ছিল। "অসুয়া" পড়ে আমি চরম হতাশ। waste of money, waste of time. :(
ধনী পরিবারের একমাত্র ছোট্ট মেয়ে আফসারার দুঃস্বপ্ন দিয়ে গল্পের শুরু । দুঃস্বপ্ন তো স্বাভাবিক ভাবে সব মানুষই দেখে, তাহলে এক্ষেত্রে দুঃস্বপ্ন এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? কারণ আফসারা দুঃস্বপ্ন দু'মাস ধরে প্রায় রাতেই দেখছে। ডাক্তার, সাইকিয়াট্রিষ্ট দেখিয়েও যখন কোন কাজ হচ্ছিলো না তখন আফসারার বাবা তৌহিদ এলাহি শরণাপন্ন হন রাকি ইরফানের (ওঝা তবে সেটা ধর্মীয় দিক থেকে)।
ইরফান আফসারার বাড়িতে এসে প্রাথমিক ভাবে কিছু বুঝতে না পারলে তার জ্ঞান থেকে বলে আফসারার রুম থেকে সকল প্রকার পোস্টার এবং পুতুল সরিয়ে ফেলতে, যাতে করে ফেরেশতাদের প্রবেশে কোন বাধা না থাকে। তৌহিদ এলাহি তাই করেন। কিন্তু পরের দিন সকালেই জরুরী ভিত্তিতে একটা জিনিস দেখানোর জন্য আফসারাদের বাড়িতে ডেকে আনা হয় ইরফানকে।
সেই জিনিসটা হলো একটা পুতুল, যেটা দেখতে যত না বেশী কুৎসিত তার চাইতে বেশী কুৎসিত তার মুখের হাসি। তবে তার চাইতেও আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, গতকাল রাতেই ইরফানের নির্দেশে আফসারার রুম থেকে সব পুতুল সরিয়ে ট্রাংকে তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়।
সেই পুতুলগুলোর মাঝে এই পুতুলটিও ছিলো, যেটা কিনা তালাবদ্ধ ট্রাংক থেকে কোন এক আজব উপায়ে বের হয়ে এসেছে! ইরফানের মনে হলো পুতুলটার হাসি এই জগতের কোন প্রাণীর হাসির মতো নয়। কেমন যেন ঠান্ডা, অপার্থিব!
বাকিটুকু বই থেকেই পড়ে নিয়েন। আমি আর স্পয়লার দিলাম না।
পাঠ প্রতিক্রিয়া এক কথায় অসাধারণ। ঠিক এই টাইপের বইই খুঁজি আমি। প্লট, লেখনী, বর্ণনাভঙ্গি, ক্যারেক্টারাইজেশান সবকিছু একদম পারফেক্ট মনে হয়েছে। জাবেদ রাসিন ভাইয়ের কাছ থেকে এরকম আরো বইয়ের অপেক্ষায় থাকলাম।
ব্ল্যাক ম্যাজিক, এই জিনিসটা আগে বিশ্বাস করতাম না।কিন্তু,যখন জানলাম এই কালো জাদু নবীজি (সা.) এর উপরেও করা হয়েছে তা বিশ্বাস না করে উপায় নেই।কালো জাদুর প্রভাব কেমন ভয়ানক হতে পারে তা আশেপাশের অনেক ভুক্তভোগীকে দেখেই বুঝেছি। . এই বইটিও কালোজাদু নিয়ে।ছয় বছরের বাচ্চা মেয়ে আফসারা,ঘুমের ঘোরে দুঃস্বপ্ন দেখে।খুব বাজে স্বপ্ন! আফসারার বাবা তৌহিদ এলাহি,এ নিয়ে দুশ্চিন্তা শুরু করেন।এরপর তিনি একজনের রাকির খোঁজ পান,যার নাম ইরফান।রাকিদের কাজ রুকাইয়াহ করা। . ইরফান আফসারাকে দেখেই বুঝেছিলো তার উপর জাদু করা হয়েছে।তারপর,বুঝতে পারে এ যেমন তেমন কোনো জাদু নয়।খুব ভয়ানক জাদু,যার প্রভাব পড়ে আশেপাশের মানুষের উপর।আর এ জাদুটি করা হয়েছে আফসারার একটি পুতুলের মাধ্যমে, আফসারাকে এই পুতুল উপহার দেন তার জ্যাঠা। . আফসারার জ্যাঠার সাথে কথা বলে জানা যায় তাকে এক মহিলা দিয়েছে এই পুতুলটি। মহিলার পরিচয় জানার পর,এসে পড়ে আরেক রহস্য!কে এই মহিলা?কেনোই বা আফসারার উপর জাদু করেছে?
