Jump to ratings and reviews
Rate this book

পড়ো পড়ো পড়ো

Rate this book
১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতিকে জোর-জবরদস্তি করে সরিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেন জেনারেল এরশাদ। লেখক তার ঠিক দুই দিন আগে এসএসসির শেষ লিখিত পরীক্ষা দেন।
১৯৯০ সালের ৩ ডিসেম্বর নিশ্চিত হয় স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের বিদায়। এর কিছুদিন পরই শেষ হয় লেখকের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবন।
বিশ্ববিদ্যালয়-জীবনের পুরো সময়টা জুড়ে লেখক নিজেকে সন্ধান করে ফিরেছেন। কখনো মিছিলে, কখনো আকাশ দেখায় কিংবা কখনো বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের লাইব্রেরিতে।
সময়টা ছিল বাংলাদেশের জন্য ক্রান্তিকাল। সেই সময়ে বাংলাদেশে পোশাকশিল্পের বিকাশ শুরু হয়। সেই বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় দেশে পুঁজির গঠন। ফলে অনুমতি দেওয়া হয় বেসরকারি ব্যাংকের। আর এর বিকাশের জন্য চালু হয় আইবিএ। এভাবেই আমাদের সমাজে এক নতুন পরিবর্তন সূচিত হয়।
এরশাদ আমলের বেশির ভাগ সময় ছাত্রদের কেটেছে রাজপথে, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে। আর ঠিক সে সময়ে রাস্তা থেকে রাস্তায়, লাইব্রেরি থেকে লাইব্রেরিতে পড়ার জন্য ঘুরে বেড়াতেন লেখক। কখনো রাতের নাশতার টাকা বাঁচিয়ে, কখনো রিকশার খরচ বাঁচিয়ে নিজের একটা জগৎ বানানোর চেষ্টা করেছেন মুনির হাসান। এ বইটা তার নিজেকে খুঁজে ফেরার প্রথম পর্ব— আত্মানুসন্ধানের কাহিনি।

136 pages, Hardcover

Published January 1, 2017

14 people are currently reading
190 people want to read

About the author

Munir Hasan

25 books76 followers
জন্ম চট্টগ্রামে। হাইস্কুলের পড়ালেখাও সেখানেই— সেন্ট মেরিজ, মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি ও মুসলিম হাইস্কুল। পরে চট্টগ্রাম কলেজ হয়ে ঢাকার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে।
দৈনিক সংবাদের সাপ্তাহিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ফিচার পাতায় লেখালেখির মাধ্যমে সাহচর্য পেয়েছেন বিজ্ঞান লেখক ও বিজ্ঞান কর্মী আ. মু. জহুরুল হক, আবদুল্লাহ আল-মুতী, শরফুদ্দিন কিংবা এ আর খানের। তাদের অনুপ্রেরণায় নিজেকে বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের কর্মী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।
১৯৯৫ সাল থেকে ভোরের কাগজে এবং ১৯৯৮ সাল থেকে দৈনিক প্রথম আলোয় বিজ্ঞানবিষয়ক সাপ্তাহিক ফিচার পাতার সম্পাদনা করেছেন।
২০০৩ সালে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদের সঙ্গে থেকে অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। বর্তমানে তিনি কমিটির সাধারণ সম্পাদক।
গণিতের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রোগ্রামিং প্রসারের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর ‘চাকরি খুঁজব না, চাকরি দেবো’ নামের প্ল্যাটফর্মটা তরুণদের উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করছে।
গণিত আর বিজ্ঞান নিয়ে লেখার পাশাপাশি যুক্ত রয়েছেন ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির পাঠ্যপুস্তক রচনা ও সম্পাদনায়।
বর্তমানে দৈনিক প্রথম আলোয় যুব কর্মসূচি সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
42 (24%)
4 stars
73 (43%)
3 stars
44 (26%)
2 stars
8 (4%)
1 star
2 (1%)
Displaying 1 - 30 of 42 reviews
Profile Image for Daina Chakma.
440 reviews774 followers
May 5, 2017
আমাকে যদি পজিটিভ আর ইন্সপায়ারিং মানুষদের একটা লিস্ট করতে দেয়া হয় সেই লিস্টের প্রথম পাঁচজনের মধ্যে অবশ্যই মুনির হাসান স্যারের নাম থাকবে। পজিটিভ মানুষ মানে হল যারা কখনও হতাশ হয়না! পুরো ইউনিভার্সে ভয়াবহ একটা বিশৃঙ্খলা শুরু হলেও স্যার মনে হয় হতাশ না হয় নিজের কাজ করে যাবেন! তাঁর নিজের কাজ হল ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো। মানে অন্যের উপকার করা। আজ ম্যাথস অলিম্পিয়াড করছেন তো কাল BdOSN কিংবা প্রোগ্রামিং কর্মশালা না হয় তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার প্রেরণা দিচ্ছেন। কখনোবা বাংলা উইকিপিডিয়া ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করছেন। নিজে স্বপ্ন দেখছেন এবং অন্যকে দেখাচ্ছেন। এই সাদাসিধে অসম্ভব ভালো মানুষটিকে আমি চিনি এই অহংকারে আমার মাটিতে পা পড়েনা!

স্যারের গল্প বলার ঢংটা খুব সুন্দর। একেবারে বর্ন স্টোরি টেলার! চমৎকার উপস্থাপনা করেন তিনি। সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলতে পারাটা একটা বিশেষ গুণ এইটা স্যারের কথা শুনলে বোঝা যায়।

"পড়ো পড়ো পড়ো" স্যারের লেখা "Memoir", আত্মজীবনী বলা যাবেনা। তাঁর আশির দশক জীবনের স্মৃতিকথা। পুরো বইয়ে ঘুরেফিরে উঠে এসেছে বই পড়ার গল্প। টাকা জমিয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সদস্য হওয়ার গল্প কিংবা হেটেহেটে বিভিন্ন লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়ার গল্প। লেখা সেই চিরচেনা ঢঙে, ঠিক যেন সামনে বসে গল্প করছেন!

স্যারের এক তারুণ্যের স্বপ্ন ছিল বুয়েট। সেই স্বপ্নের পেছেনে লেগে থাকার গল্প আর স্বপ্ন ছোঁয়ার গল্প পড়েছি মুগ্ধ হয়ে! অথচ বুয়েট পাশ তাঁকে দিয়ে হবেনা এটা ধরে নিয়ে একদিন সেই স্বপ্নের বুয়েট ছেড়েছুড়ে বাড়ি ফিরে যেতেও দ্বিধা করেননি! পরে শুধুমাত্র মায়ের কথা ভেবে আবার বুয়েট ব্যাক করেছেন! তখন রুমী ভাই স্যারকে একটা কথা বলেছিল। "পড়ো, পড়ো, পড়ো"। কমরেড মাও সে-তুংয়ের বিখ্যাত বাণী। সেই বাণী শুনে তিনি বুঝে গেলেন সর্বোচ্চ চেষ্টা করে তিনি বুয়েট ফেল করতে পারবেন, আদু ভাই হতে পারবেন কিন্তু তার চেয়ে খারাপ চাইলেও হতে পারবেন না। অথচ পড়ালেখা করে যদি নিজের একটা নতুন জগৎ বানিয়ে ফেলা যায় তখন তাকে ঠেকাবে কে?! কারণ পড়ুয়াদের নিজস্ব একটা পৃথিবী থাকে যেখানে কারো প্রবেশাধিকার নেই!

