Jump to ratings and reviews
Rate this book

আঁধারের জানালাটা খোলা

Rate this book
চোদ্দ বছরের ময়না কেমন যেন অস্বাভাবিক রকমের পাকা হয়ে উঠেছে। বড়দের মতো তীক্ষদৃষ্টি, প্রতিশোধপরায়ণ আচরণ। সারাক্ষণ মাথার ভেতর গিজগিজ করছে শয়তানি বুদ্ধি...একদিন সীমান্তবর্তি এলাকা নোয়াপাড়া থেকে উধাও হয়ে যায় ময়নার জিগরি-দোস্ত লালমিয়া। কোথায় গেল সে? কে ওকে উধাও করলো?

ময়নার মা সারাক্ষণ ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে, কিন্তু ময়নার নির্লিপ্ত অভিব্যক্তিতে কোনো সদুত্তর খুঁজে পায় না। কিন্তু মা জানে ময়নার মাথায় সারাক্ষণ একটা পোকা ওকে খোঁচাচ্ছে : খুন কর, ময়না! খুন কর! ছেলেকে নিয়ে তাই কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে সে। এরই মাঝে হঠাৎ নোয়াপাড়া অঞ্চলে শুরু হয় একের পর এক খুন। প্রেক্ষাপটে হাজির হয় ক্ষ্যাপাটে এক পাগল, রহস্যময় কিছু চরিত্র এবং রাতের অন্ধকারে নিঃশব্দে হেঁটেচলে বেড়ানো রক্তপিশাচ!

আঁধারের জানালাটা খোলা একটি শ্বাসরুদ্ধকর মার্ডার মিস্ট্রি নভেলা।

96 pages, Hardcover

Published February 3, 2017

2 people are currently reading
62 people want to read

About the author

Sushmoy Sumon

23 books8 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
6 (4%)
4 stars
40 (27%)
3 stars
64 (44%)
2 stars
24 (16%)
1 star
9 (6%)
Displaying 1 - 28 of 28 reviews
Profile Image for Akhi Asma.
235 reviews467 followers
February 9, 2017
2.5 Stars!

বাই দ্য ওয়ে, সবার সিডনি শেলডন, জেমস হেডলি চেজ, জেমস প্যাটারসন এতো ভালো লাগে কেন?!
Profile Image for Shahjahan Shourov.
162 reviews24 followers
February 15, 2017
লেখকের লেখা এই প্রথম পড়লাম। বেশ লেগেছে।
বিশেষতঃ একটা অধ্যায়ের পর আরেকটা অধ্যায় শুরু হবার সময় মোটাদাগে ভিন্নতা চোখে পড়েছে। তিনি নাটকের লোক বলেই কিনা, এই তফাৎটা হয়েছে খুব ভাল। নাটক (কিংবা সিনেমার) একটা দৃশ্য শেষ হবার পর আরেকটা দৃশ্য শুরু হতে গেলে, মুড, লোকেশান, আয়োজন, স্টার্টিং শট সবই চোখে পড়ার মত করে আলাদা হয় (ঘটনার ভিন্নতাও আছে, শটের গ্রামার আর প্রয়োজন অনুযায়ী।) আগেরটা থেকে। কে জানে, নাটকের এই চর্চাটাই লেখককে আলাদা করেছে হয়তো কিংবা নিতান্ত তার প্রতিভার গুণেই হয়েছে এমন।

জেনেও জানার আগ্রহ বা লেখকের কাছ থেকে সত্যায়িত করে নেবার আগ্রহ এই বইয়ের মূলচলন। গল্পের শেষটা নিশ্চিত করার জন্যে একেবারে বইয়ের গোড়া থেকে টান পাবেন আর ছোট-মটো বইটা দেখবেন এই টানেই শেষ করে ফেলেছেন কখন। তবে পড়তে পড়তে কেউ যদি ভেবে বসেন, “এ আর কি এতো বোঝাই যাচ্ছে, বাদ দিই” তাহলেই ভুল করবেন। ভাল লেখনী, অাঞ্চলিক সংলাপের পরিমিত ব্যাবহার মিস করবেন। আর শেষে গে... নাহ্ শেষটা জানিয়ে দেয়া বারণ।

উপভোগ্য একটা বই। তবে খানিকটা নাখোশিও আছে। একটা প্রফেশনাল সিক্রেট বলি, আমাদের টিভি নাটকে কিন্তু আমরা ঘটনা “বলি”, গল্প “বলি”; ঘটনা বা গল্প “দেখাই না”। এর একমাত্র কারণ বাজেট। অনেক ঘটনা, অনেক শাখা গল্প আমরা চরিত্রের সংলাপ দিয়ে সেরে দিই। এই বইয়ের শেষটা তেমন হয়েছে, “বলা হয়েছে”; “দেখানো হয়নি”। নাখোশি সেজন্যে। শেষ ঘটনাটা ঘটানো হলে ভীষণ উপভোগ্য হত সত্যি। সত্যিই, সাড়ে তিন তারা দেয়ার মতো বইটা এই নাখোশির কারণে .৫০ তারা খোয়ালো।

এটা ছাড়া, গল্প আর চরিত্রের যাত্রা খুব সুষম হয়েছে বইয়ে। চরিত্রের আনা-গোণাতে ভীষণ দক্ষতা দেখিয়েছেন লেখক। বইটা না পড়লে আসলে এটা বুঝবেন না। পয়েন্ট টা নোট করে রাখেন, পড়ার সময় মিলিয়ে নেবেন। লেখকের কাছে প্রত্যাশা রইলো, আরও ভাল কিছু পাবার। অধ্যায় থেকে অধ্যায়ের ভিন্নতায় যে মুন্সীয়ানা দেখিয়েছেন, চাইবো সেটা যেন আপনার সিগনেচার হয়ে থাকে। বিইং অনেস্ট, এই ব্যাপারে সুস্ময় সুমন ট্রেন্ড সেটার হতেই পারেন।
Profile Image for Rifat.
502 reviews330 followers
May 21, 2021
মাত্র ৯৬ পৃষ্ঠা দেখে কাল সন্ধার পর বইটা পড়ি। দেখা গেল ঠিকঠাকভাবে বইয়ের আকার দিতে গেলে ৫০/৫৫ পৃষ্ঠা হতো। পুঁচকে নোভেলা। বইয়ের মূল চরিত্র ময়নার বয়স মাত্র ১৪ বছর। তবে সে খুব অভিমানী; তার মায়ের ধারণা বয়স অনুযায়ী তার ছেলের একটু বেশিই অভিমান। ময়নার বাবা চোর হওয়ায় অনেকেই তাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে আর চোরের ব্যাটা চোর বলে গালি দেয়। ময়নার মনে হয় সে সবাইকে খুন করে ফেলে। তার মাথায় একটা পোকা আছে, পোকার সাথে কথা বলে ময়না খুন করার পরিকল্পনা করে।

