গুলি ভরা শটগান নিয়ে পার্টিতে হাজির হলো জেনি বার্টন। চোখের পলকে দু’জনকে উড়িয়ে দিল সে। আরও মানুষ হত্যা করতে চাইছিল জেনি, কিন্তু তাকে থামাল তার সবচেয়ে প্রিয় বান্ধবী পল্লবী কেয়া পিংকি ও পুলিশ। পরদিন পিংকি জেলে গিয়ে জেনির কাছে জানতে চাইল সে কেন অমন করল। জবাবে জেনি বলল, ‘ওরা আর মানুষ ছিল না।‘ পিংকি প্রথমে ভেবেছিল তার বান্ধবীর মাথা বোধহয় খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু সে যখন ঘটনার গভীরে প্রবেশ করল, অকল্পনীয় এক আতঙ্কের জগৎ উন্মোচিত হলো তার সামনে।
জন্ম ৫ ডিসেম্বর ১৯৬৯। জন্মস্থান বরিশাল, পিতা প্ৰয়াত লক্ষী কান্ত দাস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে অনার্স সহ এম, এ করেছেন। ১৯৯৫ সালে | লেখালেখির প্রতি অনীশের ঝোক ছেলেবেলা থেকে । ছাত্রাবস্থায় তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় সাপ্তাহিক, পাক্ষিক এবং মাসিক পত্রিকাগুলোতে চিত্তাকর্ষক ফিচার, গল্প এবং উপন্যাস অনুবাদ শুরু করেন । হরর এবং থ্রিলারের প্রতি তাঁর ঝোকটা বেশি। তবে সায়েন্স ফিকশন, ক্লাসিক এবং অ্যাডভেঞ্জার উপন্যাসও কম অনুবাদ করেননি। এ পর্যন্ত তাঁর অনুদিত গ্ৰন্থ সংখ্যা ১০০’র বেশি। অনীশ দাস অপু লেখালেখির পাশাপাশি সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত। তিনি দৈনিক যুগান্তর- এ সিনিয়র সাব এডিটর হিসেবে কাজ করেছেন । তবে লেখালেখিই তার মূল পেশা এবং নেশা ।
আটটি ছোটোগল্প এবং একটি উপন্যাস - এই দিয়ে সাজানো হয়েছে এই বইটি। অনুবাদ ঝরঝরে এবং সহজ। মূলানুগ হলেও পড়তে একটুও সমস্যা হয় না, এতই গতিময় লেখনী। ফলে বইটা সব মিলিয়ে ভালোই উপভোগ করলাম। গল্পগুলো হল~ ১. টানেল ২. সুহাসিনী ৩. ইঁদুর ৪. আমি কেন ভূত ভয় পাই না ৫. দেয়াল ৬. মুখোশ ৭. ঘরের মায়া ৮. গাড়ি দুর্ভাগ্যের বিষয়, গল্পগুলো মূল কোন কাহিনি থেকে অনূদিত, সেই বিষয়ে অনুবাদক কোনো তথ্য দেননি। স্টিফেন কিং বা রবার্ট ব্লকের গল্পগুলো আমি চিনেছি, তবে নাম থাকলে আরও ভালো হত। এরপর এসেছে এই বইয়ের একমাত্র উপন্যাস 'দানব'। লেখাটি রুদ্ধশ্বাস, তবে একেবারে আগমার্কা আশির দশকের বি-গ্রেড হলিউডি মুভির বঙ্গানুবাদ মাত্র। হাতে পেলে পড়ে ফেলুন।
সেবার ইদানিংকার বেশিরভাগ হরর গল্পই আগের বিদেশী গল্প সংকলগুলোর গল্পের খিচুড়ি বলা চলে। তবে এইদিক থেকে দানব সংকলনটা একদম জমে ক্ষীর, কারন এই সংকলনের সব গল্পই নতুন, আগে কখনো পড়িনি। বলা চলে, হরর সংকলন রেকমেন্ড করতে চাইলে দানব একটা চমৎকার উদাহরণ হয়ে থাকবে। তবে শিরোনাম উপন্যাস অর্থাৎ 'দানব' এতটাই অখাদ্য যে প্রত্যাশায় একদম পানি ঢেলে দিয়েছে, যারা এই উপন্যাস শেষ করতে পারবে তারা নিঃসন্দেহে মহামানব!
