মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসলো ম্যারিসা। চোখ বন্ধ করে প্রার্থনার ভঙ্গিতে বললো, সেভ আস, স্যাটান। সেভ ইয়োর সারভেন্ট।
স্রষ্টার বিপরীত এক শক্তির আরাধনা ইউরোপীয়দের নিধন অভিযানেই শেষ হয়ে যায়নি। শতাব্দীর পর শতাব্দীতে উপাসকরা ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে, ক্রোধ আর প্রতিশোধের আগুন পুঁজি করে তারা খুঁজে পেয়েছে উপাসনার অর্ঘ্য। খুব গোপনে, খুব সাবধানে অবচেতনকে গ্রাস করে নেয় এই কালো চক্র আর তাড়া করে বেড়ায় শিকারকে। তুহিন হয়তো জয়ার লাখ লাখ স্কেচ করেই জীবনটা কাটিয়ে দিতে পারতো, কিন্তু ওদের অজান্তেই অপেক্ষা করছিল এক প্রাচীন অন্ধকার।
লেখালেখি শুধু একটা শখ না, এরচেয়েও বেশি কিছু। যান্ত্রিক জীবন থেকে একটু পরিত্রাণ, কিংবা না বলা কথাগুলো বলার জন্য একটা আশ্রয়।
পৃথিবীটা অদ্ভুত বৈচিত্র্যময়, এই দেখা-অদেখা বৈচিত্র্য নিয়েই লেখকের গল্পগুলো। পেশায় প্রকৌশলী হলেও সাহিত্য-পৃথিবীর দুর্বার আকর্ষণের কাছে লেখক বরাবরের মতই নতজানু।
Context: The flow with which this story started has been continued throughout the book. The story has not been accrued unnecessarily. But the context and shape of story can be more diverse and intense. Yet, as the writer's first ever adventure in writing original story, the decision not to experiment is a correct one indeed.
Information: The presence of information here and there in the story adds a unique flavor.
Personal Opinion: This book is worth reading in a single seating, carrying pages less than 100. But, a bit of dilly dallying would make the reading experience even better. Story can be made more diverse upon progressing further. Nevertheless, the writer succeeds in showing the true power and potential of his writing.
শুরুর অসাধারণ প্রেমের গল্পটা মাঝখানে ঝুলে গেলেও শেষের উত্তেজনা বইটিকে পরিপূর্ণ করেছে! আর ছোট ছোট ট্রিভিয়া গুলো উপন্যাসে হুমায়ুন আহমেদকে মনে করিয়ে দিয়েছে! এটি লেখকের প্রথম উপন্যাস, আশাকরি ভবিষ্যতে আরো বড় প্লটে ওনার লেখা পড়ার সুযোগ হবে!
অর্থনীতির ছাত্র, কিন্তু অর্থনীতি ছাড়া দুনিয়ার প্রায় সব বিষয় নিয়েই পড়তে ভালো লাগে তুহিনের। তবে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে আঁকতে। একে একে আঁকা-আঁকি'র প্রায় সকল সেক্টরেই সমানভাবে দক্ষ হয়ে উঠতে থাকে। এরমধ্যেই তার জীবনে আসে এক অসম্ভব রূপবতী মেয়ে, জয়া। সবকিছু ভালোই চলছিলো। তুহিন হয়তো জয়ার লাখ লাখ স্কেচ করেই জীবনটা অতি আনন্দে কাটিয়ে দিতে পারতো, কিন্তু বাধ সাধে এক প্রাচীন অন্ধকার। আঠারো শতকের মাঝের দিকে সমগ্র ইউরোপ জুড়ে যে 'উইচ-হান্ট' বা 'সাটানিস্ট নিধন' প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, এটাই এ উপন্যাসের ব্যাকগ্রাউন্ড। শয়তানের পূজারীদের সারা পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়া, নিজেদের আসল পরিচয় গোপন রেখে ধীরে ধীরে এক মস্ত শক্তিতে পরিণত হওয়া ছাড়াও- 'ব্ল্যাক ম্যাজিক'কে তাদের একটি সুবিশাল বিজনেস প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দাঁড় করানোর গল্পই এখানে মূল উপজীব্য। তুহিনের নিজেকে একজন সফল চিত্রশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে তোলার স্ট্রাগল, ফ্যামিলিকে খুশি রাখতে জয়ার হুট বিয়ে করে বসা, এক আপাত দৃষ্টির ভদ্রলোক-ব্যবসায়ী অমিত খন্দকার, আর শয়তানের পূজারী সামির'কে নিয়ে এগোয় গল্প। তারপর... সব অন্ধকার! এটি লেখকের প্রথম মৌলিক বই। প্লট ভালো ছিল। সবচেয়ে ভালো ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে প্লট উল্টে যাওয়ার ব্যাপারটা। খুব ছিমছাম একটা প্রেমের উপন্যাস থেকে একেবারে রীতিমত রহস্যময় ভৌতিক কিছু একটা। তবে মেইন প্লটের বেশ কিছু অংশ খাপছাড়া, অপ্রয়োজনীয় মনে হইছে। স্পয়লার দেয়া দণ্ডনীয় অপরাধ না হইলে, সে ব্যাপারে আলোকপাত করা যাইতো। লেখকের লেখনীর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য- কোথাও খুব বেশি ভালো, কোথাও একেবারেই খাপছাড়া। পড়তে যেয়ে ক্যান জানি মনে হইছে- লেখক বেশ ব্যস্ততার মধ্যে, একটু তড়িঘড়ি করেই লেখাটা শেষ করছেন। ক্রিটিসিজমের ব্যাপারটা বাদ দিলে, এমনিতে এন্টারটেইনমেন্টের জন্য বইটা ভালো; এক বসাতেই শেষ করা গেছে।
কেউ যদি লেখকের নাম মুছে দিয়ে বইটা পড়ে খুব সহজেই ভাবতে পারে, 'প্রেত', 'দানব' সিরিজের কোন একটা সিক্যুয়েল। ব্যক্তিগতভাবে বলবো 'দানব' থেকেও অনেক বেশি সাস্পেন্স উপভোগ করেছি৷ লেখক স্পষ্টতই বেশ গল্পের বিষয় নিয়ে বেশ পড়াশোনা করেছেন, যার ছাপ রয়েছে পুরো বইয়ে। তবে এর ফলে কোথাও গল্প থেকে থমকে থাকেনি। এরকম আরো অনেক লেখা আশা করছি।