Anisul Hoque (Bangla: আনিসুল হক) is a Bangladeshi screenwriter, novelist, dramatist and journalist. He graduated from Bangladesh University of Engineering and Technology, trained as a civil engineer.
His inspiration in journalism and writing started during his student life. After his graduation he joined to serve as a government employee but resigned only after 15 days. Instead he started working as a journalist. He attended the International Writing Program at the University of Iowa in 2010. Currently, Hoque is working as an Associate Editor of a Bengali language daily, Prothom Alo.
His novel মা was translated in English as Freedom's Mother. It was published in Maithili too. He was honored with Bangla Academy Award in 2011.
পৃথিবীর গণ্ডি ছেড়ে প্রথমবারের মতো মহাকাশে ঘর বাঁধতে চলেছে মানুষ। চারজন মানুষ বের হচ্ছে এক অভিযানে, লক্ষ্য মঙ্গল গ্রহে মানুষের উপনিবেশ স্থাপন করা। তাদের সৃষ্টি করা পথে ভবিষ্যতে মঙ্গলে যাবে আরও অনেকে, স্থাপিত হবে একটা পূর্ণাঙ্গ উপনিবেশ। কিন্তু প্রথম যে চারজন যাচ্ছে তাদের এই যাত্রা একমুখী, তারা আর কখনই ফিরতে পারবে না পৃথিবীতে। সেই চারজনকে নেওয়া হয়েছে চারটা দেশ থেকে। তারমধ্যে আছে একজন বাংলাদেশি নারী, সাবিনা আক্তার শিমু। এই অভিযানের জন্য প্রস্তুতি-প্রশিক্ষণ চলছে বহুদিন ধরে, কিন্তু বিদায়ের মুহূর্তে মানুষের সহজাত পিছুটান ছাড়ছে না শিমুকেও।
ভালো প্লট অবশ্যই। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে লেখকটা হচ্ছেন পু থুক্কু আনিসুল হক, অসাধারণ প্লটের বারোটা বাজানোয় যার খ্যাতি কিংবদন্তীতুল্য। এইক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিছু অপ্রয়োজনীয় যৌন সুরসুরিমূলক অংশ যেমন আছে সাথে অতি হাস্যকর সংলাপ আর ঘটনা।
যেমন ধরা যাক অভিযান শুরুর সময়ের ঘটনা। অভিযাত্রী চারজন শিমু, নাতাশা, লি আর ক্রিস। এই চারজনকে বছরের পর বছর ধরে মহাকাশ যাত্রার জন্য তৈরি করা হয়েছে, মহাকাশের বিধি-নিষেধ শেখানো হয়েছে। অভিযাত্রীদের মধ্যে সম্পর্কে জড়ানো যে একদমই নিষিদ্ধ তাও পইপই করে বলা হয়েছে। এমনকি শিমুর একজন ‘হতেও পারতো প্রেমিক’ স্রেফ এই কারণেই বাদ পড়েছে দল থেকে। যে চারজন যাচ্ছে তারা ট্রেনিঙের বছরগুলোতে একসাথে ঠিকই ছিল, কিন্তু অভিযান শুরু হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে লি আর নাতাশার মধ্যে কথোপকথনঃ-
লি – বলো, নাতাশা, আমরা প্রেমে পড়েছি। এটা কি অন্যায় কিছু? নাতাশা – নিশ্চয়ই অন্যায় নয় লি – নাতাশা, বলো, তুমি আমাকে ভালোবাসো? নাতাশা – আমি তোমাকে ভালোবাসি, হানি। তুমি আমাকে বাসো? লি – হ্যাঁ। বাসি। নাতাশা – কী বাসো? লি – ভালো। নাতাশা বলো, পূর্ণ করে বলো, তুমি আমাকে ভালোবাসো। নাতাশা – আমি তোমাকে ভালোবাসি, সোনা। লি – আমি তোমাকে ভালোবাসি, বিল্লি। ..........................................
