চিরকালই সাংবাদিক গৌতম ভট্টাচার্যের লেখার আমি এক মস্ত বড় ফ্যান । খেলাধূলা তো ছেড়েই দিলাম , সিনেমা, রাজনীতি সহ বিভিন্ন বিষয়েই ওনার অসাধারণ পান্ডিত্য এবং গভীর বিশ্লেষণমূলক মেধাকে কুর্নিশ না জানিয়ে পারা যায় না । অতি সম্প্রতি কোলকাতা বইমেলা থেকে ওনার ডাগOUT বইটি কিনে এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম । ১৬ জন ক্রিকেটীয় মহাতারকার জীবনের অনালোকিত অধ্যায়ের দিকে পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে এই বইটিতে । একজন ক্রিকেটারকে সাধারণ মানুষ যেভাবে দেখতে অভ্যস্ত , এই বইটা পড়ার পরে সেই দৃষ্টিভঙ্গী পাল্টে যেতে বাধ্য । আমাদের উপমহাদেশে ক্রিকেটারদের দেবতার চোখে দেখে ক্রিকেটপ্রেমী কোটী কোটী সাধারণ মানুষ । হাজার কোটী টাকার স্পনসর ও অ্যাডের নৈবেদ্য চড়িয়ে সিংহাসনে বসিয়ে তাদের পূজো করা হয় । কিন্তু একজন মহাতারকারও যে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো থাকতে পারে সাফল্যের শিখরে পৌছনোর তীব্র বাসনা বা ব্যর্থতার বিষাক্ত ছোবলে চরম হতাশা বা গোপন প্রেম-যৌন জীবন বা সহখেলোয়ারদের প্রতি ঈর্ষা ও ইগোর লড়াই তা এই অসামান্য বইটি পড়লে চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে ।
বইটি শুরু হয়েছে পাক ক্রিকেটের ধ্রুবতারা ইমরান খানের ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারের উপর আলোকপাত করে । ক্রিকেটের পাশাপাশি ইমরানের ক্রিকেট বহির্ভূত রাজনৈতিক জীবনের সাফল্যকেও তুলে ধরা হয়েছে । টীমমেটদের সঙ্গে ইমরান ভাইয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পাকিস্তানের ১৯৯২ ক্রিকেট বিশ্বকাপ বিজয়ে তার অকুতোভয় নেতৃত্ত্ব কিভাবে প্রতিটি পাক খেলোয়াড়কে উদ্বুদ্ধ করেছিল তার মনোগ্রাহী বিবরণ এই বইটিতে পাওয়া যাবে । এই প্রসঙ্গে উল্লেখ না করে পারছি না যে ক্রিকেট খেলাটির প্রতি আমার মুগ্ধতার শুরু সেই ১৯৯২ বিশ্বকাপে ইমরানের পাকিস্তানের বুক চিতিয়ে লড়াই দেখার পর থেকেই ।
ইমরানের পরে যে নামটি জায়গা করে নিয়েছে সেটি শুনলে আজও কোটী কোটী ক্রিকেটপ্রমীর মাথা শ্রদ্ধায় ঝুকে যায় – সুনীল মনোহর গাভাস্কার ওরফে সানি গাভাস্কার । আমরা যারা ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়স্ক তাদের কখনো ভারতীয় ক্রিকেটের এই মহামানবের ব্যাটিং স্কিল নিজের চোখে দেখার সৌভাগ্য হয়নি । ভারতীয়দের জীবনে সানির অতিমানবিক ব্যটিং স্কিল কিভাবে রাজকীয় স্থানটি দখল করে রেখেছিল তা বুঝতে গেলে গৌতমবাবুর নিম্নলিখিত বক্তব্যই যথেষ্ট – “ আমরা যারা সত্তরের দশকে বাংলায় বড় হয়েছি তাদের জীবনযাপন ছিল খুব অস্হির , অনিশ্চিত পরিবেশের মধ্যে । গোটা ভারতে তখন বিশ্বে সারা ফেলার যোগ্য কোটিপতি নেই । ওই ছোট বয়সেই কানের কাছে বেকারি ভনভন করত আর দারিদ্রের মেগা সিরিয়াল । চারদিকে টাকা নেই , চাকরি নেই । তার মধ্যে আইনশৃংখলার কী মারাত্মক অবনতি । ........ ওই বিপন্নতার মধ্যে মিস্টার গাওস্কর, আপনার ব্যাট ছিল আমাদের একমাত্র মানসিক হাতিয়ার । ......... আজ মধ্য বয়সে মনে হচ্ছে আপনি ভারতীয় তরুণকে বিশ্বাস দিয়েছিলেন যে তুমিও একদিন জিততে পারবে । আর সব দেশের মানুষের মতো তোমারও জেতার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে ...... “
১৬ জনের তালিকার বাকি ১৪ জন হলেন যথাক্রমে বীরেন্দ্র সহবাগ, ভিভ রিচার্ডস, সচিন তেন্ডুলকর, গ্রেগ চ্যাপেল, স্টিভ ওয়, মহেন্দ্র ধোনি, ওয়াসিম আক্রম, রিচার্ড হ্যাডলি, শেন ওয়ার্ন, রাহুল দ্রাবিড়, কপিল দেব, সৌরভ গাঙ্গুলি, বিরাট কোহলি ও রাজ সিং দুঙ্গারপুর । আশা করি আপনারা শীঘ্রই বইটি সংগ্রহ করে নাওয়া খাওয়া ভুলে শেষ করে ফেলবেন । আমার আর কিছু বলবার প্রয়োজন নেই ।
quintessential Gautam, though some of the info about the players are repetitive from his earlier books,the book is simply unputdownable. The writing is lucid, anecdotal & insightful. He remains one of my fav sports journalist & the depth he brings to his writings is simply unparalleled.More power to his pen.