Muhammed Zafar Iqbal (Bengali: মুহম্মদ জাফর ইকবাল) is one of the most famous Bangladeshi author of Science-Fiction and Children's Literature ever to grace the Bengali literary community since the country's independence in 1971. He is a professor of Computer Science & Engineering at Shahjalal University of Science and Technology (SUST). Before that, Iqbal worked as a research scientist in Bell Communication Research for six years until 1994.
Birth and Family Background: Iqbal was born on 23 December 1952 in Sylhet. His father, Foyzur Rahman Ahmed, was a police officer. In his childhood, he traveled various part of Bangladesh, because of his father's transferring job. Zafar Iqbal was encouraged by his father for writing at an early life. He wrote his first science fiction work at the age of seven. On 5 May 1971, during the liberation war of Bangladesh, the Pakistan's invading army captured his father and killed him brutally in the bank of a river.
Education: Iqbal passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1968 and HSC exam from Dhaka College in 1970. He earned his BSc in Physics from Dhaka University in 1976. In the same year Iqbal went to University of Washington to obtain his PhD and earned the degree in 1982.
Personal Life: Iqbal married Dr. Yasmeen Haque in 1978. Yasmeen is the Dean of the Life Science Department, Head of the Physics Department, Provost of the Shohid Janoni Jahanara Imam Hall and a researcher at SUST. They have two children - son Nabil and daughter Yeshim. Yeshim translated the book Amar Bondhu Rashed (Rashed, My Friend) written by her father. Iqbal's elder brother, Humayun Ahmed, was the most popular author and film-maker of Bangladesh since its independence. Humayun died after a nine-month struggle against colorectal cancer on the 19 July 2012. His younger brother, Ahsan Habib, is the editor of the satirical magazine, Unmad and one of the most reknowned cartoonist of Bangladesh.
Academic Career: After obtaining PhD degree, Iqbal worked as a post-doctoral researcher at California Institute of Technology (CalTech) from 1983 to 1988. He then joined Bell Communications Research (Bellcore), a separate corporation from the Bell Labs (now Telcordia Technologies), as a Research Scientist. He left the institute in 1994 and joined the faculty of the Department of CSE of SUST.
Literary career: Iqbal started writing stories from a very early age. Iqbal wrote his first short story at the age of seven. While studying in the Dhaka University Iqbal's story Copotronic Bhalobasa was published in a local magazine. But, a number of readers at that time felt that the story was based on a foreign story. To answer this allegation, he later rewrote the story and published the story in collection of stories named Copotronic Sukh Dukkho. Since then he is the most popular writer both in Bengali Science-Fiction and in Juvenile Leterature of the country.
Other Activities and Awards: Zafar Iqbal won the Bangla Academy Award, the highest award in literature in Bangladesh, in 2004. Iqbal also played a leading role in founding Bangladesh Mathematical Olympiad. In 2011 he won Rotary SEED Award for his contribution in field of education.
"গোল্ডেন ফাইভ?" "হ্যাঁ" মহিলা এবার ফ্যাঁসফ্যাঁস করে কাঁদতে শুরু করল, বলল "আপনি চিন্তা করতে পারেন, আমার মেয়ের পিছনে আমি এত সময় দেই আর সেই মেয়ের গোল্ডেন ফাইভ হয় না? তার জন্যে কতগুলো প্রাইভেট টিচার আর কোচিং রেখেছি আপনি শুনতে চান?" ছোটাচ্চু ভয়ে ভয়ে মাথা নাড়ল, মহিলা বলতে শুরু করল, "সকালে ফৌজিয়া ম্যাডাম, দুপুরে দুপুরে তালুকদার স্যার, তারপর প্যারাগন কোচিং, রাত্রে বিল্লাহ স্যার -" ছোটাচ্চু ভয়ে ভয়ে বলল, "ক্লাস সেভেনের একটা মেয়ের জন্য এইটা একটু বেশি হয়ে গেল না?" "বেশি?" মহিলা বেশ অবাক হলো, বলল, "অন্যরা কী করে শুনবেন?"
