What do you think?


পালাবার পথ নেই
120 pages, Hardcover
Published January 1, 2017
About the author
Shaheen Akhtar
24 books50 followersShaheen Akhtar is the author of six short story collections and four novels. She has also edited the three-volume Soti O Swotontora: Bangla Shahitye Nari, about the portrayal of women in Bengali literature, and Women in Concert: An Anthology of Bengali Muslim Women's Writings 1904-1938.
Akhtar's second novel Talaash won the Best Book of the Year Award for 2004 from Prothom Alo, the largest-circulation daily newspaper in Bangladesh. The English translation of the novel was published by Zubaan Books, Delhi, India in 2011.
Novels:
1. Palabar Path nei (No Escape Route), Mowla Brothers, 2000
2. Talaash (The Search), Mowla Brothers, 2004
3. Shokhi Rongomala, Prothoma, 2010
4. Moyur Shinghashon (The Peacock Throne), Prothoma, 2014
Short stories:
1.Srimotir Jibondorson (Srimoti’s Philosophy), Shahityo Prakash, Dhaka, 1997
2. Boner Shange Amarloke (Sisters in Eternity), Srabon Prokashoni, Dhaka, 2001
3. Poneroti Golpo (Fifteen Stories), Protibhas, Kolkata, 2001
4. Abaro Prem Ashche (Once Again, Love), Mowla Brothers, Dhaka, 2006
5. Golpo Shomogro I, (Complete Stories Volume I), Mowla Brothers, Dhaka, 2007
6. Shish o Onanyo Golpo (The Whistle and Other Stories), Bengal Publications, 2013
Akhtar's second novel Talaash won the Best Book of the Year Award for 2004 from Prothom Alo, the largest-circulation daily newspaper in Bangladesh. The English translation of the novel was published by Zubaan Books, Delhi, India in 2011.
Novels:
1. Palabar Path nei (No Escape Route), Mowla Brothers, 2000
2. Talaash (The Search), Mowla Brothers, 2004
3. Shokhi Rongomala, Prothoma, 2010
4. Moyur Shinghashon (The Peacock Throne), Prothoma, 2014
Short stories:
1.Srimotir Jibondorson (Srimoti’s Philosophy), Shahityo Prakash, Dhaka, 1997
2. Boner Shange Amarloke (Sisters in Eternity), Srabon Prokashoni, Dhaka, 2001
3. Poneroti Golpo (Fifteen Stories), Protibhas, Kolkata, 2001
4. Abaro Prem Ashche (Once Again, Love), Mowla Brothers, Dhaka, 2006
5. Golpo Shomogro I, (Complete Stories Volume I), Mowla Brothers, Dhaka, 2007
6. Shish o Onanyo Golpo (The Whistle and Other Stories), Bengal Publications, 2013
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 12 of 12 reviews
March 12, 2023
একে একে শাহীন আখতারের সবকটি উপন্যাস পড়া হয়ে গেলো। এখন আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, শাহীন আখতার আমাদের জীবিত ঔপন্যাসিকদের মধ্যে সবচেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ ও তর্কসাপেক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী।
"পালাবার পথ নেই" লেখিকার প্রথম উপন্যাস। আশির দশকের পটভূমিতে প্রধান চরিত্র রানী ও অংশত বুলবুলিকে ঘিরে উপন্যাসটি আবর্তিত হয়েছে। ঢাকা, কলকাতা, ইউরোপ - যেখানেই এরা যাক না কেন, নারী হিসেবে তাদের পালাবার পথ নেই। কিন্তু নামকরণ শুধু পুরুষতন্ত্র ও সমাজের বিরুদ্ধতার কারণে রাখা হয়নি। রানী বা বুলবুলির নিজেদের কাছ থেকেও পালানোর পথ নেই। কেন নেই সেটাই উপন্যাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ আর এখানে লেখিকা প্রবল এক ধাক্কা দিয়েছেন তার মূল চরিত্রকে। রানীর সাথে সাথে আমাদেরও নিজেদের দিকে তাকাতে হয় নতুন কোরে।আরে! এভাবে তো ভেবে দেখিনি। কিন্তু দেখা দরকার। বোঝা দরকার।
পুরো উপন্যাসই রানীর সংগ্রাম, পলায়ন ও আত্মজিজ্ঞাসার গল্প। পালাতে পালাতে একটা সময় যখন আমাদের জানা হয়ে যায় যে পালাবার পথ নেই তখন নিজেকে প্রশ্ন করতে হয়, নিজেকে নতুন করে চিনতে হয়, কোথাও স্থির হয়ে দাঁড়াতে হয়।রানী সম্ভবত দাঁড়াতে পেরেছে।একদিন আমিও পারবো।
"পালাবার পথ নেই" লেখিকার প্রথম উপন্যাস। আশির দশকের পটভূমিতে প্রধান চরিত্র রানী ও অংশত বুলবুলিকে ঘিরে উপন্যাসটি আবর্তিত হয়েছে। ঢাকা, কলকাতা, ইউরোপ - যেখানেই এরা যাক না কেন, নারী হিসেবে তাদের পালাবার পথ নেই। কিন্তু নামকরণ শুধু পুরুষতন্ত্র ও সমাজের বিরুদ্ধতার কারণে রাখা হয়নি। রানী বা বুলবুলির নিজেদের কাছ থেকেও পালানোর পথ নেই। কেন নেই সেটাই উপন্যাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ আর এখানে লেখিকা প্রবল এক ধাক্কা দিয়েছেন তার মূল চরিত্রকে। রানীর সাথে সাথে আমাদেরও নিজেদের দিকে তাকাতে হয় নতুন কোরে।আরে! এভাবে তো ভেবে দেখিনি। কিন্তু দেখা দরকার। বোঝা দরকার।
পুরো উপন্যাসই রানীর সংগ্রাম, পলায়ন ও আত্মজিজ্ঞাসার গল্প। পালাতে পালাতে একটা সময় যখন আমাদের জানা হয়ে যায় যে পালাবার পথ নেই তখন নিজেকে প্রশ্ন করতে হয়, নিজেকে নতুন করে চিনতে হয়, কোথাও স্থির হয়ে দাঁড়াতে হয়।রানী সম্ভবত দাঁড়াতে পেরেছে।একদিন আমিও পারবো।
May 19, 2026
লেখিকার প্রথম উপন্যাস। তাই হয়তো কাহিনির বাঁধুনি সামান্য খাপছাড়া। শেষ অংশটুকু যেন সামান্য ইতস্তত বিক্ষিপ্ত। তবু যে-অসহায়তার বর্ণনা দিতে চেয়েছেন লেখিকা, তাকে অনুভব করতে একটুও অসুবিধে হয়নি।
তৃতীয় বিশ্বের নারী! কি শিক্ষিত (গালভরা ভাষায় আলোকপ্রাপ্ত), কি অশিক্ষিত— সমাজ তাদের জন্য নির্দিষ্ট গণ্ডি বেঁধে দিয়েছে। শিক্ষিত নারী যদি স্বাধীনচেতা হয় তাহলে তাকে অবধারিতভাবে পুরস্কৃত করা হয় "বেশ্যা" খেতাবে। অশিক্ষিত নারীর পুরস্কার শারীরিক নিগ্রহ। সমাজের বিধিনিষেধের বাইরে তাদের... পালাবার পথ নেই।
নারীর জীবনের পরম মোক্ষ হলো বিবাহ। বিয়ে হলো তো তারা "বেঁচে গ্যালো"। সমাজ তার উদ্ধত আঙুল উঁচিয়ে জিজ্ঞাসু সন্দেহের দৃষ্টিতে তাদের প্রশ্ন করবে না, ছিঃ এখনও বিয়ে হয়নি?! ক্যানো হয়নি? আর যদি বিয়ে হয়েও সুখ/ শান্তি/ আত্মসম্মান থাকে অধরা? সেই বিয়ে ছেড়ে যদি বেরিয়ে আসতে হয় তাদের? হায় হায়, পুরুষের নির্বিকল্প আশ্রয় হারিয়ে তারা এবার কোথায় যাবে! একাকী জীবন কীভাবে কাটাবে! "অরক্ষিত" অবস্থায় শেয়াল কুকুরে ছিঁড়ে খাবে না কি তাদের?
