মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের কোভার্ট এ্যাকশন ডিভিশনে একটি ইন্টারোগেশন হয়, যার সাথে আপাতদৃষ্টিতে মুক্তিযুদ্ধের কোনো সম্পর্কই ছিল না; তার সূত্র ধরে হয় একটি ছোট্ট অপারেশন, এবং এরপর থেকেই বিভিন্ন প্রশ্ন জাগতে শুরু করে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের মনে। যার উত্তর উদ্ধার করতে গিয়ে বের হয়ে পড়ে পর্দার অন্তরালে চলতে থাকা একটি অত্যন্ত গোপন এবং উন্মত্ত অপারেশনের। এমন কিছু সেই অপারেশনে ছিল যা বাস্তবায়িত হলে কেবল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানেই নয় ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়ে যাবে সমগ্র্র বিশ্বজুড়েই।
মাত্র গুটি কয়েক লোকের কাছে ফাঁস হয়ে যাওয়া সেই প্ল্যান বানচাল করতে, বাংলাদেশকে, এবং সারা বিশ্বকে একটি সাম্ভাব্য ধ্বংসলীলা থেকে বাঁচানোর জন্য ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্য কিন্তু একই লক্ষ্য নিয়ে একদল বেপরোয়া লোক নেমে পড়ে একটি অত্যন্ত গোপন মিশনে। মুক্তিযুদ্ধের সাথে সমান্তরালভাবে চলতে থাকা সেই মিশনের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে মুক্তিযুদ্ধের ভাগ্য, বাংলাদেশের ভাগ্য এবং সমগ্র বিশ্বের ভাগ্য।
সাথে রয়েছে কিছু রহস্যময় চরিত্র, যাদের আনাগোনা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে পুরো মিশনটাকে এবং নিজেরাও প্রভাবিত হয়েছে মিশনটির কারণে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে মুক্তিযুদ্ধ, আমেরিকা থেকে চীন এবং করাচীর গলি থেকে শুরু করে ধাণমন্ডির রাস্তা দিয়ে এগিয়ে চলেছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা একটি সম্পুর্ণ ভিন্নধর্মী স্পাই থৃলার 'একাত্তরের কানাগলি'র গল্প।
আসিফ সিদ্দিকী দীপ্র’র জন্ম এবং বেড়ে ওঠা বাগেরহাট শহরে। বাবা শাহীন সিদ্দিকী পেশায় আইনজীবি এবং মা ফাহমিদা সিদ্দিকী গৃহিনী। ইষ্ট ওয়েষ্ট ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ এবং আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ শেষ করে বর্তমানে ‘ইনভার ব্রাস’ নামের রাইটিং ফার্মের ম্যানেজিং পার্টনার এন্ড হেড অফ ওয়েব কন্টেন্ট রাইটিং হিসেবে কর্মরত আছেন। ছোটবেলা থেকেই রবার্ট লাডলাম এবং ফ্রেডরিখ ফরসাউথের লেখার প্রতি ভীষণভাবে আসক্ত এবং সেখান থেকেই নিজের লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে পান। এমনকি তার ফার্মের নামটিও রবার্ট লাডলামের একটি বই থেকে নেওয়া। এর আগে বাতিঘর প্রকাশনী থেকে তার অনুবাদ গ্রন্থ জেমস টোয়ানিং-এর ‘ডাবল ঈগল’ প্রকাশিত হয়। ‘একাত্তরের কানাগলি’ তার লেখা প্রথম মৌলিক থৃলার।
বাংলায় লেখা, বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এমন একটি শ্বাসরোধী এস্পিওনাজ থ্রিলার পড়তে পাওয়া যে কী ভাগ্যের ব্যাপার, তা বলে বোঝানো যাবে না! অকপটে বলছি, লে কের, ফরসিথ, ম্যাকনিল - এহেন মহারথীদের লেখায় যা পড়তে গিয়ে এতদিন ডুবে থেকেছি, তাকেই একেবারে ঘরের পাশে দেখতে পাওয়ার আনন্দ আর রোমাঞ্চ ছিল তুলনাহীন। তবে তাকেও ছাপিয়ে গেছে এই বইয়ের গতি! নন-লিনিয়ার ন্যারেটিভে, দ্রুত বদলে যাওয়া তারিখের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই কাহিনি কখনও এগিয়েছে, কখনও পিছিয়েছে। অজস্র রকমের ক্রস আর ডাবল ক্রসের ভিড়ে মুখ আর মুখোশ একাকার হয়ে গেছে। শত্রুকে কব্জা করার জন্য মনস্তত্ত্ব আর গোপন তথ্য নিয়ে একের পর এক শক্তির মধ্যে জমে উঠেছে ইঁদুর-বেড়াল খেলা। রক্ত আর অশ্রুর নদী বয়ে গেছে সবুজ প্রান্তর আর নীল জলাশয়ের বুক চিরে। এমন এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের মধ্যে আমরা জড়িয়ে পড়েছি স্রেফ পড়তে গিয়েই, যার খবর ইতিহাসে নেই, কিন্তু যা সত্যি হয়ে থাকতেই পারে।
এই কাহিনি এক লোন উলফ বাঙালি অপারেটরের। বাংলাদেশ গড়ে ওঠার অনেক আগেই তাকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় শত্রুর দুর্গে। ক্রমে নিজেকে এক দুর্ভেদ্য কভারের আড়ালে নিয়ে গেছিল সে। কিন্তু সেটা নষ্ট করে ফেলতে সে বাধ্য হয় ১৯৭১ সালে। না, শুধু ২৫শে মার্চই তাকে সামনে আসতে বাধ্য করেনি। বরং এক মহাশক্তিধর গোষ্ঠীর ক'জন প্রতিনিধির মাধ্যমে সে একটা তথ্য জেনে যায়। শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, বরং গোটা দুনিয়ার ভবিষ্যৎ বদলে যেতে চলেছে ক'দিনের মধ্যেই। ইতিহাসের চেনাজানা সড়ক আর গলির পাশে নিজের মতো করে তৈরি হচ্ছে এক ভয়ংকর কানাগলি। সে কি পারবে কোট-কোটি মানুষকে সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসতে? রণ, রক্ত, সফলতা, মৃত্যু - সবকিছু ছাপিয়ে এই কাহিনি হয়ে ওঠে তার, আর তার সঙ্গে আমাদের সবার দৌড়ের। মোক্ষম কাহিনিকারের মতো এই উপন্যাসের শেষেও ঔপন্যাসিক বেশ কিছু সুতো আলগা রেখে দেন আমাদের জন্য, যাতে আমরা নিজেদের মতো করে একটা জমাট নকশা বানিয়ে ফেলতে পারি। অথবা অপেক্ষায় থাকতে পারি আরও একটা শ্বাসরোধী উপাখ্যানের জন্য। জয় বাংলা!