বইয়ের সবচাইতে মজার অংশটা বলি। উপস্থিতি কম থাকায় স্যার যখন এইচএসসির ফরম পূরণ করতে পারবে না ভেবে ভেবে সারা হচ্ছিলেন তখন মোজাম্মেল হক স্যার বলেছিল - টেস্ট পরীক্ষায় এক থেকে দশের ভেতর থাকতে হবে। তাহলে পরীক্ষা দেয়া যাবে। মুনির স্যার ঠিকঠিক দশম হলেন! মোজাম্মেল স্যার তখন ঘর ফাটিয়ে হাসতে হাসতে বলেন - "আরে, আমি যদি তোরে ১ থেকে ৫- এর মধ্যে থাকতে বলতাম তাহলে তো তুই ফিফথ হতি।" মোজাম্মেল স্যারের সাথে আমিও হাসি। স্বৈরাচারী শাসক এরশাদকে ব্যাকরণ পাঠ দেয়া আর মেডিকেল পরীক্ষার ভাইভা দিতে গিয়ে বোর্ডকে খেপিয়ে দেয়ার অংশ পড়েও মজা পেয়েছি।

স্মৃতিকথায় একজন বাদল ভাইয়ের গল্প উঠে এসেছে। যার কথা ছিল খুব সিম্পল, কিন্তু পাওয়ারফুল। "পড়ো পড়ো পড়ো" বইটা সম্পর্কে এক বাক্যে কিছু বলতে গেলে এই কথাটাই বলতে হবে। খুব সিম্পল, কিন্তু পাওয়ারফুল! মানে খুব সহজ। এই বইটা পড়ে আরও অনেক অনেক বই পড়ার যে উৎসাহ পেয়েছি সেটার কোনো তুলনা হয়না!

সমাপ্তিতে কিছু বইয়ের লিস্ট আছে। TBR লিস্টে যোগ করার জন্য অনেকগুলো বইয়ের নাম পাওয়া গেলো!
Profile Image for Subrata Das.
164 reviews19 followers
January 17, 2023
বইটা ইন্টারলাইফে পড়া দরকার ছিল। বুয়েটে ভর্তির জন্য আরও বেশি করে খাটতাম।

আশির দশকের অনেক ইন্টারেস্টিং ইতিহাস, চট্টগ্রাম শহরের অনেক চেনা রাস্তা, চেনা জায়গার অচেনা ইতিবৃত্ত জানতে পারলাম এই বইয়ে।

লেখককে স্পেশাল ধন্যবাদ বইয়ের শেষের তিনটি তালিকার জন্য।

অনেক কিছু পড়া,শোনা ও দেখা বাকি। 😶
Profile Image for Monirul Hoque Shraban.
171 reviews52 followers
May 11, 2019
গণিত অলিম্পিয়াড, বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (বাবিজস), শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেস, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক, চাকুরী খুঁজব না চাকুরী দেব, বাংলা উইকিপিডিয়া ইত্যাদি অনেকগুলো মূল্যবান জিনিসের পেছনে আছেন মুনির হাসান। গাণিতিক বাস্তবতায় মাঝে মাঝে হিসাব করে দেখি বাংলাদেশে আরো ১০ টা মুনির হাসান থাকলে ডাঙার উপর দিয়ে চলতো বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নৌকা। উনার লেখার হাতও মাশাল্লাহ। উনার লেখা বই, সামহোয়ারে উনার ব্লগ এবং উনার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে লেখা পেলেই পড়ে ফেলি। সামান্যতম গতিরোধ হয় না পড়ার। উনার বই পেলে সানন্দে সংগ্রহ করে নেব তা আর ব্যতিক্রম কি?

এই বইটার লেখাও দারুণ হয়েছে। তবে আমার আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ রয়ে গেছে অন্য এক জায়গায়। বইটির বিষয়বস্তু হচ্ছে লেখকের বুয়েট জীবনের স্মৃতিকথা। আমি-আমরা মুনির হাসানকে মুনির হাসান হিসেবে জানি মূলত গণিত অলিম্পিয়াড এবং বাবিজসের কারণে। বইটা যদি স্মৃতিকথা হয়ে থাকে তাহলে গণিত ও বিজ্ঞান নিয়ে তার যে সংগ্রাম এবং সংগ্রামের পর সফলতা সেসব দেখতে চেয়েছিলাম তাতে। মুনির হাসানের বুয়েট জীবন তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় আমার কাছে। বুয়েট জীবনের গল্প হচ্ছে মুনির হাসানের নিজের গল্প। কিন্তু সেটা যদি গণিত ও বিজ্ঞানের আন্দোলনের গল্প হতো তাহলে সেটা হয়ে যেতো আমাদের সকলের গল্প।

বিজ্ঞান ও গণিত আন্দোলনের স্মৃতিকথা ও সংগ্রাম নিয়ে লেখকের কাছে স্বতন্ত্র একটি বই কামনা করছি।

আর দুটি তথ্য চোখে লেগেছে। স্যারের মনের খেয়ালে হয়তো এগুলো হয়ে গেছে, ১. ভারতে অন্ধবিশ্বাস আর কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কাজ করে যিনি যাচ্ছেন তার নাম 'প্রবীর ঘোষ'। বইতে লেখা ছিল 'প্রবীর দাস'। ২. বিশ্ববিখ্যাত 'গান্ধি' মুভিটির নির্মাতা হিসেবে বলা হয়েছে 'ডেভিড এটেনবারো'। আসলে এর পরিচালক উনি নন। পরিচালক হচ্ছে উনার ভাই 'রিচার্ড এটেনবারো'। ডেভিড এটেনবারো ডকুমেন্টারি করেন (আমার অনেক প্রিয়)। আর রিচার্ড এটেনবারো মুভি করেন (জুরাসিক পার্ক মুভিতে তিনি বিজ্ঞানী ছিলেন)।
Profile Image for Israt Zaman Disha.
194 reviews621 followers
February 7, 2020
"সবার জীবনের সেকেন্ড ডিরাইভেটিভ নেগেটিভ হোক।"
ভূমিকায় এই একটা কথা মন জয় করে নিল।
Profile Image for Nabid Mostafa.
16 reviews356 followers
March 7, 2017
স্যারের লেখা তো পেপারে-ফেসবুকে পড়াই হয়, বইয়ের পাতায় এই প্রথম পড়লাম। বুয়েটিয়ান হবার সুবাদে বইয়ে বুয়েট জীবনের কাহিনীগুলো যখন আসছিল একেরপর এক, সব জায়গাগুলো যেন মিলিয়ে নিচ্ছিলাম। আউলার ক্যান্টিন, তিতুমীরের মাঠ, ইএমই, "ম্যালা মেয়ের আর্কি" (:p) !!

বইতে স্যার নিজেকে খুঁজেছেন-কথা সত্য। নিজের অভিজ্ঞতা, ঘাত প্রতিঘাতের বর্ণনা দিয়ে একে একে তুলে এনেছেন কোথায় কীভাবে আটকে গেলেন এবং সেটা থেকে উৎরালেনই বা কীভাবে!

কিছু জিনিস মিলে গেল- যেমন ইন্টারের সময় যে চিন্তা থেকে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ পড়া এবং যেভাবে "কালো কালো অংশগুলো" সহ বুঝে বুঝে পড়া- বুয়েটে গিয়ে সেই বুঝে পড়ার মানসিকতা কাজে লাগে সামান্যই (বিশেষত ম্যাথে).