একজন তৃতীয় বিশ্বের নারী যেখানেই যান, স্বদেশে কিংবা বিদেশে, "কল্যাণময়" আমাদের এই সমাজের হাত থেকে তাদের পালাবার পথ নেই।
তৃতীয় বিশ্বের নারী! কি শিক্ষিত (গালভরা ভাষায় আলোকপ্রাপ্ত), কি অশিক্ষিত— সমাজ তাদের জন্য নির্দিষ্ট গণ্ডি বেঁধে দিয়েছে। শিক্ষিত নারী যদি স্বাধীনচেতা হয় তাহলে তাকে অবধারিতভাবে পুরস্কৃত করা হয় "বেশ্যা" খেতাবে। অশিক্ষিত নারীর পুরস্কার শারীরিক নিগ্রহ। সমাজের বিধিনিষেধের বাইরে তাদের... পালাবার পথ নেই।
নারীর জীবনের পরম মোক্ষ হলো বিবাহ। বিয়ে হলো তো তারা "বেঁচে গ্যালো"। সমাজ তার উদ্ধত আঙুল উঁচিয়ে জিজ্ঞাসু সন্দেহের দৃষ্টিতে তাদের প্রশ্ন করবে না, ছিঃ এখনও বিয়ে হয়নি?! ক্যানো হয়নি? আর যদি বিয়ে হয়েও সুখ/ শান্তি/ আত্মসম্মান থাকে অধরা? সেই বিয়ে ছেড়ে যদি বেরিয়ে আসতে হয় তাদের? হায় হায়, পুরুষের নির্বিকল্প আশ্রয় হারিয়ে তারা এবার কোথায় যাবে! একাকী জীবন কীভাবে কাটাবে! "অরক্ষিত" অবস্থায় শেয়াল কুকুরে ছিঁড়ে খাবে না কি তাদের?
একজন তৃতীয় বিশ্বের নারী যেখানেই যান, স্বদেশে কিংবা বিদেশে, "কল্যাণময়" আমাদের এই সমাজের হাত থেকে তাদের পালাবার পথ নেই।
March 1, 2026
ঢাকার বুকে একসাথে বাস করা আশির দশকের দুই নারীর গল্প। যারা হোস্টেল থেকে একসাথে নিজেদের পথচলা শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই পথচলতে গিয়ে রানি গিয়েছেন স্বাধীনতার খোঁজে ভারত আর বুলবুলি গিয়েছেন ইউরোপ। সমাজের মানুষের চোখে তারা হয়ে উঠেছিলে 'বেশ্যা'ও না আবার 'ভালো মেয়ে'ও না। তাদের ভাষ্যমতে, "চাকরি করি, ঘরে বইপত্রও আছে। গালে-ঠোঁটে রং মাখি না। বিয়েও করছি না। এইদিকে ছেলেদের চেয়ে আমাদের অতিথি আবার মেয়েরাই বেশি।"
'পালাবার পথ নেই' শাহীন আখতারের লেখা প্রথম উপন্যাস। উনার আরো বেশ উল্লেখযোগ্য উপন্যাস থাকলেও এই বইটি সহ পড়া হয়েছে মোট দুইটি। শাহিন আখতার বাংলা সাহিত্যে প্রখর লেখক-লেখিকাদের মধ্যে একজন হিসাবে অগ্রগণ্য। এই উপন্যাসের কথাই যদি ধরি তাহলে দেখা যায় আশির দশকে ঢাকার বুক থেকে ছড়িয়ে পড়া দুই নারীর আলাদা জীবনের গল্প আলাদা সংগ্রামের গল্প। বাংলাদেশ থেকে বের হয়ে একজন গিয়েছেন ভারতে গড়ে তুলেছেন সংসার। কিন্তু সমাজ নারীদের যে লক্ষ্মণরেখার মধ্যে আবদ্ধ করতে চায় তার বৈপরীত্য ঐ দেশেও দেখা যায় না। মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা স্বাধীনচেতা মানুষগুলোই পক্ষান্তরে হয়ে ওঠে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রতিনিধি।
অন্যদিকে ইউরোপে পাড়ি জমানো বুলবুলির কথা যদি ধরি, সূদুর ইউরোপে সেও কী পেয়েছে সেও কী পেয়েছে সেই স্বাধীনতা? যার খোঁজে এতদূর পাড়ি দেওয়া... লেখিকা সেই সময়ে নারী জীবনের যে বাঁধা বা সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন তা থেকে চোখ তুলে যদি বর্তমান সমাজের দিকেও তাকালে কী তার থেকে পরিবর্তিত কিছু দেখতে পাই? বরং যে মৌলিক প্রশ্নগুলোর সামনে লেখিকা তার লেখায় পাঠকের মনে তুলে দিয়েছেন তা আজও সমান গুরুত্ব বহন করে। তাই পালাতে গিয়ে যখন বোঝা যায় পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছে আর কোনো পালাবার পথ নেই তখন উঠে দাঁড়াতে হয়, ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার শুরু করতে হয় যাত্রা।
'পালাবার পথ নেই' শাহীন আখতারের লেখা প্রথম উপন্যাস। উনার আরো বেশ উল্লেখযোগ্য উপন্যাস থাকলেও এই বইটি সহ পড়া হয়েছে মোট দুইটি। শাহিন আখতার বাংলা সাহিত্যে প্রখর লেখক-লেখিকাদের মধ্যে একজন হিসাবে অগ্রগণ্য। এই উপন্যাসের কথাই যদি ধরি তাহলে দেখা যায় আশির দশকে ঢাকার বুক থেকে ছড়িয়ে পড়া দুই নারীর আলাদা জীবনের গল্প আলাদা সংগ্রামের গল্প। বাংলাদেশ থেকে বের হয়ে একজন গিয়েছেন ভারতে গড়ে তুলেছেন সংসার। কিন্তু সমাজ নারীদের যে লক্ষ্মণরেখার মধ্যে আবদ্ধ করতে চায় তার বৈপরীত্য ঐ দেশেও দেখা যায় না। মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা স্বাধীনচেতা মানুষগুলোই পক্ষান্তরে হয়ে ওঠে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রতিনিধি।
