হরর থ্রিলার ঘরানার বইটিতে আগের দুবারের মতই আছে নিশিমিয়া নামের একজন প্রেতসাধকের কথা। আছে পাঁচ বন্ধুর কথা যারা ভূত হান্টার গ্রুপ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পরেই বুঝতে পারে বিশাল কোন এক বিপদে পরে গেছে ওরা। পাঁচ জনের একজন গায়েব হয়ে গেল। ফ্যাশন আইকন লেডি গাগার কাছে নিয়মিত যাতায়াত করতে শুরু করে দিয়েছেন দুজন মন্ত্রী। নিহির নামে অদ্ভুত প্রাণীটা নিজের পরিচয় গোপন করে চাকরি করতে গিয়ে সত্য ফাঁস হবার ঘটনায় পালিয়ে গেল ঠিকই- কিন্তু খুঁজতে শুরু করে দিল নিশিমিয়াকে। কতগুলো কুকুরমুখো অদ্ভুত মানুষ ঘুরে বেড়াতে শুরু করেছে গুলশান বনানীর রাতের রাস্তাগুলোতে। বিশালাকার কোডেক্স জাইগাস চুরি হয়ে গেছে সুইডেনের রয়্যাল মিউজিয়াম থেকে। এর মাঝেই কিছু ক্ষমতালোভী মানুষ শুরু করল প্রেতসাধনা। অমরত্ব পেতেই শয়তানের স্মরণাপন্ন হয় সবাই। কিন্তু ওরা আরো বেশি কিছু চায়। কী চায় ওরা?
Born in Chittagong, a beautiful town in bangladesh which has many stories to tell. He is an architect by profession. Loves to write dreams, some dreams no one could imagine.
হরর লেখা হিসেবে সার্থক। আগের পর্বের থেকে এই পর্ব অনেক অনেক বেশি সুন্দর হয়েছে। গল্প লেখাতে ছিল স্বাভাবিকতা, পুরা একটি চ্যাপ্টার শেষ করে অন্য চ্যাপ্টার এ প্রবেশ। লেখার হাত খুলে গেছে লেখকের। বেশি রকম ইনফরমেশন দিতে গিয়ে শেষের দিকটা একটু এদিক ওদিক হয়ে গেছে। লেডি গাগা বা নিহির এর ব্যাপারটা আলোচনায় আসে নি। বাচ্চাদের বিশেষ করে ঘোষ্ট হান্টারস ছিল অমূলক। আশা করছি লেডি গাগা এবং নিহরকে নিয়ে আগামীতে আর একটি পার্ট হবে।
রহস্যের মায়াজালে হারাই না অনেকদিন, অনেকদিন পড়া হয় না রহস্যঘন কোন গল্প। “মানুষখেকো” কিনে আনার পর,পড়বো পড়বো করেও শুরু করতে পারছিলাম না।গতকাল সন্ধ্যায় পড়া শুরু করলাম।একটানা পুরো বই শেষ করলাম। গল্পের রহস্যজালের গভীরে আমিও নিহিরের অস্বভাবিক নীল আলোর মায়ায় আর লেডি আইকন গাউসিয়া গাহিনের(গাগা)অমরত্ব পাওয়া রুপের মাঝে সময়কে হারিয়ে ফেলি।পাঁচজন যুবক “ গোস্ট হান্টারস” হিসেবে রেডিওতে মাসিক স্পেশাল একটা প্রোগ্রাম শুনায়।ওরা ওদের প্রোগ্রামটার জন্য কাজ করতে নিজেরাই আনন্দ পায়।এ মাসে ওরা মৃত মানুষকে জীবিত করার কৌশল নিয়ে ব্যস্ত।স্বয়ং শয়তানের লিখা “কোডেক্স জাইগাস” থেকে ওরা পদ্ধতিটা পেয়ে যায় কিন্তু PDF ফাইলে সে বইটাতে কিছু পৃষ্ঠা মিসিং। এ রহস্যটা নিয়ে ভাবতে ভাবতে গায়েব হয়ে যায় “গোস্ট হান্টারস” দলের এক সদস্য। মন্ত্রীসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের আনাগোনা লেডি আাইকন গাগার বাসায়।প্রধানমন্ত্রীর পর সেই দেশের ক্ষমতাশীল নারী।কিন্তু অমরত্ব পাওয়া এ নারী সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্রেতসাধনায় মেতে উঠে। ডাক্তার নিতিন স্বপ্নে নিশি মিয়ার ডাক শোন,ছুটে যায় তার কবরের কাছে।কিন্তু লাশ তো চুরি হয়ে গেছে।১৩ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু ও ভাবায়ে তোলে নিতিন আর সাইক্রিয়াটিক ডা.সরফুদ্দিনকে। চুরি যাওয়া আসল “ কোডেক্স জাইগাস”, প্রেতসাধনা বন্ধ,নিতিনের ভয় পাওয়া,গোস্ট হান্টারসদের মৃত্ মানুষকে জীবিত করার শো টা, আর নিশি মিয়া রহস্যাদি লেখক এমন ভাবে সাজিয়েছে যেন রহস্যজালে আটকাতেই হবে।নিশি মিয়ার প্রেত সাধনার ক্ষমতায় মুগ্ধ হতেই হল। নিশি মিয়া সিরিজের শেষ বই “মানুষ খেকো” পড়ে আগের গুলোর তুলায় ভালো লাগছে।শেষ হয়েও হইলো না শেষ। নিশি মিয়ার মত আমারও বলতে ইচ্ছে হচ্ছে “ বাবা বড় খিদা লাগছে-একখান কাঁচা মাছ আনি দিবা?”