এই বইটা একটা বিশেষ কারণে বাংলা সাহিত্যে আলাদা পরিচিতি পেয়ে গেছে, রঙ্গিলা রসুল, দ্বিখণ্ডিত, বিশ্বাসের ভাইরাস প্রভৃতি বইয়ের সঙ্গে একই কাতারে চলে আসায়। কিশোর উপন্যাস সমগ্র ষষ্ঠ খণ্ডে যখন এই বইটা সঙ্কলিত হয়েছে তখন লেখক সেই ঘটনার কথা ভূমিকা উল্লেখ করেছেন।
এ কথাটা সত্যি, সেই জঙ্গিটি যখন লেখকের উপর হামলা করেছিল তার আগে এই বইটি পড়ে দেখেনি। কিন্তু যদি পড়ে দেখত, দবিরচাচার চরিত্রের ট্রেইটগুলি চিহ্নিত করতে পারত, তাহলে হয়ত আরও একটু বেশি জজবার সঙ্গে হামলা চালাত। শুধু এই বই কেন? গ্রামের নাম কাঁকনডুবি, ক্যাম্প, আমর বন্ধু রাশেদ, প্রডিজি, বুবুনের বাবা, রাশা ইত্যাদি অনেক অনেক উপন্যাস আছে জাফর ইকবালের, যে লেখাগুলো অন্ধকার শক্তির পছন্দ হবে না। সেই লেখার জন্য তারা লেখককে কোপাতে চাইবে, গুলি করতে চাইবে, সম্ভব হলে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে হয়ত চাবুক মারতে বা ফাঁসি দিতেও চাইবে।
এমনিতে উপন্যাসটি খুব আহামরি কিছু না, এই একই ধাঁচে এর চেয়ে ঢের ভালো ঢের লেখা আছে জাফর ইকবালের। এটি আড়াই তারা দেওয়ার মত। কিন্তু কবি লিখেছেন, "তোমরা ভয় দেখিয়ে কর্ছ শাসন, জয় দেখিয়ে নয়; সেই ভয়ের টুটিই ধর্ব টিপে, কর্ব তারে লয়।" অন্ধকারের প্রাণীরা নিজে এই লেখার কপালে জয়তিলক পরিয়ে দিয়েছে, তাই আরেকটি তারা না দিয়ে যাই কোথায়।
৩.৫/৫।