এক অতীব গ্রন্থাসক্ত, এবং ততোধিক ফিচলে বদমাশের সঙ্গে গিয়েছিলাম বইমেলায়।
স্বভাবসুলভ মশকরা করতে গিয়ে বুমেরাং হয়ে দুটো বই উপহার হিসেবে রাশকৃত বইয়ের ঝোলায় ঢুকে গেলো এক ফাঁকে। 'উনিশ বসন্ত', আর 'প্রেমিক'।
দ্বিতীয়টা শেষ করতে পারিনি। কোনরকমে আদ্দেকটা গিলে মনে হলো নিজের মাথা ফাটাই, এরপরে যে দিয়েছে তার মাথা ফাটাই, এরপরে ঢাকা শহরের সবার মাথা ফাটাই। যাকে বলে মাস জেনোসাইড।
হা ঈশ্বর, এতো জঘন্য শাস্তিও পাঠক হিসেবে আমার প্রাপ্য ছিল! আই মিন, সিরিয়াসলি? :'(
এটা ফেব্রুয়ারির কথা। মে'র মাঝামাঝিতে সেই অতীব গ্রন্থাসক্ত এবং ততোধিক ফিচলে বদমাশটিকেই পারিবারিক সম্মতিক্রমে বিয়ে করে ফেলেছি। এর বাড়া কঠিন প্রতিশোধ পৃথিবীতে হতেই পারে না জেনেই। :)
* শক্তিশালী লেখা। নিজের ভিতরের কষ্ট, ইচ্ছা, চাওয়াপাওয়া অবলীয়ায় বলে যাওয়া। কিছু মত প্রকাশে পিছুপা না হওয়া। এদেশে যা বা যেসব বিষয়ে ট্যাবু আছে, তার সুন্দর ব্যাখ্যা আছে। * কিছু ক্ষেত্রে পুরুষ হিসেবে খারাপ লেগেছে.. পৃথিবীর পুরুষগুলো এমন কেন এই ভেবে, আবার পরক্ষণেই ভাবলাম, ভাল কি তবে কেউ নেই? আমাদের সাথে যদি খারাপটা হয়, খারাপ লাগবে আমাদের, স্বাভাবিক, তবুও মানুষকে তো বিশ্বাস করতে হয়, ভালবাসতে হয়..প্রতিদানের চিন্তা না করে। * উপন্যাসে ব্যবহৃত কবিতাগুলো বেশ সুন্দর, আমার কাছে ভাল লেগেছে.. * বইটার শেষটা মনমরা.. আরেকটু অন্যরকম হলে ভাল লাগতো। হতাশ হতাশ, কষ্ট কষ্ট পরিসমাপ্তি। স্বপ্ন দেখানো উচিৎ.. * প্রেমিকরাই এমন নাকি বইটার কেন্দ্রীয় চরিত্র প্রজ্ঞার জীবনে আসা পুরুষরাই এমন, সেটা বইটা পড়তে পড়তে ভাবতেছিলাম.. যদিও প্রজ্ঞা সাহস হারায় নি। তবে অর্কের এমন দ্বিচারণ ভাব দেখেও পাশে থাকা কিংবা শেষাংশের বর্ণনামতে, কিছুটা হতাশজনক। তার তখনি প্রেমে অন্ধ না হয়ে সরে আসা উচিতকর্ম ছিল। * স্বর্ণ, প্রাইম, রুহশান আর সবশেষে অর্ক.. প্রজ্ঞার জীবনে আসা যাওয়ার পথে সব্বাই ক্ষণিকের অতিথি হলেও পরিবারে একমাত্র মায়ের ভালবাসা আর আস্থার জায়গাটা পেয়েছে, তাকে বুঝতে শিখেছে দেখে ভাল লেগেছে। কারো না কারো কাঁধে তো মাথা রাখতে হয়, চোখের দু ফোঁটা জল ফেলতে..