"তেলেপুকা তেলেপুকা কুথায় তুমি যাউ? এত্ত কাগুজ কেমুন করে চিবিয়ে তুমি খাউ? খাচ্ছো কেনু বই খাতা আর জুতার কালো ফিতা- বুটের কালি খাউ নাকি ভাই- মিষ্টি নাকি তিতা? আমিও খাই শাদা রবার- লাল কলমের কালি, কেরসিনের তেল খেয়ে ভাই- পট করেছি খালি! আম্মা মারে ধুরুম ধারুম- আব্বা হাসে তাই বাবাকোয়ার সৈন্য নিয়ে- কুথায় আমি যাই?"
কর্ণেল বাবাকোয়ার মন খারাপ। সে বাবলিকে ধারাপাত শিক্ষা দেয়ার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে মাত্র দুদিন হল। তার নিজের হাতে লেখা ধারাপাতের শিক্ষামূলক বাণী সম্বলিত বই। সেই বই কিনা বাবলি তেলাপোকার মত খেয়ে ফেলা শুরু করেছে তার ছোট ছোট দুই জোড়া দাঁত নিয়ে। ইঁদুর কাগজ কেটে গুঁড়া গুঁড়া করে দেয়- কিন্তু তেলাপোকা গুঁড়া ফেলে রাখে না, পুরোটাই খেয়ে নেয়। বাবলিও তেলাপোকার মত সেই বই খেয়ে হজম করে ফেলছে। বাবাকোয়া চিন্তিত খুব ব্যাপারটা নিয়ে। আম্মাকে বিষয়টা জানানোর চেষ্টা করেছিল- কিন্তু নোভেরা তাকে কেরসিন তেল খাওয়ার কারণের ধোলাই দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। বাবাই বিষণ্ন মুখে ডায়েরি লিখতে বসে গেছে তাই।
পৈত্রিক সূত্রে চট্টগ্রামের মানুষ। যদিও বান্দরবান, ঢাকা আর সিলেটেই থাকা হয়েছে জীবনের বেশির ভাগ সময়। বাবা মোঃ আয়ুব ও মা ফাহিমা পারভীন রিতা। একমাত্র বড় বোন শারমিন আক্তার শিমু। পড়াশোনা করেছি চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে। বিএসসি শেষ করে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছি চট্টগ্রাম এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনের একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে। ছোটবেলা থেকেই আঁকা আঁকির সাথে ছিলাম। ঘটনাক্রমে লেখক হয়ে গেছি। দুটো শখ মানুষের কখনো থাকে না একসাথে। তবুও মাঝে মধ্যে নিজেকে আঁকিয়ে, কখনো বা লেখক হিসেবে পরিচয় দিতে আনন্দ পাই। নিজের সম্পর্কে এটুকুই।
*০৮/০২/২০১৭ বাবাকোয়ার সাথে আমার প্রথম পরিচয় ফেসবুকের "ভালোবাসার গল্প" নামক পেজে। প্রথম পরিচয়েই এই আদর্শ, সিম্পুল বাচ্চাটাকে আমি অসম্ভব ভালোবেসে ফেলি। পেজে মেসেজ দিয়েছিলাম বই আছে নাকি জানতে, ওরা লেখকের ফেসবুক আইডি লিংক দিয়েছিলো। লেখককে আর জিজ্ঞেস করা হয়নি, তবে অমিয়েন্দ্র পড়ে উনাকে মেসেজ দিয়েছিলাম। লেখক ভদ্রলোক আমার চেয়ে বয়সে যথেষ্ট ছোট হলেও তাঁর লেখার ক্ষমতার প্রতি আমার দারুণ শ্রদ্ধা আছে। আমি বাবাকোয়ার গল্প গুলো সেভ করে রেখেছি। মাঝেমধ্যেই পড়ি আর হাসি। আবার অনেককে জোর করে পড়ানোর চেষ্টাও করেছি। :p
বাবকোয়া বাবাইদের জন্যই পৃথিবী এতো সুন্দর। আমার একটা আড়াই বছরের ভাতিজা আছে যে বড় হলে মাশা আল্লাহ বাবাকোয়াকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমি কোন বই খুব বেশী পছন্দ করলে সেটা নিয়ে বিশেষ কিছুই বলতে পারি না শুধু আবোল তাবোল হয়ে যায়। বইটার প্রায় সব গল্প অসংখ্যবার পড়া থাকা স্বত্বেও বইমেলা থেকে কিনে এনেই আবার পড়ে ফেলেছি। আবার পড়বো, আবার, আবার পড়বো। আমি পারলে সবাইকে এই বই পড়াতাম। :p