এই বইটা নিয়ে কি বলা যায়?? শেষ করেছি সকালে। এরপর থেকে বসে বসে ভাবছি, কিছু বলতে হয়, বেশ তো লাগলো। না বললে কিভাবে হয়? কিন্তু অনেক ভেবে ভেবেও আমি কিছুই বুঝলাম না কি বললে ঠিকভাবে সব বলা হয়।
আচ্ছা তারপরও কিছু বলি। আমি স্পাই থ্রিলার এর আগে একটাও পড়ি নাই। বাংলা তো নাই, ইংরেজিও না। কি এক্সপেক্ট করবো বুঝতে পারছিলাম না। এক্সপেকটেশন বেশি ছিল না যেহেতু লেখকের প্রথম বই। এক্সপেকটেশন বেশি থাকলে সেইটাও উৎরায় যাইত আসলে। বইটা এতই ভালো। বইয়ের প্রথম ১০ চ্যাপ্টার পড়ে মোটামুটি ঘোল খেয়ে যাচ্ছিলাম। এত এত চরিত্র, সব একরকম লাগে। কে ভালো কে খারাপ বুঝা যায় না। এইদিকে ১০ টা চ্যাপ্টার (অনেক ছোট) শেষ। তারপর কতিপয় ব্যাক্তির তুমুল আগ্রহে আমি বইটি পড়া চালিয়ে গেলাম যেটা না করলে আজকে আমার প্রথম স্পাই থ্রিলার এবং এত অস্থির লেভেলের থ্রিলার পড়া হইত না।
বইয়ের সবচেয়ে বেশি যা ভালো লাগল- একজন বাংলাদেশি, যে কিনা আবার স্পাই, যে আবার ট্রাকের পিছে দাঁড়ায় গুলি করে, আবার ভিলেনের সাথে মারামারি করে, মাঝেমাঝে মাইর খায়। না ক্রাশ খাইতে আর বিদেশি নায়ক লাগবে না। আমি এই বই পড়ে একেবারে দেশি ক্রাশ খেয়ে বসে আছি। :D তারপর বইয়ের কাহিনী বিল্ড আপ খুব ভালো। সাসপেন্স রেখে রেখে, ধীরে ধীরে। বই ধরে শেষ না করা পর্যন্ত যদি শান্তি পাওয়া না যায় তবে আর সেই থ্রিলার পড়ে আর মজা কি। আমি যদিও ধীরে ধীরে পড়লাম কারণ টার্মের লাস্টে আছি, পড়াশুনা একটু করতে হয় এইসময়।
ও আচ্ছা, প্লট নিয়ে তো কিছু বলাই হয় নাই। আচ্ছা একটা খুব ছোট ঘটনা বলি। বই নিয়ে ক্লাসের ফাঁকে পড়ছিলাম আজকে। তখন একজন জিজ্ঞেস করলো বইয়ের নাম কি। নাম বললাম। তারপর জিজ্ঞেস করলো, একাত্তর নিয়ে নাকি। আমি আবার একটু বিস্তারিত বললাম। এটা একটা স্পাই থ্রিলার। একাত্তর নিয়ে থ্রিলার। আশেপাশের মানুষজন এবার বেশ একটু অবাক হইল। একাত্তর নিয়ে থ্রিলার তাও আবার স্পাই থ্রিলার। হ্যাঁ, একাত্তরের কাহিনী যখন পড়ি, এক একটা যুদ্ধের বর্ণনা, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা যখন পড়ি তখন বেশ থ্রিলিং লাগে। সবাই কি সাহসী ছিল! তারপর আবার এর মাঝে এরকম একটা কাহিনী। পুরাই আনেক্সপেক্টেড ছিল। যেই শুনে একটু অবাক হয়ে তাকায়।
বইয়ের খারাপ দিক একটাই। বানান ভুল। বানান ভুল হইলে আমার পড়তে খুব বিরক্ত লাগে। এত এত বানান ভুল থাকা সত্ত্বেও এই বই বিরক্ত লাগেনি তার পুরা ক্রেডিট লেখকের।
যারা যারা থ্রিলার প্রেমী তাদের জন্য তো বইটি অবশ্যপাঠ্য। :D আর বেশি কি বলবো? বইয়ের যে এত এত ভাল রেটিং তা একটুও বাড়ানো না। এই বইয়ের প্রাপ্য। বাকিটা নিজেরা পড়ে যাচাই করে নিন।
বিঃ দ্রঃ একটা তারা কম দিলাম কারণ লেখকের কাছে এক্সপেকটেশন এখন অনেক। একটা তারা পরবর্তী বইয়ের জন্য জমা রাখলাম। :P
বিঃ দ্রঃ আসমা আর শবর কে স্পেশাল ধন্যবাদ বইটা রিকমেন্ড করার জন্য আর আমাকে ধরে বেঁধে পড়ানোর জন্য।
মুক্তিযুদ্ধেরর পটভূমিতে নির্মিত যে কোন বই,মুভি বা ডকুমেন্টারি আমি অনেক আগ্রহ নিয়ে পড়ি বা দেখি।সেটা বিশ্বযুদ্ধ বা আমাদের মুক্তিযুদ্ধই হোক না কেন। বলা যায় হিস্টোরিক্যাল ফিকশন আমার অনেক প্রিয় একটা জনরা।তাই যখন বইটার নামই 'একাত্তরের কানাগলি' দেখলাম তখন কি আর না পড়ে থাকা যায়? ফ্ল্যাপের লিখা দেখেই প্লট অনেক ইন্টারেস্টিং মনে হল এবং ভালো কিছু হওয়ারই এক্সপেক্ট করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্পাই থ্রিলার! ট্রাস্ট মি, বইটা শেষ করার পর আপনার মুখ দিয়ে অটোম্যাটিকভাবে বের হয়ে যাবে "ওয়াও!! জাস্ট ব্রিলিয়ান্ট!" এটা লেখকের প্রথম মৌলিক থ্রিলার। আর আমার সবসময় নতুনদের বই পড়তে অন্যরকম একটা এক্সসাইটমেন্ট কাজ করে। কারণ নতুন ভালো লেখক আবিষ্কার করাটাও সত্যিই অনেক আনন্দের।
লেখক বইয়ের ফ্ল্যাপে বলেছেন, "আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে অনেক থ্রিলার গল্পের রসদ।" লেখকের সাথে সম্পূর্ণ একমত।মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আসলেই অনেক ভালো থ্রিলার লেখা সম্ভব। আর বইয়ের প্রচ্ছদ নিয়ে আলাদা করে বলতেই হয়,বইয়ের সাথে রিলেটেড এরকম একটা অসাধারণ প্রচ্ছদ করার জন্য প্রচ্ছদকারীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ।
আমার মনে হল এটার ইংরেজি অনুবাদ করা প্রয়োজন।কারণ, বাইরের কাউকে এটা পড়া থেকে বঞ্চিত করা ঠিক হবেনা। :p পলিটিক্যাল/স্পাই থ্রিলার লাভারদের জন্য হাইলি রেকমেন্ডেড।
এই বইতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ একটা সাবপ্লট হিসেবেই এসেছে। ভাবা যায় বিষয়টা? লেখক চমৎকার কাজ দেখিয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে বুকের ভেতর ধিকি ধিকি আগুন জ্বলতে থাকা এমআইটি ফেরত ইমরানের মধ্যে আছে প্রতিশোধের স্পৃহা। সে প্রবেশ করলো পশ্চিম পাকিস্তানে। পরিচয় কেউ জানে না। পশ্চিম পাকিস্তানের মিলিটারিদের মধ্যে সে সূচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বেরোতে যাচ্ছে অচিরেই। পারবে? ইয়াহিয়া খান একটা অবিশ্বাস্য পরিকল্পনা হাতে নিলেও দ্রুতই তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। সাথে সমর্থন জুটিয়ে যাচ্ছে খোদ রিচার্ড নিক্সন। এদিকে ভারতীয় র আর সিআইএর এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কালোঘাম ছুটে যাচ্ছে অর্ধোন্মাদ ইয়াহিয়ার পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করতে। যদি ইয়াহিয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বাংলাদেশ গঠিত হবার স্বপ্নভঙ্গের সাথে সাথে পুরোবিশ্বে লেগে যাবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। পশ্চিম পাকিস্তানি এজেন্টরা এবার প্রবেশ করেছে পূর্ব পাকিস্তানে। শাহবাগের এক হোটেল থেকে যাত্রা শুরু। স্পাইয়ের পরিচয় ফাঁস হয়ে গিয়েছে। এবার তাকে খুঁজে ফেরার পালা। একাত্তরের কানাগলির শেষ মাথায় পাঠকদের জন্য আসলে কী অপেক্ষা করছে?
২০১৭ সালে প্রকাশিত এই বইটা যদি তখন পড়তাম, তাহলে নির্দ্বিধায় বলতাম অসাধারণ একটা বই। প্রায় পাঁচ বছর পর বইটা পড়তে গিয়ে কিছুটা সমস্যা পোহাতে হচ্ছে, কারণ দেশি থ্রিলার অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে বলেই বোধ করি। বইটা রোলার কোস্টারের মতো। কাহিনী তো বটেই, বর্ণনাভঙ্গিরও বেশ কিছু জায়গায় উত্থান-পতন দেখা গিয়েছে। যেখানে আরেকটু বর্ণনার প্রয়োজন ছিল, সেখানে লেখক একটু কম দিয়েছেন। যেখানে একটু কম হলেও সমস্যা ছিল না, সেখানে বেশি দিয়েছেন। স্ল্যাং একটু বেশিই লাগলো, তবে আমার কাছে সেটি কোনো সমস্যা মনে হয়নি। উন্মাদ ইয়াহিয়ার চিত্রটা বেশ চমৎকার করেই আঁকা হয়েছে। আইএসআই এজেন্টদের নির্যাতনের বর্ণনাও বেশ জীবন্ত। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধকে সাবপ্লট হিসেবে রেখে একটা বেশ ভালো স্পাই থ্রিলার বইটা।
বইটা নিয়ে বলতে গেলে কথা ফুরিয়ে যাবে। স্পাই থ্রিলার নিয়ে অনেক সিনেমা দেখা হয়েছে, কিন্তু উপন্যাস খুব একটা পড়া হয় নি। জমজমাট প্লট। আসলে এর থেকে ভালো প্রেক্ষাপট আর হতেই পারে না। কিছু ফ্যাক্ট এর সাথে লেখক কল্পনাকে কি দারুণ ভাবেই না মিশিয়েছেন। তবে এই বইটার যে জিনিসটা আমায় সবচে' বেশি ছুঁয়েছে সেটা হচ্ছে একাত্তরের আন্ট্রেইন্ড মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতা আর ডেডিকেশন। এইসব জিনিস ছোটবেলা থেকেই বই-পত্তরে পড়ে এসেছি। কিন্তু যতবারই পড়ি ততোবারই মাথায় আগুন ধরে যায়, আর এত খারাপ লাগে! বইয়ের বেস্ট পার্ট বোধহয় মেহজাবিনের সেক্রিফাইজের অংশটা।
লেখাটায় লেখক কি পরিশ্রম দিয়েছেন প্রথম তিরিশ চল্লিশ পাতা পড়লেই বুঝে ফেলা যায়। একাত্তর নিয়ে এর আগে কোন থ্রিলার পড়া হয় নি। তবে হয়তো এই বইটা আমার পড়া সেরা বাংলাদেশি থ্রিলার। এটার ধারে কাছেও আর কিছু আপাতত মনে করতে পারছি না।
পুনশ্চঃ বাংলাদেশের লেখকদের হয়ত প্রুফ রিডিং,টাইপিং থেকে শুরু করে বই বাধাইয়ের কাজটাও নিজে থেকে করা উচিত। একটা বই প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রকাশকরা এতো কেয়ারলেস থাকেন কেন তা আল্লা মালুম। অনেক দিন আগে এই একই প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত আই লাভতেরেস্কি এর লেখা চে গে'ভেরা এর একটি জীবনী কিনেছিলাম। কিন্তু টাইপিং এ এতো ভুল ছিল যে বইটা আজ পর্যন্ত শেষ করতে পারিনি। এই বইটা সেইটাকেও ছাড়িয়ে গেছে। শেষ যে করেছি তা সম্পূর্ণ লেখকের সার্থকতা।
প্রথম দর্শনে বিশাল বই। কোলাজ প্রচ্ছদ...আকর্ষণীয়। কিন্তু ভাল হবে তো?