এই যায়গাটা পড়ে আমার নিজের ক্লাস সেভেনের কথা মনে পড়ে গেল। স্কুলের টার্ম পরীক্ষায় 'গোল্ডেন ফাইভ' তো বহু দূরের কথা, পাস করতে পারলেই বর্তে যেতাম। আর টিচারের কথা বলতে, একজন টিচার ঠিক করা ছিল সব সাবজেক্টের জন্য। সেইখানেও সুযোগ পেলেই ফাঁকি মারতাম :3
আমি কেন এত বই পড়ি, প্রশ্নটা হরহামেশাই শুনতে হয় অপাঠক পরিচিতজনের কাছে। উত্তরটা সবসময় এককথাতেই হয়; পড়তে ভালো লাগে, পড়ে আনন্দ পাই জন্য পড়ি। সেই আনন্দটা বিভিন্নরকমের হতে পারে, টানটান উত্তেজনাময় কাহিনীর মাঝখানে 'এরপর কী হবে' এই ভেবে পড়তে থাকা যেমন আনন্দের সেইরকম পথের পাঁচালী পড়তে পড়তে দুর্গার জন্য মনের মধ্যে যে বিষাদের জন্ম হয় তাও আনন্দের। আবার কোনো বই পড়তে যেয়ে এমনভাবে হো হো করে হেসে ওঠা যাতে মা ঘরে উঁকি মারতে আসে কী হয়েছে দেখার জন্য তাও আনন্দের। এই বইটা পড়বে শেষ ক্যাটাগরির মধ্যে। মোট পাঁচটা গল্প ছিল, তারমধ্যে চারটা পড়েই এইভাবে হেসেছি। আবার কোনো কোনো যায়গা পড়ে মনে হয়েছে 'আহা, কী সুন্দর কথা!' নাদান পাঠিক আমি। বইয়ের সাহিত্যমূল্য কিংবা সমকালীন প্রভাব এর মতো কঠিন কঠিন কথা বুঝি না, যা পড়ে যত বেশী ভালো লাগে তাকে তত বেশী রেটিং দেই। এইটাকেও সেইজন্যই পাঁচ তারা দিয়ে দিলাম।
দূর থেকে টুম্পা আর মুনিয়াকে দেখা যাচ্ছে ছোটাছুটি করে বই কিনছে। বইয়ের বোঝা আর টেনে নিতে পারছে না - কী আনন্দ! টুনি আশেপাশে তাকাল, বাবা মায়েরা তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে হাঁটছে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা হাত ধরাধরি করে হাঁটছে। চশমা পরা খ্যাপা ধরনের একটা মেয়ে হেঁটে গেল, বাতাসে চুল উড়ছে, কী সুন্দর লাগছে দেখতে। শাড়ি পরা দুজন মেয়ে হাসতে হাসতে কথা বলতে বলতে হেঁটে যাচ্ছে কী সুন্দর কপালে লাল-সবুজ টিপ দিয়েছে। দেখতে কী ভালো লাগছে।
টুনি বসে বসে দেখে। তার মনে হয়, আহা বেঁচে থাকাটা কী আনন্দের!"
পাঁচ ঘসে ছয়, দুই নম্বরি ছক্কা তুমি ভাবো বুদ্ধি বেশি আসলে তো ফক্কা!!!!
