Jump to ratings and reviews
Rate this book

ব্যবহৃতা

Rate this book

144 pages, Unknown Binding

2 people are currently reading
44 people want to read

About the author

Anwara Syed Haque

40 books16 followers
Anwara Syed Haq is a writer of Bangla literature. She has written a number of novels, short stories, children's books and also written a number of essays. She has been praised for using her knowledge of human psychology beautifully in her writings. She is a psychiatrist by profession.

After completing her SSC and HSC in Jessore, Haq moved to Dhaka in 1959 and enrolled in Dhaka Medical College. She obtained her MBBS degree in 1965. In 1973 went to the United Kingdom for higher education. After having completed her post graduate degree in medical psychiatry in 1982 she returned home from the UK. She has since then worked at a number of institutions, among which are Bangladesh Airforce, Dhaka Medical College and BIRDEM.

Haq's first short story "Paribartan" was published in Sangbad in 1954. From 1955 to 1957, she regularly wrote for Ittefaque's "Kachi Kanchar Ashor". Her first novel was published in Sachitra Shandhani in 1968. After her first novel, she has written a number of novels and short stories. Many of her novels are set in Dhaka and London where she spent much of her time. Her publications consist of twenty-five novels, three volumes of poems, eight collections of short stories, eight collections of essays, three autobiography volumes, two collections of travel writing, forty fictional stories for young readers.

Now she works professionally as a psychiatrist.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
4 (40%)
4 stars
5 (50%)
3 stars
1 (10%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 6 of 6 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,668 reviews435 followers
August 2, 2022
আমার ধারণা ছিলো বইতে কী আছে সেটা আমি জানি। কিন্তু পড়তে পড়তে বুঝলাম আসলে জানতাম না।"ব্যবহৃতা" নামে উপন্যাস হলেও আদতে পুরোটাই আনোয়ারা সৈয়দ হকের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রচিত। পড়ার মাঝখানে বেশ কয়েকবার বই বন্ধ করে দিতে হয়েছে বাধ্য হয়ে।পতিতাদের নিয়ে কম কাহিনি তো আর লেখা হয়নি। এসব বইতে আবেগের আধিক্য ও অতিনাটকীয়তার ছড়াছড়ি থাকে।২০২১ এ পড়া "রক্তের অক্ষর" আর এবছর পড়া "ব্যবহৃতা" সেক্ষেত্রে উজ্জ্বল ব্যতিক্রম।
বইয়ের বিষয়বস্তু, পতিতাদের অবস্থা, তাদের জীবনদর্শন আর লেখিকার গদ্যশৈলী সম্পর্কে নিজে না বলে সরাসরি বইয়ের দ্বারস্থ হলাম-

১.প্রথম মেয়েটি এবার গর্ব করে সুপারভাইজারের দিকে তাকিয়ে বলল, আজ আমার টার্গেট কত জানেন?
কত? সুপারভাইজার জিজ্ঞেস করল ।
একশো এক! আজ অন্তত একবার হইলেও বেশি করুম!
... আমার ভাবনার ভেতরেই এই সময় বারো বছরের নদী এগিয়ে এল আমার কাছে। প্রায় আমার কোলের ভেতরে! যেমন শিশু এগিয়ে আসে তার মায়ের কাছে। এতক্ষণ তার ‘আপাদের কথা শুনছিল সে। সে কাঁদো কাঁদো গলায় বলে উঠল, ও আন্টি, আমি দুইবার, তিনবার করলেই ব্যথা পাই! ওরা আমারে যে ক্রিম দিছে, সেই ক্রিমে কিচ্ছু হয় না! আমি শুধু ব্যথা পাই। আপনি আমারে একটা ক্রিম লিইখা দ্যান, য্যান আমার ব্যথা না লাগে। য্যান আমি আপাদের মতন হইতে পারি।

২."আপনি হাসালেন। পুলিশের কাছে গেলে তো ওরা তখুনি তাকে সেলে নিয়ে গিয়ে আবার সবাই মিলে শুরু করবে! এ দুনিয়াই আমাদের মতো মেয়েদের কষ্টের কোনো বিচার হয় না। আমরা শুধু মানুষের ‘ঘিন্না’ কুড়োনোর জন্য এসেছি।এমনকি আপনি যে এত ভালো ব্যবহার করছেন আমাদের সাথে, আমি যদি এখন আপনার গা জড়িয়ে ধরে আপনাকে আন্টি বলে আদর করি বা গালে চুমো খাই তো আপনি বাড়ি ফিরেই আবার গোসল সারবেন। সারবেন না?"

