পার্ল রহস্য এক ভিন্ন ধারার রহস্য উপন্যাস। প্রথাগত গোয়েন্দা গল্পের বাইরে এসে রবিশংকর বলের এ এক অসামান্য সৃষ্টি। উপন্যাসের মূল চরিত্র র্যাবস দত্ত রূপা সরখেল নামের এক মহিলার ওপর নজরদারির বরাত পায়। রূপা আসলে সেই নারী যে কিছু লোভী পুরুষের দ্বারা চালিত একটি এসকর্ট সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত। গল্পের বুনোট গাড় হতে হতে হঠাৎ করে রূপা খুন হয়ে যায়। র্যাবস দত্ত খুনের কিনারাও করে ফেলে, খুনি তারই এক পুরনো প্রেমিক। এতদিনে র্যাবস দত্ত একটা ব্যথা অনুভব করে, রুপা সরখেল কখন যেন তার বুকের ভিতর ছড়িয়ে দিয়েছে পার্লের দ্যুতি।
রবিশংকর বল পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতনামা কথাসাহিত্যিক। জন্ম ১৯৬২ সালে। বিজ্ঞানে স্নাতক। ২০১১ সালে দোজখনামা উপন্যাসের জন্য বঙ্কিম স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছেন।
গল্পগ্রন্থ দারুনিরঞ্জন রবিশঙ্কর বল এর গল্প আর্তোর শেষ অভিনয় জীবন অন্যত্র ওই মণিময় তার কাহিনী সেরা ৫০ টি গল্প
উপন্যাস নীল দরজা লাল ঘর পোখরান ৯৮ স্মৃতি ও স্বপ্নের বন্দর পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন মিস্টার ফ্যান্টম বাসস্টপে একদিন মিলনের শ্বাসরোধী কথা নষ্টভ্রষ্ট এখানে তুষার ঝরে দোজখনামা আয়নাজীবন আঙুরবাগানে খুন জিরো আওয়ার
কবিতা ত্রস্ত নীলিমা ঊনপঞ্চাশ বায়ু
প্রবন্ধ সংলাপের মধ্যবর্তী এই নীরবতা কুষ্ঠরোগীদের গুহায় সংগীত মুখ আর মুখোশ জীবনানন্দ ও অন্যান্য
সম্পাদিত গ্রন্থ সাদাত হোসেইন মন্টো রচনাসংগ্রহ
জাহিদ সোহাগ : মানে আমি বলছি এই কারণে যে, আমাদের বাংলাদেশে রবিশংকর বলকে চেনা হচ্ছে দোজখনামা দিয়ে। এটাকে আপনি কীভাবে দেখবেন? মানে এখানেও একটা ট্যাগ আছে। রবিশংকর বল : এটা বলা কঠিন, তবু যদি বলো তবে আমি বলব, আমার "মধ্যরাত্রির জীবনী" উপন্যাসটা পড়া উচিত, "বাসস্টপে একদিন" উপন্যাসটা পড়া উচিত, "এখানে তুষার ঝরে" উপন্যাসটা পড়া উচিত। "স্মৃতি ও স্বপ্নের বন্দর", "ছায়াপুতুলের খেলা" অবশ্যই। এই কটা লেখা অন্তত। আর "পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন" এই লেখাটা।
"আমরা যাইনি মরে আজও - তবু কেবলই দৃশ্যের জন্ম হয়" কী ভাবছেন? আলোচ্য রহস্য উপন্যাসটির (অট্টহাস্য!) কাব্যময়তা আমাকে জীবনানন্দ পাঠের সঙ্গে তুলনীয় কিছু অনুভূতি উপহার দিয়েছে? বইটি পড়ার পর কি মৃত্যুচেতনার নীলচে কালো রং আমার ক্লিষ্ট মনে কার্তিকের জ্যোৎস্নায় মহীনের ঘোড়াগুলোর ঘাস খাওয়া বা কোনো কিমাকার ডাইনামোর ছবিই ফুটিয়ে তুলছে? আজ্ঞে না। বইটা পড়ে আমার যা মনে হল, তা অনেকটা ওই লাইনের কাছাকাছি: "আমরা যাইনি মরে আজও - তাই শুধু গালির জন্ম হয়"! একটা সো-কলড রহস্য উপন্যাস কতটা খারাপ হতে পারে, তার একটা স্ট্যান্ডার্ড বলা যায় এই লেখাটিকে। চল্লিশোর্ধ্ব একটি ক্যুরিয়ার এজেন্ট ঘোড়া রোগে (আবার জীবনানন্দ!) আক্রান্ত হল, মানে তার হঠাৎ ডিটেকটিভ হওয়ার বাসনা জাগল। প্রায় হাতের কাছে সুলভ শৌচালয় পাওয়ার মতো করে গোয়েন্দাগিরি করার সুযোগও তার কাছে এসে গেল। তারপর শুরু হল রহস্যভেদ, যদিও খুনটা হল তার অনেএএএএক পরে! চমকে গেছেন? ভাবছেন, তাহলে উক্ত রহস্যভেদী তথা ক্যুরিয়ার এজেন্ট কী করছিলেন? অকপটে বলি, বইটার নাম হওয়া উচিত ছিল হিন্দিকেশ রহস্য। এবং এই বই পয়সা খরচ করে কিনেছি বলে আমার নিজেকে বল-দ ছাড়া কিছু মনে হচ্ছে না। ধূমপান বিরোধী ভিডিওতে হাসপাতালের বেড থেকে পেশেন্ট যেভাবে বলে, ঠিক সেইভাবে বলছি: যে ভুল আমি করেছি, তা আপনারা করবেন না। বল-দ হবেন না।
"এ জগত মহা হত্যাশালা। জানো না কি প্রত্যেক পলকপাতে লক্ষকোটি প্রাণী চির আঁখি মুদিতেছে! কে কাহার খেলা? হত্যায় খচিত এই ধরণীর ধূলি।"
'পার্ল রহস্য' নামের এই রহস্য উপন্যাসটি এমন একজনের লেখা, যাঁর কলমে (হয়তো) রহস্য উপন্যাস শোভা পায় না। রবিশংকর বল নামের অসামান্য শক্তিশালী লেখকের সাথে পরিচিত হতে চাইলে, শুরুতেই এ বইটি হাতে তুলে নেয়া উচিত হবে না। না পড়লেও তেমন কোন ক্ষতি হবে না সত্যিকার অর্থে!
গল্প নয়, বরং লেখকের চিরাচরিত দর্শনের জন্যই বইটির প্রতি ভালোলাগা কাজ করেছে।