যদি কেউ প্রতিবার ছক্কা ফেলতে চাই তাইলে এটা তার জন্য অব্যর্থ টোটকা। বাণীতে আমাদের পুচকি টুনটুনি। মন্ত্র হিসেবে এটাকে মুখে মুখে আউড়াতে হবে আর ধপাধপ ছক্কা ফেলতে হবে, যদি কেউ লুডোতে জিততে চাই। সবাই ভাবছেন কেমন করে? তার জন্য অবশ্যই পড়তে হবে এই বইটির 'লুডো টুর্নামেন্ট' গল্পটি। বিজ্ঞানকে কিভাবে লুডো খেলাতে কাজে লাগানো যায় তার জলজ্যান্ত উদাহরণ ও পেয়ে যাবেন।
এছাড়াও আরো চারটি জমজমাট গল্প পাবেন এই বইটাতে। সামান্য গোয়েন্দা গোয়েন্দা গন্ধের সংমিশ্রণে গল্পগুলো সাজানো যেটা পূর্ববর্তী ২টা বইয়ের মতো সমান উপভোগ্য। তবে আমার মনে হয়, এই বইটা পূর্বের ২টার তুলনায় বেশি কিশোর ক্লাসিক অর্থাৎ কিশোররাই সম্পূর্ণ রস আস্বাদন করতে পারবে, বড়দের জন্য একটু বোরিং ফিল হতে পারে।
অন্য সবার মতো আমিও তিন তাঁরা দিতে চেয়েছিলেম। কিন্তু সত্যি যদি বইটা কিশোর বয়সে পড়তাম নির্ঘাত পাঁচ তাঁরা দিতাম। তাই আপাতত মিটমাট করে মিডিয়াম জায়গাতেই স্থগিত রাখলাম তাঁরা দেওয়ার মনোবাসনা।
টুনটুনি-ছোটাচ্চু সিরিজ আমার খুবই পছন্দের একটা সিরিজ। এর কারণ অনেক। টুনটুনিদের মতো আমাদের বাসাতেও একগাদা বাচ্চা-কাচ্চা। আমাদের বাসাতেও মেজচাচু, ছোটচাচু আছে যাদের মাথায় আজব আজব বুদ্ধি আসে দিনে -দুপুরে। আমাদেরও একটা দাদি (কারো কারো নানি) আছে। শুধু একটা সুপার রিফ্লেক্স এর ঝুমু খালা নেই কিন্তু সেটা আমাদের মা-চাচি-ফুপুরা পূরণ করে দিচ্ছে।
এই বইটা তো শুধু ছোটদের গোয়েন্দা গল্প না, বরং বড়দের দৃষ্টিকোণ দিয়ে ভাবলে আরও অনেক বেশিকিছু শিখায়। আবার নিছক আনন্দ পাবার জন্য পড়লেও মজা কম দেয় না। একটু পর পর যখন ঠোঁটের কোণে হাসি আসছিল পড়বার সময় তখনই মনে হচ্ছিলো ছোটবেলায় জাফর স্যারের বই পড়বার একটা আমেজ কিছু হলেও পাচ্ছি।
তবে এই বইটাতে ছোটাচ্চুর কথা খুবই কম। এত কম কেন? বরং বাচ্চা পার্টির বিশাল জয়জয়কার। তবে হ্যাঁ, সেটাও বেশ উপভোগ্য কারণ সাথে ঝুমু খালা আর দাদিও যে বেশি বেশি ছিলেন।
শেষ গল্পটা অদ্ভুত সুন্দর। বইমেলা নিয়ে লেখা তা বলে না। বরং এই শেষ গল্পটা অনেক অনেক কিছু শেখায় যা মন ছুঁয়ে ভিতরে রয়ে যায়। যদি থাকতো আরও একটু বাচ্চা বাচ্চা মন, না জানি আরও কত বেশি আনন্দ পেতাম বইটা পড়ে।
লেখক পাঁচটি গল্পের মাধ্যমে ৫টি বার্তা দিয়েছে শিশুদের। জাফর ইকবালের বইগুলো শিশুদের সুস্থভাবে সফল মহৎ মানুষ হতে সাহায্য করবে। আমাদের ছোট ভাইবোনদের হাতে জাফর ইকবালের বইগুলো তুলে দেয়া উচিত। তাহলে তারা ভাল সুস্থ মানুষ হয়ে বেড়ে ওঠবে।
নিচে আমি ৫টি গল্পের ৫টি বার্তা নিয়ে সংক্ষেপে বলছি -
১। **একজন দুর্ধর্ষ পেপার চোরঃ** সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকর দিক এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান।
৩। **বইমেলাঃ** শিশুদের বইমেলার সামগ্রিক দিকটা তুলে ধরেছে শিশুদের ভাষায়। যেমন শিশুদের কেন বই পড়া উচিত, কেন বই মেলায় যাওয়া উচিত, কেমন বই কেনা উচিত, কী ধরনের বই পড়া উচিত ইত্যাদি ইত্যাদি। সাথে আছে শিশুদের চমৎকার মননশীল বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।
