অনুমান করে কথা বললে লোকে তা বিশ্বাস করতে চায় না, চায় যুক্তি ও প্রমাণ। কিন্তু বলবার সাথে সাথে সকল কথা প্রমাণ করা সম্ভব নয়। কেননা হাট-বাজার ও পথে-ঘাটে লোকে তো কতো কথাই বলে থাকে, সংগে তো কারো কোন প্রমাণপত্র থাকে না। তবে বক্তব্যের যুক্তিটা থাকা দরকার সর্বত্রই। কোনো তত্ত্বমূলক বিষয়ে তো নয়ই, যুক্তিহীন (আন্দাজী) কথা বাজারেও চলে না। তাই আমি যুক্তির সাহায্যে কতিপয় বিষয়ের সত্যের সন্ধান করতে চেয়েছিলাম এবং সে জন্য লিখেছিলাম সত্যের সন্ধান নামীয় একখানা পুস্তিকা ১৩৫৮ (১৯৫১) সালে। আর তার অপর একটি নামও দিয়েছিলাম 'যুক্তিবাদ'। পরিতাপের বিষয় এই যে, সেই যুক্তিবাদ-এর কঠিন দেয়াল ডিঙিয়ে আমাকে নেয়া হয়েছিলো পবিত্র হাজতখানায়। তাই এবারে সত্যের সন্ধান না করে মিথ্যার সন্ধান করতে চেষ্টা করছি এবং 'যুক্তিবাদ'-এর আশ্রয় না নিয়ে আমি আশ্রয় নিচ্ছি 'অনুমান’-এর। তাই এ পুস্তিকাখানার নামকরণ করা হলো – মিথ্যার সন্ধানে অনুমান। এতে যুক্তিবাদের কঠিন দেয়াল নেই, আছে স্বচ্ছ কাচের আবরণ। মূলত অনুমান তুচ্ছ বিষয় নয়। এর আশ্রয় না নিয়ে মানুষের এক মুহূর্তও চলে না। অনুমান করবার শক্তি ক্ষীণ বলেই ইতর প্রাণী মানুষের চেয়ে এত পিছনে এবং মানুষ এত অগ্রগামী তার অনুমান করবার শক্তি প্রবল বলেই। ভবিষ্যতের চিন্তা মাত্রেই অনুমান, কতক অতীতেরও। আর ভবিষ্যৎ ও অতীত বিষয়ের চিন্তা ও অনুমান করতে পারে বলেই মানুষ মানুষ হতে পেরেছে। অনুমান-এর বাস্তব ও অবাস্তব দুটি রূপ আছে। তবে ভবিষ্যৎ যাবত বর্তমান-এ পরিণত না হয়, তাবৎ সে ‘রূপ ধরা পড়ে না। আবার এমন অনুমানও আছে, যার বাস্তব রূপ কোনো কালেই ধরা পড়তে চায় না। পরমেশ্বর বলে কেউ আছেন কি-না, এ প্রশ্নটির মীমাংসা অনুমানসাপেক্ষ। প্রশ্নটি অতীতেও ছিলো, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও হয়তো থাকবে ; সুমীমাংসা হয়নি আজও, হয়তো হবেও না কোনোদিন। মীমাংসা হলে – আস্তিক ও নাস্তিক, এ দুটাে সম্প্রদায় থাকতো না বা থাকবে না। কিন্তু সে আশা দুরাশা মাত্র। প্রাগৈতিহাসিক যুগের বহু খবর আজ আমরা পাচ্ছি — ভূতত্ত্ব, জীবতত্ত্ব নৃতত্ত্ব, প্রত্নতত্ত্ব, রসায়নতত্ত্ব ইত্যাদির মাধ্যমে। আবার কতক খবর জানা যায় কেচ্ছা-কাহিনী ও পৌরাণিক পুথি-পত্তরের মাধ্যমে। কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই কাহিনীকাররা ঘটনার বাস্তব রূপটি পরিবেশন করেননি। পৌরাণিক কতোগুলো কাহিনী পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, বহু গোষ্ঠীগত স্বার্থের কারণেই। সে সমস্ত কাহিনীর বাস্তবরূপ অনুধাবন করার একমাত্র উপায় অনুমান। আর তারই সামান্য চেষ্টা করা হয়েছে এ পুস্তিকাখানার মাধ্যমে। এ পুস্তিকাখানায় উল্লিখিত প্রসঙ্গসমূহে আরোপিত আমার অনুমানগুলো যে অন্য কারো অনুমানের সাথে মিলবে, এমন আশা আমি করি না। তবে প্রিয় পাঠকবৃন্দের কাছে আমার অনুরোধ যে, তারা যেনো আমার আলোচ্য বিষয়সমূহ নিয়ে স্বাধীনভাবে চিন্তা-ভাবনা করেন এবং ওগুলোর যাথাথ্য নির্ণয়ের চেষ্টা করেন। এ পুস্তিকাখানা প্রণয়নে আমাকে উৎসাহিত ও সহযোগিতা দান করেছে শিক্ষামোদী তরুণ যুবক প্রিয় মো. ফিরোজ সিকদার। আমি তার উন্নত জীবন ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। রচনাকালীন আমার এ লেখাগুলোর প্রতিটি শব্দ ধন্য হয়েছে শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক কাজী গোলাম কাদির সাহেবের শুভদৃষ্টির পরশে। কিন্তু সেজন্য আমি তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি না। কেননা আমার লেখার কলমটাই তার। এ ক্ষুদ্র পুস্তিকাখানার মুদ্রণকালে যথারীতি প্রুফ সংশোধনের অভাবে এতে ভুলের পরিমাণ এতই বেশী রয়ে গেলো যে, শুদ্ধিপত্রেও তা শুদ্ধ হবার নয় এবং তা একান্তই লজ্জাকর। প্রিয় পাঠকবৃন্দের বিরক্তিজনক সে সব ভুলের জন্য তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই।
Aroj Ali Matubbar (Bengali: আরজ আলী মাতুব্বর) was a self-taught philosopher and apostate, of Bangladesh. He was born in British India on 17 December 1900 (Bengali year 1307) in the village of Lamchari in Charbaria union, about 11 km from Barisal town, currently in Bangladesh.
His original name was Aroj Ali, and he only acquired the name 'Matubbar' (meaning 'local landlord') later. He was born to a poor farming family. He studied for only a few months at the village maqtab, however this brief dabble in institutional education centered only on the Quran and other Islam studies. He gathered most of his knowledge on varied subjects, including science and philosophy, through his own readings and research.
Matubbar was little known to the elite educated society of the country during his lifetime. His first book, published in 1973, was rich with secular thought but caught little attention. It is only in the final years of life that he came to be known to the enlightened society of the country. His writings were collected and published. People in general started to take an interest in his books, which, although reflecting an untrained mind, posed a number of intriguing questions. He soon rose to eminence, albeit after his death in 1985.