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে মুক্তিযুদ্ধ, আমেরিকা থেকে চীন এবং করাচীর গলি থেকে শুরু করে ধাণমন্ডির রাস্তা দিয়ে এগিয়ে চলেছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা একটি সম্পুর্ণ ভিন্নধর্মী স্পাই থৃলার 'একাত্তরের কানাগলি'র গল্প।
১৯৭১ সম্পর্কিত বই পড়তে অন্যরকম একটা অনুভূতি কাজ করে। ভাল লাগা, দুঃখ, উত্তেজনা, অহংকার, ঘৃণা হাজারো অনুভূতির আড্ডাখানা হয়ে যায় মনের ভিতরে। পড়তে পড়তে একটা বিষয় মাথায় আসলো, বইটা কি আসলেই লেখকের প্রথম স্পাই থ্রিলার? এত জটিল প্লট কে সুন্দরভাবে গোছানো, কোন কিছুই অতিরিক্ত নয়। সব ইলেমেন্টই যেন মেপে মেপে দেওয়া। কিছু কিছু জায়গায় মুদ্রণ বিভ্রাটকে বাদ দিলে একটা পারফেক্ট রান্নার সাথে তুলনা করতে হয় বইটাকে ! কোন কিছু নিয়ে লেখার জন্য পড়াশুনা বা পরিশ্রম কখনোই প্রচুর হয় না। তবে এটা বললে হয়ত অত্যুক্তি হবে না যে, লেখক বেশ সময় নিয়েই লিখেছেন। আবার একটা বিষয় নিয়ে একটা প্রশ্ন তোলা উচিত জনরার হিসাবে একাত্তরের কানাগলি আসলে ঠিক গ্রুপে পড়ে? স্পাই থ্রিলার? হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার? নাকি আমার মতে ডকু-ফিকশন? লেখকের নিজস্ব ব্যাখ্যা জানতে পারলে বেশ হতো।
অসাধরন প্লট, রোলার কোস্টার গতি, চরিত্রের সুগঠিত নির্মাণ, অনবদ্য লেখনী। মাঝে মাঝে হালকা রসবোধ; বেশ ভাল সময় কাটানোর জন্য বইটা যেন দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ! সবশেষে বলতে গেলে লেখকের প্রথম মৌলিক থ্রিলার হিসাবে বিবেচনা করতে গেলে আমি অভিভূত।
খুব ছোটবেলায় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বেশ বড় বড় কিছু বই (লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে, আমি বীরাঙ্গনা বলছি, একাত্তরের দিনগুলি ইত্যাদি) পড়ে ফেলার কারণে ইদানীং পড়া বাদ রেখেছিলাম যে আরো একটু বড় হয়ে আবার শুরু করবো। এই বই প্রথমবার লাইব্রেরী থেকে আনা হয়েছিলো ফেব্রুয়ারীতেই, ভাইয়া পড়বে বলে। আমি পড়িনি যদিও ভাইয়া বলেছিলো একাত্তর নিয়ে স্পাই থ্রিলার আর বেশ ভালো (তাঁর রেকমেন্ডশনে চোখ বন্ধ করে পড়ে ফেলা যায়)। তারপর গুডরিডসে বেশ কজন বন্ধুর রিভিউ দেখে ভেবেছিলাম পড়তে হবে। শেষে দিশার রিভিউ দেখে আর থাকতে না পেরে এই সপ্তাহেই আনলাম আর পড়ে ফেললাম। এটাও অফিস যাওয়া আসার পথে পড়ে শেষ করেছি। বই পড়ার জন্য আরেকটু সময় বের করার বিনিময়ে আমি আমার স্থাবর অস্থাবর সব দিয়ে দিতে রাজি।
এবার আসি বই প্রসঙ্গে। একাত্তর নিয়ে কিছু লিখতে যাওয়া বা বলতে যাওয়া আসলেই খুব সাহসের কাজ। এই লেখক অনেক সাহসী সত্যিই। উনি একাত্তর নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এতো দুর্দান্ত একটা স্পাই থ্রিলার লিখে ফেলেছেন! কাহিনী কোথাও একটুও ঝুলে যায়নি, আমার মতো পাঠককে ধরে রেখে টানা পড়িয়েছে! সত্যিই অসাধারণ কাজ দেখিয়েছেন। আমি স্পাই থ্রিলার বলতে মাসুদ রানা বা জেমস বন্ডই বুঝি। এই বই শুরু করার আগে মাথায় ঘুরছিলো যে মূল চরিত্রকে না রানা মনে হয় আবার! হয়নি, এক মূহুর্তের জন্যও মনে হয়নি উনি অন্য কেউ। এটাই লেখকের মুন্সি���়ানা যে উনার তৈরি চরিত্র নিজের জন্য আলাদা জায়গা করে নিয়েছে পাঠকের মনে। প্রথম বই হিসেবে দারুণ শুরু বলতেই হবে। দোয়া করি ভাই আরো ভালো ভালো লেখা বের হোক আপনার হাত দিয়ে। আসলে বই নিয়ে আরো অনেক কথা বলা যায় কিন্তু ঐ যে আমি গুছিয়ে বলতে পারি না।
বইয়ের খারাপ দিক হয়তো না তবে চোখে লাগে এমন ব্যাপার আছে। বানানের অবস্থা খুবই করুণ। জানি না প্রুফ রিডার বলে কেউ আছেন কি না উনাদের। আর মূল চরিত্রকে একটা সময় পরে তাঁর নিজের নামে সম্বোধন করলেই ভালো লাগতো আমার অন্তত। Its a 4.5* actually.
৭১ এর প্রেক্ষাপট নিয়ে এরকম একটা স্পাই থ্রিলার বই! খুব ভালো লাগসে! যদিও প্রথম দিকে চরিত্রগুলো কে বা কি টাইপ এগুলো নিয়ে একটু হিমশিম খাচ্ছিলাম.. সেটুক বুঝে যাবার পর থেকেই গল্প এগিয়ে গেছে রোলার কোস্টার গতিতে..
বই মেলার মাঝামাঝি সময়ে এসে হঠাত করেই গ্রুপগুলোতে "একাত্তরের কানাগলি" বইটির খোজ দেখতে পাই। ইনট্রো পড়েই চুম্বকের মত টানতে শুরু করে। একে ত পলিটিক্যাল স্পাই থৃলার, তাও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক। আবার লেখক ইষ্ট ওয়েষ্টের ছাত্র ছিলেন, আমি একি ইউনিভারসিটির কিনা। কিন্তু ততদিন টাকা সব ফাকা হয়ে গেছে আর বইমেলাও প্রায় শেষের পথে। যাইহোক, কিছুদিন আগে বইটি কালেক্ট করে গতকাল পড়তে শুরু করে দিই। . এক কথায়, অ ন ব দ্য । যারা স্পাই, পলিটিক্স, ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি, কূটনীতি, ইতিহাস এসব বিষয়ে আগ্রহী তাদের জন্য হাইলি রেকোমেন্ডেড। বইটি শুধু আসলে একশনভিত্তিক নয়। প্লটটির গভীরতা বুঝতে হলে আপনার বুঝতে হবে রাজনীতি। আর এই ব্যাপারটাই বেশি ভালো লেগেছে। আর আমরা কেউই ত "পলিটিক্স" এর বাহিরে নই :p কিছু বাস্তবিক চরিত্র, ইতিহাস নিয়ে অসাধারণ একটি প্লট। ISI, CIA, FBI, CAD, BIG THREE, SS, KGB, R&AW কি নেই! সব মিলিয়ে একটি কমপ্লিট প্যাকেজ। আর হা, একটুও মনেহয়নি যে লেখক শুধু পরিধি বানানোর জন্যই এসব নিয়ে এসেছেন। অসাধারণ সঙ্গতি ছিল। আর কভারের কথা ত আলাদা ভাবে বলতেই হয়। হাজারটা বইয়ের মাঝে নজর এড়াবেনা। . তবে, শুরুর দিকে কাহিনী বিল্ডআপটা আমার কাছে একটু বুঝতে জটিল মনে হয়েছে। আর একটু সহজ হলে সুবিধে হত। লেখকের প্রথম মৌলিক হিসেবে অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। আরও কিছু মৌলিক পাবো বলে আশা রাখছি। (যদিও এন্ডিংটা কেন যেন আমাকে বলছে, কিছু একটা আসবে) :p . সবশেষে, আমাদের দেশের কোন লেখক এমন ওয়াল্ড ক্লাস স্পাই থৃলার লিখছেন, ভাবতেই ভালো লাগে। বলাই যায়, বইটি বাহির দেশে পাবলিশ হলে বেস্টসেলার হত।
মৌলিক থ্রিলারে খুব প্রিয় একটা বই। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম স্পাই থ্রিলার। মৌলিক থ্রিলারে সবচেয়ে প্রিয় বই হয়ে থাকবে সবসময়ই। প্লট, ক্যারেকটারাইজেশন, ব্যাক স্টোরি, প্রোপার এসপিওনাজ স্টোরিটেলিং, জমজমাট একটা টুইস্ট; সবমিলিয়ে খুব ভালো লেগেছিলো। যখন পড়েছিলাম তখন রিভিউ লেখা হয়নি। লেখা উচিত। এই বইটা নিয়ে আরও আলোচনা হওয়া উচিত।
Intelligence without ambition is a bird without wings, said Salvadore Dali. I wonder what is ambition without intelligence? Or, misinformed patriotism, for that matter?