আমি পাঠক হিসেবে অত্যন্ত বোকা। বাচ্চাদের বইই আমার বেশী পছন্দ। আর এই বইয়ে আমি হাজার খানেক স্টার দাগাতেও দ্বিধা করতাম না, অনেস্টলি। বাবকোয়ারা ভালো থাক। :D
যখন রিভিউ গায়েব হয়ে যায় আ্যপের গাধামির জন্য... যাই হোক, এই বইয়ের জন্য ডাবল মেহনত করাই যায়। আমার বেশ কিছু বাবাকোয়ার বড় বোন হওয়ার সুযোগ হয়েছে। নিজের ভুরু কামিয়ে ছোটবোনকেও সাহায্য করা এই কাজে... key board সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা.. এসব হল ছোটখাটো রেগুলার ঘটনা দস্যি কাজিনদের জন্য... বানর গুলো মন খারাপ করে বড় হয়ে গেলো, এখন যখন দেখি বনধুর বাবু কায়দা করে বাবা মার চোখ এড়িয়ে টুথজেল খায়... মন তোফা হয়ে যায়। আমি একদম বাবাকোয়াদের ফ্যান। "একটুও জালায় না" টাইপ পুচকি আমার কাছে এলিয়েন! লেখককে ধন্যবাদ। (আপনি ভাই আমার এলাকায় থাকেন। চায়ের দাওয়াত দিলাম আর feeling proud of you এটাও জানালাম)
অনেকদিন পর অনেক ভালো একটা বাচ্চাদের বই পড়লাম। লাস্ট কবে পড়েছিলাম মনে নেই। ক্লাস ৮/৯ এ জাফর ইকবাল কিশোর উপন্যাস সমগ্র পড়ে এই রকম মজা পেয়েছিলাম।
আমি মনে করি বাচ্চাদের বই লেখা অনেক কষ্টের কারন, বাচ্চাদের মন মত বই আজকাল পাওয়াই যাই না। "ক্যাপ্টেন বাবাকোয়া" হল একটা ছোট বাচ্চার দৈনন্দিন এডভ্যঞ্চার সমূহ। যে উদ্ভট কিন্তু বেশ সমাজ সচেতনমুলক কাজ করে। গল্পগুলা অদ্ভুত সুন্দর, একদিকে মজার কিন্তু শিক্ষামুলক। এটা নিছক ওই বাচ্চার কাহিনী না, এর সাথে উঠে এসেছে তার বাবা, মা অন্যান্য সব চরিত্র। প্রতিটা চরিত্র খুব নিপুন হাতে গড়েছেন লেখক। অনেক দিন পর এত ভালো লেখা পড়লাম। লেখা দেখেই বোঝা যায় লেখকের লেখার হাত পক্ক এবং ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। কারন, বাচ্চাদের বই হয়তো লেখা সম্ভব কিন্তু সেই বই বড়দেরও সমান অনন্দ দিবে সেরকম বই খুবই দুর্লভ। যদিও লেখার মাঝে হুমায়ূন আহমেদীয় ছায়া একটু পেয়েছি। তবে তার জন্যই বোধহয় আরো ভালো লেগেছে বইটা।
মোঃ ফরহাদ চৌধুরী শিহাবের উপন্যাস "অমিয়েন্দ্র" পড়ে এতটাই মুগ্ধ হয়েছি, যে ঠিক করলাম লেখকের বাকি বইগুলোও পড়ে ফেলতে হবে। Goodreads এ গিয়ে দেখি লেখকের স্বতন্ত্র বই মোট ৬টি। সবগুলোই বেশ হাইলি রেটেড!
এরপর এতকিছু চিন্তা না করে সবচেয়ে হাইলি রেটেড বই দুইটি রকমারি থেকে অর্ডার করে ফেললাম। "ক্যাপ্টেন বাবাকোয়া" আর "অসমাপ্ত ঠিকানা"।
বই হাতে পেয়ে, ক্যাপ্টেন বাবাকোয়া'র প্রচ্ছদ দেখে ভুরু কিছুটা কুঞ্চিত হলো। বই খুলে মাথায় হাত! এ যে বাচ্চাদের বই! কোনো খোজখবর না নিয়ে বই কিনে ফেলার এত বড় মাশুল। :'( তার উপর আবার বইয়ের শেষ পেজ ছেঁড়া। বই নেয়ার সময় চেক করে নেয়া হয় নি। বোকামির চূড়ান্ত!!
(পরবর্তীতে অবশ্য শেষ পেজের ছবি তুলে দিয়ে লেখক সহযোগিতা করেছেন। লেখককে ধন্যবাদ।)
সেদিন রাতে কি মনে করে মাথার কাছে " ক্যাপ্টেন বাবাকোয়া" বইটি নিয়ে শুলাম। একটু পড়ে দেখা যাক, কেমন লাগে বাচ্চাদের বই!