ডিএল রায়ের গানের বাণীটুকু সম্পূর্ণই আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা হলেও যদি আরজ আলী তা আমাদের বলেন তবেও কিন্তু খেটে যায়। কেবল ভাবি ৩২ বছর পার হওয়ার পরেও লেখক নিজে নিজে পড়াশোনা করে এসব ভেবেছেন, লিপিবদ্ধ করেছেন। ২০ বছর তাঁর কলম থামিয়ে রাখা হয়েছিল, কিন্তু তিনি নিজে থেমে যান নি। একাডেমিক জ্ঞানওয়ালা অনেক মূর্খকে দেখেছি আর এই একাডেমিক জ্ঞানহীন প্রজ্ঞাবান মনীষীকেও দেখেছি। কোনটা জরুরি তা সেই প্রজ্ঞার ছিটেফোঁটা ধারণ করতে সক্ষম যে কারোই বোঝার কথা। ভাবি এও যে তখন তো যোগাযোগ মাধ্যম উন্নত ছিল না, নেট ছিল না, এত গাদা গাদা অনলাইন বুকশপ বা লাইব্রেরিও ছিল না। কিন্তু প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনের জন্য যে কিতাব দরকার তা কীভাবে জোগাড় করেছিলেন এই মানুষটি? আজ শিশুদের আশেপাশে এত সুযোগ পড়ার, অথচ তারা মোবাইল-ইন্টারনেট আসক্ত হয়ে কাটিয়ে দিচ্ছে, বড় হচ্ছে অর্ধেকেরও কম জ্ঞান আর শূন্য অনুভূতি নিয়ে। সেখানে এই মক্তবেরও গণ্ডি ঠিকভাবে না পেরুনো মানুষটির কৃতিত্বের কথা দূরে থাক, নামও তো তারা জানবে না। জানবে না জীবনটা আসলে কী, জ্ঞান আসলে কেন মূল্যবান, কেন সমস্ত দর্শনেই জ্ঞানকে পূণ্য বলা হয়েছে যুগের পর যুগ ধরে।
This was my first read of Aroj Ali Matubbor. Really liked the writer’s thought process in most of the cases. The way writer connected his thoughts using Lewis Henry Morgan’s KINSHIP Theory in the Ravana's genius (রাবণের প্রতিভা) chapter, Erich von Daniken’s extraterrestrial existence writings on Modern theology (আধুনিক দেবতত্ত্ব) chapter or George Adamski’s story and theory of UFOlogy in the Ascension (মেরাজ) chapter is quite remarkable. Devil’s Testimony (শয়তানের জবানবন্দী) chapter was particularly a fascinating read. Time to time I was blown away with his logic, frightened with his facile mockery and at the same time was irritated with his stupidity (please forgive my audacity). It’s a different issue whether I believe or disbelieve the content, but I have to admit this book was indeed a thought provoking journey for me by this self-taught philosopher and rationalist.
লেখকের নাম শুনে মনে হচ্ছে না যে কোনো রসকষহীন বুড়োর নাম?অনুমান আংশিক সত্য,লোকটি বুড়োই শুধু,কিন্তু এই বুড়ো তার লেখা দিয়ে আপনার কলিজা পর্যন্ত নাড়িয়ে দেবে। কয়েক মাস আগে তার রচনাসমগ্রের ১ম ভাগ কিনি,কিন্তু বইয়ের সাইজ মোটা হওয়ার কারণে পড়া হয়নি।কাল চিকন সাইজের একটি বই পেয়ে পড়তে বসি।তারপর থেকে মাইন্ডব্লোন হয়ে ব্রেইনের ছিটা যে সাদা দেয়ালে চিপকে যায়নি এটাই রক্ষা। বুড়ো তো আর জন্ম থেকেই বুড়ো নয়,তার জন্ম হয়েছিল সেই ১৯০০ সালে।