৪। **লুডো টুর্নামেন্টঃ** দুই নম্বরি মানুষ হওয়া ঠিক না! ধরা পড়লে মাইর খাওয়ার চান্স থাকে। মাইর মানে মাইর–উথাল-পাতাল মাইর। অস্থির মাইর! বেইজ্জতির চূড়ান্ত। বেইজ্জতি বলে বেইজ্জতি। তাছাড়া যান্ত্রিকতার বাহিরে লুডো, দাবার মতো ঘরোয়া খেলা আনন্দের পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধনকেও অটুট রাখে, বন্ধন সুদৃঢ় হয়।
৫। **হ্যাকারঃ** এখানে ফেসবুকের ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। “ফেসবুক করা ছাড়া আর কোনো কাজ নাই? কিংবা ফেসবুকে সময় নষ্ট না করে একটা বই পড়ো। কিংবা, ফেসবুক না আসল বুক? আসল বুক আসল বুক। ফেসবুক বন্ধ না করলে তোমাদের উপর মহাবিপদ হব���, সাবধান। এই রকম ম্যাসেজ।”
**কোচিং সেন্টার আর গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ সম্পর্কে বইতে মজার শিক্ষণীয় কিছু কথা ছিলঃ**
টুনি কোচিং সেন্টারে বসে সরাসরি কারো দিকে তাকাচ্ছিল না কিন্তু খুবই মনোযোগ দিয়ে কে কী নিয়ে কথা বলছে সেটা শোনার চেষ্টা করতে থাকে। বেশিরভাগ কথাবার্তাই ফেসবুক, স্ট্যাটাস, লাইক এই সব নিয়ে। একটা দুইটা হিন্দি সিনেমার নাম শোনা গেল। স্কুলের স্যার-ম্যাডামদের গালাগাল করাও মনে হলো এদের খুব প্রিয় একটা কাজ।
স্যার হাতের ফটোকপি করা কাগজগুলো সবাইকে দিতে দিতে বলল, “আমাদের ফ্যারাগন কোচিং সেন্টারের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মডেল টেস্ট! আমরা একটার ফর একটা মডেল টেস্ট নেই, যেন কোচিং সেন্টারের ছেলেমেয়েদের সব ফ্রশ্নের উত্তর মুখস্ত হয়ে যায়।” “এই যে দেখো মডেল টেস্টের ফ্রশ্ন! তোমরা যদি এই ফ্রশ্নের উত্তর মুখস্ত করতে ফারো, তোমাদের গোল্ডেন পাইভ কেউ আটকাতে পারবে না।” “ফ্যারাগন কোচিং সেন্টার থেকে আমরা সেটা গ্যারান্টি দেই। আমাদের গ্যারান্টি কঠিন গ্যারান্টি, গোল্ডেন না ফেলে টাকা পেরৎ!”
কোচিংয়ের স্যার ছাত্র-ছাত্রীদের জিজ্ঞেস করল, “আমরা লেখাড়া করি কী জন্যে?” একজন খুবই অনিচ্ছার সাথে বলল, “শেখার জন্যে।”
স্যার মনে হলো ইলেকট্রিক শক খেয়েছে, মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, “নো নো নো নো! শেখার জন্যে লেখাড়া করে বোকারা! অনেক কিছু শিখে বোকার মতো ঘরে বসে থাকে। বুদ্ধিমানরা লেখাড়া করে ফরীক্ষায় নম্বর ফাওয়ার জন্যে। শুধু ফরীক্ষায় তারা গোল্ডেন এ ফ্লাস ফায় না, জীবনের সব জায়গায় গোল্ডেন এ ফ্লাস ফায়। ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হয়। লক্ষ লক্ষ টাকা বেতনের চাকরি করে। দেশে-বিদেশে যায়। গাড়ি-বাড়ি থাকে। ভালো ঘরে বিয়ে হয়।” (বিয়ের কথা শুনে এক-দুইজন অবশ্যি ফিক করে হেসে দিল)
তারপর স্যার মুখ গম্ভীর করে বলল, “আর যারা শেখার জন্যে লেখাড়া করে তাদের কী হয়? তারা স্কুল-কলেজে চাকরি করে। মাসের শেষে কোনোবার বেতন ফায় কোনোবার বেতন ফায় না। ফ্রাইভেট টিউশনি করে।”
টুনি ঘর থেকে বের হয়ে হেঁটে হেঁটে কোচিং সেন্টারের কুৎসিত বিল্ডিং থেকে বের হয়ে রাস্তায় নেমে এসে বুকের ভেতরে আটকে থাকা নিশ্বাসটা বের করে দিল। কোচিং সেন্টারে এইমাত্র নাটকটা করে আসা ঠিক হলো কি না সে এখনও বুঝতে পারছে না।
রাতে বাসায় ছোটাচ্চু কথা শেষ করতে পারল না তার আগেই বাচ্চারা চিৎকার করে উঠল, “কোচিং সেন্টার? ইয়াক থুঃ। ছি ছি ছি। ঘেন্না ঘেন্না। বমি করে দেই। টুনি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছে? হায় হায় হায়!”