📖পাঠ প্রতিক্রিয়া - ছোটকাল থেকেই এইসব কালোজাদুতে বিশ্বাস করতাম না।যখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছি, এ সম্পর্কে আগ্রহ বেড়ে যায়। কালোজাদু সম্পর্কে ছিলো বইটি,তাই পড়তে সময় লাগে নি।কারণ কোনো বই পড়তে গেলে, বইয়ের বিষয়বস্তুর উপর যদি আগ্রহ থাকে তাহলে বইটি পড়তে সময় বেশী লাগে না।যদিও কাহিনীটা হরর কাহিনীর মতোই,এমন ধাচের অনেক গল্পই পড়েছি।
একটি সম্পন্ন পরিবারের একমাত্র সন্তান এক ভয়ংকর স্বপ্ন দেখতে লাগল প্রতি রাতে। তারপর কী হল? সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে কী জানা গেল? লেখাটা পড়ে ফেললাম গত দিনদুয়েকে। উপলব্ধি করলাম, পৈশাচিক বানান, একই কথার পুনরুক্তি, আসল কথা কম বলে ভ্যাজর-ভ্যাজর - এই সমস্যাগুলো বাদ দিলে লেখাটা ভালোই। কিছু-কিছু বর্ণনা রীতিমতো ভয়াবহ, যা পড়ে একা ঘরে বেশ সমস্যাই হপ্য। কিন্তু বানান শুদ্ধ না করলে, আর ন্যারেটিভের ধার বাড়াতে না পারলে লেখকের বই পড়তে গিয়ে চাপ হতে বাধ্য।
আমার পড়া জাভেদ রাসিনের লেখা প্রথম বই এটি। লেখার স্টাইল সহজ এবং সাবলীল, পড়তে আমার ভালোই লেগেছে। তবে, অন্যান্য নতুন লেখকদের মতো রাসিনেরও কিছু জায়গায় একই বিষয় বারবার বলার প্রবণতা ছিল।
আরেকটা জিনিস চোখে পড়ার মতো, তিনি অনেক কাহিনী বললেও সেটি আর ডেভলপ করেনি। শাহ বাবার চরিত্র নিয়ে অনেক লেখা থাকলেও তাঁর ভূমিকা বা প্রভাব সম্পর্কে কোনও গভীর আলোচনা দেখা যায়নি, যা আমার কাছে প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছিল।
মূল চরিত্রটি হুমায়ূন আহমেদের মিসির আলীর চরিত্রের সাথে কিছু মিল আছে বলে মনে হয়েছে। তিনি মিসির আলীর মতো একাকীত্ব এবং বিশদগ্রস্ততার মধ্যে থা���েন। যদিও মিসির আলী একাকীত্বকে উপভোগ করেন, এখানে চরিত্রটি মনে হচ্ছে তা ইচ্ছাকৃত নয়; বরং সে অনিচ্ছায় এই পরিস্থিতিতে রয়েছে। মিসির আলীর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণী ক্ষমতার পরিবর্তে, এখানে চরিত্রটি বিশেষ অলৌকিক ক্ষমতা ও জ্ঞানের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে।
আরেকটি বিষয় হলো, বইটিতে ইসলাম ধর্মের অনেক দিক তুলে ধরা হয়েছে, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে মনে হয়েছে লেখক শুধুমাত্র একটি বিজ্ঞাপনের মতো প্রচার করছেন। কিছু ইসলামিক প্র্যাকটিসের প্রসঙ্গ এসেছে, কিন্তু সেগুলোর পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি প্রদান করা হয়নি। নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর আমলের উদাহরণ দেয়া হয়েছে, তবে সেগুলোকে বাস্তব ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা কম ছিল।
সার্বিকভাবে, বইটি ভালো লেগেছে, তবে গল্পে আরও সামঞ্জস্য ও গভীরতার প্রয়োজন।