স্যারের কথাগুলো পড়ে ঐ কথাটাই বারে বারে মনে পড়ে গেল- "জীবন তো কল্পনা করেছি ঐ বুয়েট পর্যন্তই"!! এর পরের জীবনেরই মানে স্যার কীভাবে খুঁজ��� পেলেন বইটায় তারই বিবরণ।
বুয়েটের হল ও ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশের বর্ণনা শুনে খুব ভালো লাগলো। সব নামজাদা লোকজন কীভাবে নির্বাচনে দাঁড়াত, একই ব্যালটের দুইপাশে দুই দলের প্রার্থীর নাম থাকতো, হলে-ক্যাম্পাসে বিতর্ক, বক্তৃতা, কবিতা উৎসব/ প্রতিযোগিতা হতো -শুনেই একটা আদর্শ ক্যাম্পাস লাইফের চিত্র অংকিত হলো মনে।

পড়ার বাইরেও জীবন থাকতে পারে, এবং সে জীবন অন্যান্য যেকোন সিজিমুখী জীবনের চেয়ে কম আনন্দের নয় বা ব্যর্থ নয়- শেষ উপলব্ধি এটাই। স্যারের ভাষায়- "নিজের কাজটা করে যাওয়াই হচ্ছে সবচেয়ে বড় ইবাদত,সর্বোত্তম প্রত্যয়। ফলাফল নিয়ে ভাবার কিছুই নাই। প্রাণপণ এবং সর্বোচ্চ চেষ্টায় যা হবে, সেটাই নিয়তি"

স্যারের আরো স্মৃতিচারণার অপেক্ষায় রইলাম!!
Profile Image for Farhana.
328 reviews202 followers
March 1, 2017
অনেক চমৎকার একটা লেখা । বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একটা মানুষের ক্রমবিকাশের গল্প । নিজের কিরকম বিকাশ হয়েছে বুঝি না , ফাইনাল সেমিস্টারে এসে নিজেকে ব্যাকগ্রাউন্ড আর চারপাশের সবকিছু , সবার সাথে সংযোগহীন লাগে :/ আর অন দিস ডে তে ১-১, ১-২ এর সব স্ট্যাটাস পোস্ট কমেন্টস দেখলে খুব লেইম আর গর্ধভ মনে হয় -_- লেখকের বুভুক্ষের মত বই পড়ার অভ্যাস টা ভাল্লাগছে, কিভাবে হলের খাবার খরচ বাঁচিয়ে আর মাসের খরচের টাকা থেকে নিয়ে বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্রের লাইব্রেরির সদস্য হওয়া ।
এই বই পড়ার মত বিষয়ে বাদ সাধে এসে টাকা । বড় হবার পর তো আব্বু আম্মুর কাছে এখন টাকা চাইতেও কেমন লজ্জা লাগে :3 সালামীও কেউ দিতে চায় না আর। ছোটবেলায় তো কেউ সালামী দিলে ভদ্রতা করে নিব না নিব না (আম্মুর শেখানো) বলতাম । এখন তো দিলেই নিয়ে নেই - এখন আর কেউ দেয়ও না :3 শেষ লাইন টা বেশ ভাল্লাগছে লাইফের সেকেণ্ড ডিরাইভেটিভ নেগেটিভ হোক ।
Profile Image for Sidratul Muntaher.
4 reviews
December 7, 2023
লেখকের বিশ্ববিদ্যালয় থাকাকালীন সময়কার সুন্দর বর্ণণা। পুরো সময়টিতে যেমন তিনি সাহিত্য নিয়ে সক্রিয় ছিলেন তেমনি ছিলেন রাজনীতি নিয়ে। ধাপে ধাপে প্রত্যেকটা বিষয় সহজ সাবলীলভাবে বর্ণণা করেছেন।
Profile Image for Zahid Aashaa.
35 reviews21 followers
March 11, 2017
পড়ো পড়ো পড়ো বইটা পড়লে কিন্তু লস!

জানুয়ারি মাসেই মুনির হাসানের নতুন বই পড়ো পড়ো পড়ো ফেসবুক ফিডে চলে আসে। পড়ার আগ্রহ তো এমনিই থাকে, মুনির হাসান স্যারের বই বা লেখা হলে তো কথাই নেই।

মুনির হাসানকে আমরা অনেকেই প্রকাশ্যে স্যার বলি, কিন্তু সামনে কথা বলার সময় “ভাই”, “বস”-ই ভরসা। স্যারের বই না পড়াটা অন্যায়, আর না কেনা তো মহাপাপ। কিন্তু আমি তো বই কেনার লোক না! শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের সাজ্জাদ ভাই আমাকে পড়ো পড়ো পড়ো কিনে দেন।

আমি মনে হয় সেই টাইপের পাঠক যাকে যে বই কিনে দেন তার অটোগ্রাফ নেই। আমার পড়ো পড়ো পড়ো বইয়ে লেখকের অটোগ্রাফ নেই, যিনি উপহার দিয়েছেন সেই সাজ্জাদ ভাইয়ের আছে।
গণিত অলিম্পিয়াডের বায়েজিদ ভূঁইয়া জুয়েল ভাইকে বলে রেখেছি, আমি কোন দিন “পড়ো পড়ো পড়ো” নিয়ে রিভিউ লিখতে তা ২৮০ পৃষ্ঠা লিখবো। মূল বই ২২০ পৃষ্ঠা, আর তার রিভিউ ২৮০ পৃষ্ঠা-দারুণ মার্কেটিং হাইপ হবে!

লর্ড অব দ্য রিংসের স্রষ্টা জে আর আর টোলকিয়েন ক্রিটিক সম্পর্ক বলেছেন, “কেউ বই পড়ে তারপরে বইটাকে কোন মতে একটা রিভিউ লিখে দেয়। বইটা পড়ে বিরক্তিকর, হাস্যকর কিংবা আবোলতাবোল মনে করে। আমিও তাদের লিখা নিয়ে একই ধারণা পোষণ করি।” কোন বই পড়ে কমেন্টস করা একটা আর্ট, ক্রিটিসিজম ইট সেল্ফ অ্যা আর্ট। আমি কে কোন বই পড়ে তা নিয়ে লেখার। পারমিনিট ২৫০+ শব্দ পড়ুয়া একজন ফাঁকিবাজ পাঠক হিসেবে দাবি করে কিছু বই যে পড়ি না তা অস্বীকার করবো না।