অন্যদিকে ইউরোপে পাড়ি জমানো বুলবুলির কথা যদি ধরি, সূদুর ইউরোপে সেও কী পেয়েছে সেও কী পেয়েছে সেই স্বাধীনতা? যার খোঁজে এতদূর পাড়ি দেওয়া... লেখিকা সেই সময়ে নারী জীবনের যে বাঁধা বা সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন তা থেকে চোখ তুলে যদি বর্তমান সমাজের দিকেও তাকালে কী তার থেকে পরিবর্তিত কিছু দেখতে পাই? বরং যে মৌলিক প্রশ্নগুলোর সামনে লেখিকা তার লেখায় পাঠকের মনে তুলে দিয়েছেন তা আজও সমান গুরুত্ব বহন করে। তাই পালাতে গিয়ে যখন বোঝা যায় পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছে আর কোনো পালাবার পথ নেই তখন উঠে দাঁড়াতে হয়, ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার শুরু করতে হয় যাত্রা।
December 2, 2022
'... আমার কেবল মনে পড়ে, এমন এক সময় গেছে আমাদের কোথাও-না-কোথাও বেরিয়ে যাওয়ার পথ ছিল। যদিও তা দিকচিহ্নহীন। আর এর শেষটা ছিল অজানা, রহস্যময়। এখন সেই পথের বুকে ঘাস গজিয়েছে। কাঁটা গাছ আর বিষাক্ত ঝোপঝাড়ে তলিয়ে গেছে পথের শেষ চিহ্নটুকু।'

শীতের চাঁদনি রাতে উত্তর দিগন্তে ভেসে থাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা নিয়ে শুরু হয় উপন্যাসের প্রথম অধ্যায় 'ভিউপয়েন্ট'। শুরুটাই দারুণ। বসতে হয় নড়েচড়ে। এরপর ধীরে ধীরে মোড়ক উন্মোচন হয় গল্পকথক রানি'র জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়ের। আরো এক কেন্দ্রীয় চরিত্র বুলবুলিকে শামিল করে গল্প এগোয় কখনও সরলরৈখিক পথে, কখনওবা এবড়ো-থেবড়ো রাস্তায়, আবার কখনও বা সে গল্প ঘুরতে থাকে চক্রাকারে। অন্তিম অধ্যায়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কেমন যেন এক ঘোরের মধ্যে আবিষ্ট করে রাখে আশির দশকের দুই তরুণীর এই গল্প।
শেষে গিয়ে আবারও মুগ্ধতা!
পালাবার পথ নেই শাহীন আখতারের প্রথম উপন্যাস, যেটি তাঁর পরবর্তী উপন্যাসগুলোর প্রধান দুই বৈশিষ্ট্য (এক- ইতিহাস আশ্রিত, দুই- বৃহৎ পরিসর) থেকে পুরোপুরি আলাদা। তবে একশ বিশ পৃষ্ঠার ছোট গন্ডির মধ্যেই নারী-পুরুষের সম্পর্ক, জীবনবোধ, মনন আর দৃষ্টিভঙ্গির যে স্বতন্ত্র পথ তিনি তৈরি করেছেন, তার অনবদ্যতা অস্বীকার করার উপায় কই!
নভেম্বরের শেষদিকের কোনো এক কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুরু করেছিলাম যে উপন্যাস, তা শেষ হলো ডিসেম্বরের শহরের কোনো এক দুপুরে ল্যাপটপে ভায়োলিনের আওয়াজ শুনতে শুনতে।
উত্তরবঙ্গের হিমহিম এই শীতের মরশুমে খোলা জানালা দিয়ে শীতল হাওয়া এসে শরীর কাঁপিয়ে দিলেও এমন চমৎকার লেখা পড়ার পর পুরো পাঁচ তারকা দিতে হাত কাঁপে না একবিন্দুও।
(০২.১২.২২)
March 27, 2020
এই উপন্যাসে নারী-পুরুষ সম্পর্কের, সমাজের মুখোশ একে-একে খুলে নেয়া হয়েছে নির্মম হাতে। একজন নারী নিজস্ব জীবনবোধ, মনন আর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কাজটি করেছেন। আমাদের সাহিত্য জগতে পুরুষের অনুসরণে দেখার লেখার যে পরিত্রাণহীন প্রাদ্রুর্ভাব- এই লেখিকার অবস্থান তার ঠিক বিপরীত মেরুতে। এই দুষ্টচক্র লক্ষণরেখা ভেঙে বেরিয়ে আসার জন্যে হলেও 'পালাবার পথ নেই' বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র জায়গা পেতে পারে।
মুগ্ধ করেছে শাহীন আখতারের গদ্য, তার পরবর্তী উপন্যাসগুলোও পড়ার ইচ্ছা থাকলো।
মুগ্ধ করেছে শাহীন আখতারের গদ্য, তার পরবর্তী উপন্যাসগুলোও পড়ার ইচ্ছা থাকলো।
July 17, 2019
আধেক দেয়া যায় না বলে ৫ তারা-ই রইলো।
সম্ভবত: বর্তমানে বাংলাদেশের উপন্যাসে সবচেয়ে স্বতন্ত্র রাস্তাটি শাহীন আখতারের।
সম্ভবত: বর্তমানে বাংলাদেশের উপন্যাসে সবচেয়ে স্বতন্ত্র রাস্তাটি শাহীন আখতারের।
April 18, 2024
“পালাবার পথ নেই” শাহীন আখতারের প্রথম উপন্যাস। কোন কোন লেখকের প্রথম উপন্যাসই এমন বাজিমাত করে, তাদের হাত দিয়ে সাহিত্যের যে একটা স্বাতন্ত্র্য ধারার সূচনা হতে যাচ্ছে সেই আভাস তখনই পাওয়া যায়। যদিও শাহীন আখতার কে পড়েছি আমি তিনি বিখ্যাত হওয়ার অনেক পরে, তবুও প্রথম উপন্যাসের মধ্যে দিয়ে উনি যে রীতিমতো উনার উপস্থিতি ঘোষণা করেছিলেন- সেটা বলাই বাহুল্য।
রানি আর বুলবুলির দুই তরুণীর গল্পটার শুরু আশির দশকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের কঠিন নিয়মকানুনের ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে এরা দুইজন ভাবছে এইতো স্বাধীন জীবনের শুরু। কিন্তু ওরা জানতো না, নারীর অভিধানে আসলে ওই শব্দটার কোন অস্তিত্বই নেই। তাইতো -