অতি ধার্মিক মায়ের ঘরে জন্মানো আরজ আলীর প্রাথমিক শিক্ষা গ্রামের মক্তবে,তবে বেশিদিন পড়াশোনা করতে পারেননি,মক্তব বন্ধ হয়ে যায় আর তিনি কৃষকের কাজ শুরু করেন।৩২ বছর বয়সে তার পরহেজগার মায়ের মৃত্যু হলে তিনি মৃত মায়ের একটি ফটো তুলেন।"ফটো তোলা হারাম" ফতোয়া দিয়ে গ্রামের সকল হুজুর তার মায়ের দাফনকর্ম করতে অস্বীকৃতি জানালে ধর্মীয় ফতোয়া ও আচারের প্রতি তার ভক্তি উঠে যায়।তিনি লিখেছেন "ধর্মীয় দৃষ্টিতে ছবি তোলা দোষণীয় হলেও সে দোষে দোষী স্বয়ং আমিই,আমার মা নন।তথাপি কেন যে আমার মায়ের অবমাননা করা হলো,তা ভেবে না পেয়ে আমি বিমূঢ় হয়ে মার শিয়রে দাঁড়িয়ে তার বিদেহী আত্মাকে উদ্দেশ্য করে এই বলে সেদিন প্রতিজ্ঞা করলাম " মা!আজীবন ছিলে তুমি ধর্মের একনিষ্ঠ সাধিকা।আর আজ সেই ধর্মের নামেই হলে তুমি শেয়াল-কুকুরের ভক্ষ্য।সমাজে বিরাজ করছে এখন ধর্মের নামে অসংখ্য অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার।তুমি আমায় আশীর্বাদ করো-আমার জীবনের ব্রত হয় যেনো কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস দুরীকরণ অভিযান।"
এখান থেকেই আরজ আলীর উত্থান।ত্রিশোর্ধ্ব বয়সে নতুন করে শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন,প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়,নিজেকে আলোকিত করার জন্য যা শিক্ষাগ্রহণ করতে হয় তা।আরজ আলী বেঁচে ছিলেন ৮৫ বছর। ১২১ বছর আগে জন্ম নেয়া একটি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন মানুষ,কিন্তু তার ধর্মের কাহিনী যুক্তিতর্কের সাহায্যে ব্যবচ্ছেদ আপনাকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করবে।
এই বইটির নাম তিনি দিয়েছেন "অনুমান", কারণ এখানে তিনি ধর্মের বিভিন্ন খলনায়কদের অনুমানিক দৃষ্টিভঙ্গি কল্পনা করে বোঝাতে চেয়েছেন কেন খলনায়কদের দৃষ্টিতে তারা নিজেরা নায়ক।শুরু হয়েছে রাবণকে দিয়ে,এরপর ফেরাউন,ভগবান,মুসা,এমনকি বাদ যায়নি আমাদের ধর্মের শয়তানও। যারা ইন্দ্রিয় উন্মুক্ত রেখে ভিন্ন মতবাদ হজম করতে পারেন না,বইটি অবশ্যই তাদের জন্য নয়।যদি কখনো পড়ার সিদ্ধান্ত নেন অবশ্যই সম্পূর্ণ unbiased ও liberal mindset নিয়ে পড়তে বসতে হবে।আপনি যেই ধর্মেরই লোক হন,ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত লাগলে সহজে উত্তেজিত হওয়ার অভ্যাস থাকলে বইটি avoid করাই বুদ্ধিমানের কাজ কারণ লেখক কাউকে ছাড় দেয়নি।
আসলেই অনুমান আর অজ্ঞানতার মিশেল। সমাজে প্রচলিত কথাবার্তা আর ইসলামের শিক্ষার পার্থক্য জানলে এসব কথা তিনি বলতেন না। আসলেই লেখকের জন্য কষ্ট হয়। আরেকটু চিন্তাভাবনা করলে হয়তো এইভাবে বিভ্রান্ত হতেন না। এই-ধরণের লোক যাদের কাছে হিরো তাদের ধর্মীয় জ্ঞানের লেবেলও বোধগম্য। পয়েন্ট বাই পয়েন্ট আলোচনা করার সময় নেই। শুধু বলব, সমাজে প্রচলিত ইসলামের সাথে কুরআন-সুন্নাহয় শেখানো ইসলামের পার্থক্য জানার চেষ্টা করুন।