পড়ো পড়ো পড়ো শুরুর আগে আমি ফিল নাইটের শু ডগ বই পড়া শুরু করি। ফিল নাইট নাইকির প্রতিষ্ঠাতা। তার অটোবায়োগ্রাফি শু ডগ, আবার মুনির হাসানের বায়োগ্রাফির প্রথম অংশই পড়ো পড়ো পড়ো। যে কোন বায়োগ্রাফিরই প্রথমদিকটা আমার কাছে খুবই ঝাপসা মনে হয়। ফিল নাইট তার বইতে তার ঘর-বাড়ি-বারান্দার দারুণ এক চিত্র তুলে ধরেছেন, দূরের পাঠক হিসেবে সেইসব জায়গা কল্পনা করাটা খুব কঠিন। আমি যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে কোন দিন যাই নাই, সেহেতু আমাকে ওরেগনের পরিবেশ সম্পর্কে যতটাই লিখে বলা হউক না কেন, আমি বুঝে উঠতে পারবো না।
মুনির হাসান যখন ১৯৮৮ সালে বুয়েটে পড়ছেন, রাজনীতির আশেপাশে ঘুরছেন-সেই সময়টাতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ছিল উত্তাল। যারা পড়ো পড়ো পড়ো পড়বেন তারা জেনারেল এরশাদের কারণেই ক্যান্টনমেন্ট+দেশ উত্তাল দেখতে পারবেন। সে সময়টায় আরেকটা কারণে ক্যান্টনমেন্ট গরম ছিল, সেটা ছিল আমার জন্ম। আমি সিএমএইচে জন্মেছিলাম তখন! কাকতালীয়ই বটে, স্যারের জন্মদিন আর আমার জন্মদিনই একই তারিখ, ২৯ জুলাই। পরে জেনেছি ২৯ জুলাই উদ্যোক্তা তানিয়া ওয়াহাব ও সোলায়মান সুখনের মেয়েরও জন্মদিন! সব লিও!
পড়ো পড়ো পড়োর শুরুর দিকেও অনেকগুলো চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত হতে হয়ে পাঠকদের। বুয়েট আর চট্টগ্রামের নানান মানুষ আর চরিত্রের নানান ঘটনা, কিছুটা আড্ডার স্টাইলে লেখা। যারা মুনির হাসানের কথা শুনেছেন তারা বইটা পড়ার সময় মুনির হাসানই কথা বলছেন এমনটা ভাবতে পারেন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফিল নাইটের শু ডগ পড়ে যেখানে কুয়াশা দেখেছি সেই অবস্থা ছিল বুয়েটের হল আর ক্লাসরুমের নানান চিত্র পড়ার সময়। তবে এটা ঠিক যারা বুয়েটে পড়েছেন তারা নিজেকে মুনির হাসানের জায়গায় কল্পনাতে নিয়ে যেতে পারবেন। দূরের পাঠক হিসেবে মূল ঘটনার ক্রিমটাই পড়ে মুখে হাসি আসবে আপনার।
যেহেতু বইটি কোন এক বড় আত্মজীবনীর অংশ সেহেতু প্রথমটুকুই পড়ে কোন ধরণের ক্রিটিক টাইপের মন্তব্য করতে আমি রাজি না। ৪০ বছর পরের কেউ যদি টাইম মেশিনে এখন চলে আসলে সে বইটা সম্পর্কে দারুণ কোন রিভিউ করতে পারবেন, আমি না।
যারা মুনির হাসানের বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা নিয়মিত পড়েন তারা নিশ্চিত বইটির শেষের অংশ পড়ে এখনকার মুনির হাসানকে মেলাতে পারবেন। আমি মুনির হাসানকে ২০০৭ থেকে চিনি, এরপরের অংশটুকুর জন্য বইটির দ্বিতীয় পর্ব টুকু পড়তেই হবে।
পুরোটা রিভিউ পড়তে ক্লিক করুন: http://zhkaashaa.com/2017/02/15/%E0%A...
Profile Image for Hillol.
14 reviews
March 5, 2017
আশির দশকের একটা চিত্র পাওয়া যাবে বইটাতে। একজন ছাত্র প্রথাগত পড়াশোনার বাইরেও আরও কী কী ক্ষেত্রে জড়িত হতে পারে তার একটা ধারণা পাওয়া যাবে। কলেজ পড়ুয়া কিংবা সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেয়া তরুণদের জন্য বইটি বিশেষভাবে সুপারিশ করছি।
Profile Image for Kazi.
159 reviews21 followers
January 28, 2018
বেশ ঝরঝরে বর্ণনা স্যারের বুয়েট জীবনের। এক বসায় পড়ে ফেলার মত বই।
Profile Image for Shahidul Nahid.
Author 5 books142 followers
May 5, 2018
দারুণ আত্মানুসন্ধানের কাহিনি! চমৎকার বর্ণনা!
Profile Image for Fahad Ahammed.
387 reviews44 followers
September 11, 2020
প্রাণপণ এবং সর্বোচ্চ চেষ্টায় যা হবে সেটাই নিয়তি..... স্যারের এই কথাটা অসাধারণ লেগেছে।
1 review
March 10, 2020
আমি বই পড়িনা। কখনোই পড়িনা। ফেসবুক আসার পর কোনদিন পড়তে চাইনাই। কয়েকজন কাছের বন্ধু খুব বই পড়তে বলতো আমাকে, এখনো বলে। মাঝেমধ্যে এক দুই পৃষ্ঠা পড়তে যাই, কিন্তু কঠিন লাগে। অনেকক্ষণ একদিকে মনোযোগ দিয়ে রাখতে পারিনা, ফোনে হাত চলে যায়।
সেদিন কাকে যেন বলছিলাম এইসব কথা- "আমি পড়তে চাই কিন্তু পড়তে পারিনা"। যাকে বলছিলাম উনি আমাকে একটা কোটি টাকার পরামর্শ দিলেন। সেটা হচ্ছে Goodreads নামের একটা জায়গায় একাউন্ট খুলে ফেলা। যাইহোক, বরাবরের মতই ফেসবুকের কল্যাণে আমি সেটা ভুলে গেলাম।
বইমেলা শেষ হলো অল্প কয়দিন হলো। আমার ইচ্ছা ছিল বইমেলায় যাবো। কিন্তু যাওয়া হয়নি। শিশু বিভাগে ডিউটি ছিল ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে। এবং ২৯ দিনের ওই মাসে আমি দুই দফায় অসুস্থ হয়েছি, যার কারণে বইমেলায় যাওয়া হয়নি। অবশ্য আমার ধারণা এইটা আমার নিজের বানায়ে নেয়া একটা এক্সকিউজ। অতটা ইচ্ছা ছিলনা হয়ত, তাই যাওয়া হয়নাই। সুলতানস ডাইনের বিরিয়ানি খাইতে তো ঠিকই যাই মাসে একবার। 😋
যাইহোক, রকমারী ডট কমের ৩৭% ডিসকাউন্টের মেসেজ, মেইল আর স্পনসরড পোস্টের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে ভাবলাম কয়টা বই কিনবো। যেহেতু কোন না কোন এক্সকিউজ বানায়ে ফেলবো আমি আগেই জানি, তাই আগেই পে করে দিলাম।
অপদার্থবিজ্ঞান, অনুরাগ শাস্ত্র, ভাইরে আপুরে ২, পড়ো পড়ো পড়ো - এই কয়টা বই কিনলাম।
একটু আগেই বলছিলাম, বই পড়তে আমার কঠিন লাগে।যেসব মুভিতে ইনার মেসেজ থাকে সেগুলা আমার কাঠখোট্টা লাগে, এন্ডিং খারাপ হইলে বিরক্ত লাগে। আমি সহজ সরল বই, সোজাসাপ্টা সিনেমা পছন্দ করি। রুমমেট কে বলছিলাম যে- " জ্ঞানী, একটা বই পড়মু। কি পড়া যায় কও তো।" সে আমাকে খুব কঠিন সাধু ভাষায় লেখা একটা বই পড়তে কইলো। এক পৃষ্ঠা পইড়া আর জমলোনা। আমার বই পড়াও হইলোনা।
যাইহোক। একদিন হঠাৎ খেয়াল করলাম মানুষের কথা শুনতে আমার ভালো লাগে। বানানো গল্প উপন্যাস না, মানুষের নিজের জীবনের গল্প।নিজেও নিজের কথা কইতে ভালোবাসি। লিখতে আরো বেশি। ফাও প্যাচাল পাড়া আমার খুবই পছন্দের কাজ। মুনির হাসান স্যার ম্যাথ অলিম্পিয়াডে উপস্থাপনা করতেন। আমার জীবনে উনার পরিচয় এইটাই। কি সুন্দর গুছায়ে কথা বলতেন স্যার। ভালো লাগতো।
বই অর্ডার করার সময় দেখলাম এবারের মেলায় স্যারের একটা স্মৃতিচারণ টাইপের বই আছে। নাম পড়ো পড়ো পড়ো। সেই থেকে কিনলাম বইটা।

