রাস্তায় মারপিট করতে দেখে তরুণ সংঘের বক্সিং কোচ রাজেন মিত্তিরের জুহুরীর চোখ ঠিক চিনে নেই গোরাচাঁদকে। রাজেন মিত্তিরের সান্নিধ্যে এসে আস্তে আস্তে প্রতিশ্রুতিবান বক্সার হয়ে ওঠে বস্তির গরিব ছেলে গোরাচাঁদ। দারিদ্রকে উপেক্ষা করে একটার পর একটা ম্যাচ জিততে থাকে। প্রতিকূলতা জয় করে গোরাচাঁদকে প্রতিষ্ঠিত বক্সার করতে রাজেন মিত্তির ও গোরাচাঁদের লড়াই নিয়ে এই গল্প।
মঞ্জিল সেন ইদানীংকালে নিজের রচিত "ভয়-ভৌতিক" গল্পের কারণেই বেশি দৃষ্টিগোচর হয়েছেন। আলোচ্য বইটির কথা প্রায় কেউই জানে না, জাতীয় পুরস্কার পেয়েও অধুনা বিস্মৃত! সেই কারণেই বহু পুরোনো এডিশন হাতে এল, ধুলোমাখা প্রচ্ছদ সম্বল করে। এমনটা না হলেই ভালো ছিল। ছোট্ট এই সংকলনে রয়েছে তিনটি কাহিনি - ক) গোরাচাঁদ, খ) খাজনা এবং গ) দাওয়াই।
প্রথম বড়গল্প "গোরাচাঁদ"-এ গোরাচাঁদ নামক এক দরিদ্র কিশোর কীভাবে ভাগ্যের ফেরে বক্সিংয়ে নাম করল, তাই নিয়েই মার্মিক গল্প। লেখকের নিজের বক্সিংয়ে অভিজ্ঞতা থাকায় গল্পটির বুনোট অনেক বেশি বাস্তবসম্মত হয়েছে। বক্সিংয়ের দৃশ্যগুলির থ্রিল বাদ দিলেও খুব মার্মিক উপস্থাপনা। বিশেষত, গরিবের জীবন-সংগ্রাম বিষয়টি সুন্দরভাবে বর্ণিত হয়েছে।
বাকিদুটি ছোটগল্প একেবারেই সিনেমা গোছের প্রোডাক্ট। দুষ্টু গুণ্ডাদের ক্যারাটে/বক্সিং জানা হিরো ধরাশায়ী করে সবাইকে বাঁচাচ্ছে। এইদুটো গল্প বইয়ে না থাকলেও ক্ষতিবৃদ্ধি হত না।
এত ভালো লেগেও পাঁচতারা দেওয়া গেল না কারণ শেষ দু'টি গল্প তো বটেই, "গোরাচাঁদ" কাহিনিটিও এখনকার সময়ে সিনেমা-দোষে দুষ্ট। দীনহীন প্রোটাগনিস্ট ভালো কোচের আওতায় পড়ে বাহুবলী হয়ে যাচ্ছে - এমন গল্প সিনেমাতে প্রচুর হয়েছে। কাহিনির প্রেডিক্টেবিলিটি প্রচুর। পাঠক ভালোই জানে, হাজার মার খেয়েও আমাদের নায়ক ঘুরে দাঁড়াবে, কারণ সে নায়ক! ময়ূখ চৌধুরীর অলংকরণ এই বইয়ের অমূল্য সম্পদ, ওগুলো না থাকলে এতটা মনোগ্রাহী হত না অবশ্যই। হ্যাঁ, সিনেম্যাটিক গোছের হয়েও এটি মনোগ্রাহী। আমার মতন স্পোর্টসে অনাগ্রহী পাঠক এটা এক বসায় পড়ে ফেলেছে মানে সবাই-ই পারবে।