৩. আমি বললাম, তোমার কি মাথা খারাপ? কয় মাসের পোয়াতি তুমি? উত্তরে হাসতে হাসতে রাহি বলল, সাত মাস ।
আমি তার কথা শুনে যেন ভাষা হারিয়ে ফেললাম। নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম, এমআরই যদি করাবে তো এতদিন দেরি করলে কেন? গর্ভবতী হওয়ার সাথে সাথে করাওনি কেন? এখন তো পুরো ব্যাপারটা তোমার জন্য রিস্কি হয়ে যাবে।

আমার কথায় মেয়েটি আরও এক দফা হেসে বলল, কিছু স্যার আছেন, য্যানারা পোয়াতি মাইয়ার সাথে শুইতে ভালাবাসেন! তাগো জন্যই ফালাই নাই।

৪."আপা, আল্লায় এই কুত্তাগো হাতে সব ট্যাকা দিয়া পাঠাইছে! মহিলারা অনেক ভালা। আজ আপনে যদি আপনার স্বামীর সমান কামাই করতেন, তো তাইলে দেখতেন আপনার স্বামী আপনারে কত ডরায়! আসলে আপা মানুষ ডরায় পয়সারে। পয়সা যার থাকব, মানুষ তারেই ডরাইবো। এই যেমন আমি বাড়িত ট্যাকা পাঠাই, আমার বাপ-মা-ভাই, সবাই আমারে ডরায়। কেউ আমারে জিগায় না, শাবনুর, কই পাইছোস এত ট্যাকা?"


পতিতার বাসায় গিয়েছেন কিন্তু সেই পতিতার বিছানায় বসতে বা তার দেওয়া খাবার খেতে বাধা দিচ্ছে জন্মগত সংস্কার; এমনসব অনুভূতি লেখিকা
অকপটে স্বীকার করেছেন। পুরো বইতেই তিনি একবারের জন্যেও মহৎ সাজার চেষ্টা করেননি। বরং প্রতিনিয়ত নিজের সীমাবদ্ধতা নিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করেছেন।
বইয়ের শেষ পর্যায়ে উপন্যাসের প্রায় অদৃশ্য কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এক চরিত্র কবিতার উপস্থিতি পুরো গল্পটিকে ভিন্নমাত্রা দান করেছে।
এমন একটা বই বহুলপঠিত হওয়া প্রয়োজন।