প্রায় প্রতিটা গল্পই ভালো ছিল। তবে মুখোশ গল্পটা আমার বেশ মনে ধরেছে। ৮টি ছোট গল্প এবং একটি বড় গল্প "দানব"।।
দানব গল্পটির ব্যাপারে বলতে হয় এই গল্পটি আমার কাছে ছিল মিশ্র অভিজ্ঞতা। কেননা গল্পটির নায়িকা চরিত্র বলা যায় পল্লবী কেয়া পিংকির Love Triangle বিষয়টা আমাকে খুবই বিরক্ত করে। ব্যক্তিগতভাবে আমি ত্রিভুজ প্রেম খুবই অপছন্দ করি। যাই হোক গল্পের প্রয়োজনে হয়তো লেখক এটি লিখেছেন তবে আমি অসন্তুষ্ট। দানব গল্পটি সাইন্স ফিকশন বা বলা যায় কল্পকাহিনী হরর ঘরানার একটি গল্প। ভিনগ্রহের বিষয় এতে আছে। খুব সুন্দর ভাবে গোছানো একটি গল্প। যেখানে ভয়ংকর এক প্রজাতির সাথে পিংকি এবং তার বান্ধবী জেনি বার্টন এর সাক্ষাৎ হয়ে যায়। তবে অবশ্যই পিংকি নয় জেনি বিষয়টা আগে থেকে অবহিত। শেষ পর্যন্ত পড়ে ওই ত্রিভুজ প্রেমের বিষয়টা ছাড়া মোটামুটি ভালই ছিল গল্পটি। সাইন্স ফিকশন হরর ঘরানার ভিন্ন স্বাদ বলা যেতে পারে।।
১. টানেল (Tunnel 72F - Michael Whitehouse) ২. সুহাসিনী (The Smiling Face - Mary Elizabeth Counselman) ৩. ইঁদুর (The Graveyard Shift - Stephen King) ৪. আমি কেন ভূত ভয় পাই না (Why I am not Afraid of Ghost - Richard Hughes) ৫. দেয়াল (Oldcastle Hill - S.H. Burton) ৬. মুখোশ (Masks - J.J. Cromby) ৭. ঘরের মায়া (Mrs Wood Comes Home - S.H. Burton) ৮. গাড়ি (Roger Wingate's New Car - S.H. Burton) ৯. দানব
ইঁদুর আর টানেল নামের গল্পটা ছাড়া বাকি গল্পগুলো এতোটা ভালো লাগেনি । দানব নামের উপন্যাসিকাটাও মোটামুটি চলে। ইঁদুর গল্পটা স্টিফেন কিং এর গল্পের অনুকরণে লেখা বলেই হয়তো ভালো হয়েছে। তবে এ বইয়ে একটাও মৌলিক গল্প নেই।। আরেকটা কথা হলঃ এ বইটা পুরোটা আমি আগে কোথায় যেন পড়েছি পড়েছি বলে মনে হচ্ছিলো পড়ার সময়। হঠাৎ মনে পড়লো লেখকের অনেক আগে পড়া অন্য একটা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত একটা বইয়ের কথা। বইয়ের নামটা ঠিক মনে পড়ছে না। তবে বইটার নাম যা-ই হোক না কেন, দানব বইটা প্রায় পুরোপুরি ওই বইয়ের রিপ্রিন্ট এডিশন বলা যেতে পারে। কিন্তু সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এই "দানব" বইয়ের কোথাও এ ব্যাপারে কিছু লেখা নেই। উপরন্তু, এই বইয়ের ভূমিকা দেখে হতবাক। উনি নাকি বইটা ২০১৭ সালের অমর একুশে বইমেলার জন্য লিখেছেন।।। অথচ ২০১৭ সালের অনেক আগেই এ বইয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ উনার অন্য একটি বই (উপরে উল্লেখিত) থেকে পড়েছিলাম আমি।। এতে নৈতিকতার ব্যাপার নিয়ে একটা প্রশ্ন হয়তো থেকেই যায়!!!!!(??)