“দিনে দিনে আরো বুঝেছিলাম, সত্য-মিথ্যা যা-ই বলি না, কোনো বাসায় আমাদের দু-তিন মাসের বেশি থাকা হবে না। কারণ বাড়িঅলারা বুঝতে পারছিলা না, ‘বেশ্যা’ও না, আবার ‘ভালো মেয়ে’ও না – আমরা আসলে কী? চাকরি করি, ঘরে বইপত্রও আছে। গালে-ঠোঁটে রঙ মাখি না। বিয়েও করছি না। এদিকে ছেলেদের চেয়ে আমাদের অতিথি আবার মেয়েরাই বেশি।” (পৃঃ ৩৩)
বাসাভাড়া পাওয়া যায় না, গেলেও সেখানে দু-তিনমাসের বেশি থাকা যায় না। কখনও প্রতিবেশি ভাবী তাদের ঘরে অ্যাশট্রে দেখতে পেয়ে বাড়িওয়ালাকে অভিযোগ জানায়। অথবা বাড়িওয়ালা যখন টের পান এই মেয়েগুলো না-বেশ্যা, না-ভালো মেয়ে ধরনের তখন বাড়িতে যখন দুজনের একজন থাকে না তখন তিনি এসে হাজির হন বাবু সেজে। একসময় রানি আর বুলবুলি আবিষ্কার করে – হোক না “ফ্লোটিং” তবু বেশ্যাদেরও এক চিলতে থাকার জায়গা আছে, অথচ একটু খাঁচাছাড়া পাখি হয়ে বাঁচতে চাওয়া ওদের সেইটুকও নেই।
নিজের দেশে না হয় এই অবস্থা। তাহলে দেশের বাইরে উন্নত দেশে হয়ত তারা পাবে একটু খানি পালাবার পথ। এই আশায় রানি পাড়ি জমায় পাশের দেশ ভারতে। আর বুলবুলি সুইডেনে। তবে রানির আবারও স্বপ্নভঙ্গ হতে বেশি দেরি লাগে না। এজন্য ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে ফুচকা খেতে খেতে বলছে বুলবুলি কে –
“‘কলকাতার পথেঘাটে মেয়েরা বেশ ফ্রি। স্বাধীনভাবে চলাফেরা করে, বুঝলে? অথচ ঘরের ভিতর তাকাও, ওখানে এখনো উনিশ শতক আটকা পড়ে আছে। কিচ্ছু বদলায়নি।’
‘কিচ্ছু বদলায়নি মানে ঢাকার চেয়েও খারাপ?’
‘ঢাকার চেয়েও খারাপ।’” (পৃঃ ৪২)
আর রানির স্বামী সিদ্ধার্থ? কলকাতার হিন্দু ছেলে সিদ্ধার্থ যেন শুধু মুসলমান মেয়ে ভালো লাগে আর বাড়ির লোককে বেশ একটা থাপ্পড় দেয়া যাবে ভেবেই শুধু বিয়ে করেছিলে রানিকে। সিদ্ধার্থের মতে –
“‘এই বুঝি করতে? তোমরা না ইসলামিক রাষ্ট্রের মেয়ে!’ বিয়ের আগে আমার আর বুলবুলির ঢাকার জীবনযাপন নিয়ে সিদ্ধার্থের কথা বলার ধরন ছিল একরকম পিঠ চাপড়ানোর।
‘ইসলামিক রাষ্ট্রের তুমি কী দেখলে?’ আমি ওর ভুল ভাঙ্গানোর চেষ্টা করি। ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম আর ইসলামিক রাষ্ট্র এক জিনিস নয়।’
‘ওই একই হলো, থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়।’” (পৃঃ ২৮)
ওদের বিয়েটা টিকেছিল মাত্র দু বছর। আবার কলকাতার পাট চুকিয়ে দেশে ফিরে আসা রানির। সেই সাথে সংশয়, লজ্জা – যার আশায় দেশ ছেড়েছিল একদিন তার কিছুই কি পেলো সে? দীপা যেমন শাহাবুদ্দীনের মতো কাউকে বিয়ে করে সুখী হলো যে লোক কুরোসাওয়া বা বার্গম্যানের কোন সিনেমা দেখিনি আর বলে ওয়ার এন্ড পীস গোর্কির লেখা – সে জীবনও যেন ভালো। শুধু ভালো না সমাজের ধরাবাঁধা নিয়মের বাইরে যেয়ে কিছু করা।
এদিকে বুলবুলির শুরুর দিকের চিঠিগুলোতে বিদেশী ল্যান্ডস্কেপের ছবি থেকে মনে হতো ভারতের চেয়ে আরও উন্নত দেশ সুইডেনে গিয়ে ও হয়ত ভালোই করেছে। কিন্তু সুইডেন থেকে জার্মানি, জার্মানি থেকে সুইডেন – এই করে বুলবুলিও কিসের কাছ থেকে যেন পালানোর চেষ্টা করে ফেরারির মতো। অ্যানার কাছ থেকেই রানি শুনে নেয় বুলবুলির কথা -
“শেষ পর্যন্ত অ্যানার মুখ থেকে আমাকে শুনতে হলো, ‘ডিগ্রি নেয়া, আরামে থাকা, টাকা করা – এসবের কোনটাতেই দেখছি ওর আগ্রহ নেই।’
…
‘এসব যদি না থাকে, কেবল স্বাধীনভাবে থাকবার জন্য কারো বিদেশ যাওয়া উচিত নয়। অ্যাবসোলিউট ফ্রিডম কি কোথায় আছে? বিশেষত তুমি যখন নারী, তার ওপর আবার বহিরাগত।’” (পৃঃ ৯৪)
বুলবুলির আত্মহত্যার পর পত্রিকাতে আসতে থাকে একের পর এক সংবাদ – “স্টকহোমে বাংলাদেশি তরুনীর আত্মহত্যা।” আর তার মৃত্যুর একুশ দিন পরে আন্তর্জাতিক পাতায় আধা পাতার প্রতিবেদন সেখানে উঠে আসে দেশে থাকতেই বুলবুলি মজুমদার কেমন বেপরোয়া জীবন যাপন করতেন! প্রতিবেদকের নাম ঠিকানাহীন এই খবরের মূল উদ্দেশ্য যেন দেশের মানুষের কাছে সুইডেন-জার্মানির বাংলাদেশি ছাত্রদের পক্ষ থেকে বুলবুলির আত্মহত্যার একটা সাফাইয়ের মতো।
“পালাবার পথ নেই” তার নামের মতনই সার্থক একটা উপন্যাস। স্বাধীনচেতা রানি বা বুলবুলির অবস্থা যেন “সংশপ্তক” উপন্যাসের হুরমতির মতো যার কপালে ছিলো পঞ্চম জর্জের প্রতিকৃতি আঁকা মুদ্রার পোড়া দাগ – “গোল দাগের বৃত্ত ভেঙ্গে সে কিছুতেই পালাতে পারছে না।” শিক্ষা, সামাজিক অবস্থান কিংবা উন্নতবিশ্বের দেশ – কোন কিছুই তাদের কে পালাবার পথ করে দিতে পারছে না।