বইয়ের কাহিনী, লেখনী, বর্ণনারধারা এবং কোনোকিছুই আমার ভাল লাগে নি।

~২১ মে, ২০২১

(ময়নার বাবা ভূত নাকি!?🐸)
Profile Image for তান জীম.
Author 4 books285 followers
March 6, 2019
এইটা কি সত্যিই 'বাতিঘর' এর বই ছিলো! এত দূর্বল প্লট আর এত ম্রিয়মান লেখনীর লেখা বাতিঘর কিভাবে প্রকাশ করলো? লেখকের লেখনী, কাহিনী, বর্ণনাভঙ্গি কিছুই আকর্ষণীয় না। রিভিউ দিয়েও টাইম নষ্ট করতে ইচ্ছে হচ্ছে না। বোগাস!
Profile Image for Sakib A. Jami.
348 reviews42 followers
April 13, 2025
একটি বইয়ের নামের সাথে যদি কাহিনির মিল না থাকে, তাহলে বিষয়টা কেমন? অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, কাহিনির সাথে মিল না থাকলেও ছোট কিছু উপাদানের সাথে হয়তো মিলে যায়। কিন্তু পুরোটাই যদি মিল না পাওয়া যায়? হয়তো লেখক রূপকধর্মী নামের ব্যবহার করতে গিয়ে লেজে-গোবরে অবস্থা করে ফেলেছেন।

বলছিলাম সুস্ময় সুমনের “আঁধারের জানালাটা খোলা” বইটির কথা। যার কাহিনির সাথে বইয়ের নামকরণের বিন্দুমাত্র মিল। লেখক কেন এ নামকরণ করেছেন, সেটা তিনিই বলতে পারবেন। এ নিয়ে আর কথা না বাড়াই। এবার কাহিনিতে যাওয়া যাক।

ময়না চৌদ্দ বছরের এক কিশোর। বয়সের তুলনায় অনেক বেশি গম্ভীর, তীক্ষ্ম চিন্তাধারার একজন। মায়ের সাথে থাকে। বাবা থেকেও নেই। কারণ তার বাবা চোর, মদ-গাঁজায় আসক্ত। দীর্ঘদিন বাসায় ফিরে না। হাতে টাকা এলে বাসায় ফিরে আসে। তারপর আবার উধাও হয়ে যায়। মা ও ছেলেকে তাই জীবনের সাথে লড়াই করতে হয়।

বাবার জন্য ছেলেকেও কথা শুনতে হয় ভীষণ। চোরের ছেলে চোর, এই বাক্য যেন অবধারিত। ময়নার জিগরি দোস্তও কথা বলতে ছাড়ে না। ঝামেলা বাঁধে তখন। মাথার মধ্যে এক পোকা এর প্রতিশোধ নিতে প্রবোধ দেয়। কিন্তু চৌদ্দ বছরের ছেলে কী-ই করতে পারে!

তবুও একদিন লাল মিয়া হারিয়ে গেলে টনক নড়ে সবার। কোথায় গেল ছেলেটা? তারপর একে একে আরো কিছু খুন সীমান্তবর্তী নোয়াপাড়া গ্রামের চিত্র বদলে দিয়েছে। সবাই এখানে আতঙ্কিত, ভয়ে দিন কাটায়।

“আধারের জানালাটা খোলা” ছোট্ট একটি উপন্যাসিকা। এক বসায় পড়ে নেওয়ার মতো বই। লেখক বইটিকে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের আদল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রশ্ন উঠতে পারে, কতটা পেরেছেন?

গল্পের কাহিনি আমার কাছে অতিরঞ্জিত লেগেছে। লেখকের গোছানো লেখা আর গতিশীল গল্পের কারণে ঠিকঠাক পড়তে পেরেছিলাম। বর্ণনাভঙ্গি বিশেষ ভালো লাগেনি। ছোটো ছোটো অধ্যায়ে লেখক উপন্যাসিকাটি লিখেছেন। ১১০ পৃষ্ঠার ক্রাউন সাইজের বইয়ে অধ্যায়ের সংখ্যা ৩২! প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে জোর করে ধাক্কা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছেন লেখক। অধ্যায়গুলো ছোট হওয়ার কারণে বই পড়ার প্রক্রিয়া বাঁধাপ্রাপ্ত হচ্ছিল। জ্যামের রাস্তায় গাড়ি একটু এগিয়ে হার্ড ব্রেক করলে যেভাবে থমকে যেতে হয় তেমন অনুভূতি হচ্ছিল।

তবে লেখক এখানে সমাজের বেশকিছু অসঙ্গতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। বাবার অপকর্মের শাস্তি সন্তানকে ভোগ করতে হয়। বাবা যে অন্যায় করে তার দায় যেন সন্তানের। মানুষের অবজ্ঞা, অপমান একজন শিশুর মনস্তত্ত্ব এমনভাবে পরিবর্তন করে, সেটা হিতে বিপরীত হতে পারে। শিশুদের মনস্তত্ত্ব এখানে গুরুত্বপুর্ণ। অন্যের উপর নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় অনেক কিছুই ঘটে পারে। অনৈতিক কার্যকলাপ, যা নিষিদ্ধ; তার দিকেই একজন কিশোর বয়সীর আকর্ষণ বেশি।

এছাড়া একজন নারীর জন্য একাকী থাকা কতটা কষ্টের সেটা সেই নারী ছাড়া কেউ বুঝে না। চারিপাশে লুকিয়ে থাকা হায়েনারা সুযোগ খুঁজে বেড়ায়। আবার অন্যদিকে শিশু নির্যাতনের মতন ঘটনাও ঘটে। মরদ বৈশিষ্ট্য দেখানোর জন্য বয়সে কম বাচ্চাকে পেটানো যেন এক ধরনের পৈশাচিক আনন্দ। হোক সে ঘরজামাই, তবুও সে আনন্দ পেতে চায়।