'স্পাই থ্রিলার' বলে যে কিছু আছে, সেটা জানতাম কিন্তু পড়া হয় নাই। মাসুদ রানা, জেমস বন্ডে আগ্রহই পাই নাই। তো, এই বইটা নিয়ে বেশ প্রশংসা দেখলাম এবং প্লট যেহেতু ১৯৭১, তাই আগ্রহও হইলো।
তো, পড়ার পর মতামত হইলো, আমার ভালোই লাগছে। আমি সাধারনত গোয়েন্দা গল্প পড়তে গেলে কাহিনী, সিন, সিচুয়েশনের ভুল খুঁজি না। রসভঙ্গ হয়। এই জনরার পাঁড় পাঠক হয়তো ভুল বা অসামঞ্জস্য খুঁজে পেতে পারেন। কিন্তু সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে টাচ করে ইয়াহিয়া, মুজিব, সোহরাওয়ার্দি, নিক্সন, ইন্দিরা প্রমুখদেরও গল্পে রেখে পিএনএস গাজিতে ঢুকে গল্প সাজানো চাট্টিখানি কথা না। ভালো লাগছে।
তো লেখকের ছোট্ট একটা মূদ্রাদোষ আছে, সেটা হলো তিনি প্রচুর 'তো' ব্যবহার করেছেন। এমন না যে এটা কোন একটা চরিত্রের মূদ্রা দোষ। কাহিনী বলার মধ্যেও বারবার 'তো' ব্যবহার কখনও কখনও বিরক্তিকর ছিল। এবং কাহিনীর সাথে ভাষা ব্যবহারে আরেকটু যত্নশীল হওয়া যেতো।
প্লট দারুণ, এক্সিকিউশনও দারুণ। একাত্তরের প্রেক্ষাপটে স্পাই থ্রিলার হিসেবে যথার্থ। কিন্তু লেখনীতে ভীষণ রকম জড়তা, পড়ার পথে বারবার থামতে বাধ্য হচ্ছিলাম। সে জন্যেই দুই তারা কর্তন।
গত বছরের শেষের দিকে আমি কোন একটা বই নিয়ে গুডরীডস এ ঘাটতে যেয়ে এই বইটার সন্ধান পাই। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা আমার খুব পছন্দের একটা বিষয় হলেও এই বইটা আসলে আমরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সচরাচর যেই লেখাগুলো পড়ি সেগুলো থেকে কিছুটা ভিন্ন। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সাথে সাথে স্পাই থ্রিলার? আপনাদের কথা জানি না, তবে আমি নিজে এমন কোন কিছু এর আগে পড়িনি।
স্পাই থ্রিলার হলেও এই বইটাতে মুক্তিযুদ্ধের আবেগ কিংবা সময়ের কোন ঘটনাকে বিন্দুমাত্র অসম্মান করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সমান্তরালভাবে আরেকটি স্পাই মিশনের কাহিনী বলা হয়েছে। যা শেষ পর্যন্ত এসে মুক্তিযুদ্ধের সাথে মিশে গিয়েছে।
বইটাতে পুরোটা সময় জুড়ে একদম টানটান উত্তেজনা ছিল এমন কিছু বলছি না, তবে কাহিনী বেশ ঝরঝরে। পড়তেও ভালো লাগে। যেই দুটো জিনিষ আমার কাছে একটু কম ভালো লেগেছে সেটা হল- এক, একই সাথে অনেকগুলো কাহিনী চলতে থাকায় মাঝে মাঝে একটু খেই হারিয়ে ফেলা খুব-ই সম্ভব। যদিও এই সবগুলো কাহিনী শুরুতে বিচ্ছিন্ন মনে হলেও একদম শেষে এসে সুন্দর করে মিলে যায়। ঐযে, ছেলেবেলায় পরীক্ষায় আসতো না যে অনেকগুলো শব্দ কিংবা বাক্যাংশ উল্টে পাল্টে দেয়া থাকত আর সঠিক জোড়াকে একটি দাগের মাধ্যমে জোড়া লাগাতে হত? খানিকটা তার মত। আর দুই, বইয়ের শেষাংশে এসে মনে হচ্ছিল যেন বেশ জোর করে বইটার কলেবর বাড়ানো হয়েছে। খানিকটা আগেও শেষ করা যেত বৈকি।
তবে এই দুটো বিষয় ছাড়া বইটা বেশ সুখপাঠ্য ছিল। বেশ সুন্দর একটা সময় কেটে গেছে। বইয়ের লেখকের এই প্রথম এই শেষ বই। আর বই বের না করার কারণ আমার জানা নেই। তবে বইয়ের শেষটা যেভাবে ক্লিফ হ্যাঙ্গার দিয়ে শেষ করা হয়েছে, তাতে এর সিরিজ হলে পড়তে বেশ লাগত বলে আমার বিশ্বাস।
২০১৭ সালে বের হওয়া বইটি আমি বইটা নিয়েছি Book Street থেকে। যদি স্পাই থ্রিলার আপনার পছন্দের বিষয় হয়ে থাকে, নিঃসন্দেহে পড়তে পারেন। লেখকের জন্যে আমার শুভকামনা।
কাহিনি সংক্ষেপঃ ১৯৭১। মরণপণ যুদ্ধ চলছে মুক্তিবাহিনী ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যে। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা বুকের সমস্ত সাহস ও ভালোবাসাকে পুঁজি করে বেপরোয়াভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে নরপিশাচ পাকিস্তানিদের ওপর। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে বিড়ালও ভয়ঙ্কর। ঠিক তাই হলো তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানেও। মুক্তিবাহিনীর গেরিলা আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়লো পাকিস্তানি সেনাবাহিনী৷ চারপাশ থেকে মুক্তিযোদ্ধারা চার দেয়ালের মতো চেপে আসতে লাগলো ওদের দিকে। কোণঠাসা হয়ে পড়ার অবস্থা পাকিস্তানিদের। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই ভূখণ্ডের ভেতরের যুদ্ধপরিস্থিতি যখন এমন, তখন পর্দার অন্তরালে চলছে আরো একটা যুদ্ধ।
পাকিস্তানের ইন্টেলিজেন্স সংস্থা আই.এস.আই. হঠাৎ করেই যেন ব্যস্ত হয়ে পড়লো একজন আর্মস ডিলারের তালাশ নিয়ে। এজেন্সির তিনজন বাঘা এজেন্টকে লাগিয়ে দেয়া হলো সেই ডিলারের পেছনে। আই.এস.আই. ডিরেক্টর আকবর খান সরাসরি আছে এসবের পেছনে। হঠাৎ একজন আর্মস ডিলারকে নিয়ে এতো মাতামাতি কেন, যেখানে পূর্ব পাকিস্তানে ওদের মিলিটারি প্রায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছে মুক্তিবাহিনীর কাছে?