এতো ভালো লাগার পরেও আমি এই বইটাকে সাড়ে তিন তারাই দিবো – কারন এই বইয়ের অনেক মতামতের সাথে আমার মতের মিল নেই। আজকে থেকে পাঁচ-ছয় বছর আগে পড়লে বইটাকে আমি পাঁচ তারাই দিতাম। তাছাড়া শাহীন আখতার আমার খুব প্রিয় একজন লেখক হলেও উনার লেখার অরৈখিক বর্ণনা আমার সাথে মাঝে মাঝে খুবই কঠিন লাগে। যেমন এই বইটাও এখন ওখানের বিচ্ছিন্ন সুতো জুড়তে আমার আরেকবার পড়া লাগল। তবে এটা পাঠক হিসেবে আমার নিজেরই সীমাবদ্ধতা।
রানি আর বুলবুলির দুই তরুণীর গল্পটার শুরু আশির দশকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের কঠিন নিয়মকানুনের ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে এরা দুইজন ভাবছে এইতো স্বাধীন জীবনের শুরু। কিন্তু ওরা জানতো না, নারীর অভিধানে আসলে ওই শব্দটার কোন অস্তিত্বই নেই। তাইতো -
“দিনে দিনে আরো বুঝেছিলাম, সত্য-মিথ্যা যা-ই বলি না, কোনো বাসায় আমাদের দু-তিন মাসের বেশি থাকা হবে না। কারণ বাড়িঅলারা বুঝতে পারছিলা না, ‘বেশ্যা’ও না, আবার ‘ভালো মেয়ে’ও না – আমরা আসলে কী? চাকরি করি, ঘরে বইপত্রও আছে। গালে-ঠোঁটে রঙ মাখি না। বিয়েও করছি না। এদিকে ছেলেদের চেয়ে আমাদের অতিথি আবার মেয়েরাই বেশি।” (পৃঃ ৩৩)
বাসাভাড়া পাওয়া যায় না, গেলেও সেখানে দু-তিনমাসের বেশি থাকা যায় না। কখনও প্রতিবেশি ভাবী তাদের ঘরে অ্যাশট্রে দেখতে পেয়ে বাড়িওয়ালাকে অভিযোগ জানায়। অথবা বাড়িওয়ালা যখন টের পান এই মেয়েগুলো না-বেশ্যা, না-ভালো মেয়ে ধরনের তখন বাড়িতে যখন দুজনের একজন থাকে না তখন তিনি এসে হাজির হন বাবু সেজে। একসময় রানি আর বুলবুলি আবিষ্কার করে – হোক না “ফ্লোটিং” তবু বেশ্যাদেরও এক চিলতে থাকার জায়গা আছে, অথচ একটু খাঁচাছাড়া পাখি হয়ে বাঁচতে চাওয়া ওদের সেইটুকও নেই।
নিজের দেশে না হয় এই অবস্থা। তাহলে দেশের বাইরে উন্নত দেশে হয়ত তারা পাবে একটু খানি পালাবার পথ। এই আশায় রানি পাড়ি জমায় পাশের দেশ ভারতে। আর বুলবুলি সুইডেনে। তবে রানির আবারও স্বপ্নভঙ্গ হতে বেশি দেরি লাগে না। এজন্য ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে ফুচকা খেতে খেতে বলছে বুলবুলি কে –
“‘কলকাতার পথেঘাটে মেয়েরা বেশ ফ্রি। স্বাধীনভাবে চলাফেরা করে, বুঝলে? অথচ ঘরের ভিতর তাকাও, ওখানে এখনো উনিশ শতক আটকা পড়ে আছে। কিচ্ছু বদলায়নি।’
‘কিচ্ছু বদলায়নি মানে ঢাকার চেয়েও খারাপ?’
‘ঢাকার চেয়েও খারাপ।’” (পৃঃ ৪২)
আর রানির স্বামী সিদ্ধার্থ? কলকাতার হিন্দু ছেলে সিদ্ধার্থ যেন শুধু মুসলমান মেয়ে ভালো লাগে আর বাড়ির লোককে বেশ একটা থাপ্পড় দেয়া যাবে ভেবেই শুধু বিয়ে করেছিলে রানিকে। সিদ্ধার্থের মতে –
“‘এই বুঝি করতে? তোমরা না ইসলামিক রাষ্ট্রের মেয়ে!’ বিয়ের আগে আমার আর বুলবুলির ঢাকার জীবনযাপন নিয়ে সিদ্ধার্থের কথা বলার ধরন ছিল একরকম পিঠ চাপড়ানোর।
‘ইসলামিক রাষ্ট্রের তুমি কী দেখলে?’ আমি ওর ভুল ভাঙ্গানোর চেষ্টা করি। ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম আর ইসলামিক রাষ্ট্র এক জিনিস নয়।’
‘ওই একই হলো, থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়।’” (পৃঃ ২৮)
ওদের বিয়েটা টিকেছিল মাত্র দু বছর। আবার কলকাতার পাট চুকিয়ে দেশে ফিরে আসা রানির। সেই সাথে সংশয়, লজ্জা – যার আশায় দেশ ছেড়েছিল একদিন তার কিছুই কি পেলো সে? দীপা যেমন শাহাবুদ্দীনের মতো কাউকে বিয়ে করে সুখী হলো যে লোক কুরোসাওয়া বা বার্গম্যানের কোন সিনেমা দেখিনি আর বলে ওয়ার এন্ড পীস গোর্কির লেখা – সে জীবনও যেন ভালো। শুধু ভালো না সমাজের ধরাবাঁধা নিয়মের বাইরে যেয়ে কিছু করা।
এদিকে বুলবুলির শুরুর দিকের চিঠিগুলোতে বিদেশী ল্যান্ডস্কেপের ছবি থেকে মনে হতো ভারতের চেয়ে আরও উন্নত দেশ সুইডেনে গিয়ে ও হয়ত ভালোই করেছে। কিন্তু সুইডেন থেকে জার্মানি, জার্মানি থেকে সুইডেন – এই করে বুলবুলিও কিসের কাছ থেকে যেন পালানোর চেষ্টা করে ফেরারির মতো। অ্যানার কাছ থেকেই রানি শুনে নেয় বুলবুলির কথা -
“শেষ পর্যন্ত অ্যানার মুখ থেকে আমাকে শুনতে হলো, ‘ডিগ্রি নেয়া, আরামে থাকা, টাকা করা – এসবের কোনটাতেই দেখছি ওর আগ্রহ নেই।’
…
‘এসব যদি না থাকে, কেবল স্বাধীনভাবে থাকবার জন্য কারো বিদেশ যাওয়া উচিত নয়। অ্যাবসোলিউট ফ্রিডম কি কোথায় আছে? বিশেষত তুমি যখন নারী, তার ওপর আবার বহিরাগত।’” (পৃঃ ৯৪)