ছোট এই বইটিতে চরিত্রগুলো নিয়ে বিশেষ কাজ করার তেমন সুযোগ ছিল না। তবুও লেখক স্বল্প পরিসরে এই দিকে বেশ ভালোই চেষ্টা করেছেন। গল্পের মধ্যে আসা চরিত্রগুলো নিয়ে তেমন ধোঁয়াশা নেই। গল্পের গতি এক পর্যায়ে স্বাভাবিক ছিল। তবে তেইশতম অধ্��ায়ে এসে লেখক গুবলেট করে ফেলেছেন।

তখন ঘটনাপ্রকৃতি হয়ে গিয়েছে সংলাপ নির্ভর। সংলাপেই মূল টুইস্ট তুলে ধরা লেখকের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। গল্পটা যাও ভালো লাগছিল, এখানে এসে খেই হারিয়ে ফেলেছে। ব্যতিক্রম কিছু করার চেষ্টায় পুরো কাহিনির দফারফা করে ছেড়েছেন।

দশ বছর আগের একটি ঘটনার স্মৃতি রোমন্থন এভাবে হবে কেন? মূল চমকই যদি লেখক এভাবে সংলাপে বলে দেন, বর্ণনার আশ্রয় না নিয়ে; তাহলে হতাশ হতে হয়। শুরুর দিকে যেভাবে সাসপেন্স তৈরি হচ্ছিল, এখানে এসে সেটা হাওয়া। তবে এটা ঠিক শেষ টুইস্ট আগে থেকে অনুমান করা যায়নি।

এই গল্পে একজন পাগল ছিল। অবশ্য এই পাগলের পরিচয় আগেই বুঝে গিয়েছিলাম। লেখক যেভাবে পাগলের পরিচয় দিয়েছেন, সেটা তিনি হয়তো একটি বিশ্বাসযোগ্য করতে চেয়েছিলেন। সেই চাওয়ার সাথে ব্যাখ্যার মিল পাইনি। বরং অতিরঞ্জিত, হাস্যকর আর কিছু অযৌক্তিক ঘটনার অবতারণা করেছেন। তাছাড়া সেই পাগল ঘটনাচক্রে সেখানে উপস্থিত। ভিন্ন এক দায়িত্ব তার কাঁধে, সে দায়িত্বের কথা বলা হয়নি। ব্যাকস্টোরি বেশ দুর্বল এখানে।

আরেকটা বিষয় খটকা আছে। ময়না দেখেছে তার বাবা উড়ে গিয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছে। এই ঘটনার যৌক্তিকতা কী? ভ্রম? না-কি বাস্তব? ব্যাখ্যা করা হয়নি। যেন এক রহস্যময় আবহ তৈরির জন্য এই ঘটনা, যার যৌক্তিকতা নেই।

বইয়ের শেষটা মনে করিয়ে দেয়, সব রহস্যের সমাধান হয় না। রহস্য, অপরাধ এক চলমান প্রক্রিয়া। এক জায়গায় শেষ হলে, অন্য কথায় নতুন রূপে আবির্ভূত হয়।

▪️বই : আঁধারের জানালাটা খোলা
▪️লেখক : সুস্ময় সুমন
▪️প্রকাশনী : প্রিমিয়াম পাবলিকেশন
▪️প্রকাশ সাল : নভেম্বর ২০২৪
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ২.৫/৫
Profile Image for Kawsar Mollah.
141 reviews7 followers
July 4, 2021
মোটামুটি লেগেছে। তবে লেখকের যে ভালো করার প্রতিভা রয়েছে সেটা বইটা পড়ে ই বুঝতে পেরেছি।

প্রতিটা অধ্যায়ের শেষ থ্রিলিং ছিল, যা পরের অধ্যায় শুরু করতে আপনাকে বাধ্য করবে। এক বসায় শেষ করার মত বই।

আশা করি লেখকের কাছ থেকে সামনে আর ও ভাল ভাল বই পাবো।

হ্যাপি রিডিং :)
Profile Image for Musharrat Zahin.
423 reviews506 followers
January 25, 2021
ছোট্ট একটা মার্ডার মিস্ট্রি, এক ঘন্টার মধ্যেই পড়ে ফেলা সম্ভব৷ লেখকের লেখনী সুন্দর, একদম চর্বিহীন লেখা। তবে প্লটের গাঁথুনি নিয়ে আরেকটু কাজ করলে ভালো হতো৷ গল্পের টুইস্টটাও ভালো ছিল। তবে একদম শেষ পৃষ্ঠা পড়ে মনের ভেতর একটু খচখচানি রয়ে গেছে৷
Profile Image for Khandaker Sanidulla Sanid.
44 reviews6 followers
September 21, 2022
লেখা একটু গোছানো সেজন্যই শেষ করতে পেরেছিলাম কিন্তু প্লটটা একটু সাউথ ইন্ডিয়ান ফিল্ম স্টাইলের লেগেছে।
শেষ করার পর মনে হয়েছে একটু পরিচিত গল্প সেজন্য ২ এর বেশি দিতে পারলাম না।
Profile Image for শালেকুল পলাশ.
274 reviews34 followers
April 6, 2018
সীমান্তবর্তী গ্রাম নোয়াপাড়া। চোরাচালানীদের আবাস স্থল বলা যায়। ভারত থেকে শাড়ি, ফেনসিডিল পাচার হয়ে আসে দেশে। তাই চোর বাটপারদের আনা গনা লেগেই থাকে এখানে। এমনই গ্রামে বাস করে ময়না তার মায়ের সাথে। বাবা তার পেশাদার চোর। তাই বেশীর ভাগ সময়েই বাসায় থাকে না। বাবা যে চোর এই নিয়ে কম কথা শুনতে হয় না তার। মানুষ তাকে চোরের বাচ্চা বলে গালি দেয়। জবাবে কিছুই বলে না ময়না যাস্ট মাথার ভিতরের পোকার সাথে কথা বলে সে। সব অভিযোগ করে তাকে। আর তার সাথে পরামর্শ করে কি ভাবে খুন করতে হবে মানুষগুলোকে। এরই মাঝে লাল মিয়াঁ (ময়নার খেলার সাথি) হারিয়ে যায়। ময়নার মা ময়নার দিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকায়। এরপর পরই গ্রামে একের পর এক মানুষ খুন হতে থাকে। কে করে খুন গুলো? খুনের মোটিভই বা কি?

