Mamata Banerjee's book demonetisation. Mamata Banerjee is the Chief Minister of West Bengal and the Chairperson of All India Trinamool Congress. She has been a vocal critic of demonetisation from the day it was announced.
জীবনের সকল রস , সকল অভিজ্ঞতার এমন অবাধ , এমন আশ্চর্য প্রকাশ জগতের অল্প কবির মধ্যে দেখা গিয়েছে।
মূল প্রশ্ন এখানেই যে এটা কেমন করে সম্ভব হলো ? এর মুলে কি কবিচিত্তের কোনো বিশেষ বৃত্তি কাজ করেছে ? এই অনুপম সৃষ্টির পাঠানুভূতি সম্পর্কে লেখার এক্কেবারে গোড়ায় স্বীকার করে নেওয়াই শ্রেয় যে মমতাকাব্যের এই যে অপূর্ব বৈচিত্র্য , এর মূলে রয়েছে কবির অন্তর্নিহিত স্বাভাবিক চিন্তাশীলতা।
'কথাঞ্জলী'র কবিতাগুলি বিভিন্ন স্থানে , বিভিন্ন সময়ে রচিত হলেও ভাবের দিক দিয়ে সেগুলির মধ্যে যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে। প্রত্যেকটি কবিতায় মানবদেবতার কাছে সমর্পন ও আমরণ সংগ্রামের ধ্বজা উড্ডীন রাখার ভাবটি লক্ষণীয়। মানবদেবতা পরম প্রেমময় , পরম করুনাময়। তিনিই অন্তরতম। সুখে-দুঃখে-আনন্দে তিনিই কবির একান্ত অবলম্বন। তিনিই সীমা , তিনিই অসীম। সীমা থেকে অসীমের দিকে কবির নিরন্তর যাত্রা।
'কথাঞ্জলী'তে ভারতীয় অধ্যাত্ম ভাবনা, রসায়ন, নৃতত্ব, ভূগোল, নৃত্যকলা, রাষ্ট্রতত্ব , ধনুর্বিদ্যা, সিন্ধুলিপির কালানুক্রমিক বিবর্তন কথা, সাই-ফি তথা মানবপ্রীতি, কবিতার ভাষায় প্রকাশ পেয়েছে। তাই কথাঞ্জলী কেবল গান অথবা অনুপম গীতিকবিতার সংকলন নয় , তা ভারতীয় সভ্যতার পাঁচ হাজার বছরের কন্টিনিউইটির দলিল।
আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কবিতায় 'সচলতা' যতটা পাওয়া যায়, এতটা বোধহয় পৃথিবীর আর কোনও কবির কবিতায় পাওয়া যায় না। তিনি আজ পর্যন্ত যা লিখেছেন তাদের মধ্যে একটি ক্রমপরিণতির অশ্রান্তধারা নিরন্তর বয়ে চলেছে -- এদের মূলে , অলক্ষ্যে কাজ করে চলেছে মহাজাগতিক কল্পনার এক অদৃশ্য গতিবেগ। অনুভূতি নামক জিনিসটা তো আর নিজে নিজে চলতে পারে না -- তা কেবল এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে আবর্ত সৃষ্টি করতে পারে। তাকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন হয় চিন্তার গতিবেগের। মমতার স্বাভাবিক রসানুভূতির অন্তরালে যে ঐশ্বরিক গতিবেগ নিরন্তর কাজ করে আসছে , সেই প্রচ্ছন্ন গতিবেগই কবির শাশ্বত অনুভূতিকে চিরদিনই বিচিত্রভাবে নানান দিকে প্রবাহিত করে দিয়েছে।
ঠিক এইসকল কারণগুলির জন্যই 'কথাঞ্জলী' ভারত তথা বিশ্ববাসীর কাছে একটি অমূল্য গ্রন্থ। সারাবিশ্বব্যাপী যে ভোগবাদী মনোভাব মানুষকে সত্যপথ, মঙ্গলের পথ, সুন্দরের পথ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে , তার থেকে মানুষ মুক্ত হবেই হবে 'কথাঞ্জলী'-র নির্দেশিত পথে।
আমি গর্বিত যে এই বই আমার আছে। এই বই আমি পড়েছি বলে আমি আজ এক উন্নত বিশ্বমানব।
বাংলা সাহিত্যে এমন চোখ ধাঁধানো জটিল ও বেশীর ভাগ আর্থ হীন লেখা দিয়ে বই ছাপানোর সাহস এই সংগ্রামী লেখিকার পক্ষেই সম্ভব৷ অবশ্যই স্বীকার করছি অর্থোদ্ধারের মত ব্যূৎপত্তি নেই অনেক ক্ষেত্রে | সেই দোষেই এর চেয়ে কম স্টার দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও সম্ভব হোলো না ৷