এই লেখকের বই প্রথম পড়ি ২০১৬ সালে। তমিস্রা! সহজ সাবলীল লেখার ভঙ্গি এবং গল্পের প্লট বেশ সুন্দর থাকা সত্ত্বেও শেষটা একদম ভালো লাগেনি। তাই এরপর এই লেখকের আর কোন বই ও পড়া হয়ে ওঠেনি। সুতরাং তমিস্রা সিরিজের যে আরো বই বেরিয়েছে তাও অজানাই ছিলো। গুডরিডস ঘাটতে গিয়েই তমিস্রা সিরিজের আরো বই এর সন্ধান পাই। পিডিএফ পড়েছি বলে লেখকের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
বই এর নাম পড়েই বুঝতে পেরেছি যে এটা প্রতিহিংসা মূলক কালো জাদুর গল্প। ছোট্ট একটা গল্প। কিন্তু লেখকের উপস্থাপনা বেশ ভালো লেগেছে। টেনে হিচড়ে গল্পকে বড় করা হয়নি। লেখকের সৃষ্ট চরিত্র ইরফানকে দিয়ে লেখক বেশ কিছু সত্যি কথা বলিয়েছেন। বিশেষ করে পীর ফকিরের কাছ থেকে তাবিজ নিয়ে আসার ব্যাপারটা। সব মিলিয়ে এই ছোট্ট গল্পটা পড়তে ভালোই লাগলো।
এক হাসিখুশি পরিবারের ছোট মেয়েকে জাদু করা হয়। নানান রকম অদ্ভূত স্বপ্ন দেখতে থাকে সে! ধীরে ধীরে এর প্রভাব পরতে থাকে বাকিদের উপর। ইরফানের কাছে জাদু আর জাদুকর দুটিই অপরিচিত! সে কি পারবে পরিবারটিকে রক্ষা করতে?
মোটামুটি এই হলো ঘটনা। তমিস্রার চেয়ে ভালো লেগেছে। ছোটখাটো সাইজের বইয়ে মশলা ভালোই আছে! কিন্তু এন্ডিং.. :3
ছোট মেয়ে আফসারা। তার জীবনের সবই ঠিক আছে, শুধু সমস্যা হল রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে। আফসারার বাবা তৌহিদ এ সমস্যা সমাধানে ডাক দেয় ডাক্তার ওরফে রেকি (ওঝা) ইরফান হাবীবকে। ইরফান অনুভব করে ছোট্ট আফসারাকে কালো যাদু করা হয়েছে যার উৎস হল একটা পুতুল। এখন কি করবে ইরফান?
ছোট উপন্যাস। ভালই গতিতে এগিয়ে গল্প শেষ হয়ে গিয়েছে। খুব একটা চমক যে আছে তাও নয়।
শুভপুর গ্রামের কথা মনে আছে? ওই যে ময়মনসিংহ জেলার গ্রামটা। যেখানেই কিনা নিঃসংশ ঘটনা ঘটেছিল। (তমিস্রা দ্রষ্টব্য) সেখানকার ইরফানকে নিয়েই কাহিনী। নাহ সে জ্বিন তাড়ানোর চিকিৎসা ছেড়ে দেয়নি। এমনই এক বাসায় জ্বিন তাড়াতে গিয়ে দেখে এক ছোট বাচ্চাকে জাদু করা হয়েছে। তার দায়িত্ব পড়ে বাচ্চাকে জাদু থেকে বাচাতে। কিন্তু জাদু কাটাতে গিয়ে সে আস্তে আস্তে জানতে পারে অনেক কিছু।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ তমিস্রার আর বিস্তৃত আঁধারের মাঝের সাইড স্টোরি বলা চলে অসূয়াকে। কাহিনী হিসেবে খারাপ না, টেনে পড়ে শেষ করা যায়।
আরবান ফ্যান্টাসি আগেও পড়েছি। কিন্তু লেখার মাঝে ইসলাম ধর্ম বা কুরআন শরীফের রেফারেন্স টানা এই প্রথম দেখলাম। সেই হিসেবে খুব ভাল লেগেছে। এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লেখা খুব খুব খুব ভালো লেগেছে। তাবিজ কবজ, ঝাড়ফুঁক, পানি পড়া এগুলো যে কুফরি কালাম তা অনেকেই জানেন না বা জানলেও মানেন না।।। আশা করি তারা এবার বুঝতে পারবেন।।।