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ ৯৬ পেজের গল্প। তাও আবার বড় সাইজের অক্ষরে লেখা। এর চেয়ে বেশী বলতে গেলে সব বলা হয়ে যাবে নভেলার। অনেকটা দুইজন আড্ডা দিচ্ছে স্টলে আপনে পাশ থেকে শুনছেন চা খেতে খেতে তার গল্প। চা খাওয়াও শেষ গল্পও শেষ এমন কিছিমের বই এটা।
Profile Image for Subhasree Das.
25 reviews14 followers
September 5, 2018
একটা বাচ্চা ছেলে, ময়না। ভাগ্যের ফেরে তার বাবা চুরি করে সংসার চালায়। তার সুন্দরী মায়ের দিকে নজর দেয় গ্রামের পাঁচটা শয়তান পুরুষ। ময়নাকেও কেউ পছন্দ করে না। সারাদিন গালিগালাচ, বাবার নামে খারাপ কথা শুনতে শুনতে ময়না প্ল্যান আঁটতে থাকে। কিসের প্ল্যান? খুনের। সে নিজে খুন করে কি? না তো? তাহলে এত খুন হয় কি করে? আর, ময়নার মাথার ভেতরের পোকাটা....?? ওটা আসলে কি??
ময়না ঝিমিয়ে যাচ্ছে। কেমন হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। ভাবনা হয়। কুলসুমের খুব ভাবনা হয়। এমন নোংরা দুনিয়াতে কি করে বাঁচবে তার ছেলেটা? কি করে..??

ছোট্ট একটা মার্ডার মিস্ট্রি। মাত্র ৯৪ পৃষ্ঠা। ভালো লেগেছে পড়তে। বিশেষত ক্যারেক্টারগুলোকে খুব সুন্দর ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সংলাপগুলি বাংলাদেশের গ্রাম্য ভাষায় লেখা বলে অনেকের ভালো নাও লাগতে পারে, তবে আমি ওই ভাষার সাহায্যেই চরিত্রদের আউটলাইন তৈরি করেছি নিজের মনে। গল্পটা মার্ডার মিস্ট্রি হলেও একটা দুটো পয়েন্টে বেশ ধোঁয়াশা আছে, হালকা হররের টাচ দিয়েছেন লেখক এবং তা উপভোগ্য। উক্ত পয়েন্টগুলো ছোটগল্পের 'শেষ হয়ে হইলো না শেষের' মতন পাঠককে একটা দোলাচলে রেখে যায়, পাঠককে নিজের মতন করে ভাবতে হয়। কম সময়ে চটজলদি কোন রহস্যে ভরা বই পড়তে চাইলে জোগাড় করে ফেলুন। কলকাতার পাঠকরা অরণ্যমন আর অভিযানে অর্ডার করলেই পেয়ে যাবেন।
Profile Image for Jenia Juthi .
258 reviews68 followers
August 22, 2020
চৌদ্দ বছরের ময়না কেমন যেন অস্বাভাবিক রকমের পাকা হয়ে উঠেছে। বড়দের মতো তীক্ষ্ণদৃষ্টি, প্রতিশোধপরায়ণ আচরণ। সারাক্ষণ মাথার ভেতর গিজগিজ করছে শয়তানি বুদ্ধি। একদিন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে উধাও হয়ে যায় ময়নার ঘনিষ্ঠ বন্ধু লালমিয়া।কোথায় গেলো সে?কে ওকে উধাও করলো?
ময়নার মা সারাক্ষণ ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলেও নির্লিপ্ত অভিব্যক্তিতে কোনো সদুত্তর খুঁজে পায় না।কিন্তু মা জানে,তার ছেলের মাথায় সারাক্ষণ একটা পোকা খোঁচাচ্ছেঃ খুন কর,ময়না!খুন কর!
ছেলেকে নিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে সে।এরই মাঝে হঠাৎ এলাকায় শুরু হয়ে একের পর এক খুন। প্রেক্ষাপটে হাজির হয় ক্ষ্যাপাটে এক পাগল,রহস্যময় কিছু চরিত্র এবং রাতের অন্ধকারে নিঃশব্দে হেঁটেচলা বেড়ানো রক্তপিশাচ!
আঁধারের জানালাটা খোলা একটি শ্বাসরুদ্ধকর মার্ডার মিস্ট্রি নভেলা।

পাঠ প্রতিক্রিয়া~
এই লেখকের কোনো বই আগে পড়ি নি, এটাই প্রথম।আঞ্চলিক ভাষায় লেখা বইটি,তাই একটু অসুবিধা হচ্ছিলো পড়তে।তবে মজাই লাগছিলো,কারণ আমার বিভিন্ন জায়গার ভাষা শিখাতে ইচ্ছে করে।বইটার বিভিন্ন জায়গায় একটু গড়মিল করে ফেলছে লেখক।যেমন- পাগল যে ছিলো সে হচ্ছে গোয়েন্দা,পাগল সাজলেই গোসল না করে থাকতে হবে এমনটা তো না ._. আবার টুপ করে পুকুরে নেমে পড়ছিলো এইসব আর কী।আর যেখানে ময়না মা এই খুনী, সেখানে তার চিন্তার বিষয়টা অযৌক্তিক (যদিও মেন্টালি প্রবলেম)
Profile Image for Masum Billah.
188 reviews3 followers
September 4, 2021
এক কথায় বলতে হয় চমৎকার একটা রহস্য উপন্যাসিকা।

কেন্দ্রীয় চরিত্র ময়না আর তার মা কুলসুম বানু। ময়নার বাবা হারুন মিয়া পেশায় চোর। তাই ময়নাকে সারাক্ষণ লোকের গালমন্দ শুনতে হয়ে। ফলে ময়না মানুষিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। যারা তাকে গালি দেয় বা অপমান করে মনেমনে তাদের খুন করার প্ল্যান করতে থাকে। এবং এক সময় মানুষগুলো খুন হতে থাকে। প্রথমে ময়নার বন্ধু লালমিয়া, যে সারাক্ষণ তাকে চোরের বাচ্চা বলে গালি দিতো। এরপরে সালাম দোকানদার, সেও ময়নাকে গালাগালি দিতো আর কুলসুম বানুকে নিজের করে পেতে চাইতো। জামশেদ মিয়া, যে ময়নাকে ঘড়ি চুরির মিথ্যা অপবাদে বেদম প্রহার করে। ময়নার আরেক বন্ধু পল্টু, যার কারনে ময়নাকে বেদম মার খেতে হয়েছে। কিন্তু এতোগুলো খুন কি ময়নার মতো ১৪ বছরের হতাশাগ্রস্থ কিশোরের পক্ষে করা সম্ভব?