আরেকজন বলল, “কোচিংয়ের ভিতরে কী রকম টুনি আপু? লোকজন কি চাবুক নিয়ে থাকে?”
“ব্রেন নষ্ট করার জন্য কোচিং সেন্টারে কী জানি ওষুধ খাওয়ায় সেইটা কি সত্যি?” “ যারা যায় তার নাকি আস্তে আস্তে জম্বির মতো হয়ে যায়?”
শান্ত বলল, “প্যারাগন কোচিং সেন্টারকে জ্বালিয়ে দিতে হবে।” আরেকজন বলল, “জ্বালো জ্বালো। আগুন জ্বালো।” অন্যেরা বলল, “ধ্বংস হোক। ধ্বংস হোক।” তখন সবাই চিৎকার করে উঠল, “ধ্বংস হোক ধ্বংস হোক।”
ছোট ছোট গল্প, হাস্যরস সম্বল করে বেড়ে উঠেছে, অথচ কত নিখুঁত ভাবে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে সমাজের অগনিত সমস্যার গুটিকতক। আমার ধারণা এই বইগুলো খুব অল্প বয়সে ছেলে মেয়েদের হাতে তুলে দিতে পারলে তারা ন্যায় অন্যায় সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা পাবে এবং আদর্শ মানুষ হিসাবে বেড়ে উঠবে। অন্তত যদি তারা পুরো ব্যাপারটা ঠিকঠাক আত্মস্থ করতে পারে তবে। অথচ আজকালকার পিতা-মাতারা বাচ্চার হাতে গল্পের বই দেখলে তেঁতে ওঠেন। অত্যান্ত দুঃখজনক! এবং এঁর ভবিষ্যৎ ফলাফল ঠিক কতটা সুখের হতে যাচ্ছে সমাজের জন্য তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
যাই হোক। দারুণ লেগেছে। এই বইটি এবং শেষ বইটি আমার কাছে সিরিজের সেরা বই বলে মনে হয়েছে। তবে হ্যাঁ, সবার কাছে হয়তো তেমনটা নাও মনে হতে পারে। প্রথম দুটো বইও যথেষ্ট ভাল ছিল।
এই সিরিজটা আমার খুব ভালো লাগে, "আবারো টুনটুনি ও আবারো ছোটাচ্চু" এটাই মনে হয় এই সিরিজের শেষ বই। সত্যি বলতে আমার কাছে প্রথম ২ টা বই বেশি ভালো লেগেছে। এই বইটা কেন জানি মনে হয়েছে যে জোর করে লেখা অথবা অতিরঞ্জিত করা! :/
একজন দুর্ধর্ষ পেপার চোর, গো-গো-গোল্ডেন ফাইভ, লুডো টুর্নামেন্ট, হ্যাকার , বইমেলা ...... এই পাঁচশিরোনামে পাঁচটা ভিন্ন গল্প নিয়ে বইটা সাজানো । সবচে ভালো লেগেছে গো-গো-গোল্ডেন ফাইভ আর বইমেলা । বরাবরের মতই বইয়ের দাম বেশী । আশার কথা হলো -সবগুলো গল্পই লেখকের ওয়েবসাইটে পড়া যাবে ।
Nothing new. I liked only the Shanto character in this book. Tuntuni was impressive as usual with her genius plans to thwart evil or help poor children.