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া খান হঠাৎ যেন পাগল হয়ে উঠেছে ইন্ডিয়ার ওপর আঘাত হানার জন্য। কারণটা স্পষ্ট, ইন্ডিয়া সরাসরি সাহায্য করছে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বর্তমানের বাংলাদেশকে। আর পাকিস্তানকে এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সাহায্য করে চলেছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিক্সন। নিউক্লিয়ার বম্ব বানানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে জুলফিকার আলী ভুট্টো। ইয়াহিয়াও দ্রুত বোমা চায়। আর সেজন্য অত্যন্ত গোপনে আই.এস.আই.-এর তত্ত্বাবধানে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে সে। যুদ্ধচলাকালীন সময়ে যদি পাকিস্তানের হাতে নিউক্লিয়ার বম্ব চলেই আসে, তাহলে একরকম পাশার দানই উল্টে যাবে।
ঢাকার ছেলে ইমরান সালেহীন খান ছোটবেলায় হারিয়েছে নিজের বাবা-মাকে। সেই হারানোও তাঁদের জন্য ছিলো অত্যন্ত অপমানজনক। পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণা ও দেশের চলতি অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কিছু করার জন্য একেবারে শত্রুর গুহায় গিয়ে ঢুকে পড়লো ছেলেটা। আর এই ব্যাপারে জানলেন মাত্র দু'জন ব্যক্তি। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছে একের পর এক আই.এস.আই. কভার্ট এজেন্ট। কেন? নিউক্লিয়ার বম্ব তৈরির ফ্যাসিলিটিটা কোথায় স্থাপন করা হয়েছে সেটা জানার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে একজন তরুণ মেজর। পশ্চিম পাকিস্তানের এই ভয়াবহ প্ল্যান বানচাল করে না দিতে পারলে যুদ্ধটা নেবে আরো ধ্বংসাত্মক রূপ। কয়েকজন তরুণ মুক্তিযোদ্ধাকে সাথে নিয়ে সেই মেজর নেমে পড়লো ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রায় অসম্ভব এক মিশনে। সি.আই.এ.-এর একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্তাব্যক্তির তত্ত্বাবধানে এজেন্ট অ্যারন বার্টনও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলো। আর ওদেরকে সরাসরি সাহায্য করলো বন্ধু রাষ্ট্র ইন্ডিয়ার ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি 'র।
দেশের ভেতরে চলতে থাকা দৃশ্যমান সেই ভয়ঙ্কর যুদ্ধের আড়ালে এসপিওনাজ দুনিয়ায় সমান্তরালে চলছিলো আরেক যুদ্ধ। যে যুদ্ধে কে বন্ধু, কে মিত্র আর কে বিশ্বাসযোগ্য, কে বিশ্বাসঘাতক বোঝা কঠিন। যে গোপন যুদ্ধের কথা হারিয়ে গেছে একাত্তরেরই কোন এক কানাগলিতে।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ কঠিন কাজ হলো, বাস্তব একটা ঘটনা ও সেটার সাথে জড়িত বাস্তব চরিত্রদেরকে নিয়ে সম্পূর্ণ কাল্পনিক প্রেক্ষাপটে একটা কাহিনির সৃষ্টি করা। এই কঠিন কাজটাই করেছেন তরুণ লেখক আসিফ সিদ্দিকী দীপ্র। 'একাত্তরের কানাগলি'-এর প্লটটা পুরোটাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ের এসপিওনাজ দুনিয়া নিয়ে। লেখক এই উপন্যাসের শুরু থেকেই বেশ কিছু আলাদা সূত্রের মুখোমুখি করেছেন পাঠককে। এরপর ধীরে ধীরে সেই সূত্রগুলো গিয়ে মিলেছে একটা নির্দিষ্ট জংশনে। আর সেই জংশনেই এসে একটা সময় মিলেছে উপন্যাসটার ক্লাইম্যাক্স।
কিছু চরিত্র থাকে যারা কুয়াশার ভেতরে আবির্ভূত হয়, তারপর কুয়াশা কেটে গেলে দেখা যায় তারা নেই। অথচ রেখে গেছে নিজেদের কীর্তি। এমনই এক চরিত্র ইমরান সালেহীন খান। এই চরিত্রকে কেন্দ্র করে আসিফ সিদ্দিকী দীপ্র দেখিয়েছেন একের পর এক টুইস্টের মারপ্যাঁচ। অবশ্য গোটা 'একাত্তরের কানাগলি' জুড়েই এসপিওনাজ রিলেটেড টুইস্টের কোন কমতি চোখে পড়েনি। কভার্ট অপারেশন ও ইন্টেলিজেন্স অ্যাক্টিভিটি সম্পর্কে লেখকের জ্ঞান আমাকে মুগ্ধ করেছে। বোঝাই যায়, এসব নিয়ে অনেক স্টাডি করতে হয়েছে উনাকে।
প্রত্যেকটা ক্যারেক্টারের ডেভেলপমেন্ট দারুন ছিলো। গল্প বলার ধরণেও মনে হয়নি এটা লেখকের প্রথম উপন্যাস। এসপিওনাজ অ্যাকশন সিকোয়েন্স ও স্ট্রাটেজিগুলোর বর্ণনা বেশ ভালো লেগেছে। উত্তেজনা বোধ করেছি। সামান্য কিছু জায়গায় অবশ্য একটু দুর্বোধ্য লেগেছিলো, তবে ওই জায়গাগুলো দ্বিতীয়বার পড়ার ক্লিয়ার হয়ে গেছে। 'একাত্তরের কানাগলি' একেবারে আনপ্রেডিক্টেবল একটা এসপিওনাজ থ্রিলার। পড়া শুরু করার পর কোনভাবেই আন্দাজ করা যাচ্ছিলোনা এরপর ঠিক কি ঘটতে চলেছে। সাসপেন্সের কোন কমতিই ছিলোনা এখানে। মোট কথা, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভিন্ন ধরণের কোন গল্প পড়তে চাইলে আপনি বেছে নিতে পারেন 'একাত্তরের কানাগলি'।
এবার বলি হতাশার কথা। আমি বোধহয় জীবনেও এমন কোন বই পড়িনি, যেটার প্রত্যেকটা পৃষ্ঠায় টাইপিং মিসটেক বিদ্যমান। এই বইটাতে তাই ছিলো। অসংখ্য টাইপিং মিসটেক, যা গুনে শেষ করা প্রায় অসম্ভব। বেশ কিছু বানানও ভুল পেয়েছি। আমি যে কপিটা পড়েছি সেটা সম্ভবত রোদেলা প্রকাশনীর ফার্স্ট এডিশনের বই। কোনরকম প্রুফরিডিং ছাড়াই যে বইটা বাজারে ছাড়া হয়েছিলো, তা একটা বাচ্চা ছেলেও বুঝে যাবে এর কয়েকটা পৃষ্ঠা পড়লেই। আমি জানিনা, এমন অসাধারণ একটা উপন্যাসের এই হাল কেন হয়েছিলো। লেখক ও প্রকাশকই ভালো বলতে পারবেন। আমি এটাও জানিনা পরবর্তী এডিশন গুলোতে এই টাইপিং মিসটেক গুলো ঠিক করা হয়েছে কিনা। তবে এটা জানি, ইন্ডিয়াতেও এই বইটা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে এবং মোটামুটি ভালো সাড়াও পাওয়া গেছে। আসিফ সিদ্দিকী দীপ্র তাঁর লেখালেখি কন্টিনিউ করবেন, এমনটাই আশা।
বইয়ের নামটা দেখে প্রথমে মনে হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের সময়কার রাজনৈতিক কোন বিষয় নিয়ে লেখা। ফ্ল্যাপে লেখা দেখে ধারণা বদলাতে হলো। পলিটিক্যাল স্পাই থ্রিলার, তাও আবার মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে! বই কেনার জন্য মনস্থির করতে সময় লাগল না। দু’দিন আগে পনের-ষোলটা বই কিনেছি, কাজেই বেশ ভালোই মন্দা চলছে তখন। তারউপর শিবলী ভাইয়ের লেখা দারবিশ বইটাও নিজের করে নেবার জন্য বার বার অবচেতন মন তাড়া দিচ্ছিল। অথচ পকেটে যা আছে তাতে যে কোন একটা বই কেনা যাবে। ঠিক কী মনে করে দারবিশ বাদ দিয়ে একাত্তরের কানাগলি কিনলাম তা আমি নিজেও ঠিক জানি না। বাড়ি ফিরে বইটা নিয়ে বসার পর যখন মনে পড়ল পরদিন রসায়ন পরীক্ষা তখন দশ পৃষ্ঠার মতো পড়ে ফেলেছি। রসায়ন বিষয়টার সাথে আমার রাসায়নিক বন্ধন বরাবরই খারাপ। না পড়ে পরীক্ষা দিলে ফেল নিশ্চিত। কিন্তু ওই যে, দশ পৃষ্ঠা পড়ে ফেলেছি! অক্টোপাস যেমন সাকশন কাপ দিয়ে শিকারকে কাছে টেনে নেয় তেমনি এই দশ পৃষ্ঠা পুরো বইটা পড়ার জন্য আমাকে