শেষের টুইস্টা যথেষ্ট ভালো ছিলো। বাট কাহিনীটা হুট করে শেষ করা হয়েছে। ময়নার মা কুলসুম বানুর পূর্ব পরিচয় খোলাসা করতে লেখক ভুলে গেছেন।
Profile Image for Madhurima Nayek.
361 reviews134 followers
March 11, 2020
🌠৩.৫ স্টার।

খুন দুই ভাবে হয় - রাগ ও উত্তেজনার বশে আর প্ল্যান কষে। এখানে প্ল্যান করে পরপর ৩টি খুন করা হয়। গ্রামে একের পর এক খুন হতে থাকলে পুলিশ তদন্তে নামে।যদিও প্রথম থেকে দেখা যায় যে খুন করছে বলা হয়,আসলে সে করেনি। শেষপর্যন্ত ক্ল্যাইম্যাক্সে গিয়ে দেখি অন্য এক চমক অপেক্ষা করছে।

এটা একটা সাইকো থ্রিলার।
প্রথমেই বলতে চাই ডিবি অফিসার সিরাজউদ্দীন খাস্তগীর কিন্তু বেশ অ্যাক্টিং করেছে পাগলের। তবে একটা খটকা রয়ে গেলো ময়নার বাবা হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো কিভাবে? সে কি তাহলে মানুষ না ? তবে অনেক টা মুখে মুখে গল্পটা হয়ে গিয়েছে,সেটা দেখলে বেশি ভালো হত।
শুরুটা মন না টানলেও গল্পটা একটু এগোলেই বেশ লাগতে শুরু করবে। সর্বোপরি বলা যায় খারাপ লাগবে না গল্পটা। একেবারে ছোটা প্যাকেজ বাড়া ধামাকা।
Profile Image for Jayed Malik.
8 reviews
January 24, 2023
একদমই ছোট একটি গল্প। প্লটটা খানিক ব্যতিক্রম লেগেছে এবং শেষের টুইস্ট টা যথেষ্টই সুন্দর এবং অনেকের কাছে হয়ত চিন্তার বাইরে বলে মনে হতে পারে। তবে এই গল্পটাকে স্টার্টিং ধরে আরো বড় কাহিনি আনতে পারলে মনে হয় মনের খায়েশ মিটত।
তবে কিছু জায়গায় লেখক অস্পষ্ট করে রেখেছে যেটা গল্পটিকে নেগেটিভ মার্কিংএ ফেলে দিয়েছে। গড়পড়তা পড়ে দেখতে পারেন। ভাল লাগতে পারে।
Profile Image for Tiash ..
315 reviews113 followers
March 27, 2024
Painfully flat narrative approach; it failed to captivate or evoke the intended resonance.
Profile Image for Abu Raihan.
1 review1 follower
January 2, 2025
সহজ কথা হলো পারলে নেগেটিভ রেটিং দিতাম। বাতিঘর এমন বই প্রকাশ করেছিলো কিভাবে বুঝে আসে না।
Profile Image for Kazi Asif.
41 reviews1 follower
April 13, 2017
বইয়ের নামঃ আঁধারের জানালাটা খোলা
বইয়ের ধরণঃ থ্রিলার নভেলা/রোমাঞ্চপন্যাসিকা
বইয়ের লেখকঃ সুস্ময় সুমন
প্রচ্ছদঃ সিরাজুল ইসলাম নিউটন
প্রকাশকালঃ অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭
প্রকাশনীঃ বাতিঘর প্রকাশনী
পৃষ্ঠাঃ ৯৫
মূদ্রিত মূল্যঃ ১১০ টাকা

লেখক পরিচিতিঃ লেখকের নাম সুস্ময় সুমন। মূল জন্মস্থান খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা জেলায় হলেও বাবার ব্যবসার খাতিরে জীবনের দীর্ঘসময় কাটিয়েছেন চট্টগ্রামে। বেড়ে ওঠা সেখানেই। কলকাতা থেকে স্নাতকোত্তর হবার পর বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন তিনি। এখন টেলিভিশনের নাটক বানান। লেখক হিসেবে সুস্ময় সুমন খুব নতুন না হলেও একেবারে পুরাতন নন। বিগত কিছু বছরে তাঁর রচিত বেশ কিছু বই বেরিয়েছে বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে। বাতিঘর প্রকাশনী থেকেও এর আগে তাঁর বই বের হয়েছে। তবে সেটা সেই ২০১০ সালের কথা।মূলত থ্রিলার গল্প বেশি লিখলেও লেখকের কয়েকটি “সমকালীন উপন্যাস”ও আছে।

উপন্যাসের মূল চরিত্র’রাঃ
১. ময়না- ১৪ বছর বয়সী ছেলে। গল্পের প্রধান চরিত্র।
২. লালমিয়া- ময়নার বন্ধু। গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার তার কথা এসেছে।
৩. পল্টু- ময়নার আরেক বন্ধু।
৪. কুলসুম বানু- ময়নার মা। যথেষ্ট রুপবতি।
৫. হারুন মিয়া- ময়নার বাপ। পেশায় চোর। কিন্তু ভালো হয়ে যেতে চায়।
এছাড়া অন্যান্য চরিত্রদের মধ্যে আছে, সালাম দোকানদার, এক পাগল, ওসি রাজ্জাক তালুকদার, জামসেদ ও ডিবি অফিসার সিরাজউদ্দিন খাস্তগির ।