বুলবুলির আত্মহত্যার পর পত্রিকাতে আসতে থাকে একের পর এক সংবাদ – “স্টকহোমে বাংলাদেশি তরুনীর আত্মহত্যা।” আর তার মৃত্যুর একুশ দিন পরে আন্তর্জাতিক পাতায় আধা পাতার প্রতিবেদন সেখানে উঠে আসে দেশে থাকতেই বুলবুলি মজুমদার কেমন বেপরোয়া জীবন যাপন করতেন! প্রতিবেদকের নাম ঠিকানাহীন এই খবরের মূল উদ্দেশ্য যেন দেশের মানুষের কাছে সুইডেন-জার্মানির বাংলাদেশি ছাত্রদের পক্ষ থেকে বুলবুলির আত্মহত্যার একটা সাফাইয়ের মতো।
“পালাবার পথ নেই” তার নামের মতনই সার্থক একটা উপন্যাস। স্বাধীনচেতা রানি বা বুলবুলির অবস্থা যেন “সংশপ্তক” উপন্যাসের হুরমতির মতো যার কপালে ছিলো পঞ্চম জর্জের প্রতিকৃতি আঁকা মুদ্রার পোড়া দাগ – “গোল দাগের বৃত্ত ভেঙ্গে সে কিছুতেই পালাতে পারছে না।” শিক্ষা, সামাজিক অবস্থান কিংবা উন্নতবিশ্বের দেশ – কোন কিছুই তাদের কে পালাবার পথ করে দিতে পারছে না।
এতো ভালো লাগার পরেও আমি এই বইটাকে সাড়ে তিন তারাই দিবো – কারন এই বইয়ের অনেক মতামতের সাথে আমার মতের মিল নেই। আজকে থেকে পাঁচ-ছয় বছর আগে পড়লে বইটাকে আমি পাঁচ তারাই দিতাম। তাছাড়া শাহীন আখতার আমার খুব প্রিয় একজন লেখক হলেও উনার লেখার অরৈখিক বর্ণনা আমার সাথে মাঝে মাঝে খুবই কঠিন লাগে। যেমন এই বইটাও এখন ওখানের বিচ্ছিন্ন সুতো জুড়তে আমার আরেকবার পড়া লাগল। তবে এটা পাঠক হিসেবে আমার নিজেরই সীমাবদ্ধতা।
March 30, 2020
কিছু মানুষকে শুধু একাই বাঁচতে হয়....
July 1, 2017
শুরুটা দুর্দান্ত, শেষটাও। মাঝে? মাঝে আপনি একটা ঘোরের মধ্যে চলতে থাকবেন। লেখকের সাফল্য এই যে এই ঘোরের মধ্যে তিনি আপনাকে রেখে দিতে পারবেন। অত্যন্ত সফলভাবে। "পুরুষ" হয়ে "নারী" কিংবা আপনি যেই হন না কেন "অপর" কে বুঝতে হলে এই ঘোরের মধ্যে না ঢুকে উপায় নেই। সাংবাদিকসুলভ তথ্য উপস্থাপন কিংবা আবিষ্কার এর দার্শনিক ভাষ্য, না হবে না। মানবিক কথন চাই। বিষয় প্রসঙ্গে আসি, এটা নারীবাদী উপন্যাস হতে পারে, এমন একটা ধারণা নিয়ে শুরু করেছিলাম। নাসরীন জাহান এর উড়ুক্কুতে সেখান থেকে বের না হতে পেরে বের হয়েই গিয়েছি। এখানে সেটা ঘটেনি। ও লেবেল টা তোলা থাক। সামনের উপন্যাসগুলি নিয়ে প্রবল আগ্রহ তৈরী হলো। উনার গদ্যের ভক্ত হয়ে আছি এরই মধ্যে। শুভ পাঠ।
March 19, 2020
যখন আমরা জানি না; ভাইরাস ছড়ানো জীবন ও প্রবল সংকট আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। যখন প্রতিটি দিন এতই বিভীষিকাময় যে ঘুম কেটে গেলেও; জেগে থাকাটুকু দুঃস্বপ্নের কাছাকাছি মনে হয়, তখন উপন্যাসের পাতায় স্কেপরুট খুঁজতে গেলে দেখি শিরোনাম 'পালাবার পথ নেই'। হাসি পায়, বেশ হাসি পায়। ভাবি, জীবন খুব ট্রল করছে। আবার রাণী ও বুলবুলির মতো সূর্যাস্ত আইনসহ নানা দেয়াল ও বৃত্ত ডিঙিয়ে চলা দুজনকে জেনে মনে হয়, 'নাহ, সবকিছুর পরেও জীবন বড় সুন্দর সিস্টার'।
বুলবুলি যখন দুটিমাত্র লাইন তিন রকম সুরে গেয়ে গেয়ে কোনো এক বৃষ্টির দিনকে আরও বিষাদগ্রস্ত করে ফেলে, তখন ঢাকা শহরের সন্ধ্যা নেমে আসা আকাশের গায়ে ধোঁয়া ধোঁয়া অন্ধকার। বারান্দার গ্রীল পেরিয়ে দেখা যায় একলা নিরুত্তর আকাশ। অপ্রকাশিত, অপ্রত্যাশিত সব ভাবনা কাজ করে। আর বিশ বছর আগে লিখে যাওয়া দুর্দান্ত উপন্যাসের লেখককে বলতে ইচ্ছে করে 'Kudos to you...'
আরেকটি মজার বিষয় হচ্ছে, একইনামে কলকাতার বিখ্যাত সাহিত্যিক সুচিত্রা ভট্টাচার্যের উপন্যাস আছে। যদিও তার এই নামের উপন্যাসটি মূলত অন্য জঁরার। তবে শাহীন আখতারের মতো সুচিত্রা ভট্টাচার্য নিজেও আমৃত্যু লেখনীতে নারীর নিজস্ব জগত, মনন, স্বাধীনতা, অধিকার ও উপলব্ধি নিয়ে লিখে গিয়েছেন। দুই সময়ের দুই প্রভাবশালী নারী ঔপন্যাসিকের বইয়ের নামসহ এই মিলটুকু বেশ চমকপ্রদ লাগে।
ভাইরাস নয় দিনশেষে 'ভালো থাকা আর আলোর মুক্তি' সংক্রামিত হোক এই প্রত্যাশার সাথে বইটির জন্য ৫টি তারা।
বুলবুলি যখন দুটিমাত্র লাইন তিন রকম সুরে গেয়ে গেয়ে কোনো এক বৃষ্টির দিনকে আরও বিষাদগ্রস্ত করে ফেলে, তখন ঢাকা শহরের সন্ধ্যা নেমে আসা আকাশের গায়ে ধোঁয়া ধোঁয়া অন্ধকার। বারান্দার গ্রীল পেরিয়ে দেখা যায় একলা নিরুত্তর আকাশ। অপ্রকাশিত, অপ্রত্যাশিত সব ভাবনা কাজ করে। আর বিশ বছর আগে লিখে যাওয়া দুর্দান্ত উপন্যাসের লেখককে বলতে ইচ্ছে করে 'Kudos to you...'
