"ডগমা"
একনজরে,
বইঃ ডগমা
লেখকঃ জাবেদ রাসিন,তাকরীম ফুয়াদ
প্রকাশনী ঃ বাতিঘর
প্রচ্ছদ : জাবেদ রাসিন
প্রথম প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারী,২০১৭
পৃষ্ঠাঃ৩০২
মুদ্রিত মুল্যঃ২৮০ টাকা মাত্র
রেটিং ৪.৫/৫
সার্কেল ট্রিলজি'র শেষ বই ডগমা।কাহিনী শুরু হয় সার্কেল এর কাহিনী যেখানে শেষ হয়।সার্কেলে যা শেষ হয়, তা কি আধো শেষ? নাকি কোন কিছুর শুরু মাত্র।বইয়ের শুরুতে দেখা যায়, বাংলাদেশ -মায়ানমার সীমান্তের কোন এক জায়গায় অজানা এক দল আস্তানা গাড়ে। সেনাবাহিনীর একটা দল তাদের ধ্বংস করতে গেলে উল্টো নিজেরা ধ্বংস হয়ে গেল শত্রুর ট্যাঙ্ক, মেশিনগান এর কাছে।সবার কাছে একি প্রশ্ন কে এই শত্রু? যাদের কাছে ট্যাঙ্ক, মিসাইল, এর মত অস্ত্র আছে।আবার বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা আছে।এত কিছু এরা পেল কিভাবে? এই দুর্গম এলাকায় সবার চোখ ফাকি দিয়ে কিভাবে এত কিছু করে ফেলছে এরা।এর পিছনে কে? আবার মায়ানমার দাবি করছে, তাদের উপর বিনা কারনে হামলা করেছে বাংলাদেশ । এর কড়া জবাব দিবে মায়ানমার।নতুন এক সংকটে বাংলাদেশ। এর থেকে উত্তরণের পথ কি? দৃশ্যপটে হাজির আমিন চৌধুরির তরুপের তাস শাফাত রায়হান। যারা সার্কেল বই পড়ে বলেছিলেন শাফাত কে অনেক নিষ্প্রভ লেগেছিল। তারা আর একথা বলতে পারবেননা।লেখকদ্বয় এ কথা বলার কোন সুযোগ রাখেনি।ব্ল্যাকগেট এর চেয়েও বেশি উজ্জ্বল ছিল এখানে ও।
আর ওদিকে সার্কেল নামের সংগঠন টা চাচ্ছে একটা মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে।কি মতবাদ? কেন এটা এত দরকারি? যার জন্যে মরিয়া এই সংগঠনটি।
প্রজেক্ট কনকর্ড। বিশ্বের প্রত্যেক্টি পরাশক্তির একটা কনকর্ড প্রজেক্ট আছে।পরাশক্তি গুলো চেষ্টা করছে তা প্রতিষ্ঠা করার।কিন্তু একটা দেশের পক্ষে যা অসম্ভব তা কি করে একটা সংগঠন করে ফেলছে?যে প্রজেক্ট টির
সাথে জড়িয়ে আছে হিটলার,রাশিয়ার মত নাম।ঘটনাক্রমে তা এসে হাজির সার্কেল'র হাতে।এদিকে সার্কেল সম্পর্কে তেমন কোন ধারনা নেয় কারো।এই সংগঠনটা নিজেকে লুকিয়ে রেখেছে সবার কাছ থেকে খুব ভালোভাবে। এই প্রথমবারের মত আমেরিকা আর রাশিয়া কাজ করছে একসাথে।এর সাথে জড়িয়া আছে মোসাদ, ইন্টারপোল আর বাংলাদেশের ডিজিএফআই।প্রত্যেকটা জায়গায় আছে সার্কেল এর লোক।যেকোন খবর তাড়াতাড়ি চলে যাবে সার্কেল এর হাতে।তাই কাজ করতে হবে খুব সাবধানে।কাউকে বিশ্বাষ করার কোন সুযোগ নেই।এরকম পরিস্থিতিতে সম্ভব কি সার্কেল এর খোজ পেয়ে তাকে ধ্বংস করা?কাহিনী খুব দ্রুত এগিয়েছে।স্লো হবার সুযোগ নেই।
লেখকদ্বয় এর লেখনী আগের চেয়ে ভালো হয়েছে।এদিক দিয়ে বইটা আগের দু'টোর চেয়ে বেটার।আর বানান ভুল?এটা নিয়ে কিছু বলা আমার পক্ষে সম্ভব না।আর বলাও উচিত না।আমি এ লেখা লিখতে অনেক ভুল করেছি।আর তার চেয়ে বাংলা একাডেমীর নতুন বানান রীতি নিয়ে আমার কোন আইডিয়া নেই।তাই এ নিয়ে কথা বলা সম্ভব না।
বইতে আমার মনে হয়েছে, শেষে একটু তাড়াহুড়ো করা হয়েছে।শাফাতের কাজ গুলো আরেকটু ধীরে সুস্থে দেখালে ভালো হত।
বইতে আপনার প্রিয় চরিত্র কে? শাফাত আর আরিফুল।দুটো ক্যারেকটার আসলে অনেক জোস ছিল।বইয়ের আগের অনেক চরিত্র পাবেন আবার।প্রধানমন্ত্রী মাবরুর রশির আগের চেয়ে পরিপক্ব।দেশের কঠিন মুহূর্ত গুলো ভালোভাবে সামাল দিয়েছেন।আমিন চৌধুরি আগের মত ঠিকঠাক।কামিনস্কি কে পাবেন আগের মত।
বইটা শেষ করার পর আপনার মধ্যে এক ধরনের ভালো লাগা আর খারাপ লাগা মিলে মিশ্র অনুভূতি কাজ করবে।ভালো লাগা হল একটা দারুণ বই শেষ করার কারনে।তাইলে খারাপ লাগবে কেন? বইটা পড়ুন তারপর না হয় বুঝতে পারবেন।
সার্কেল ট্রিলজির সেরা বই নিঃসন্দেহে হলো এই ডগমা।সার্কেল ছিল মূলত কাহিনীর প্রবেশপথ। আর ডগমাতে এসে কাহিনী চূড়ান্ত পরিণতি পেল।
বইয়ের সবচেয়ে ভালো লাগার দৃশ্য বলা হলে, অনেকগুলো ভালো লাগার মত দৃশ্য ছিল।আমার ভালো লাগছে বেশি টেপ্লিস শহরের সে ছোট্ট ঘরটার দৃশ্য।আহামরি না, তারপরেও ভালো লাগছে।
ঘটনার বিস্তৃতি চীন,মায়ানমার,দুবাই,ভারত,রাশিয়া,ইরান,ইসরাইল,চেক প্রজাতন্ত্র এবং বাংলাদেশ।
আদ্রিতা আর শাফাতের সন্তানের নামটা দিয়ে দিলে পারতেন লেখকদ্বয়। লেখকদ্বয়কে শুভেচ্ছা। আশাকরি শাফাতকে আমরা আবার পাবো অন্য কোন কাহিনীতে।