তারপরঃ-
শিমু আর নিজেকে সামলাতে পারছে না। তার মনে হচ্ছে সে ক্রিসের প্রেমে পড়েছে এবং সে কথা তাকে না বলা পর্যন্ত তার দম বন্ধ হয়ে যাবে। ভালোবাসা কি এমন জিনিস যে তা মানুষের নিদ্রা হরণ করে। ভালোবাসা কি এমন বল, যা অভিকর্ষহীন মহাশূন্যেও পরস্পরকে টানতে থাকে? নিয়টন কেন ভালোবাআর তিনটা সূত্র দিয়ে গেলেন না।
এবং তারপরঃ-
ঘুম ভেঙে গেল কখন তাও তার(শিমুর) জানা নেই। সে ঘুম থেকে উঠল। স্লিপিং ব্যাগ থেকে বেরোল। দেখল পাশে ক্রিস নেই। সে গেল বাথরুমের দিকে। পর্দা খুলে দেখতে পেল, নাতাশা আর ক্রিস আলিঙ্গনবদ্ধ। তারা চুম্বনরত।
আমি আর কিছু বলছি না। মঙ্গল অভিযানের শেষ পর্যন্ত কী হলো তার আর বললাম না। যাদের এখনও আগ্রহ আছে তারা কিনে পড়ে নিতে পারে। কিংবা অত টাকা খরচ করার ইচ্ছে না থাকলে বইমেলায় আমাকে এক প্লেট ফুচকা খাওয়ালেই হবে, আমিই পুরা কাহিনী বলে দিবো।
পুনশ্চঃ অভিযান শুরু হওয়ার পরের এই লাইনটা তুলে দেওয়ার লোভ সামলাতে পারলাম নাঃ-
আনিসুল হক নামের একজন ষাটোর্দ্ধ কলামলেখক নিজের কলামের জায়গায় কবিতা লিখে ফেলেছেন, যখন সাবিনা আক্তার শিমুর নাম আসে, তখনই আসে বাংলাদেশের নাম, বাংলাদেশ তুমি গর্বিত হও, মা, তুমি চোখের জল মুছে হাসো। :v
'প্রিয় এই পৃথিবী ছেড়ে' উপন্যাসটাকে সায়েন্স ফিকশনের কাতারে ফেলা ঠিক হবে না। মঙ্গল অভিযানে নর-নারীর ভালোবাসার সম্পর্কই আমার কাছে এর মূল উপজীব্য বিষয় বলে মনে হয়েছে। সায়েন্টিফিক ফ্যান্টাসি এই বইয়ে নেই- সেটা লেখক বইয়ের ভূমিকায় স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন। গল্প লেখার আগে লেখক 'The Martian' সিনেমাটা খুব ভালো করেই দেখেছেন বোধহয়। বইটাতে ঐ সিনেমার অনেক আইডিয়ার মিল খুঁজে পাওয়া যায় (যেমন মনুষ্যবর্জ্য সার হিসেবে ব্যবহার করা)। আনিসুল হক স্যার খুবই ইতিবাচক ধরনের মানুষ। বাংলাদেশকে নিয়ে তাঁর অনেক স্বপ্ন। তাই এই বইয়েও বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে। বইয়ে যোগ করেছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার এবং নিজের নাম। উদ্দেশ্য ভালো হলেও পুরো ব্যাপারটা ভারি হাস্যকর। শিমু নামের একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান মহিলা মঙ্গলে ওয়ান-ওয়ে অভিযানে গিয়ে তাঁর কমান্ডারের প্রেমে পড়ে যান, মঙ্গলে গিয়ে বিয়ে করেন। দেশকে খুবই গভীরভাবে অনুভব করেন প্রিয় এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েও। এই হচ্ছে উপন্যাসের মূল কাহিনী। আনিসুল হকের বর্ণনাশৈলী একঘেয়ে লাগে আমার কাছে। এই বইটাও পড়তে খুব একটা ভালো লাগে নি। তবে তিনি দেশকে যেভাবে তুলে ধরেছেন, সেটা সত্যিই আশা জাগায় মনে। অদূর ভবিষ্যতেই হয়তো শিমুর মতো কেউ ভিনগ্রহে, মহাকাশের অনন্ত জগতে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করবে! :)