একটা লোক, নাম খেয়াল নাই - উনি স্যারের মাথায় ছোটবেলায় " ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ " এর ভূত ঢুকায়ে দিছিলেন। এর কারণেই স্যার বুয়েটে পড়তে পারছিলেন। বইটা পড়ার সময় আমার ইচ্ছা করতেছিল খুব, যে স্যারকে মেসেজ দিয়ে জিজ্ঞেস করি ওই লোক এখন কি করেন, কই আছেন। মেসেজ দেওয়ার জন্যে স্যারের প্রোফাইলেও ঢুকছি, পুরানো মেসেজগুলো দেখে এখন আর মেসেজ দেওয়ার সাহস করি নাই। ক্লাস ৯ এর বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে আম্মাকে ভুজুং ভাজুং বুঝায়ে ১ জিবি নেট কেনা ছোট্টফসু স্যারকে মেসেজ দিছিলো, "আর ইউ দ্য রিয়েল মুনির হাসান?.... আই এম সো হ্যাপি, আই লাভ মুনির হাসান।" .... স্যার আবার বাচ্চা ছেলের ওই মেসেজের রিপ্লাই ও দিছিলেন। বাচ্চা ফসু মুনির হাসান স্যার ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করার পর আবার স্ট্যাটাস ও দিছিলো। ওই স্ট্যাটাস দেখে ফসুর ছোট্টবন্ধু জুনায়েদ কামাল নিবিড় তাকে মেসেজ দিছিলো- এতো ফালাইস না। উনারা সবার রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করেন।😀
যাইহোক, ছোট্টবেলার খুব মধুর স্মৃতি ছিল ম্যাথ অলিম্পিয়াড। ওইখানে এই মানুষটাকে চিনতে পারছিলাম। আর তখন থেকেই মুনির হাসান স্যার, সোহাগ ভাই- এই লোকগুলার উপর অসম্ভব একটা ভালোলাগা কাজ করতো। এদের মত হইতে চাইতাম। এখনো তাই চাই।
যাইহোক।

**বই কেমন লাগছে?
ভাল লাগছে, বেশ ভালো লাগছে।ফাও প্যাচাল পাড়তে, পড়তে এবং শুনতে আমার ভালো লাগে।
বইটা পড়ে মুনির হাসান স্যারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে আমার আরো জানতে ইচ্ছা করেছে, যেটা স্যার সজ্ঞানে এড়িয়ে গেছেন বলে লিখেছেন বইয়ের শুরুতে।
বই এর শেষে স্যারের পছন্দের মুভি, বই আর গানের লিস্ট দেওয়া আছে। এই জিনিসটা আরও বেশি ভাল লাগছে।

Disclaimer:
কেউ আবার ভাববেন না যে স্যারের বইকে আমি "ফাও প্যাচাল" বলছি। নিজের জীবনের কথা, পুরানো স্মৃতিচারণ এগুলাকে আমি ফাও প্যাচাল বলি। বই এর রিভিউ পড়ে বুঝতে পারছেন আশা করি ফাও প্যাচাল আমার কত পছন্দের জিনিস।😃

Note to self:
এই বছর বই পড়বো, ফেসবুক কম চালাবো বলে ঠিক করছি। মিনিমাম ১০টা বই পড়মু টারগেট করছি। ১টা পইড়ে ফেললাম। রইলো বাকি ৯।
Profile Image for Musharrat Zahin.
406 reviews489 followers
February 7, 2020
১০ মিনিট স্কুল থেকে এই বইটা আমাকে গতবছর গিফট হিসেবে দেওয়া হয়। বইটা পেয়ে ভাবলাম বাসার সবাই সারাক্ষণ ''পড়ো পড়ো পড়ো'' করতে থাকে, আত্মীয়স্বজনরাও একই কথা বলেন, কলেজের টিচাররাও বলেন, আবার আমি নিজেই নিজেকে সারাক্ষণ পড়ার কথা বলতে থাকি৷ এখন র‍্যাপিং পেপার খুলে দেখি অফিস থেকেও আমাকে পড়তে বলা হয়েছে :3 তো যাই হোক, খুব সম্ভবত বইয়ের এমন নাম দেখেই হোক, কিংবা ওই সময় কলেজে পরীক্ষা চলছিল দেখে এইটা তখন আর পড়া হয়নি। টেস্টের পর থেকে মোটামুটি হাসফাঁস অবস্থা৷ নিজের চারপাশ থেকে ভ্যাপসা ভাপটা দূর করতে আর খাটের বক্সগুলোর আঁটসাঁট অবস্থাটা একটু হাল্কা করার জন্য এই বইটা পড়া শুরু করলাম৷ খুবই পাতলা একটা বই। আমি বইটা পাওয়ার পর ফ্ল্যাপটাও খুলে দেখিনি :'৩ তাই ভেবেছিলাম নিশ্চয়ই পড়তে বসার জন্য কোনো মোটিভেশনাল বই হবে :3

এরপর ফ্ল্যাপ পড়ে দেখি, আরে! এইটা তো মুনির হাসান স্যারের বুয়েটে পড়ার সময়ের কাহিনি নিয়ে লিখা বই! বইটা পড়ে "উহ! আহ!" করার মতন ভালো লাগবে না, অন্তত আমার কাছে লাগেনি। বাবার মেডিকেলে পড়ানোর ইচ্ছা থাকলেও কেন উনি বুয়েটেই পড়বেন দেখে মনস্থির করলেন, তার কাছে কেন 'ফিজিক্স কেমিস্ট্রি ম্যাথ'-ই গুরুত্বপূর্ণ, কীভাবে ছাত্ররাজনীতিতে আসলেন, কীভাবে ব্রিটিশ কাউন্সিলের লাইব্রেরি থেকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের লাইব্রেরিতে এক নতুন আমিকে খুঁজে পেলেন- এসব নিয়েই বইটি। বইয়ের ফ্ল্যাপের শেষ লাইনেই লিখা আছে, "এই বইটা তার নিজেকে খুঁজে ফেরার প্রথম পর্ব- আত্মানুসন্ধানের কাহিনি।" বইটা পড়তে গিয়ে খেয়াল করলাম অনেক জায়গায় ডবল স্পেস পড়ে গেছে :3 এইটা পড়ার সময় আমার পিউ আপুর কথাও মনে পড়ে গেল, কারণ ওখানে লিখা হয়েছে যে স্থাপত্য বিভাগে গেলে ম্যালা সুন্দরী মেয়েদের দেখতে পাওয়া যাবে uwu

বইয়ের নাম: পড়ো পড়ো পড়ো
লেখক: মুনির হাসান
প্রকাশনী: আদর্শ প্রকাশনী
প্রথম প্রকাশ: ৫ জানুয়ারি, ২০১৭
মূল্য: ২৫০ টাকা
ব্যক্তিগত রেটিং: ★★★/★★★★★
Profile Image for Md. Faysal Alam Riyad.
317 reviews26 followers
December 27, 2017
বাংলাদেশে যারা গণিত ও বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করেন মুনির হাসান তাদের কাছে পরিচিত একটি মুখ। লেখক যখন এসএসসি পরীক্ষা দেন সেই সময়েই ক্ষমতায় অাসেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদ। অাবার এরশাদ সরকারের যখন পতন হয়, তার কিছুদিন পরই লেখকের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হয়।