জাবেদ রাসিনের হরর থ্রিলার "অসূয়া" পড়ে শেষ করলাম। বইয়ের নামের সাথেই এর বিষয়বস্তু নিহিত। অসূয়া অর্থ পরশ্রীকাতরতা,হিংসা। "অসূয়ার"মূল কাহিনীও মুলত এই হিংসা বিদ্ধেষকে কেন্দ্র করেই। মানুষের মনের ভিতরকার হিংসা এবং প্রতিশোধ পরায়ণতার বিষ যে অনেক খারাপ কিছু ঘটাতে পারে তার চিত্রায়নই মুলত এর কাহিনী।
এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছোট্ট মেয়ে আফসারা,প্রায় রাতেই সে দুঃস্বপ্ন দেখে এবং ভয়ার্ত মুখে জেগে ওঠে । কোন প্রতিকারেই তার দুঃস্বপ্ন দেখা বন্ধ হয়না,তার শরীর স্বাস্থ্যও ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে,এমতাবস্থায় আফসারার বাবা তৌহিদ সাহেব ইরফান নামক এক তরুন রাকিকে (যারা খারাপ জ্বিন,জাদু টোনার বিরুদ্ধে কাজ করে) নিয়ে আসেন। ইরফান এসে আফসারার চিকিৎসা শুরু করে এবং ক্রমশ বুঝতে পারে আফসারার উপর কোন খারাপ ধরনের কালো জাদু করা হয়েছে, এবং সেই জাদুর মাধ্যম হলো আফসারার কাছে থাকা এক কুৎসিত দেখতে পুতুল। এই জাদুর প্রভাব পরতে থাকে পরিবারের বাকিদের উপর। ইরফান খুব ধাঁধিয়ে যায় সে বুঝতে পারে এটি খুব ভয়ঙ্কর ধরনের জাদু।ইরফান কি পারবে আফসারা এবং তার পরিবারকে রক্ষা করতে?
গল্পের প্লটটা ভালোই ছিলো কিন্তু একই কথার পুনরাবৃত্তি এবং মাঝে মাঝে কিছু অপ্রয়োজনীয় কথা পাঠকের মনোযোগ নষ্ট করবে। কিছু কিছু বর্ননা আছে যা সত্যিই ভয় পাওয়ানোর জন্য যথেষ্ঠ।বইয়ের শেষের দিকটা আমার বেশ ভালো লেগেছে বিশেষ করে শেষের প্যারাটায় একটা "শেষ হয়ে হইলো না শেষের" মত ব্যপার আছে। এই বইয়ের আরেকটা জিনিস আমার ভালো লেগেছে তা হলো বইয়ে বর্নিত অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ইসলামিক এক্সরসিজমের ব্যবহার। বাংলা ভৌতিক সাহিত্যে ইসলামিক রেফারেন্স ব্যবহার একেবারেই নতুন। মোটামুটি বলতে গেলে বইটি খারাপ না।যারা ভৌতিক সাহিত্য পছন্দ করে তাদের ভালো লাগবে।
হরর গল্প হিসেবে পড়তে ভালোই লেগেছে। বিশেষ করে গল্পের শেষে ফিনিসটা ভালোই লেগেছে। তবে বইয়ের একটা জায়গায় খটকা লেগেছে। সাধারণত এই সমস্ত কাজে যে সমস্ত রাকীরা কাজ করেন তারা খুবই নিয়ম তান্ত্রিক পদ্ধতিতে জীবন যাপন করেন। ইসলামী ধর্মীয় মতে সবসময় তাদেরকে পূত-পবিত্র অবস্থায় চলাফেরা করতে হয় এবং শরীর বন্ধক দিয়ে রাখতে হয়।
ইরফানকে একজন রাকী হিসাবে দেখানো হয়েছে। বইয়ের এক জায়গায় এই রাকীকে অপবিত্র ডিওডেরেন্ট পারফিউম স্প্রে গায়ে দিতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে উনি পবিত্র আতর ব্যবহার করলে মনে হয় ভালো হতো। কেননা এই সমস্ত অপবিত্র জিনিস ব্যবহার করলে অজু ভেঙে যায় এবং শরীরে বন্ধক করাও কেটে যায়।