বারংবার টানতে লাগল। পরীক্ষার গোষ্ঠী উদ্ধার করে একাত্তরের কানাগলি নিয়ে বসে পড়লাম। রাত এগারোটার দিকে পড়া শুরু করেছিলাম। আমার পড়ার গতি তুলনামূলক অন্যদের চেয়ে বেশী হওয়ায় তিনশ বিশ পৃষ্ঠার বই শেষ হতে সময় লাগল মাত্র কয়েক ঘন্টা। এক বসায় পুরো বই যখন শেষ করেছি তখন ফজরের আযান দিচ্ছে। বইটা শেষ করার পর ঝিম মেরে বসেছিলাম বেশ কিছুটা সময়। এমন একটা বইও লেখা যায়! কিছু কিছু বই আছে যেগুলো পড়া শেষ করার অনেকদিন পর পর্যন্ত একটা রেশ থেকেই যায়। এই বইটা পড়া শেষ হয়েছে এক সপ্তাহর মতো হবে, এখনো রেশটা থেকে গিয়েছেই। বলতে দ্বিধা নেই, এবারের বই মেলায় আমার পড়া সেরা বই এটা। আমেরিকা বা ব্রিটেন থেকে এমন কোন বই বের হলে নিশ্চিতভাবেই মিলিয়ন কপি বিক্রি হতো। প্রথম মৌলিক বই হিসেবে লেখক তার প্লট নির্বাচন, লেখনী এবং অন্যান্য সব দিক দিয়েই যে দক্ষতা দেখিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। লেখকের কাছে পরবর্তী বইয়ের জন্য এক্সপেক্টেশন অনেকগুণ বেড়ে গেল। কাহিনী সংক্ষেপ দেব না, ছোট কোন কিছুও স্পয়লার হয়ে যাবার একটা ভয় আছে। তবে এটুকু বলতে পারি, বইটা পড়া শেষ করে প্রত্যেক পাঠকের মুখই একশ ওয়াটের বাল্বের মতো জ্বলজ্বল করবে আর মনে মনে বিড়বিড় করবে, “পয়সা উসুল।”
বইটির সাজেশন কোথায় বা কার কাছে পাই ঠিক মনে পড়ছে না।তবে বইটির নামই বই টি পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরী করে।আমার আবার একটা অভ্যাস আছে কোনো বই পড়ার আগে গুড রিডসে একটু ঢু মেরে বই টা সম্পর্কে জেনে নিই। পরে যখন জানলাম "একাত্তরের কানাগলি" মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রথম স্পাই থ্রিলার তখন তো আগ্রহ আকাশচুম্বী হয়ে যায়।বইটি নিয়ে আসলেই এক্সপেকটেশন অনেক বেশী ছিল।কিন্তু যতটা আশা নিয়ে শুরু করেছিলাম বইটা টা ঠিক ততটা ভালো লাগে নাই। কেন ভালো লাগেনি সেটা বলছি পরে।প্রথমে আসি বই এর কোনদিক টা ভালো লেগেছে।যতটুক জানি এটি লেখকের প্রথম কাজ এবং প্রথম কাজ হিসেবে বই টি খুব ভালোমতই উতরে যায়। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক স্পাই থ্রিলার হিসেবে গল্পের প্লট টাও চমকপ্রদ ছিলো।খুবই ইউনিক এবং ইন্টারেস্টিং প্লট লেগেছে আমার।কিন্তু যে দিক টা ভালো লাগে নি সেটা হলো বই এর বিভিন্ন জায়গায় কিছু কিছু শব্দের ব্যবহার আমার কাছে অহেতুক অসামঞ্জস্য লেগেছে।মনে হয়েছে চাইলেই শব্দ গুলোর ব্যবহার অন্যরকম ভাবে করা যেত।শব্দচয়নের দিকে আরো একটু মনোযোগী হওয়া উচিত ছিল লেখকের।কয়েক জায়গায় বাংলা ইংলিশ শব্দের মিশেলও অহেতুক লেগেছে।বইটি শুরুর দিকেও আমার বেশ এলোমেলো লেগেছে।অনেক গুলো চরিত্র, নাম,ছদ্মনাম, বিভিন্ন টাইমলাইন সব মিলিয়ে শুরুতে বার বার খেই হারিয়ে ফেলছিলাম। গল্পের প্লট টাও ধরতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে,তাই অনেকবার মনে হয়েছিল "ধুরু রেখেই দিই " কিন্তু ওই যে মুক্তিযুদ্ধ আর স্পাই থ্রিলার এই দুইটা কারণেই ধৈর্য্য ধরে বই টি পড়তে থাকি।তবে আস্তে আস্তে গল্প যেন প্রাণ পায় আর সব কিছু খাপে খাপে একদম বসে যায় আর সম্পূর্ন কৃতিত্ব লেখকের। আশাকরি লেখকের কাছ থেকে ভবিষ্যতে আরো গোছানো কাজ পাবো।
আমার মনে হয় যেহেতু মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক স্পাই থ্রিলার তাই সবার বইটি একবার হলেও পড়া উচিত,একটু ধৈর্য্য সহকারে পড়লে শেষের দিকে পাঠক নিরাশ হবে না।
শুরু করার আগে একটা কথাই বলতে চাই এই বই কারও মিস করা উচিত না। এই ধরনের মৌলিক বই অন্য আর একটি পাবেন না।
একটি দেশের স্বাধীনতার জন্য যেমন দরকার ওয়েপন পাওয়ার, তেমনি দরকার ইন্টেলিজেন্স পাওয়ার। আর এই একটি দেশের ইন্টেলিজেন্স পাওয়ার এর মূল উৎস সেই দেশের ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস এবং তার সদস্যরা।
এই বইয়ের কাহিনীর মূল উপাদান ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস সাথে পাবেন এজেন্ট, ডাবল এজেন্ট,স্পাই।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় শুরু হয় গোপন একটা মিশন যা সফল হলে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান সহ ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হবে বিশ্বজুড়ে।পৃথিবী চলে যাবে বিশ্বযুদ্ধের ময়দানে।
এই ধ্বংসাত্মক মিশন কে থামানোর জন্য মাঠে নামে ভিন্ন ভিন্ন গোপন গ্রুপ ও ট্রেইন্ড এজেন্ট। গোপনে এগিয়ে যায় এই ধ্বংস থেকে বিশ্বকে বাচানোর জন্য।মুক্তিযুদ্ধের সাথে সমান্তরালভাবে চলতে থাকে এই মিশন যার উপর নির্ভর করে যুদ্ধের জয়- পরাজয় এবং যার প্রতি ঘাটে ঘাটে রয়েছে বিশ্বাসঘাতকতা, গোপন মুখোশ আর কাছের মানুষে হারানোর ব্যথা।
বাকিটা জানতে চাইলে শুরু করে দিন এই রোলার কোস্টার রাইডের বই যার বিস্তৃতি পাকিস্তান,ইন্ডিয়ান, আমেরিকা থেকে সুদূর পোলেন্ড পর্যন্ত।
ব্যাক্তিগত মতামত ও রেটিং :
★প্রথম মৌলিক হিসেবে লেখক অনেক প্রশংসনীয় কাজ করেছে। লেখনী বেশ সাবলীল এবং পরিপক্ক।
★ বইয়ের স্টোরি লাইন টা অসাধারণ। সুন্দর বর্ননার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে নিয়েছেন।
লোকমুখে প্রথম বইটার কথা শুনি। একুশে বইমেলা ২০১৭-তে বের হওয়া বইটার প্রশংসায় পঞ্চমুখ সবাই। অনেকটা আগ্রহ নিয়েই বইটা পড়া শুরু করি। এর আগে কখনই হিস্টোরিকাল ফিকশন পড়া হয় নি। এটাই প্রথম আমার পড়া হিস্টোরিকাল ফিকশন।
যখন বইটা পড়া শুরু করি এমন স্পষ্ট ভিজুয়ালাইজেশন কখনই অন্য কোন বই পড়ার সময় হয় নি। প্রত্যেকটা ঘটনা, চরিত্র, দৃশ্যপট একদম চোখে যেন সিনেমার মতন ভেসে উঠছিল। বাংলায় এই বই নিয়ে চমৎকার যে একটা সিনেমা বানানো যায় তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।
তবে, বইটার শুরুতে বেশ সমস্যায়ই পড়ছিলাম। কাহিনীর আগা-মাথা কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না; সাথে আবার এত এত চরিত্র ছিল যে ভুলে যাচ্ছিলাম কোনটা কে। তবে ১৫-২০টা অধ্যায় পড়বার পর আস্তে আস্তে সব চরিত্রগুলো একদম পরিস্কার হয়ে গেল আর কাহিনী কোন দিকে আসলে আগাচ্ছে সেটাও ধরতে পারলাম।
বইটার কিছু বেশ অসাধারণ প্লট-টুইস্ট আছে। বলা বাঞ্ছনীয়, যে কিছু প্লট-টুইস্ট এতই মারাত্মক যে পড়ার পর মাথা হ্যাং করে বসে ছিলাম ১০-১৫মিনিট। ঠিক তেমনি একটা টুইস্ট অপেক্ষা করছে ঊনত্রিশ নাম্বার অধ্যায়ে।
একটা চরত্রের কথা না বলে পারলাম না, সেটা হল মেহজাবিন। অনেক বড় স্যালুট মেয়েটাকে। কেন এমনটা বললাম তা জানতে অবশ্যই পড��তে হবে বইটা। আর এজেন্ট এবং ডাবল-এজেন্টের টুইস্ট তো আছেই। বিন্দুমাত্র স্পয়লার দেয়া হয় নি। পড়লেই সেটা বুঝতে পারবেন।