বইটা শুরু করার পর যুক্তি দেখে হাসি পাচ্ছিল ভীষণ। মাঝে এসে আবার দ্বিধায় ভুগেছি। আর শেষে এসে লেখকের জন্য করুণা হলো। শৈশবের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই হয়তো এরকম লেখালেখির অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। "শয়তানের জবানবন্দী" অধ্যায়টা সত্যিই একইসাথে বেশ কনভিন্সিং আর মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো। উপভোগ করেছি। বিশ্বাস-অবিশ্বাস নিয়ে কিছু না বলি বরং।
আমার আরজ আলী মাতুববরের পড়া তৃতীয় বই। স্কুলের গণ্ডিতে যাইতে না পারা এই লোকের প্রজ্ঞা দেখে আসলেই অবাক হই। তার অন্য বইগুলার মতো 'অনুমান' বইটা নিয়ে অত আলোচনা হয় নাই; অথচ আমি মনে করি, এই বইটাই বিস্তৃত আলোচনার দাবি রাখে৷ বইটা যুক্তিনির্ভর অনুমান বইকি ‘বিশ্লেষনে’র বলা যায়। সর্বমোট ৭টা অধ্যায়ে ভাগ করা আর একদম শেষের অধ্যায়ে আরজ আলী মাতুব্বর তার লেখালেখি বাহ্যত তার জীবনের শেষ বিদায় দিছেন। আর এর দুইবছর পরেই লোকটা মারা যায় ৮৫ বছর বয়সে। এই বইয়ের শয়তানের জবানবন্দি, রাবণের প্রতিভা প্রবন্ধ দুইটারে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সাহসী লেখা ��নে হইছে। রাবণকে, ইবলিশকে নায়ক বানাইছেন, রামকে, আল্লাহকে বানাইছেন ভিলেন। এই কাজ তিনি করেছেন যুক্তি নির্ভর অনুমানের মাধ্যমে অথবা যুক্তিবাদী বিশ্লেষণ বলাই ভালো, এবং সেই বিশ্লেষনের পক্ষে তথ্য উপাত্তের কোনো ঘাটতি রাখেন নাই।
তার এই বইয়ের প্রত্যেকটা অধ্যায়ের অনুমানই (বিশ্লেষণ) মূলত নৃতাত্ত্বিক আর ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ। কিন্তু তার আগের বইগুলাতে যেই রকম বিনয় দেখাইছেন, অনুমানে বিনয় একদমই অনুপস্থিত; তার শেষ লেখা বলে হইতে পারে এইরকমটা। রম্য করা, খোঁচা মারা, কন্সপিরেসি থিওরি দেওয়া, চরিত্র হরণ করা; কিছুই বাদ রাখেন নাই। বইটা পড়া যায়৷ যথেষ্ট তথ্যবহুল এবং কনভিন্সিং, যদিও কোথাও কোথাও ধারাবাহিকতার অনুপস্থিতি দেখা যায়৷
বেশ কিছু লেখা পড়লেও বই হিসেবে আমার পড়া এটাই লেখকের প্রথম বই। চমৎকার... প্রাইমারি সমাপ্ত করতে না পারা একটা লোক কতটা সাবলিল ভাবে কথা বলে গেছেন। বইটার বিষয়বস্তু ছিল, বিভিন্ন ধর্মের খুব গুরুত্বপূর্ণ 'মিথ'গুলিকে সত্য ধরে নিয়ে কিছু অনুমান করা। অনুমানগুলো আমাদের ভাবনার বিপরীতে যেয়ে। যেমন ফিরাউন কিংবা রাবনের মতন আপাত নিন্দনীয় চরিত্রগুলোকে ইতিবাচক ভাবে উপস্থাপন করা। এবং শেষ অধ্যায়টা, যেখানে শয়তানের পর্যন্ত গুণগান করা হয়েছে এক রকমের! চাইলে হয়ত পাগলের প্রলাপ বলে শুরুতেই উড়িয়ে দেয়া যেতেই পারে। তবে কি না, যদি কেউ সেইসব "মিথ" এর সকল কথা সত্য ধরে নেয়, তাহলে কিন্তু আরজ আলীর কথাগুলোরে একেবারে উড়িয়ে দিতে পারা যায় না...
চমৎকার বই। সার্থক নামকরণ, আর প্রচন্ড সাবলীল লেখা! চার তারকা আমি দেবই!