তমিস্রার ধারেকাছেও নেই। ১১০ পৃষ্ঠার বইয়ে ১০০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বার বার একই জিনিসের পুনরাবৃত্তি মনে হয়েছে। এরপর ১০ পৃষ্ঠা কাহিনী যখন একটু জমেছে তখন মনে হয়েছে হুট করে অসম্পূর্ণ অবস্থায় শেষ হয়ে গেছে। সর্বোপরি দূর্বল প্লট এটি। উপরি পাওনা বানান ভুল তো আছেই। তবে লেখকের লেখনী সাবলীল। যাই হোক, এরপর বিস্তৃত আঁধার পড়ে দেখি কি অবস্থা। যদি অসূয়ার মত হয়, হতাশ হব আবার।
কামনা, প্রতারণা, হতাশা, ঈর্ষা এবং অন্যান্য মিশ্র মানব প্রতিক্রিয়ার ফলাফল এই বইয়ের মূল পটভূমি সৃষ্টি করেছে। আর তারপরের ঘটনা অনাকাঙ্খিত জটিল নয় মোটেই। ইরফান চরিত্রটির জন্য একটু কেমন কেমন লাগে। তার সেন্স-পার্সেপসন স্বাভাবিকের মধ্যে থাকলেই ভালো লাগতো বেশি। আর আয়নাঘরের যে ব্যবহার ঘটেছে তা কিছুটা হরর ম্যুভি থেকে ধার করা, মানে অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি এখানে। পুতুল বিষয়ক বর্ণনা সম্ভবত এই ভুবনের পরের কোনো বইতে দেয়া আছে। সমাজের প্রচলিত আচার বিশ্বাস আর শিরকের অল্প কিছু নমুনা ঘটনাচক্রে উঠে এসেছে।
ছোট মেয়ে আফসারা প্রায় প্রতিরাতেই দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে ওঠে। একই স্বপ্ন বারবার দেখার কারণ কী? বহু সাধনার পর পাওয়া একমাত্র মেয়ের করুণ অবস্থা দেখে বাবা-মাও আর সহ্য করতে পারছে না। ইরফানের ডাক পড়ে। অদ্ভুত এক কালো জাদুর সন্ধান পায়! কে করেছে কালো জাদু? কেন?
১১২ পেইজের পিচ্চি বইয়ে আছে কালো জাদুর মোকাবিলা, ইরফানের অতীত, অদ্ভুত এক প্রতিশোধের গল্প। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একেবারে টানা পড়ে গেছি। প্লট, গল্পের গাঁথুনি, বর্ণনা দারুণ হয়েছে। সমাপ্তি... সিরিজের বাকি বইগুলো পড়তেই হবে। প্রতিশোধের খেলা সম্ভবত শেষ হয়নি...।
বইয়ের নামঃ অসূয়া লেখকঃ জাভেদ রাসিন বইয়ের ধরণঃ থ্রিলার/রোমাঞ্চপন্যাস প্রকাশকালঃ একুশে বইমেলা ২০১৭ প্রকাশনীঃ বাতিঘর প্রকাশনী পৃষ্ঠাঃ ১১০ মূল্যঃ ১৪০ টাকা সার-সংক্ষেপঃ গল্পটি মূলত একটি বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে। ৪-৫ বছরের ছোট্টমেয়েটির নাম আফসারা। হঠাৎ একদিন আফসারা ঘুম থেকে উঠে কাঁদতে শুরু করে। বাবা তৌহিদ আর মা আফসানা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে জানতে পারে সে প্রায়ই এক ধরণের ভয়ানক দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে ওঠে ও কান্না কাটি করে। এমতাবস্থায় তারা খবর দেয় ইরফান নামের একজন প্যারাসাইকোলজিস্টকে। ইরফান চিকিৎসা শুরু করে। প্রথমে খুব সহজ মনে হলেও আস্তে আস্তে সে মুখোমুখি হতে থাকে এক ভয়ংকর সত্যের! পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ "...তারা ভালরূপে জানে যে, যে কেউ জাদু অবলম্বন করে, তার জন্য পরকালে কোন অংশ নেই..." - সূরা আল-বাকারা; আয়াতঃ ১০২ অসূয়া শব্দের অর্থ হচ্ছে হিংসা বা বিদ্বেষ! ব্ল্যাক ম্যাজিক বা কালো জাদু করার বেশ কিছু মাধ্যম থাকে। কখনও সরাসরি জাদু করা হয় কারও উপর। আবার কখনও কখনও কোন ব্যক্তির অনিষ্ট করতে হলে তাঁর ব্যবহৃত কোন জিনিসে জাদু করা হয়। এর ফলে কষ্ট অনেক বেশি হয় এবং সেটি ওই ব্যক্তি ছাড়াও তার আশে পাশের লোকদের উপরও প্রভাব বিস্তার করে। মূলত এ ধরণের জাদু মানুষ সাধারণত কারও প্রতি হিংসা বা বিদ্বেষ চরিতার্থ করার করে! পাঠকরা হয়ত অনেকেই জানেন আমাদের মহানবী (সঃ) এর উপরেও এরমক একটি জাদু করা হয়েছিল। তাঁর জীবদ্দশার শেষ অংশে একজন মুনাফিক তাঁর ব্যবহৃত চুলের গিট্টু বেঁধে তাঁকে জাদু করে। যার ফলে তাঁর অনেক অসুবিধার সম্মুখিন হতে হয়। আর এই জাদু কাটানোর জন্যই মহান আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেন সুরা আল ফালাক ও সুরা আন নাস! আমাদের আলোচ্য উপন্যাসিকার কাহিনীও এই কালো জাদুকে ঘিরে। এখানে একটি বাচ্চা মেয়ে আফসারার পুতুলে জাদু করা হয় যার ফলে সে এবং তার পরিবারের সদস্যরা পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়! উপন্যাসিকার বেশ কিছু দিক ভালো লেগেছে। যেমন... ১. গল্পের প্লটটা বেশ সুন্দর। ২. লেখকের এককভাবে লেখা দ্বিতীয় বই হলেও লেখনীতে ম্যাচুরিটি লক্ষনীয়। ৩. গল্প বলাতে কোন বাহুল্যতা নেই। ৪. ইরফান ক্যারেকটারটি তথাকথিত প্যারাসাইকোলজিস্ট ক্যারেকটার থেক��� অনেকটা ভিন্ন। বেশ আধুনিক ও বাস্তবমুখি! ৫. এখানে প্যারানরমাল ঘটনাগুলোর চিকিৎসা ধর্মীয় তত্ত্বের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে যা বেশ ইতিবাচক একটা দিক। তথাকথিত জীন-ভূত বা ওঝাগিরির মাধ্যমে দেওয়া হয়নি। তবে সব কিছুই তো আর ১০০ ভাগ ভালো হয় না। তাই আলোচ্য উপন্যাসিকাটিতেও কিছু খামতির দিক ছিল... ১. কিছু কিছু জায়গায় বানান ভুল ছিল। ২. গল্পটি খুব ফ্ল্যাট মনে হয়েছে আমার কাছে। আর খানিকটা প্রেডিক্টেবল। এরকম কনসেপ্টে আরো ভালো কাজ করা যেত। ৩. গল্পের শেষের দিকটা আরো একটু নাটকিয় হতে পারতো! ৪. লেখক তাঁর বিগত বই “তমিস্রা”তে এমন এক জায়গায় গল্প শেষ করেছিলেন, যেখান থেকে দ্বিতীয় বইটি শুরু হবে বলে পাঠক আশা করেছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বইতে লেখক সম্পূর্ণ নতুন গল্প এনেছেন যার ফলে পাঠক মনে আগের গল্পের প্রশ্নটা থেকে গেছে! এছাড়া বইটির বাঁধাই, প্রিন্ট ও কাগজের মান বেশ ভালো ও আকর্ষনীয়। তবে গত বইটির তুলনায় এবারের বইটির প্রচ্ছদ কিছুটা সাধারণ হয়ে গেছে বলে মনে হয়েছে আমার। বাতিঘরের কাছ থেকে আরো আকর্ষণীয় প্রচ্ছদ আশা করেছিলাম! তবে বইটির সাইজটি বেশ ছোট ও ভিন্ন যার ফলে প্রচ্ছদের আক্ষেপটি কিছুটা হলেও ভুলে থাকতে পেরেছি! সুতরাং, যারা এখনও পড়েন নি বইটি, দ্রুত পড়ে ফেলুন। ভালো লাগবে আশা করি! ধন্যবাদ! হ্যাপি রিডিং! :)