সার-সংক্ষেপঃ
চোদ্দ বছরের ময়না কেমন যেন অস্বাভাবিক রকমের পাকা হয়ে উঠেছে। বড়দের মতো তীক্ষদৃষ্টি, প্রতিশোধপরায়ণ আচরণ। সারাক্ষণ মাথার ভেতর গিজগিজ করছে শয়তানি বুদ্ধি...একদিন সীমান্তবর্তি এলাকা নোয়াপাড়া থেকে উধাও হয়ে যায় ময়নার জিগরি-দোস্ত লালমিয়া। কোথায় গেল সে? কে ওকে উধাও করলো?
ময়নার মা সারাক্ষণ ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে, কিন্তু ময়নার নির্লিপ্ত অভিব্যক্তিতে কোনো সদুত্তর খুঁজে পায় না। কিন্তু মা জানে ময়নার মাথায় সারাক্ষণ একটা পোকা ওকে খোঁচাচ্ছে : খুন কর, ময়না! খুন কর! ছেলেকে নিয়ে তাই কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে সে। এরই মাঝে হঠাৎ নোয়াপাড়া অঞ্চলে শুরু হয় একের পর এক খুন। প্রেক্ষাপটে হাজির হয় ক্ষ্যাপাটে এক পাগল, রহস্যময় কিছু চরিত্র এবং রাতের অন্ধকারে নিঃশব্দে হেঁটেচলে বেড়ানো রক্তপিশাচ!

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
আঁধারের জানালাটা খোলা বইটি মূলত একটি সাইকো থ্রিলার। তবে লেখক কিছুটা হরর আমেজ আনার চেষ্টা করেছেন যা প্রশংসনীয়।
গল্পের ভেতর রহস্য ব্যাপারটা ছিল খুব। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত গল্পের মূল রহস্যটা বেশ ভালোভাবেই টেনে নিয়ে গেছেন লেখক।
ছোট পরিসরের লেখা। মাত্র ৯৫ পৃষ্ঠা। ১ ঘন্টার কেস। কিন্তু খুব দূর্দান্ত ব্যাপকতা ছিল গল্পে।
লেখক গল্পে একটা প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। আর সেক্ষেত্রে তিনি বেশ ভালোই সফল। খুব চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন গ্রামের পরিবেশের। সেই সাথে ভাষা ব্যবহারেও ছিল দক্ষতা। লেখক বইয়ের চরিত্রদের দিয়ে দক্ষিনবঙ্গের ভাষায় সংলাপ বলিয়েছেন যা বেশ সুন্দর ও সাবলীল ছিল। সেই সাথে বোধগম্যও!
আগেই বলেছি, লেখক নাট্যজগতের লোক। তাই উপন্যাসে সংলাপ বেশি ছিল তাছাড়া পরিস্থিতি দৃশ্যায়ন ও বর্ণনার ভেতরেও ছিল স্পষ্টতা ও বাস্তবতা। তাছাড়া নাটকের মত গল্পের এক অ���্যায় থেকে আরেক অধ্যায়ে যাওয়ার সময় মনে হয় যেন পুরো মুডই পালটে ফেলা হয়েছে। গল্পের গতি যেন নতুন করে স্টার্ট নেয়।
তবে এত ভালোর মধ্যেও একটা ব্যাপার খারাপ লেগেছে... আর সেটি হল ক্লাইম্যাক্স! লেখক গল্পের শেষে পাঠককে চমক দিয়েছেন ঠিকই। কিন্তু সেটা মুখে মুখে!
মানে বোঝেন নি তো? নাটকে অনেক সময় গল্পের চমক দেওয়ার সময় হলে বাজেটের অভাবে নাটকের কোন এক সহযোগী চরিত্রকে দিয়ে চমকটা অভিনয় করে না দেখিয়ে সংলাপের মাধ্যমে দর্শককে শোনানো বা জানানো হয়। আলোচ্য গল্পেও লেখক এই “বাজেট এডজাস্টমেন্ট”টা করেছেন। গল্পের মূল চমকটি না দেখিয়ে সংলাপের মাধ্যমে জানিয়েছেন। যেটা পাঠকমনে কিছুটা খচখচানির কারণ হতে পারে।
তবে সর্বপরি, বইটা ভালো। কেউ যদি গল্পের অর্ধেকে এসে মনে করেন সব বোঝা যাচ্ছে, তাহলে ভুল করবেন। গল্পটা সম্পূর্ণ শেষ করুন। কথা দিচ্ছি, ধাক্কা না খেয়ে পারবেন না।
ও হ্যাঁ! বইটির প্রচ্ছদটিও বেশ ভালো লেগেছে আমার। তাছাড়া বইয়ের ছাপা, বাইন্ডিং ও কাগজের মান বরাবরের মতই সুন্দর!
ধন্যবাদ!
হ্যাপি রিডিং!