আরেকটি মজার বিষয় হচ্ছে, একইনামে কলকাতার বিখ্যাত সাহিত্যিক সুচিত্রা ভট্টাচার্যের উপন্যাস আছে। যদিও তার এই নামের উপন্যাসটি মূলত অন্য জঁরার। তবে শাহীন আখতারের মতো সুচিত্রা ভট্টাচার্য নিজেও আমৃত্যু লেখনীতে নারীর নিজস্ব জগত, মনন, স্বাধীনতা, অধিকার ও উপলব্ধি নিয়ে লিখে গিয়েছেন। দুই সময়ের দুই প্রভাবশালী নারী ঔপন্যাসিকের বইয়ের নামসহ এই মিলটুকু বেশ চমকপ্রদ লাগে।
ভাইরাস নয় দিনশেষে 'ভালো থাকা আর আলোর মুক্তি' সংক্রামিত হোক এই প্রত্যাশার সাথে বইটির জন্য ৫টি তারা।
January 10, 2025
" এখন প্রশ্ন হলো কী করেছি আমি আর বুলবুলি?"
উপন্যাসের এই জায়গাটাই এসে মনের ভেতর বিপন্নতার নদী বইতে শুরু করে। আসলেই তো ওরা কী করেছে যে দেশ-বিদেশ, এমনকি নিজের কাছেও নিজের ঠাঁই মিলল না?
দুর্দান্ত স্ট্রিম অফ কনশাসনেস, তারচেয়েও সুমধুর ভাষা, তারচেয়েও বেদনাদায়ক গল্প। শাহীন আখতার সেই ২০০০ সালে বের হওয়া উপন্যাসটি পড়ে চুপচাপ কিছুক্ষণ বসে থাকতে হয়। তার জীবনকে দেখার যে চোখ, সেই চোখটা যদি ধার পেতাম!
উপন্যাসের এই জায়গাটাই এসে মনের ভেতর বিপন্নতার নদী বইতে শুরু করে। আসলেই তো ওরা কী করেছে যে দেশ-বিদেশ, এমনকি নিজের কাছেও নিজের ঠাঁই মিলল না?
দুর্দান্ত স্ট্রিম অফ কনশাসনেস, তারচেয়েও সুমধুর ভাষা, তারচেয়েও বেদনাদায়ক গল্প। শাহীন আখতার সেই ২০০০ সালে বের হওয়া উপন্যাসটি পড়ে চুপচাপ কিছুক্ষণ বসে থাকতে হয়। তার জীবনকে দেখার যে চোখ, সেই চোখটা যদি ধার পেতাম!
October 16, 2024
উপন্যাস সাধারণত তার সুবিশাল ক্যানভাসে বিবিধ অনুষঙ্গ সমেত বিস্তৃত জীবনের কথা বলে। এইসব অনুষঙ্গ অসীম নয়। প্রত্যেক পাঠকের কাছেই তার কিছু চেনা, আবার কিছু অচেনা। উপন্যাসের পরতে পরতে জীবনের এইসব অনুষঙ্গই বারবার ফিরে ফিরে আসে বিভিন্ন গল্পের আদল নিয়ে। একজন লেখকের স্বকীয়তা ও শক্তিমত্তার দেখা মেলে গল্পের বিষয়বস্তুতে নয় বরং প্রকাশভঙ্গির নৈপূন্যে।
শাহীন আখতারের প্রথম উপন্যাস “পালাবার পথ নেই” যেখানে উপন্যাসিক হিসেবে তার শক্তিমত্তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলে যায়। ঠাকুরগাঁয়ের এক পুরোনো কবরখানা হয়ে কোন এক রেস্ট হাউজ অভিমুখী যাত্রাপথেই যেন সমস্ত গল্পটা বলা হয়ে যায়। এই গল্পের গতিপথ মোটেও সরল নয়। অন্তহীন গোলকধাঁধার ভেতর পাক খেতে থাকা রানী ও বুলবুলির মতোই গল্পের অসংখ্য বাঁকবদল ঘটে। লেখক অসামান্য নৈপূন্যে গল্পটা বলে যান স্থান-কালের সীমারেখা ভেঙ্গে ফেলে। পড়তে পড়তে কখনো কখনো মনে হয় ঢুকে পড়েছি অন্য কারো স্বপ্নদৃশ্যের ভেতর অথবা হয়তো কোন স্বপ্লদৃশ্যের ভেতর বসেই বাস্তবকে একান্তে নিরীক্ষণ করছি চুপচাপ।
চিরন্তন স্বাধীনতা কিংবা মুক্তির ধারণা আদোতে এক ক্ষণস্থায়ী বিভ্রম। এমন আদর্শ এক জীবনের জন্য স্রোতের বিপরীতে লড়ে যাওয়ার অর্থ স্রেফ চোরাবালিতে আটকে যাবার নামান্তর। বাঁচার জন্য উপরে ওঠার চেষ্টা মানে ক্রমেই তলিয়ে যাওয়া অন্তহীন পাঁকে। এই তেতো সত্যটা হজম করা কষ্ট তবুও মেনে নিতে হবে বাধ্য হয়ে। আমরা সবাই মূলত মোড়কবন্দী পণ্য। এই মোড়কের কারিগর রাষ্ট্র ও সমাজ, যুগে যুগে যার আদল বদলায়, কিন্তু চরিত্র কি বদলায়? বোধহয় না। বরং সে স্বৈরাচারী হয়ে তার মতো করে ব্যক্তির চরিত্র নির্মাণ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এই নাগপাশ অভেদ্য, ভয়াবহ। এখানে বেঁচে থাকতে হয় কাফকার বর্ণিত চরিত্র হয়ে। তুমি সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছো তো ছাঁদে ঠেকে যাবে মাথা, কিংবা পা ছড়িয়ে বসতে চাইছো তো চতুর্দিক থেকে চেপে ধরবে পাথুরে দেয়াল। আর এসব ছেড়েছুড়ে পালিয়ে যেতে চাইছো তো বার বার তোমার পা আটকে যাবে পথে পথে ছড়ানো বুনো কাঁটাঝোপে।
শাহীন আখতারের “পালাবার পথ নেই” পড়তে গিয়ে পাঠক হিসেবে থেকে থেকে দমবন্ধ অনুভূতি হয় আমার। রানী ও বুলবুলির মতো আমিও যেন মরিয়া হয়ে পথ খুঁজতে থাকি পালাবার। কেননা আমিও তো পালিয়ে যেতেই বইয়ের মলাটে-অক্ষরে মুখ লুকিয়ে আছি। মনে হয় পথ খুঁজে পাওয়া গেলে হয়তোবা পাঠক হিসেবে আমারও মুক্তি ঘটবে।