4🌟 Chapters: একজন দুর্ধর্ষ পেপার চোর (this was unpredictable for me) গো গো গোল্ডেন ফাইভ লুডু টুর্নামেন্ট হ্যাকার (very predictable) বইমেলা Love that it has moral lessons in each story.
এবারের বইমেলায় কেনা অনেক বইয়ের মাঝে প্রথম পড়ার জন্যে হাতে নিসিলাম এই বইটা। গত কয়েক বছর ধরে লেখকের বই রিপিটেটিভ হচ্ছে, আগের মত সেই টান, সেই থ্রিল, সেই ইমোশনাল ধাক্কা আর নেই - সবই জানি। গতবছরের বই পড়ে আমি নিজেও মন খারাপ করে জ্বালাময়ী রিভিউ লিখেছিলাম, সেটাও মনে আছে। তাও, প্রথম পড়ার জন্যে এটাই নিলাম।
সিরিজটা সবসময়ই ভালো লাগে আমার। টুনি আর ছোটাচ্চুর কম্বোটা অসাধারণ। ছোটাচ্চু বয়সের তুলনার লঘু আচরণ করেন, ছোটদের সাথে মিশে যান খুব সহজে। অন্যদিকে, টুনির বুদ্ধি অনেক বড়মানুষের থেকেও অনেকগুণে বেশি। যাইহোক, এসব ক্যারেক্টার এনালাইসিস করার থেকে বই নিয়ে কথা বলি, মানুষ এতসব ফাউল কথা পড়ে গালি দিতে পারে আমাকে :(
৫টা ছোট গল্প নিয়ে বইটা। প্রতিটাই অসাধারণ। একটা আরেকটার থেকে বেশি ভালো টাইপের অসাধারণ। জাফর স্যারের লেখার ধরনের সাথে আমরা সবাই মোর ওর লেস পরিচিত, এটা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তার কিছু সিগনেচার লাইন আছে, কিছু স্টাইল আছে স্টোরি শেষ করার। এই বইয়ের প্রতিটা গল্পেই সেই ছায়া আছে, কিন্তু আকর্ষণ কমেনি তাতেও।
"গো গো গোল্ডেন ফাইভ" গল্পে আমাদের সময়ের গার্জিয়ানদের একটা জিনিস চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখায় দেয়া হইসে। এক গোল্ডেন ফাইভ বা ভালো রেজাল্টের নামে আমাদের ছাত্রদের যে কত যন্ত্রণা দেয়া হয় - সেটা সবাই জানি। আমি নিজেও এর শিকার, পার সাবজেক্ট স্যারের বাসায় যাওয়ার অভিজ্ঞতা আমারো আছে। আল্লাহ আমাকে বাচাইসেন একদিক থেকে যে আমার বই পড়ার অভ্যাসটা সবসময় অটুট ছিলো, আমার বাবা মা প্যারা দিলেও একদমই বন্ধ করে দেন নাই কখনো এই বই পড়ার জিনিসটা।বইটা যেসব বাচ্চাদের জন্যে লিখা, খুব খুশি হবো যদি তারা তাদের বাপ মাদের বইটা, নিদেনপক্ষে এই একটা গল্প জোর করে পড়ায়। কিছুটা হলেও যন্ত্রণাটা বুঝতে পারবেন তারা। অতি ভালো যে ভালো না, সেটা অনেকসময়ই তারা ভুলে যান যে!