রেটিংঃ ৪/৫
Profile Image for রিয়াদ ফাহমি.
10 reviews3 followers
March 3, 2017
"পাঠ প্রতিক্রিয়া"
"আঁধারের জানালাটা খোলা - সুস্ময় সুমন"
কাহিনী সংক্ষেপ -
চোদ্দ বছরের ময়না কেমন যেন অস্বাভাবিক রকমের পাকা হয়ে উঠেছে। বড়দের মতো তীক্ষদৃষ্টি, প্রতিশোধপরায়ণ আচরণ। সারাক্ষণ মাথার ভেতর গিজগিজ করছে শয়তানি বুদ্ধি...একদিন সীমান্তবর্তি এলাকা নোয়াপাড়া থেকে উধাও হয়ে যায় ময়নার জিগরি-দোস্ত লালমিয়া। কোথায় গেল সে? কে ওকে উধাও করলো?
ময়নার মা সারাক্ষণ ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে, কিন্তু ময়নার নির্লিপ্ত অভিব্যক্তিতে কোনো সদুত্তর খুঁজে পায় না। কিন্তু মা জানে ময়নার মাথায় সারাক্ষণ একটা পোকা ওকে খোঁচাচ্ছে : খুন কর, ময়না! খুন কর! ছেলেকে নিয়ে তাই কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে সে। এরই মাঝে হঠাৎ নোয়াপাড়া অঞ্চলে শুরু হয় একের পর এক খুন। প্রেক্ষাপটে হাজির হয় ক্ষ্যাপাটে এক পাগল, রহস্যময় কিছু চরিত্র এবং রাতের অন্ধকারে নিঃশব্দে হেঁটেচলে বেড়ানো রক্তপিশাচ!
আঁধারের জানালাটা খোলা একটি শ্বাসরুদ্ধকর মার্ডার মিস্ট্রি নভেলা।
###
"ছোট মরিচের ঝাল বেশী" কথাটা মনে হয় এই বইটার ক্ষেত্রে খাটে ! রাতে ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে চিন্তা করছিলাম বাতিঘরের কোন বইটা দিয়ে এবারের মেলা শুরু করা যায়, সাইজের দিকে তাকিয়েই "আঁধারের জানালাটা খোলা" হাতে তুলে নেয়া। কে জানতো মরিচের মতন ঝালে ঘুম উড়ে যাবে !!!
গ্রাম হিসেবে "নোয়াপাড়া" কে ছোটখাটোই বলা যায়, তাঁর উপর সীমান্তবর্তী অঞ্চল, যেখানে শুধু ডাইলের ব্যবসা হয় ! এ গ্রামেই বেড়ে ওঠা আমাদের ময়নার।
চোর খেতাব পাওয়া বাবা আর মমতাময়ী মা কে নিয়ে তাঁর সংসার , সেই সংসারে আবার দুই কৌটা ভরতি মার্বেল ও আছে (ময়নার ভাষায় "গুটি")
আমাদের গল্প শুরু হয় , ময়নার প্রাণের বন্ধু লালমিয়ার উধাও হয়ে যাওয়া দিয়ে।
রিকশাওয়ালা বাপের ছেলে লালমিয়ার উধাও হয়ে যাওয়া নিয়ে পুলিশ ও তাই কোনো উচ্চবাচ্য করে না ।
এলাকার মানুষের কথা অনুযায়ী লালমিয়া কে "ছেইলি ধরা" ধরি নিয়ে গেছে।
কেউ না জানলেও, ময়না কিন্তু লালমিয়ার খবর ঠিকই জানে!
কি জানে সে , কিভাবে জানে ???
আমাদের ময়না সব সহ্য করতে পারলেও ,অপমান কিন্তু একদম সহ্য করতে পারে না। এতোটুকুন ছেলেটার ই বা কি দোষ, তাঁর বাবা চুরি করে এটা কি তাঁর অপরাধ বলেন ?
গল্পে আরো আছে ইঁচড়ে পাকা "পল্টু" , যার কাজই হচ্ছে পাশের বাড়ির ফুফুর ঘরের , টিনের চালের ফুটো দিয়ে ফুফা-ফুফুর কুস্তি দেখা।
আছে, কুলসুম বানু, চোর স্বামী আর বেয়াড়া সন্তান ময়নাকে নিয়ে যার সব দুশ্চিন্তা।
আছে, সালাম দোকানদার !!!
কুলসুমের রুপ-যৌবনে ভাগ বসানোর চিন্তায় যে অস্থির !!!
আছে, চোর হারুন মিয়া, যে সবকিছু ছেড়েছুরে ভালো হয়ে যেতে চায়।
ছেঁড়া কম্বল গায়ে দেয়া এক বোবা পাগল ও আছে আমাদের গল্পে, যে কিনা মাথার চুলের উকুন বের করে মুখে পুরে নেয়।
আরও আছে, হামিদ আলীর পুকুরপাড়,মুকুল, ইদ্রিস আলীর বাগান,ছমিরন বুড়ি ওসি রাজ্জাক তালুকদার, বিল্লাল এর চা, হালিমা ফুফু, ঘরজামাই জামশেদ মিয়া ।
সারপ্রাইজ প্যাকেজ হিসেবে আছে ডিবির অফিসার সিরাজউদ্দিন খাস্তগীর এবং ইন্সপেক্টর মাস্রুরু আরেফীন।
আমাদের গল্পে একের পর এক খুন হতে থাকে, একের পর এক লাশ পাওয়া যাওয়া শুরু হয় এখানে সেখানে। কি শুরু হলো এসব , ময়না কি জানে এসবের ব্যাপারে কিংবা ওর মাথার ভেতরে থাকা পোকাটা কিছু জানে ?
সব প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে সুস্ময় সুমন এর মার্ডার মিস্ট্রি নভেলা "আঁধারের জানালাটা খোলা" তে ।
শুরুতেই বলেছিলাম ছোট মরিচের ঝাল বেশী কথাটা, এই বইটাও তাঁর নিজের ঝালের গুনে আপনাকে বসিয়ে রাখবে একটানা।
সুস্ময় সুমনের লেখনীর ধাঁচ টা খুবই ভালো লেগেছে , সেই সাথে আঞ্চলিক ভাষার ব্যাবহার টা অনেক ভালো ছিলো।
এটাই তাঁর প্রথম গ্রন্থ কিনা সে ব্যাপারে আমি খানিকটা কনফিউজ্ড, যাইহোক পাঠক হিসেবে তাঁর এই নভেলাটি আসলেই অনেক ভালো লেগে গিয়েছে।
সেইসাথে বাতিঘর পরিবারে লেখককে স্বাগতম। তাঁর পরবর্তী কাজের অপেক্ষায় থাকবো।
শুভকামনা রইলো বাতিঘর পরিবারের প্রতি !!!
এক নজরে-
বইঃ আঁধারের জানালাটা খোলা
লেখকঃ সুস্ময় সুমন
প্রকাশনীঃ বাতিঘর প্রকাশনী
প্রচ্ছদ- সিরাজুল ইসলাম নিউটন
পৃষ্ঠাঃ ৯৬
মুল্যঃ ১১০ টাকা
Profile Image for Abdullah Wasib.
33 reviews1 follower
April 13, 2022
বই - আঁধারের জানালাটা খোলা
লেখক - সুস্ময় সুমন