সোজাসাপ্টা শুরু। জাহেদ এবং নোভেরার প্রথম সন্তান 'বাবাই'। ৫/৬বছর বয়সী বাবাই এর নিজের রাখা একটি ছদ্মনাম আছে 'বাবাকোয়া'। বাবাই এর আরো আছে নিজস্ব মিলিটারি বাহিনী! সেই মিলিটারি বাহিনীর ক্যাপ্টেন হলো বাবাকোয়া। ক্যাপ্টেন বাবাকোয়া! কিছুদিন পরেই ক্যাপ্টেন বাবাকোয়া নিজেকে প্রমোশন দিয়ে হয়ে যান "কর্ণেল বাবাকোয়া"!
সেই মিলিটারি বাহিনীতে আরো আছে হাবিলদার ভুট্টো (কুকুর), কমান্ডার ইন চিফ গেছো ব্যাঙ, ফ্ল্যাইট লেফটেন্যান্ট কাক, স্বাস্থ্যকর্মী প্রতিবেশী মেয়ে বিন্তি। বাবাই এর ছোটবোন সমাজকর্মী, মানবদরদী, একুশে পদকপ্রাপ্ত বাবলি!
বাবাকোয়ার একটি ডাইরি আছে। ডাইনিং টেবিলের নিচে বসে নীল হেলমেট মাথায় দিয়ে, যেখানে সে তার নানা মিশনের কথা লিখে রাখে৷ সেই ডাইরি পড়ার ইখতিয়ার আছে একমাত্র বাবাকোয়ার খালামণি মিথিলার।
এক পর্যায়ে নিবেদিত মিলিটারি কর্ণেল বাবাকোয়া, তার মিলিটারি বাহিনী বন্ধ করে দেয়! সে তখন হয়ে যায়, মহাপোলা। সে যেহেতু এখনো ছোট, পুরুষ হয়ে উঠে নি। তাই মহাপুরুষ না হয়ে মহাপোলা। যদিও এই "মহাপোলার" কন্সেপ্টটা ভাল্লাগে নি, কিছুটা বিরক্তিকর।
বাবাকোয়ার বিভিন্ন মিশন, এডভেঞ্চার এবং ছেলেমানুষী কান্ডকারখানা নিয়ে বইটি। নিখাদ আনন্দের জন্য, সময় কাটানোর জন্য দারুন এক বই। পুরোটা ইঞ্জয় করেছি৷ ছোটদের বই বলে অতিরিক্ত ন্যাকামি লেখক আ্যড করেন নি। তাই পড়তেও এতটুকু বিরক্ত লাগে নি।।
ছোট ছোট ৭টি গল্পের সংকলন এই বইটি। মন খারাপ থাকলে মন ভালো করার ডোজ হিসেবেও বইটি কাজ করতে পারে।
বাচ্চাদের বই হলেও লেখক প্রতিটা চরিত্র এবং গল্প বেশ যত্নের সাথে তৈরি করেছেন। উদ্ভট, অযৌক্তিক গল্প কমই ফেদেছেন। ছোটদের জন্য লেখা বই, যখন বড়দেরও আনন্দ দেয় তখন লেখককে স্বার্থক বলতেই হয়।
আরেকটা যেই জিনিস ভালো লেগেছে, লেখক মোটা দাগে কোনো উপদেশ দিতে বা কিছু শেখানোর চেস্টা করেন নি। কিছু গল্পে খুবই হালকাভাবে সুক্ষ্ম কিছু ম্যাসেজ দিয়ে দিয়েছেন। উপদেশ দেয়া হচ্ছে বুঝতে পারলেই, ছোটরা সেখান থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এই বইয়ে নিজের অজানতেই পাঠকের কাছে কিছু ম্যাসেজ চলে যাবে।
জাফর ইকবাল, হুমায়ুন আহমেদ, আনিসুল হক - এদের পর ছোটদের জন্য লিখেন এমন ভালো কোনো লেখক তেমন আসছিল না। সেখানে ফরহাদ চৌধুরির " ক্যাপ্টেন বাবাকোয়া" বইটি একটি ভালো সংযোজন।
ছোটদের বইয়ের ক্ষেত্রে আরেকটি যেটি সমস্যা দেখা যায়, সেটি হলো লাগামছাড়া বইয়ের দাম। য��হেতু ছোটদের বইয়ের চাহিদা অনেক, তবে সেই চাহিদার যোগান দেয়ার মত লেখকের অভাব। তাই এসব বইয়ের দাম হয় অতিরিক্ত। লেখার ফন্ট কয়েকগুন বাড়িয়ে পৃষ্ঠা বৃদ্ধি করে, অসহনীয় দাম রাখা হয়। "ক্যাপ্টেন বাবাকোয়া" বইয়ে এরকম দৃস্টি কটু কাজ করা হয় নি। ১৭৪ পেজের বইয়ের মুদ্রিত মূল্য ২৬০টাকা।
বইটি ২০১৭ সালে আদী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়। বইয়ের প্রচ্ছদ সুন্দর, চোখে পড়ার মত। ছোটদের বইটি পড়তে আগ্রহী করবে। পেজ কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড। বাইন্ডিং সুন্দর। বানান ভুল অনেক বেশি না হলেও, খানিকটা ছিল।
বইটি পড়ে আমি আনন্দ পেয়েছি। প্রথমে যেরকম হতাশ হয়েছি, তা অমূলক প্রমাণিত হয়েছে। গুডরিডসে কেন বইটি এত হাইলি রেটেড তা উপলব্ধি করেছি। টাকা জলে যায় নি দেখে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছি।
বইটি মূলত ১৩/১৪ বছরের নিচের বাচ্চাদের টার্গেট অডিয়েন্স ধরে লেখা। তবে যেকোনো বয়সী পাঠকই যদি খানিকটা শিশুমনা হয়ে থাকেন, তবে বইটি আপনাকে আনন্দ দিবে। পড়ার সময় ৭/৮ বছর আগের আমিতে চলে গিয়ে দেখতে ইচ্ছা করেছে, ঐ সময়ে বইটি পড়লে এখনকার থেকে কতগুন বেশি আনন্দ পেতাম!
Goodreads Rating: 4.58 / 5 Personal Rating: 4.5 / 5
এই বইকে শিশু কিশোরদের বই বলা উচিত হবে কিনা আমি জানি না। আমার মনে হয়, উচিত হবে না। বরং যারা বাবা মা হবেন, হতে চলেছেন বা হয়েছেন - বইটা তাদের জন্য বলেই মনে হয়। শিশুদের বিচিত্র জগৎ থেকে ঘোরার একটা সুযোগ পাবেন। তাদের মানবিক-প্রাণবিক হওয়ার গল্প পাবেন৷
বাবাই এর ‘আসল’ নাম ক্যাপ্টেন বাবাকোয়া বাবাই। তার ছোট বোন বাবলি, যার নাম আলুবতী আনন্দময়ী, তার বন্ধু স্বাস্থকর্মী বিন্তি, মেজর মুরগী, হাবিলদার ভোট্টু, কমান্ডো চিফ ক্যাপ্টেন গেছো ব্যাঙ, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কাক– এই হলো ক্যাপ্টেন (পরবর্তীতে কর্নেল) বাবাকোয়ার প্লাটুন। ক্যাপ্টেন বাবাকোয়া একজন মিলিটারি পার্সন, সে তার মিশন সমূহ লিখে রাখে তার ডায়েরি ‘ক্যাপ্টেন বাবাকোয়ার গোপন মিশনসমূহ’তে, পরবর্তীতে ‘কর্নেল বাবাকোয়ার গোপন মিশনসমূহ’তে।
মোঃ ফরহাদ চৌধুরী শিহাব এর এই ‘প্লাটুন’ এর সৈন্য নির্বাচনের ভাবনাটা খুব সুন্দর (যদিও আমার কুকুর-ব্যাঙ-কাক কোনোটাই পছন্দ না, কুকুর আর ব্যাঙে রীতিমতো ফোবিয়া আছে), সাধারণত এমন এডভেঞ্চারে শিশুদের দল হলেও এই দলটা বিচিত্র। আর বিচিত্র দলের সদস্যের পদবী এবং চরিত্রদের নাম। যতোবারই ‘আলুবতী আনন্দময়ী’ নামটা পড়ি, হাসি পেয়ে যায়। অদ্ভুত ব্যাপার হলো নিজের হাসিতেই যেন নিজে মুগ্ধ হয়ে যাই!(অথচ নিজের হাসি তো দেখার চান্স নেই, যেন বাবাই-বাবলীর বাবা জাহিদের হাসি দেখতে পাচ্ছিলাম 😉😛)
আসলে পুরো বইটাই মুগ্ধ করে রেখেছিল। ৯টি অধ্যায়, প্রতিটি অধ্যায়ের শিরোনাম আছে মিলে এই অদ্ভুত সুন্দর মায়া মায়া উপন্যাসটা। আদ্যোপান্ত জুড়ে যেন মায়া আর আদর মাখামাখি। এবং বইটা যতো শেষের দিকে আগাচ্ছিল, একটু খারাপও লাগছিল। না, বইটা শেষ হয়ে যাবে শুধু এ চিন্তা না, পদোন্নতি পাওয়া কর্নেল বাবাকোয়াও যে বড় হয়ে যাবে, একদিন তার নীল হেলমেটটা আর মাথায় আটবে না- এসব ভেবেই। শৈশবগুলো এতো সুন্দর হয় কেন? আর লেখক কল্পনা মিশিয়ে সেই শৈশবকে ক্যানভাসে এঁকেছেন দারুণ মুন্সিয়ানার সাথে, সবটাই জীবন্ত!