বইটিতে মূলত লেখকের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা ঘটনা উঠে এসেছে। সব সময়ই তিনি চাইতেন যাতে করে এরশাদ সরকারের পতন হয়��� এ জন্য সেই কলেজ লাইফ থেকে রাজপথে নানান সংগ্রাম করেছেন। বইয়ের লেখাতে উঠে এসেছে ওনার পড়ুয়া জীবনের কথা। টাকা বাঁচিয়ে হেটে হেটে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে যেতেন বই পড়ার জন্য। এ সময়ই ওনার পরিচয় হয় অাব্দুল্লা অাল-মুতী সহ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিদের সাথে। যুক্ত হন পত্রিকার বিজ্ঞান বিষয়ক ফিচার লেখার কাজে।

বইটি মূলত লেখকের নিজের ছাত্র জীবনের নানা ঘটনা উঠে এসেছে, উঠে এসেছে তাঁর নিজে���ে খুঁজে ফেরার কাহিনী। অার একদম শেষে একটা লিস্ট দেওয়া অাছে যা পড়তে পারেন, যেসব সিনেমা দেখতে পারেন, যা যা শুনতে পারেন এসব এর। লিস্টটা অনেকেরই কাজে লাগবে।
Profile Image for Ibnul Shah.
60 reviews23 followers
March 4, 2017
মুনির হাসান স্যার আমার খুব প্রিয় ব্যক্তিত্বদের একজন। এই বইটা স্যার যেভাবে কথা বলেন সেভাবেই লিখেছেন... আত্ম-অনুসন্ধানমূলক বইটাতে তাঁর জীবনের নানান মজার ঘটনা, বুয়েটের জীবনের নানা দিক, সেই সময়ের রাজনীতির অবস্থা, এমন অনেক কিছুই উঠে এসেছে। তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো তাঁর নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প। মজলিশি ঢঙে বলা কথাগুলোতে তিনি খুব সূক্ষ্মভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন বই পড়া কিংবা সিনেমা দেখার মতো কাজগুলোর মাধ্যমে একটা আপন স্বতন্ত্র্য চিন্তাজগৎ গড়ে তোলাটা যে কত দরকারি।
শেষের দিকে স্যার তাঁর প্রিয় বইগুলোর একটা লিস্ট দিয়েছেন। লিস্টটা আমার বেশ লেগেছে। ভালো ভালো বইয়ের নাম দেয়া আছে, চেষ্টা করছি সেগুলো পড়ে ফেলার।
"পড়ো পড়ো পড়ো" বইটা আমি সবাইকে পড়তে বলব। Recommended for all. আর যারা মুনির হাসান স্যারকে বিভিন্ন অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছে, তাদের জন্য একটু বেশিই!
Profile Image for Naimul Arif.
108 reviews5 followers
June 28, 2018
বই এর টাইটেলের সাথে বিষয়বস্তুর দূরত্ব যথেষ্ট।
নাম দেখে যাই মনে হোক বইটা আসলে মুনির সারের একাডেমিক জীবনের টাইমলাইন।
Profile Image for Al Faisal Kanon.
152 reviews1 follower
May 23, 2024
মুনির হাসান স্যারকে প্রথম দেখি ম্যাথ অলিম্পিয়াডে। এরপর উনার বেশ কয়েকটা বই পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে। এই বইটা লেখা হয়েছে ওনার বুয়েটে অধ্যয়নকালীন স্মৃতিগুলো নিয়ে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা এসে শুরুতে তার মন মানতে চাইতো না। তারপর ধীরে ধীরে মিশতে শুরু করেছেন। উঠেছিলেন আহসানউল্লাহ হলে ১২৭ নম্বর রুমে। হল থেকে ক্লাস এই ছিল শুরুতে তার জানাশোনা। সকাল ৮ টা থেকে ১০:৩০ টা পর্যন্ত ক্লাস, তারপর ৩০ মিনিটের বিরতি, আবার ১১ টা থেকে ১:৩০ পর্যন্ত ক্লাস, এরপর ১ ঘন্টা বিরতি দিয়ে ২:৩০ থেকে ৫টা পর্যন্ত ক্লাস। বেশিরভাগ ক্লাসে নাকি কিছু বুঝতেন ই না, তারপরো সবকিছু লিখে নিয়ে আসতেন। এসময়ে তার আপ্তবাক্য ছিল একটাইঃ পড়ো পড়ো পড়ো। এরপর ধীরে ধীরে অন্যকাজেও জড়িয়ে নেন। ক্লাস, ল্যাবের পাশাপাশি বিভিন্ন হল ফেস্ট, ক্রীড়া প্রতিযোগিতাগুলোও উপভোগ করতে শুরু করেন। হল লাইব্রেরিতে শিবরাম, কিরটি রায়ের অমনিবাস, রবীন্দ্রনাথ, মানিক,ওয়ালি উল্লাহ সহ নানান লেখকের বই পড়া। এমন কত স্মৃতি... ভালোই লাগল। বইটা পড়ে বুয়েট লাইফের অভিজ্ঞতা নিয়ে আরো জানার আগ্রহ হচ্ছে...

বই থেকে জানা ইন্টারেস্টিং কিছু ব্যাপারঃ
-- চোথা আর ক্লাসনোট নামের কিছু একটাকে কেন্দ্র করে এখানের পড়াশোনা।
-- মডেল ল্যাবে স্যাররা মোটামুটি যেটা দেন, সেটার নাম 'বাঁশ'!
-- 'মেরিট লিস্ট' = যারা পর্যাপ্ত ক্লাস করেনি তাদের তালিকা।
-- সার্কিট পরীক্ষা দিতে গিয়ে আশায় গুড়েবালি। দুইটা রেজিস্টারের ভ্যালু হচ্ছে 'তোমার রোল নাম্বার'!
-- রাতে খাওয়ার পর আবারো যে পরোটা-খিচুড়ি খাওয়া যায়, সেটা বুয়েটে না আসলে জানা হতো না।
-- সিভিল বিল্ডিংয়ের উচ্চতা কিছু ঋণাত্মক..

সবাইকে পড়ার আমন্ত্রণ জানাই...
Profile Image for Naim  Litu.
7 reviews
Read
March 4, 2022
লেখকের বুয়েট জীবনের স্মৃতিচারণ।সহজ-স্বাভবিক লেখা।বইটিতে এরশাদের আমলে ভার্সিটি লাইফ এবং বুয়েট ক্যাম্পাসে তখনকার ছাত্ররাজনীতির গল্প বলা হয়েছে। ৮৬ থেকে নব্বই এই সময়ে লেখকের হল-ভার্সিটি-লাইব্রেরি আর পত্রিকা অফিসে গমনাগমনের আলাপ আছে বেশিরভাগ জুড়ে।ওই সময়টাতে যারা বুয়েটে পড়েছেন তাদের যেকেউ নিজেকে মুনির হাসানের জায়গায় বসালে হয়তো অনেক অভিজ্ঞতাই মিলে যাবে।যেহেতু মুনির হাসানের শৈশব-কৈশোর কেটেছে চিটাগাং এ, তাই স্মৃতিচারণের কিছু অংশে স্থান-কালের সাথে চাঁটগাইয়া যেকেউ খুব বেশি মিলিয়ে নিতে পারবেন।
পরিশিষ্ট অংশে লেখকের ভালো লেগেছে এমন দেখা-পড়া-শোনার একটা তালিকা দিয়ে দিয়েছেন।ব্যক্তিগতভাবে মুভি-বই আর বক্তৃতার এই তালিকাটি আমার বেশ পছন্দ হয়েছে।
Profile Image for Imtiaj Iqbal.
Author 1 book5 followers
May 21, 2021
This is a student spacial autobiography book that teach us to try to do as many things you can to discover your passion. Find what you are passionate about.
In this case, my personal suggestion will be, try things. That's good. But also try to restrict yourself from bad things you already know.