নোয়াপাড়া, সীমান্তবর্তী একটা গ্রাম। গ্রামে তেমন মানুষ নাই বললেই চলে৷ সীমান্তবর্তী হওয়ায় ভারতীয় শাড়ি ও ফেনসিডেলের রমরমা ব্যবসা চলে। চৌদ্দ বছরের ময়না তার মা'কে নিয়ে এই গ্রামেই থাকে। ময়নার বাবা চোর হওয়ায় বেশির ভাগ সময় থাকে অন্য গ্রামে। ময়নার বাবা চোর হওয়ায় গ্রামবাসীর কাছে তাকে সব সময় ছোট হতে হয়, শুনতে হয় নানান রকম কথা। তার বন্ধু লালমিয়া সব সময় তার বাবা নিয়ে কথা শুনায়। দোকানদার সালামও কম যায় না, ময়নাকে গালি দেয় এমন কি ময়নার মা কুলসুমের সাথে ভাব করতে চায়। কিন্তু ময়নাকে কেউ গালি দিলে, অপমান করলে ময়না সেটা মেনে নিতে পারে না। তার মাথার ভেতর তখন খুনের নেশা ঘুরে আর সেটাতে সাহায্য করে তার পোকা বন্ধু। একদিন হঠাৎ করে উধাও হয়ে যায় লালমিয়া। তারপর থেকে পল্টু হয়ে যায় ময়নার ভালো বন্ধু, পল্টুর ধারণা লালমিয়াকে ছেলে ধরা নিয়ে গেছে। কিন্তু তার ধারণা মিথ্যে করে দিয়ে পুকুর থেকে লালমিয়ার লাশ পাওয়া। গ্রামের মানুষের বলাবলি করে যে ছেলেটা সাঁতার জানতো না তাই পানিতে পড়ে মারা গেছে। একে একে সালাম দোকানদার, পল্টু ও জমশেদ মিয়া খুন হয় যায়৷ এসব নিয়ে গ্রামে ভয়ের সৃষ্টি হয়, টনক নড়ে অসি থাহেবের।

এই লেখকের পড়া ৩য় বই এটি৷ বইটির ভাষা সহজ এবং রহস্যময় কাহিনী বেশ সুন্দর। প্রথম থেকে সব একদম সব ঠিকঠাক ছিল কিন্তু শেষে গিয়ে যে লেখক গল্পের মোড় ঘুরায় দিবেন সেটা জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না! তবে পাগলের ভূমিকা অন্য রকম হতে পারতো, উঁকুন না খেলেও চলতো। দুইটা ভুল বানান চোখে পড়েছে৷ সব কিছু মিলায় আমার কাছে ভালোই লেগেছে, শেষ দিকে এসে বেশ চমকে গেছি!😳
Profile Image for Mahatab Rashid.
107 reviews120 followers
February 10, 2017
A good quick read. Story build up could've been better I guess. As a psycho thriller, I hoped to get some more violences. Atleast the murder parts could've been been elaborated.
Really loved the ending twist. These type of books reminds me why I love thrillers so much.

3.5 out of 5.
Profile Image for রি য়ে ন.
170 reviews25 followers
October 1, 2018
আঁধারের_জানালাটা_খোলা নামের সাথে গল্পের মিল পাইনি। বই এর পিছনে লেখা রিভিউর সাথেও গল্পের কিছু অংশ মিল পাইনি। কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে। পিচাশ ছিল নাকি ওটা? কেন ছিল? এরপর কি হলো? পাগলটা কেন এসেছিল? গল্পের নয়ক ১৪ বছরের ছেলে ময়না। তার মাথায় একটা পোকা আছে। সে কারো উপর রেগে গেলে পোকাটা বলে খুন কর, খুন কর। তার গ্রামে একের পর এক খুন হতেও থাকল। কে করছে এই খুন গুলো? ছোট ছোট অধ্যায় নিয়ে গল্পটা প্রচণ্ড গতিতে চলছিল। কিন্তু ২৩ অধ্যায় পর ছ্যাড়াব্যাড়া হয়ে গেছে। ২৩ অধ্যায়টা কথোপকথন দিয়ে ফাটিয়ে দিছে। স্টার জলসার নাটকেও এত ডায়লগ এক সাথে থাকে না। ব্যাপরটা খুব বিরক্তিকর। গল্প শুরুটা বেশ ভালো ছিল। শেষটা ভালো লাগেনি। যদিও শেষে একটা টুইস্ট ছিল। টুইস্ট বলা ঠিক হবে কিনা বুঝতে পারছি না কারণ প্রথম থেকেই হালকা সন্দেহ হচ্ছিলো এমন হতে পারে। লেখক চাইলে গল্পটা আরো সুন্দর করতে পারতো। মনে হয় বেশি তাড়াহুড়া করে শেষ করছে বইটা।
Profile Image for আহসানুল শোভন.
Author 39 books91 followers
January 23, 2019
ছোট্ট বই। লিখনশৈলী ঝরঝরে হওয়ায় পড়তে খুব একটা সময় লাগেনি। তবে গল্পে নাটকের আবহ কাজ করছিল। হয়ত ইদানীংকার গ্রামীণ নাটকগুলোতে ব্যবহৃত ভাষা বইয়ে ব্যবহার করায় এমনটা লেগেছে। যাই হোক, বাঘে ছুঁলে আঠার ঘা আর পুলিশে ছুঁলে ছত্রিশ!
Profile Image for Khandaker Sanidulla Sanid.
47 reviews23 followers
April 11, 2019
বই এর সাইজ হিসেবে কাহিনী মোটামুটি। এক পর্যায়ে গিয়ে বুঝলাম সাইকো থ্রিলার তবে ছোটখাটো টুইস্ট টা আন্দাজ করতে পারিনি প্রথমে। আর সেজন্যই ৩/৫ দেয়া।
তবে বইটার নাম আঁধারের জানালাটা খোলা কেন রাখা হলো বুঝতে পারিনি ☺
Profile Image for Rudra Kaiser.
Author 24 books38 followers
October 25, 2017
চমৎকার লেখনি। ছোট্ট পরিসরে হলেও বেশ মুগ্ধকর। গল্প বলার ধরণটাও বেশ ভালো। বইয়ের সাসাথে কাটান পুরোটা সময় বেশ চমৎকার কেটেছে।
Profile Image for Hasnaeen Rahman.
19 reviews
April 19, 2017
The story was good, not great though. The end twist was nice.

The book could be much detailed and longer, seems like the author rushed to its ending.

However, I am very very impressed with the mature writing style. Looking forward to reading more of him.

Displaying 1 - 28 of 28 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.