(৬ মে,২০২২)
Profile Image for Manzila.
167 reviews159 followers
August 2, 2022
৪.৫/৫
ডকুমেন্টারির আদলে লেখা কী সাহসী একটা বই! চিন্তার খোরাক যুগিয়েছে অফুরন্ত। আনোয়ারা সৈয়দ হক, আপনার লেখা, আপনার কাজকে ভালোবেসে ফেললাম।
Profile Image for Maliha Huq.
24 reviews2 followers
July 13, 2018
'ব্যবহৃতা' আনোয়ারা সৈয়দ হক এর একটি সমীক্ষা উপন্যাস। এই উপন্যাসে তিনি বলেছেন নিষিদ্ধ পল্লীর সেইসব মেয়েদের কথা যাদেরকে সমাজ একনামে চেনে 'বেশ্যা/নষ্টা' হিসাবে; এই শব্দটা কানে আসলে আমাদের অনেকেরই হয়ত ঘৃণা আর অবজ্ঞায় চেহারা কুঞ্চিত হয়ে যায়। তাদের বাস্তব জীবনটা সম্পর্কে কোন ধারণা না নিয়েই হয়ত আমরা একটা বিরূপ মন্তব্য করে বসি।
লেখক যেহেতু একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, তাই ওনার এই দীক্ষার ছাপ এই উপন্যাসটির পাতায় পাতায়, প্রতিটি যৌনকর্মীর জীবনকথা বলার ভঙ্গিতে সহজেই চোখে পড়ে। এমনকি কিছু পীড়াদায়ক ঘটনাকে তিনি এমন মুন্সিয়ানার সাথে বর্ণনা করেছেন যাতে পাঠকের মনে কোন বিরূপ মানসিক চাপের সৃষ্টি না হয় এবং একইসাথে আসল ঘটনাটাও দৃষ্টিগোচর হয়।
লেখক এদেরকে সম্বোধন করেছেন 'আদিম শ্রমজীবী' বলে। এদের সিংহভাগই এই পেশাকে বেছে নিয়েছে নিজের এবং পরিবারের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করে বাঁচতে। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে; কেউ কেউ একটা চকচকে-বিলাসবহুল জীবন পেতে, কেউবা স্বামী, আত্মীয়-পরিজনের লাঞ্ছনার হাত থেকে রেহাই পেতে, অনেকের লেখাপড়া ভালো লাগছে না তাই, অনেকে শুধু শরীরকে মূলধন করে অর্থোপর্জনের সহজ পন্থা হিসাবে, অনেক বড়লোক গৃহিণী নিজের সংসারে নিজের স্বামীর দ্বারা তার যৌনতৃষা মেটাতে না পেরে এই ব্যবসায়ে নেমেছেন।
এটাকে টাকা কামানোর শর্টকাট উপায় মনে হলেও বেশিরভাগ যৌনকর্মীই নিজেদের পেশা নিয়ে ভীষণ হীনম্মন্যতায় ভোগে। নিজেকে, নিজের শরীরকে, নিজের অস্তিত্বকে তারা ঘৃণা করে; আবার এই পেশা থেকে সহসা এক ঝটকায় তারা বেরিয়েও আসতে পারে না। মাদকদ্রব্যের মত বিকৃত জীবনেরও এমন এক টালমাটাল করা নেশা আছে, যার স্বাদ একবার পেলে তার কবল থেকে মুক্তি পাওয়া মুশকিল। বিশেষ করে এরা বয়ঃসন্ধির আগেই শারীরিক নিপীড়ন, ধর্ষণ, ইত্যাদির শিকার হয়। বয়সের সাথে সাথে মানুষের ভিতরে যে স্বাভাবিক বিচার-বিবেচনা-বিবেকবোধের জন্ম হয় তা তৈরি হওয়ার আগেই এরা শুধুমাত্র নিজের 'শরীর' এর ভিত্তিতে সবকিছুর হিসাব করতে শেখে; তাই শরীরকে পুঁজি করেই গড়ে ওঠে তাদের জীবনবোধ আর দৃষ্টিভঙ্গি। সুতরাং যৌনজীবন একটা দুষ্টচক্রের মত এদের ঘিরে ধরে। এটা যেন তাদের এক পাওয়ার গেম, পুরুষের ওপর নারীর, এক নারীর ওপর অন্য নারীর ক্ষমতা জাহির করার খেলা। এই একই খেলা জীবনের প্রতি তাদের তাচ্ছিল্য, মানসিক বিকারগ্রস্ততা আর বীতস্পৃহ ভাবের তৈরি করে, আত্মসম্মানবোধের অভাবই তার প্রধান কারণ।