Anyway, I've already read two other books of the author. So, the first book can get this rating as compared to the other books.

I personally recommend you guys to read the other 3 books of the author. They are the masterpieces.
3 reviews
May 7, 2021
ভাল লাগার আদ্যোপান্ত... এই নামটাও হতে পারতো এই বইয়ের।

মুনির ভাইকে চিনি আমি যখন ব্রাকে সিস্কোর ক্লাস করতে যাই ২০০৬ এর মাঝামাঝিতে সাপ্তাহিক এক সন্ধ্যায় আমার চাকুরির প্রথম জীবনে। অপেক্ষা করতাম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে উনি এখানে এসে কখন ক্লাস নিবেন। উনার অসাধারণ পড়ানোর ব্যাপারটা বইতে তেমন উল্লেখ নাই, কিন্তু বইটা পড়ে ধরতে পারলাম উনার অসংখ্য গুনের মাঝে এ-ই গুনটা - পরিবার এবং বেড়ে উঠা থেকে এসেছে। উনার দীর্ঘ জীবন আর সুস্থতা কামনা করছি। (শফকত মোর্শেদ সেতু)
Profile Image for Fazle Rabbi Riyad.
87 reviews28 followers
August 4, 2022
লেখক তার জীবনের একটা খন্ডাংশ এই বইতে তুলে ধরেছেন। যেখানের ম্যাক্সিমাম অংশ তার বুয়েটে পড়াকালীন সময় নিয়ে। ঘটনা বলার খাতিরে লেখক অনেক ক্যারেক্টারের নাম নিয়েছেন। একারণে কিছু কিছু জায়গা অনেক দ্রুত লেগেছে আমার কাছে। স্টোরি বিল্ড আপ তেমন ভাবে জমেনি।
কিছু কিছু অংশ পড়ে বেশ অনুপ্রাণিতও হয়েছি। ওভারল চলে টাইপ...
Profile Image for Zubair.
5 reviews1 follower
March 30, 2020
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের "এই জীবন যদি জীবন হয় তাহলে আসল জীবন কোথায়" লেখাটার মর্ম আবারো উপলব্ধি করলাম মুনির স্যারের এই বইটি পড়ে। ১৯৮৬ সালে স্যারের বুয়েট লাইফ কি ২০১১ তে আমাদের বুয়েট লাইফ, গড়পরতা কেটে যাচ্ছে জীবন । চরিত্র পালটাতে থাকে একই মঞ্চে। তবু জীবনের প্রত্যেক রাস্তার মোড়গুলোতে আমাদের অর্জন পিছনে ফেলে আসা মধুর স্মৃতিগুলো। চট্টগ্রাম ও বুয়েটের দিনগুলোর স্মৃতিতে পাঠককে ফিরিয়ে নেবার জন্যে লেখককে অনেক ধন্যবাদ। পরবর্তী খণ্ডের অপেক্ষায় রইলাম।
Profile Image for Md Shahidul.
5 reviews
April 13, 2020
এক বাসায় শেষ করার মত বই ��। লিখার হাত নিয়ে কিছু বলার নাই । যত বার পড়ি নতুন করে কিছু শিখি । একটা মানুষ কতো বই পড়তে পারে তা মনির হাসান স‍্যার এই বইটা না পড়লে জানতে পারতাম না। পড়ার সময় মনে হবে যেন সব কিছু আপনার সামনে হচ্ছে । এক বারের জন্য ও বিরক্ত হবেন না।
Profile Image for Tasnimul H Prottoy.
54 reviews10 followers
February 18, 2021
লেখক তার নিজেকে নিয়ে লিখেছেন, সেসময়কার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। বেশ দারুণ দারুণ ঘটনার, কথার উল্লেখ রয়েছে।