লেখক, Asif Siddiquee Deepro এর ভাষ্যমতে সামনে এমন আরো হিস্টোরিকাল ফিকশন আসবে। সেই বইগুলোর অপেক্ষায় থাকলাম। আশা করছি, এই বইয়ের থেকেও ভালো কিছু পাঠকদের উপহার দিতে পারবেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের প্লটে স্পাই থ্রিলার! ব্যাপারটা এতোই নতুন যে শুরুতে আন্দাজও করি নাই জিনিসটা কেমন হবে। তথ্যে কী ভুলঠিক কিছু থাকবে? তারপর Nipa বইটা পড়ার পর থেকে কানে ঘ্যানঘ্যান শুরু করল। কাল শেষ করলাম বইটা, মুক্তিযুদ্ধ যদিও এখানে একটা ইলিমেন্ট মাত্র কিন্তু বেশ ভালোভাবেই এক্সিকিশন করা হয়েছে। ঝামেলা হচ্ছে শুরু করার পরপর টাইমলাইন মিলাতে একটু কষ্ট হয়েছে কিন্তু সেইটা একটু পরে ঠিক হয়ে গেছে।
আরেকটা জিনিস মনে হয়েছে যে, লেখায় আরো ডেভেলপমেন্ট দরকার। হয়তো সেইটা সামনেই দেখতে পাবো কারণ, প্রথম বইতে যিনি এরকম একটা সেনসিটিভ প্লট নিয়ে কাজ করেছেন, পরবর্তীতে তার কাছে আরো ভালোটাই আশা করা স্বাভাবিক।
এত ভাল থ্রিলার, তাও আবার বাংলাদেশ নিয়ে,পড়ার আগে খুব কম এক্সপেকটেশন রেখেছিলাম,কিন্ত পড়ার পর কি অবস্থা তা রেটিং দেখেই যে কেউ বুঝতে পারবে। বিশেষ ধন্যবাদ বন্ধু আজওয়াদ আহনাফ কে বইটি রিকমেন্ড করার জন্য😍
#মূলকাহিনীঃ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের কোভার্ট এ্যাকশন ডিভিশনে একটি ইন্টারোগেশন হয়, যার সাথে আপাতদৃষ্টিতে মুক্তিযুদ্ধের কোনো সম্পর্কই ছিল না; তার সূত্র ধরে হয় একটি ছোট্ট অপারেশন, এবং এরপর থেকেই বিভিন্ন প্রশ্ন জাগতে শুরু করে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের মনে। যার উত্তর উদ্ধার করতে গিয়ে বের হয়ে পড়ে পর্দার অন্তরালে চলতে থাকা একটি অত্যন্ত গোপন এবং উন্মত্ত অপারেশনের।
এমন কিছু সেই অপারেশনে ছিল যা বাস্তবায়িত হলে কেবল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানেই নয় ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়ে যাবে সমগ্র্র বিশ্বজুড়েই।
মাত্র গুটি কয়েক লোকের কাছে ফাঁস হয়ে যাওয়া সেই প্ল্যান বানচাল করতে, বাংলাদেশকে, এবং সারা বিশ্বকে একটি সাম্ভাব্য ধ্বংসলীলা থেকে বাঁচানোর জন্য ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্য কিন্তু একই লক্ষ্য নিয়ে একদল বেপরোয়া লোক নেমে পড়ে একটি অত্যন্ত গোপন মিশনে।
মুক্তিযুদ্ধের সাথে সমান্তরালভাবে চলতে থাকা সেই মিশনের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে মুক্তিযুদ্ধের ভাগ্য, বাংলাদেশের ভাগ্য এবং সমগ্র বিশ্বের ভাগ্য।
সাথে রয়েছে কিছু রহস্যময় চরিত্র, যাদের আনাগোনা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে পুরো মিশনটাকে এবং নিজেরাও প্রভাবিত হয়েছে মিশনটির কারণে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে মুক্তিযুদ্ধ, আমেরিকা থেকে চীন এবং করাচীর গলি থেকে শুরু করে ধাণমন্ডির রাস্তা দিয়ে এগিয়ে চলেছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা একটি সম্পুর্ণ ভিন্নধর্মী স্পাই থৃলার 'একাত্তরের কানাগলি'র গল্প।
এবার আমার পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ উপরের মূলকাহিনী পড়ে আসলে কাহিনীর ব্যপ্তি আর ঘভীরতার সিকিভাগও বোঝা যাবে না, যে কি চীজ ধরে আছেন দুই হাতের ফাঁকে।
যাক, শুরু করলাম লেখকের ডিসক্লেইমার দিয়ে। ড্যান ব্রাউন আর রোলিন্সের বইতে দেখেছি আগে। এখন দেখছি আমার বাংগালি এক ভাইয়ের বইয়ে। প্রত্যাশার পারদ একটুখানি চড়ল। এরপর মুখবন্ধে পেলাম বাস্তব জগতের পরিচিত এক ঘৃন্য চরিত্রকে।
এরপর লেখক আমাকে পিংপং বল বানিয়ে ফেলল। It's a রোলার কোস্টার রাইড। কাহিনী এত দ্রুত আর আর এত জায়গাতে ঘটছিল যে নিজেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে একই সাথে বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধরত ফিল্ড মার্শালের মত মনে হচ্ছিল। একবার কাহিনী করাচিতে তো পরে ইউকে তে, তারপর যুক্তরাষ্ট্রে, পোল্যান্ডে, নিউইয়র্কে, আবার করাচিতে, আবার বাংলাদেশে; কখনো চরিত্র হয়ে আসছে সোহরাওয়ার্দী আর শেখ মুজিবুর রহমান, কখনো ইয়াহিয়া খান আর জুলফিকার আলী ভুট্টো, আবার কখনো রিচার্ড নিক্সন আর হেনরী কিসিঞ্জার। তাদের কথোপকথন গুলো এত হৃদয়গ্রাহী আর বাস্তবঘেষা যে, মনে হচ্ছিল লেখক নিজে টাইমট্রাভেল করে দেখে আসেননি তো!!
আমি স্পাই জগতের ব্যাপারে ব্যাপক আগ্রহী পাঠক। আর এখানে আমার আগ্রহ পূরনের উপাদান পেয়েছি একেবারে মনমতো। কেননা দৃশ্যপটে আছে ত্যাদড় ত্যাদড় কয়েকটা সংস্থা। CIA, ISI, MOSSAD, RAW, FBI, KGB একেবারে বিগ সাইজ কম্বো। লেখক স্পাইগেমটা পুরো প্রফেশনাল খেলেছেন। ইন্টেলিজেন্স, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স, ডাবল কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স, স্পাইদের বিশ্বাসঘাতকতা, হঠকারীতা সব উঠে এসেছে সাবলীল বর্ননায়।
জায়গায় জায়গায় আর্মড আর আন আর্মড হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড কমব্যাট বর্ণনাভঙ্গি তে হয়ে উঠেছে জীবন্ত। সাথে আছে বইয়ের জমজমাট ফুল প্যাকড কাহিনী। কয়েকজন শক্তিশালী চরিত্র সৃষ্টি করেছেন লেখক।
যেহেতু কাহিনীটা মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক, তাই বিভিন্ন চরিত্রের ভিতর দিয়ে উঠে এসেছে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, সুগভীর দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ। পড়ে শিহরিত হিয়েছি যে, কিভাবে একজন লোক তার last full measure of devotion দিয়ে দেশপ্রেম এ অটুট থেকে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারে।
লেখক চরিত্রসৃষ্টিতে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। যেহেতু অনেক চরিত্রের বাস্তব অস্তিত্ব ছিল তাই তাদের সবার individual personality এর প্রতি লেখকের সজাগ দৃষ্টি ছিল, সেটা তাদের কার্যকলাপ আর ডায়লগের ভিতর দিয়ে খুব ভালভাবে ফুটে উঠেছে। বাস্তবের সাথে সহজেই মিলানো গেছে। এটা কাহিনীকার এর সবচেয়ে বড় সফলতার একটা বলে মনে করি। কাহিনীর প্রথমার্ধের আপাত অসামঞ্জস্যতা পরের অর্ধেকে এসে এত সুন্দরভাবে মিলে গেছে যে খুব উপভোগ্য হয়ে উঠেছে উপন্যাসটা।
সমালোচনা বলতে বলব; কয়েকটা জায়গায় 'টাকা' এর বদলে 'অর্থ' শব্দটা ব্যবহার করলে ভাল হত, কারণ টাকা বলতে স্পেসিফিক বাংলাদেশের মুদ্রাকেই বোঝানো হয়। বোম শব্দটার বদলে 'বোমা' বা 'বম্ব' ব্যবহার করলে ভাল হত বলে অভিমত প্রদান করলাম। গর্দভ শব্দটা কিছু জায়গায় গর্ভব হয়ে গেছে। ব্যাস!!