পুরোপুরি সাই-ফাই না অবশ্যই। কিশোর-উপন্যাস আর প্রেম-উপন্যাস টাইপ লেগেছে। যেহেতু খুব বেশি সাই ফাই পড়িনা, তাই এটা পড়ে শেষ করতে পেরেছি হয়তো(দেরিতে তবুও)। ছোটবেলায় পড়লে একটু-আধটু ভাল লাগলেও লাগতে পারে, তবে এর বেশি কিছু না। শেষের দিকে এসে অবস্থা আরো বাজে -_-।
মঙ্গলে ওয়ান ওয়ে মিশন নিয়ে প্লট, শেষ কাহিনীটা একদমই ভাল লাগেনি আমার। তাছাড়া বইয়ের দাম বিবেচনা করলে কেনার তেমন মানে হয়না, এরচেয়ে ঢের ভাল বই আছে :)
আনিসুল হকের লেখা 'প্রিয় এই পৃথিবী ছেড়ে’ (প্রথমা প্রকাশনী, ২০১৭) একটি সায়েন্স ফিকশন বই | সায়েন্স ফিকশনটি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ঢাকার মেয়ে লুলু ফেরদৌসের জীবনের উপর ভিত্তি করেই রচিত |
চারজন মানুষ মঙ্গল গ্রহে যাত্রা করবে- আমেরিকার ক্রিস্টোফার, চাইনিজ-আমেরিকান লি, বাংলাদেশী-আমেরিকান সাবিনা আক্তার শিমু ও রাশিয়ান-আমেরিকান নাতাশা | তাদের মঙ্গলে যাত্রা ও শিমুর জীবন নিয়েই মূলত বইটি | তাদের যাত্রাটি ওয়ানয়ে অর্থাৎ যাওয়া যাবে কিন্তু আসা যাবে না | তাদের যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য হল- মানবজাতিকে ভবিষ্যতে কোনো প্রতিকূলতা থেকে টিকিয়ে রাখার জন্যই তারা মঙ্গল গ্রহে যাবে এবং গ্রহটিকে মানুষের বসবাসের উপযোগী করে তুলবে | তাদ��র মঙ্গল গ্রহে যেতে লাগবে ২৭০ দিন | আর এর ২৬ মাস পরে আরও ৪ জন মানুষ যাবে | এভাবেই মঙ্গল হয়ে উঠবে মানবজাতির বসবাসের উপযোগী |
শিমু মঙ্গলে যাত্রা করার আগে আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে আসে তার পরিবারের সাথে দেখা করার জন্য এবং খুব শীঘ্রই আবার আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় | বাংলাদেশ থেকে সে নিয়ে যায় মা-বাবা ও দেশবাসীর ভালোবাসা ও আশীর্বাদ ,একটি শিশিতে বাংলাদেশের মাটি এবং বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা |
আমেরিকাতে পৌঁছেই তারা মার্স - হোপ ১ নামের অভিযানে রওয়ানা দেয় | বিপদসংকুল এই অভিযানে রয়েছে - ভয়, ভালোবাসা , হাসি -কান্না , দেশপ্রেম এবং পৃথিবীকে ছেড়ে আসার কষ্ট |
তাহলে আর দেরী না করেই বইটি পড়ে ফেলুন এবং এই চার অভিযাত্রীর সাথে চলুন প্রিয় এই পৃথিবী ছেড়ে !
অন্যতম প্রিয় বই । তবে প্রচ্ছদ দেখে যারা সায়েন্স ফিকশন হিসেবে ধরে নেন তাদের কাছে খুব একটা ভালো না ও লাগতে পারে। হ্যাঁ তবে ফিকশন আর সমকালীন গল্পের এক দুর্দান্ত মিশ্রণ ঘটেছে এই বইতে । বাংলা ভাষার খুব কমসংখ্যক বইতেই এমন মিশেল দেখা যায় ।
সবারই কেন সায়েন্স ফিকশন লিখতে হবে? আনিসুল হক প্রেমের উপন্যাস লিখেন কলাম লিখেন পত্রিকায়। তার কেন সায়েন্স ফিকশন লিখতে হবে। পুরো জঘন্য একটা সায়েন্স ফিকশ কাহিনী। প্রচন্ড স্লো করা হয়েছে কাহিনী শুধুমাত্র বইয়ের পৃষ্ঠা বাড়ানোর জন্য। সায়েন্সের মায়েরে বাপ করে দিয়েছেন পুটুনদা। প্রায় ২০০ পেইজের এই বই পড়ে সময় নষ্ট করার কোন মানে হয়না।