বইয়ের নামকরণ অবশ্যই যথার্থ, নানা ধরনের পড়ার কথা বলেছেন। আশা করি বোর হবেন না।
ভাললাগার বই :)
Profile Image for Hasan Mahmud  Sajal.
1 review1 follower
July 20, 2017
Reading this book, you will build a mentality to do something for people selflessly. It will also inspire you to never stop reading.
Profile Image for Nogib Zafi.
2 reviews
December 25, 2021
একটা জার্নির মধ্য দিয়ে গেলাম মনে হলো।
Profile Image for Shahjahan Siraj.
1 review
Read
February 17, 2017
পড়ো
পড়ো
পড়ো
পাঠ্যপুস্তক ছাড়া সবকিছু পড়ার কথা কেউ আমাকে এমন করে কখনো বলেনি। আর তাই Munir Hasan ভাইয়ের বইটা প্রকাশ হয়েছে জানতে পেরে রকমারিতে অর্ডার করে ফেললাম। যদিও অনলাইনে প্রকাশ হওয়া এর সবগুলো অংশ পড়ে নিয়েছি আগেই।
বইটা হাতেও পেয়েছি সময়মতো। কিন্তু অফিসে ERP এর পাল্লায় পড়ে আর পড়া এগোয় না। বলেছিলাম ঠিকই, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথে সূবর্ণতে চান্সটা নিতে পারিনি। সূবর্ণতে না এসে সেদিন রাতের ট্রেনে চট্টগ্রাম আসতে হল। রাসেল ভাই একাই সূবর্ণতে চট্টগ্রাম গেল। আর আমি ERP মিটিং এর পাঠ শেষ করে ঝিমুতে ঝিমুতে রাতের তূর্ণায় করে চট্টগ্রাম পৌছালাম। ফ্যাক্টরিতে দুইদিনের ঝড় সামলে আবার বিষ্যুদবারের তূর্ণায় করে ঢাকায় ফিরলাম, পরদিন শুক্রবার ফজরের ওয়াক্তে। শিডিউল ছিল মেয়েকে 'কাঠি ঘোড়ায়' চড়াতে হবে। এটা হবে বাবা আর মেয়ের প্রথম শিশু পার্ক ভ্রমণ। কোন ভাবেই মিস হতে দেয়া যায় না। মিস হয়নি, অনেক আনন্দ হয়েছে। লম্বা লাইন দিয়ে দুইবার মেয়েকে তার কাঠি ঘোড়ায় চড়াতে হয়েছে।
এদিকে 'পড়ো পড়ো পড়ো' আর পড়া হয় না। অবশেষে বাসা থেকে কালুরঘাট ফ্যাক্টরিতে যেতে সিএনজিতে বসে গত চারদিনে 'পড়ো পড়ো পড়ো' পড়া শেষ করলাম।
হাজিপাড়া'র (আগ্রাবাদ) উজ্জলের কাছ থেকে নিয়ে প্রথম 'তিন গোয়েন্দা' পড়া। আমরা তখন আগ্রাবাদ সিজিএস কলোনি হাই স্কুলে পড়ি। তারপর স্কুলে যাওয়ার বাস ভাড়া থেকে প্রতিদিন ১ টাকা বাঁচিয়ে উজালা বুক স্টোর থেকে সিরিজের পরের বইটা কেনা। বায়েজিদ বোস্তামির সরকারি বাসা থেকে বেরিয়ে মুসলিম হাই স্কুলে আসার পথে ষোলশহর এসে বহদ্দারহাটের বাসে উঠলেই প্রতিদিন ১ টাকা বেঁচে যেত। স্কুল থেকে বেরিয়ে উজালা বুক স্টলেই ঘন্টা পার করে দেয়া, কিনতে না পারি কিছু পৃষ্ঠা পড়া আর কিছু উল্টাতে কেউতো মানা করেনা। অনেক পত্রিকা পাওয়া যেত, রিডার্স ডাইজস্টও। ততদিনে ২৪/২৫ টাকা হয়ে গেছে তিন গোয়েন্দার প্রতিটা বই। তারও আগে, মোর্শেদের ব্যাক্তিগত লাইব্রেরিতে আড়াই টাকায় মেম্বারশিপ নিয়ে ১ টাকায় একটা বই বাসায় নিয়ে এসে পড়তে শুরু করি, ক্লাশ ফোরে। তখন ছোটপুলে সিলভার বেলসে পড়তাম, এটি তখন কিন্ডারগার্টেন।
মর্নিংশিফটের ক্লাশ সাড়ে এগারোটায় শেষ। তারপর লালদিঘীর ময়দানে ক্রিকেট, নয়ত পাবলিক লাইব্রেরি। মোশাররফের সাথে দুপুর পর্যন্ত সেখানে কাটিয়ে বাসায় ফেরা। কত ভারি, সুন্দর আর ঝকঝকে দামি কাগজে ছাপা- এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা। পত্রিকার কুইজের জবাব গুলো খুজে বের করার জন্য আর কিছুতো লাগেনা। সেই। কুইজের সঠিক উত্তরের পুরস্কার হিসেবে আবার কিছু বই উপহার। অবশ্য তার কয়েকটা বই আমার পছন্দ হয়নি। তবুও ফ্রি পেয়েছি বলে সব পড়ে ফেলা। কখনো নিউমার্কেট হয়ে, 'অমর বইঘরে'। কত কমদামে পুরনো বই পাওয়া যায়। বেশি মজা- যে বইগুলো অন্য কোথাও পাওয়া যায় না, সেই বইটিই সেখানে খুজে পাওয়া যায়।
দেশ ছেড়ে যখন পড়তে যাই, তখনো বই নিয়ে যাই সাথে করে। মিকি ভাই 'জীবনানন্দ দাশের কবিতা সমগ্র' বইটা নিয়ে বলেছে আর ফেরত দেবে না। মনের ভেতর কষ্ট থাকলেও ভাবলাম উনি ছড়াকার, শিল্পী মানুষ, আমার চেয়ে ওনারই বেশি কাজে লাগবে বইটা। আর ফেরার পথে ইঞ্জিনিয়ারিং এর বইগুলো সাথে করে আনিনি বলে কি কষ্টটাই না লেগেছিল। দেশে ফিরে আমার কেনা, আর জমানো বইগুলোর একটাও পাইনি। কারা যেন নিয়ে গেছে। ছোটভাইয়ের মৃত্যুর সময়টাতে সবাই মাকে নিয়ে ব্যস্ত, আর এই সুযোগটাই কেউ কাজে লাগিয়েছে।
চাকরি করতে ঢাকায় এসে প্রথম বইমেলা দেখা। এতবড় আয়োজন! চট্টগ্রামে আমরা চিন্তাও করতে পারিনি। পকেট না, একাউন্টের সব টাকা খরচ করে বই কিনে আজিজ সুপার মার্কেটের মেসে ফেরা। রকমারি'র যুগে এসে, সারা বছরই কিছুনা কিছু বই কেনার চেষ্টা করা। কারণ বই কিনে নাকি কেউ দেউলিয়া হয়না।
- এসবই আমার মনে পড়ে গেল এই 'পড়ো পড়ো পড়ো' পড়তে গিয়ে। অনেক ধন্যবাদ মুনির হাসান ভাইকে। ভাল লেগেছে বইটি পড়ে।
পড়া, শোনা আর দেখার তালিকাটা যদিও করা হয়নি কখনো আমার, তবে 'পড়ো পড়ো পড়ো'র এই তালিকার অল্প কিছু বই বাকি আছে। কোন সুযোগে সেগুলো কিনে ফেলতে হবে :)। পড়া একদিন হবেই।
আমার অবশ্য দেখার তালিকাটা অনেক লম্বা, আর লম্বা হতেই থাকবে। সেখানে সবাই আছে - সত্যজিত রায়, আলফ্রেড হিচকক, আকিরা কুরো সাওয়া, হুমায়ূন আহমেদ, জহির রায়হান। হুমায়ুনের সব বই পড়া না হলেও, সিনেমা গুলো সবই দেখা হয়েছে।
এক-আধটু বই পড়ার সময় পাওয়া গেলেও, সিনেমা দেখার আর সময় পাওয়া যায় না এখন। মোয়াজ্জেম ভাই আর জুলুর মত সিনেমা দেখার পার্টনারও কাছে নাই। ডেস্কটপে সিনেমা দেখার চেষ্টা সেদিন করেছিলাম, মেয়ে বাবার কোলে উঠে কিবোর্ড তার দখলে নিয়ে নিয়েছে। বাবা 'তম' (Talking Tom) দাও না, 'তম' দেব্বতো (দেখবত)। Talking Tom তার দোস্ত মানুষ।
যাইহোক 'পড়ো পড়ো পড়ো'তে ফেরত আসি -
"খুবই সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় হেড স্যার জানালেন সরকার বাহাদুর আমাদের নতুন ভবনের প্রস্তাব পাস করেছে!
জীবনে সবচেয়ে বড় চিৎকারটা সেদিনই দিয়েছিলাম।" - এই লাইনগুলো পড়তে গিয়ে একটু মনে হয় ভেতরটা হুহু করে উঠল। আহা, এখনকার ছাত্র আন্দোলন?
পর্তুগীজ সেই ভবনটা স্কুলে আমিও পেয়েছিলাম। আমরা অবশ্য নতুন ভবনেই ক্লাস করেছি।
যাই হোক সব কিছুর পরও বই পড়া জারি থাকবেই। আর পেশাগত পড়াতো থাকতেই হবে। ERP টা এখনো ফ্যাক্টরি জুড়ে ছড়িয়ে পড়েনি। অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হবে, এটা এবছর নিজের কাছেই নিজের চ্যালেঞ্জ।

- আবারো ধন্যবাদ মুনির হাসান ভাইকে, বই পড়তে বলার জন্য।
Profile Image for Pritha.
96 reviews12 followers
May 11, 2020
স্কুল লাইফে গণিত বা বিজ্ঞান অলিম্পিয়ার্ডে যখন অংশগ্রহণ করতাম তখন থেকে একজন অতি পরিচিত মুখ মুনির হাসান। সেই সময় দূর থেকেই স্টেজে বসা মুনির হাসানকে দেখতাম। তবে এই বইটা পড়ে যেন উনাকে অনেক কাছে থেকে দেখার সুযোগ পেলাম।
উনার বুয়েট লাইফে যখন স্বৈরাচারী এরশাদকে ঘিরে চারিদিকে একটা অশান্তিময় পরিবেশ, সেই সময়ে লেখক আত্মানুসন্ধান চালিয়ে গেছেন পুরোদমে। ওরিয়েন্টেশনে বক্তৃতা দেয়া, বুয়েট লাইব্রেরি, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র, বিজ্ঞান পাঠচক্র, পত্রিকার জন্যে অনুবাদ করা - এসব সহ আরো নানাবিধ কাজ করে মুনির ��াসান নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন। সাথে পুরোদমে চালিয়ে গেছেন পড়াশুনাও।
আত্মজীবনীমূলক এ বইয়ে আরেকটা সুন্দর সংযোজন এর 'পরিশিষ্ট' অংশটি। লেখক তার পছন্দের বই, সিনেমা, গান আর বক্তৃতার একটা সুন্দর লিস্ট জুড়ে দিয়েছেন সেখানে। :)
Displaying 1 - 30 of 42 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.