লেখক বইয়ের ফ্ল্যাপে বলেছেন, বিদেশী লেখকদের থৃলার দেখলে তিনি ঈর্ষার সুক্ষ্ম খোঁচা অনুভব করতেন। ওকে, আর করার দরকার নেই। আপনি নিজে দারুন একটা থ্রিলার লিখে ফেলেছেন।
পাঠ্যান্তে দাবিঃ লেখককে অচিরেই গত এন এস আই এর AD পদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা সত্ত্বেও পদটির জন্য সুপারিশ করে সরকারী গেজেট প্রকাশিত হোক :)
হিউমার সম্পন্ন লেখা। শেষ এরকম টানটান স্পাই থ্রিলার পড়েছিলাম জেসন বর্ন সিরিজে। মারাত্মক একটা প্লট। বইটা আসলেই কানাগলি। একাত্তরের কানাগলি, নাম শুনেই বুঝতে পারছেন মুক্তিযুদ্ধের সময়কার আখ্যান। ওয়েট ওয়েট, এটা শুধু মুক্তিযুদ্ধ না, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বাংলাদেশ-বাঙ���গালী নিয়ে পাকিস্তান ও বিশ্ব রাজনীতির একটা ধারণা পেয়ে যাবেন আপনি। অসাধারণ, জটিল ও ইনফরমেটিভ একটা প্লট। বিশাল টাইমলাইন, সাথে বিশাল ফিল্ড ভলিউম। আইএসআই, মোসাদ, সিআইএ এর মত ওয়ার্ল্ডওয়াইড গোয়েন্দা সংস্থার সাথে আছে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নিক্সন, পাকিস্তানের ইয়াহিয়া, ভুট্টো, টিক্কা, বাংলার সোহরাওয়ার্দী, শেখ মুজিবুর রহমানের মত হাই প্রোফাইল পলিটিক্যাল ম্যান। প্রায় পঞ্চাশ পৃষ্ঠা পড়ার পর মূল কাহিনীটা ধরতে পেরেছি, সেদিক দিয়ে প্লট বিল্ডাপে একটু সময়ই নিয়েছে লেখক। এরপর কাহিনির গতি দেখার মত। একটা টুইস্ট কাটানোর আগেই আরেকটা টুইস্ট। সংলাপগুলো লেখক এমনভাবে পরিচালনা করেছে যে, গল্পের চিত্রটা যেন চোখের সামনে ভাসছিলো। একজন প্রেসিডেন্ট, স্পাই, সমাজবাদীর সংলাপ কিরকম হতে পারে, তা দেখাইতে লেখক পুরোপুরি সফল। অ্যাকশন, সাসপেন্স, বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র, গুপ্ত অভিযান — এক কথায় একটা স্পাই থ্রিলারে যা যা উপকরণের দরকার হয় তা সবই ছিলো। লেখকের লেখার স্টাইলটাও ইউনিক। ইমরান চরিত্রটা মনে দাগ কেটেছে, স্যালুটেড ক্যারেক্টার। শত্রুর উচ্চপর্যায়ের একটা ধ্বংসাত্মক প্ল্যান থেকে দেশ ও বিশ্বকে বাচানোর জন্য শত্রুর ঘাটিতে দেশের প্রথম স্পাই হিসেবে যোগ দেয় সে। আর এটা নিয়েই কাহিনী বিল্ডাপ হয়।
বই পাগল গ্রুপ গুলোতে আনাগোনা থাকলেও অদ্ভুত কোন এক কারণে ফেব্রুয়ারি মাসে খোঁজ পাই নি বইটার। মার্চে কোন একদিন গুডরীডসেই কারো "ওয়ান্টস টু রীড" তালিকায় দেখে দুটো কারণে কৌতূহলী হয়ে উঠি - ১। বইয়ের নামে একাত্তর ২। বইয়ের লেখকের নামের সাথে ঠিক একাত্তর নাম্নী কোন ভারিক্কী নাম যায় না (অনেক বেশি বোকামো টাইপের কথা হলো)। পরে বইয়ের সারসংক্ষেপ পরে সাথে সাথেই রকমারিতে অর্ডার করে দেই। পলিটিক্যাল থ্রিলার জনরা টা অনেক বেশিই অপরিচিত আমাদের কাছে। শুধু মাত্র পলিটিক্যাল থ্রিলার জনরাই নয়, যদি থ্রিলার জনরাও হিসেব করি, খুব সম্ভবত সাম্প্রতিক সময়ে লেখা সেরা বইই "একাত্তরের কানাগলি"। প্রায় ৩২০ পৃষ্ঠার বইটা পড়তে একবারো বিরক্ত হয়ে যাই নি, কখনো মনে হয় এই অংশ টা অন্যরকম হলে ভালো হতো। নন লিনিয়ার গল্প বলার সময়ে দেখা যায় আমাদের দেশের অনেক লেখক হোক, কিংবা চিত্রপরিচালকই হোক- অনেক বাজে ভাবে কেঁচিয়ে ফেলেন। তরুণ এই লেখক যে মুনশিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন তা এক কথায় প্রশংসার যোগ্য। প্রত্যাশা বেড়ে গেলো লেখকরের উপর। সামনেও তিনি এই রকম কিছু অসাধারণ লেখনী উপহার দিবেন, তা এক প্রকার নিশ্চিত ই আমি।
একজন বাঙালি হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে গর্বের ব্যাপার আমাদের মুক্তিযুদ্ধ।সেই মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যখন লেখা হয় থ্রিলার বই তখন তো সেটা পড়তেই হয়।গুডরিডসে অসংখ্য পজিটিভ রিভিউয়ের ঝড় বয়ে গেছে এই বই নিয়ে।প্রশ্ন হলো,বইটি আমার কেমন লেগেছে।এককথায় যদি বলি তাহলে বলবো লেখকের প্রথম বই হিসেবে আমি সন্তুষ্ট।
১৯৬০ এর দিকে ভবিষ্যতের যুদ্ধের কথা চিন্তা করে সোহরাওয়ার্দী আর শেখ মুজিব মিলে প্ল্যান করেন আইএসআইতে বাংলাদেশের একজন ডাবল এজেন্ট ঢুকানোর।প্ল্যানমাফিক ঠিকই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।একই সাথে গোপনে পশ্চিম পাকিস্তানে শুরু হয় এক গোপন অপারেশন।যা ঠিকঠাক ভাবে চলতে থাকলে শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো পৃথিবীর অস্তিত্বই পড়বে হুমকির মুখে।মাঠে নামে সেই বাংলাদেশি আইএসআই এজেন্ট।যার সঙ্গে আছে ভারতের র এবং আমেরিকার এক রহস্যময় সংগঠন।
আমার খারাপ লাগার ব্যাপারগুলো বলি।বইটার প্রেক্ষাপট ১৯৭১ সাল কিন্তু বেশ কিছু বর্ণনা পড়ে মনে হচ্ছিলো লেখক আমাকে ২০২০ সালের বর্ণনা দিচ্ছেন।যা গ্রহণযোগ্য নয়। তারপর আসে বইয়ের সবচেয়ে বিরক্তিকর ব্যাপার।এত্তো এত্তো বানান ভুল যদি থাকে একটা বইতে তাইলে ভাই পড়ে শান্তি কিভাবে পাবো?শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রতিটাবার 'শেখ মুজিবর রহমান' লেখা।লেখকের বর্ণনার ভঙ্গিতেও জড়তা লক্ষণীয়।যা পড়ার গতিকে বারবার ব্যাহত করে।আশা করবো নেক্সট বইতে লেখক এদিকে লক্ষ্য রাখবেন। বইতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটা ঘটনা নিয়ে বেশ কয়েকটা চ্যাপ্টার আছে।যা বাহুল্য ব্যতীত আর কিছুই নয়।
লেখকে সাধুবাদ জানাই মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বইটি লেখার জন্যে।প্রথম বই হিসেবে এরকম দুর্দান্ত প্লট অবশ্যই প্রশংসনীয়।প্রথম বইয়ের ত্রুটিগুলো সামনে লেখক কাটিয়ে উঠবেন এটাই প্রত্যাশা।
বেসিক্যালি, আমি এই বই টা কে একদম ৪.৭৫ আউট অফ ৫ দিবো। দুর্দান্ত একটা এস্পিওনাজ থ্রিলার, ১৯৭১ সালকে বেইজ করে। ১৯৭১ সালকে বেইজ করে হলেও, এর ঘটনাপ্রবাহ শুধু মুক্তিযুদ্ধকে কে কেন্দ্র করেই ছিল না, এর কাহিনীর ডালপালা ছড়িয়েছে বহুদুর, আর এটাই এই বইয়ের সবচেয়ে স্ট্রং পয়েন্ট।এই বইটার প্রত্যেকটা থ্রিল, ক্লাইমেক্স, সাস্পেন্স এত দুর্দান্ত যে, আমার এই বইয়ে তেমন কম্পলেইনের জায়গাই নেই। প্রত্যেক্টা ঘটনাই ঠিকঠাক, এক ফোটাও মনে হয়নি জোর করে দূর দূরান্ত থেকে এনে সূত্র মেলানোর চেষ্টা করা হয়েছে। প্রত্যেকটা ক্যারেক্টারের দৃষ্টিভংগি থেকে প্রতিটা ঘটনা দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন লেখক, এরচেয়ে বেটার মেবি আর হতে পারতোনা। ৩ টা টাইমলাইনে চলছিল ঘটনা, প্রত্যেকটার সুতো মেলানোর কাজটা লেখক চমৎকার ভাবেই করেছেন, এবং মুক্তিযুদ্ধের সাথে সবকিছুর সুতো বাধার পার্ট টাও লেখক চমৎকার ভাবেই করে গেছেন পুরো বই জুড়েই। এই বইয়ের কোন নেগেটিভ সাইড যদি বলতেই হয়, সেটা হলো বইটা ৩ টাইমলাইন ধরে আগানোর কারণে শুরুতে কোন কাহিনী কখন হচ্ছে আর কেন হচ্ছে এটা বুঝতে একটু কষ্ট হচ্ছিল, মাঝে মাঝে পিছে যেতে হচ্ছিল। তবে কিছুদূর সামনে আগানোর পরেই এই ঝামেলা আর থাকেনা, এবং শুরুতে পড়ার স্পিড ফাস্ট না করা গেলেও পরে এত দ্রুত কাহিনী আগায় যে শুরুর সেই স্লোনেস টা আরামসে পুষিয়ে যায়। তো এক হিসাবে এটা আসলে কোন সমস্যাই না।