কিন্তু রানী ও বুলবুলি এই দুজনে’র কেউই শেষমেশ মুক্তির পথ খুঁজে পায় না। ভৌগলিক অবস্থান বড়জোর ওদের পরষ্পরের ভেতর একটা স্বল্পস্থায়ী আড়াল নির্মাণ করে দেয় যা একসময় ঠিকই উড়ে যায় পলকা হাওয়ার তোড়ে। রানী ও বুলবুলির পিছু ছাড়ে না আততায়ী স্মৃতি আর ব্র্যত্য জীবনের অভিশাপ। তাইতো দীপার মতো একেক সময় মনে হয় কি দরকার ছিলো স্বাধীনতা বা স্বেচ্ছামুক্তির নামে এমন বেপরোয়া জীবন বেছে নেবার? বেদনা ও বঞ্চনার স্মৃতি বয়ে বেড়ানোর চেয়ে ঢের ভালো তেমন এক জীবন যেখানে দু:খ পেলে নিমেষেই চোখের জল মুছে আবার চলমান জীবনের স্রোতে মিশে যাওয়া যায়।
একই বেদনার কাছে, কিংবা একই বঞ্চনা ও ভুলের কাছে বারবার ফিরে যাওয়া এই দুই নিয়তিতাড়িত চরিত্রকে শাহীন আখতার নির্মাণ করেছেন দক্ষ হাতে, শানিত করেছেন কল্পনা, অভিজ্ঞতা ও ক্ষুরধার যুক্তির নির্যাসে। রাষ্ট্র ও সমাজের চাপিয়ে দেওয়া এক মেকি জীবনের গভীরে আপাদমস্তক ডুবে থাকার পরও এই দুই চরিত্রের সাথে নিজের গোপন ও ঘনিষ্ট যোগাযোগ খুঁজে নিতে বেগ পেতে হয় না। কেননা এই যোগাযোগটা চিরন্তন।
দারুণ এক পাঠ অভিজ্ঞতা হলো।
১৬.১০.২০২৪, বনানী, ঢাকা
#Bookreading2024
শাহীন আখতারের প্রথম উপন্যাস “পালাবার পথ নেই” যেখানে উপন্যাসিক হিসেবে তার শক্তিমত্তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলে যায়। ঠাকুরগাঁয়ের এক পুরোনো কবরখানা হয়ে কোন এক রেস্ট হাউজ অভিমুখী যাত্রাপথেই যেন সমস্ত গল্পটা বলা হয়ে যায়। এই গল্পের গতিপথ মোটেও সরল নয়। অন্তহীন গোলকধাঁধার ভেতর পাক খেতে থাকা রানী ও বুলবুলির মতোই গল্পের অসংখ্য বাঁকবদল ঘটে। লেখক অসামান্য নৈপূন্যে গল্পটা বলে যান স্থান-কালের সীমারেখা ভেঙ্গে ফেলে। পড়তে পড়তে কখনো কখনো মনে হয় ঢুকে পড়েছি অন্য কারো স্বপ্নদৃশ্যের ভেতর অথবা হয়তো কোন স্বপ্লদৃশ্যের ভেতর বসেই বাস্তবকে একান্তে নিরীক্ষণ করছি চুপচাপ।
চিরন্তন স্বাধীনতা কিংবা মুক্তির ধারণা আদোতে এক ক্ষণস্থায়ী বিভ্রম। এমন আদর্শ এক জীবনের জন্য স্রোতের বিপরীতে লড়ে যাওয়ার অর্থ স্রেফ চোরাবালিতে আটকে যাবার নামান্তর। বাঁচার জন্য উপরে ওঠার চেষ্টা মানে ক্রমেই তলিয়ে যাওয়া অন্তহীন পাঁকে। এই তেতো সত্যটা হজম করা কষ্ট তবুও মেনে নিতে হবে বাধ্য হয়ে। আমরা সবাই মূলত মোড়কবন্দী পণ্য। এই মোড়কের কারিগর রাষ্ট্র ও সমাজ, যুগে যুগে যার আদল বদলায়, কিন্তু চরিত্র কি বদলায়? বোধহয় না। বরং সে স্বৈরাচারী হয়ে তার মতো করে ব্যক্তির চরিত্র নির্মাণ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এই নাগপাশ অভেদ্য, ভয়াবহ। এখানে বেঁচে থাকতে হয় কাফকার বর্ণিত চরিত্র হয়ে। তুমি সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছো তো ছাঁদে ঠেকে যাবে মাথা, কিংবা পা ছড়িয়ে বসতে চাইছো তো চতুর্দিক থেকে চেপে ধরবে পাথুরে দেয়াল। আর এসব ছেড়েছুড়ে পালিয়ে যেতে চাইছো তো বার বার তোমার পা আটকে যাবে পথে পথে ছড়ানো বুনো কাঁটাঝোপে।
শাহীন আখতারের “পালাবার পথ নেই” পড়তে গিয়ে পাঠক হিসেবে থেকে থেকে দমবন্ধ অনুভূতি হয় আমার। রানী ও বুলবুলির মতো আমিও যেন মরিয়া হয়ে পথ খুঁজতে থাকি পালাবার। কেননা আমিও তো পালিয়ে যেতেই বইয়ের মলাটে-অক্ষরে মুখ লুকিয়ে আছি। মনে হয় পথ খুঁজে পাওয়া গেলে হয়তোবা পাঠক হিসেবে আমারও মুক্তি ঘটবে।
কিন্তু রানী ও বুলবুলি এই দুজনে’র কেউই শেষমেশ মুক্তির পথ খুঁজে পায় না। ভৌগলিক অবস্থান বড়জোর ওদের পরষ্পরের ভেতর একটা স্বল্পস্থায়ী আড়াল নির্মাণ করে দেয় যা একসময় ঠিকই উড়ে যায় পলকা হাওয়ার তোড়ে। রানী ও বুলবুলির পিছু ছাড়ে না আততায়ী স্মৃতি আর ব্র্যত্য জীবনের অভিশাপ। তাইতো দীপার মতো একেক সময় মনে হয় কি দরকার ছিলো স্বাধীনতা বা স্বেচ্ছামুক্তির নামে এমন বেপরোয়া জীবন বেছে নেবার? বেদনা ও বঞ্চনার স্মৃতি বয়ে বেড়ানোর চেয়ে ঢের ভালো তেমন এক জীবন যেখানে দু:খ পেলে নিমেষেই চোখের জল মুছে আবার চলমান জীবনের স্রোতে মিশে যাওয়া যায়।
একই বেদনার কাছে, কিংবা একই বঞ্চনা ও ভুলের কাছে বারবার ফিরে যাওয়া এই দুই নিয়তিতাড়িত চরিত্রকে শাহীন আখতার নির্মাণ করেছেন দক্ষ হাতে, শানিত করেছেন কল্পনা, অভিজ্ঞতা ও ক্ষুরধার যুক্তির নির্যাসে। রাষ্ট্র ও সমাজের চাপিয়ে দেওয়া এক মেকি জীবনের গভীরে আপাদমস্তক ডুবে থাকার পরও এই দুই চরিত্রের সাথে নিজের গোপন ও ঘনিষ্ট যোগাযোগ খুঁজে নিতে বেগ পেতে হয় না। কেননা এই যোগাযোগটা চিরন্তন।
দারুণ এক পাঠ অভিজ্ঞতা হলো।
১৬.১০.২০২৪, বনানী, ঢাকা
#Bookreading2024
Displaying 1 - 12 of 12 reviews