"একজন দুর্ধষ পেপার চোর" গল্পটা স্যারের সাইটে আগেই পড়া, নতুন করে কিছু বলার নেই এটা নিয়ে। জাফর স্যারের টিপিক্যাল মন ভালো করে দেয়া স্টোরিলাইন - শেষ হলেও মনে থেকে যাবে ভালো লাগার রেশ। "লুডো টুর্নামেন্ট" ও সেম টাইপের গল্প।
"হ্যাকার" গল্পটাও আরেক সামাজিক ব্যাধি - সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাডিকশন নিয়ে। এক বাপ-মা নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া দেখতে যেয়ে কীভাবে সন্তানকে অবহেলা করছেন - সেটাই দেখানো হয়েছে এই গল্পে। এই একটা গল্প পড়ে মনে হলো যে আরও একটু লম্বা হলে ভালো হত, এন্ডিংটা জমে নাই ঠিকমত।
"বইমেলা" গল্পটা সবচেয়ে ভালো এই বইয়ের, যদিও কাহিনীটা লেখক তার নিজের ছেলেমেয়ে না ভাইয়ের ছেলেমেয়ে - কার জানি স্টোরি থেকে রি-ইউজ করেছেন। যে পাঠক পড়তে শেখার পর থেকে তাঁর বই গোগ্রাসে গিলে আসছে, বছরব্যাপি দিচ্ছে রিভিশন - তার কাছে এতো বড় মিল তো চোখে পড়বেই। গোল্ডেন ফাইভের গল্পের একটা প্লট পয়েন্ট ও রি-ইউজ করা, সেটা এতটা বেশি করে চোখে লাগে নাই আরকি। এজন্যেই অনেক পাঠক গালি দেয় তাকে, সবার এক্সপেক্টেশন লেভেল তো আর সেম না।
যাই হোক, আমি সন্তুস্ট। লেখক অবশ্য বইয়ের শুরুতেই লিখে দিয়েছেন যে এই সিরিজ নিয়ে আর লিখতে চান না, কিন্তু আমি চাই আরো বই আসুক এই সিরিজে।
কিশোর বয়স পার হয়ে গেল বেশি কিছু বছর। তাতে কি? মন তো আজন্ম কিশোর। তাই হয়তো এখনো কিশোর উপন্যাস পেলে ডুবে যাই কাহিনীর মাঝে। হারিয়ে যাই কাহিনীর কোন কিশোর চরিত্রে হয়তো যার মত আমি হবার স্বপ্ন দেখেছিলাম। জাফর ইকবাল স্যারের টুনটুনি আর ছোটাচ্চু সিরিজের তৃতীয় বই আবারো টুনটুনি ও আবারো ছোটাচ্চু ছিল তেমনি ধারার এক লেখা যেখানে কালের বাস্তবতা কিছুক্ষণের জন্য হলেও হার মানবে। বইয়ের নামঃ আবারো টুনটুনি ও আবারো ছোটাচ্চু
কড়া কিশোর স্বাদ আর হালকা গোয়েন্দা গন্ধের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে আবার টুনটুনি ও আবারো ছোটাচ্চু বইটিতে। টুনটুনি ও ছোটাচ্চু এবং আরো টুনটুনি ও ছোটাচ্চু, যারা সিরিজের এই প্রথম এবং দ্বিতীয় বইদুটি পড়েছেন তাঁরা খুব ভাল করে জানেন, জাফর ইকবাল স্যার কিভাবে ছোট ছোট গল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন আমাদের জীবনের আপাত দৃষ্টিতে তুচ্ছ হলেও খুব শিক্ষনীয় দিকগুলো তুলে ধরেছেন প্রতিটি বইয়ে। তৃতীয় বইটিতেও তিনি সেই ধারা অব্যহত রেখেছেন। মোট পাঁচটি ছোট গল্পে সাজানো হয়েছে বইটিকে। গল্পগুলি হলোঃ ♦ একজন দুর্ধষ পেপার চোর ♦ গো গো গোল্ডেন ফাইভ ♦ লুডো টুর্নামেন্ট ♦ হ্যাকার এবং ♦ বইমেলা
প্রতিটি গল্পে আছে দুটি দিক। প্রথমত সাবলীল বর্ণনার সাথে আছে রম্যের ছোঁয়া। পড়তে পড়তে পাঠক বার বার হেসে গড়াগড়ি খাবার অনেক সম্ভাবনা আছে। আর দ্বিতীয়ত হলো প্রতিটি গল্পের ভেতরে লুকিয়ে রাখা এক একটি ম্যাসেজ যা আমাদের কিশোর পাঠকদের নতুন ভাবনার খোরাক এনে দেবে।
একজন দুর্ধষ পেপার চোর গল্পটিতে টুনি কিভাবে রহস্য উদঘাটন করে গড়ে দেয় বাতিলের খাতায় নাম তোলা একজন পথশিশুর জীবন, জানতে গলে পড়তে হবে বইটি?
কিংবা বইমেলা গল্পটিতে কিভাবে টুনি কৌশলে এক মধ্যব��ত্তের অপারগ বাবার শিশুকে বই উপহার দেয়, কিভাবে দেখিয়ে দেয় ইচ্ছার ডানা যেখানে প্রসারিত সেখানে বাস্তবতার আকাশও উদ্ধত, জানতে হলে বইটি নিয়ে বসে পরতে হবে।
ব্যক্তিগত মতামতঃ
বইটির প্রতিটি গল্পের ম্যাসেজগুলো খুব বেশি স্পষ্ট এবং স্পর্শকাতর। মানুষ কত অল্পতে খুশী হতে পারে, কত অল্পতে মানুষের জীবন নতুন স্বপ্ন পেতে পারে জাফর স্যার তাঁর লেখাগুলিতে বার বার তুলে ধরেছেন। এই বইয়ের পাঁচটি গল্পের ভেতর ব্যক্তিগতভাবে আমার বইমেলা গল্পটি বেশি ভাল লেগেছে। আমাদের দেশে কেন সময়ানুসারে বাড়ছে না তাঁর সম্ভাব্য একটা উত্তর এখানে আছে। একজন ক্ষুদে পাঠক যদি শৈশবে তাঁর পছন্দের বইটি না পায়। শুধুমাত্র পাঠ্য বইয়ের দেয়ালে তাকে বন্দী রাখা হয়। বইয়ের প্রতি তাঁর বিমুখতা তখন স্বাভাবিক। আমাদের দেশের অধিকাংশ মধ্যবিত্ত বাবা মায়েরা কিছুটা আর্থিক কারণে এবং কিছুটা বাস্তব জ্ঞানের অভাবে শিশুদের বাড়তি বই কিনে দেন না। আর নিজের অজান্তেই সন্তানকে ঠেলে দেন ফেসবুক, কম্পিউটার গেমস কিংবা ইন্টারনেটের অন্ধকার জগতে। যদি শিশু বয়স হতে একজন বই পড়া অভ্যাস করে সে আধুনিকতার এইসব মাধ্যম যা কখনো মানসিক উন্নয়ন আনে না, সেগুলো থেকে মুক্ত থাকতে পারে।
তাই আমিও বলতে চাই, আপনার সন্তানকে বই কিনে দিন। বই হোক আপনার সন্তানের বন্ধু। ইন্টারনেট কিংবা কম্পিউটার গেমস নয়।
ছোট ছোট ৪/৫ টি গল্প নিয়ে লেখা৷ খুব মজা পেলাম। প্রতিটা গল্পের পিছনে একটা মোরাল পাওয়া গিয়েছে
বাট টুনটুনি ক্যারেক্টারটা আমার তুলনামূলক ভাবে একটু বেশি ম্যাচিউর লেগেছে স্পেশালি একদম লাস্ট লাইনে। আর বইয়ের নামে ছোটাচ্চু থাকলেও কাহিনীতে উনার ভুমিকা একদম কম ছিল।
বেশ ভালোই লেগেছে। ইচ্ছা আছে এখন বাকি গুলা একটু পড়ে দেখার 😁
আবারো টুনটুনি আবারো ছোটাচ্চু বইটা খুব ই মজার। মুহাম্মদ জাফর ইকবালের বই আমার সব সময় ভাল লাগে। এই বইটি টুনটুনি নামের একটি বুদ্ধিমান মেয়ে এবং তার ছোট চাচ্চুর গোয়েন্দাগিরি সম্পর্কে। বইটা পরে বাচ্চাদের বই মনে হলেও আমার খুব ই মজা লেগেছে
টুনটুনি ও ছোটাচ্চুর সব বই আমার পড়া। এর মধ্যে এই বইটি সেরা। এখানে টুনটুনি মূল ক্যারেক্টার। সে একা একা নানা ধরণের সমস্যা সমাধান করে । যতটুকু রহস্যকর ভেবেছিলাম ততোটা রহস্যকর নয়।তবুও বইটি পড়ে ভালো লাগলো।