এই উপন্যাসে অবশ্য এমন কিছু দৃঢ়কণ্ঠী, আত্মপ্রত্যয়ী পতিতার দেখাও মেলে, যারা নিজ কমিউনিটির অধিকার আদায়ের দাবিতে মিছিল-মিটিং, আন্দোলন করে অ্যাসিডদগ্ধও হয়েছে। আবার অনেকের আন্দোলন সফল হওয়ায় আজকে তারা বাইরে বেরিয়ে মুখ ফুটে নিজের পরিচয় দিতে পারে, বাজারঘাট করতে পারে, অসুখে ডাক্তারের চিকিৎসা পেতে পারে, মায়ের পরিচয়ে সন্তানদের মানুষ করতে পারে। অনেক যৌনকর্মী আবার 'বনেদি' বাড়ির পর্দানশী মেয়ে; 'কাজ' এর পর তারা নিয়ম করে আল্লাহ-খোদার নামগান করে।
আরও উল্লেখিত হয়েছে কান্দুপট্টি এবং টানবাজার, এই দুই বেশ্যালয় থেকে উচ্ছেদিত পতিতাদের প্রাথমিক থাকা-খাওয়ার অনিশ্চয়তার গল্প, এবং বিভিন্ন হোটেলে আর দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ক্যান্সারের মত তাদের ছড়িয়ে পড়ার কাহিনী।
সবচাইতে অনিশ্চিত যাদের জীবন তারা হল বয়স্ক পতিতা এবং যৌনকর্মীদের ছেলে শিশুরা। বিভিন্ন এনজিও তাদের মেয়েদেরকে আঠার বছর বয়স পর্যন্ত দেখভাল করলেও বড় হতে হতে কোন দিকনির্দেশনার অভাবে তাদের ছেলেরা হয়ে ওঠে দা��াল, মাদকব্যবসায়ী, চোরাকারবারি। প্রতিনিয়ত নৈতিক অবক্ষয় তাদের ভবিষ্যতকে অন্ধকারের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
দেশের কোন ব্যাংকই নাকি পতিতাদের 'হারাম' পয়সা জমা রাখতে চায় না, অর্থাৎ ভবিষ্যতের জন্য তাদের কোন সঞ্চিত অবলম্বন নেই। আর স্থানীয় ধাপ্পাবাজরা তাদের উপার্জন ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
এই সবকিছুর গভীরে যতই যাই শুধু একটা বিষয়ই স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হতে থাকে; আর তা হল পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষের একাধিপত্য, ঘরে-বাইরে পুংলিঙ্গের দাপট, আর প্রাক-যৌবনকাল থেকে আমৃত্যু পুরুষের জাজ্বল্যমান, অতৃপ্ত যৌনক্ষুধা। হুজুর-নাস্তিক, পুলিশ-সন্ত্রাসী থেকে শুরু করে, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, যুবক-বৃদ্ধ, মন্ত্রী-ব্যবসায়ী-চাকরিজীবী, সব পেশা, সব ধর্ম, সব বর্ণের পুরুষ এদের কাস্টমার। এদের বাড়িতে যেমন আছে সতী-সাধ্বী, বাইরে তেমন আছে বারবণিতা। ওখানে এমন বিকৃত মস্তিষ্কের নররাক্ষস আছে যারা একেবারে নাবালিকা-কুমারী-সতীকে তাদের বিছানায় চায়, কারও পছন্দ পোয়াতী পতিতা, এমনকি অনেকে 'কম রেটে' পতিতাদের কিশোর ছেলেদের নিয়ে ফুর্তি করে নিজের আশ মেটায়।
লেখক তার উপন্যাসে বিশ্লেষণ করেছেন, কীভাবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের গোড়াপত্তন থেকে নারীর জন্য পাতা হয়েছে এক সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের ফাঁদ, কীভাবে নারীকে পরস্পর বিরোধী দুটি দলে বিভক্ত করে তথাকথিত সমাজ আর ধর্মের বেড়াজালে আটকানো হয়েছে। পুরুষ যেমন সংসারের সতীকে বাইরে যেতে দেয়নি, তেমনি বাইরের রক্ষিতাকে কোনদিন প্রবেশ করতে দেয়নি সংসারের গণ্ডিতে। অথচ নিজে অবাধে বিচরণ করে বেড়িয়েছে দুই ক্ষেত্রেই। ফ্রয়েড থেকে রবীন্দ্রনাথ, সবাই শুধু চেয়েছে ভোঁতা, নিরীহ, অবলা, সংযমী, আত্মত্যাগী, সতীকে। আর পতিতারা আখ্যা পেয়েছে 'ঈর্ষাকাতর', 'উচ্ছৃঙ্খল', 'কামরাক্ষসী'।
আমার মনে হয় ১৮-২০ বছর বয়সের প্রত্যেক তরুণ-তরুণীর উচিত এই বইটা একবার পড়ে দেখা। এতে করে হয়ত নিজের অজান্তে কোন বিপথগামিতার দিকে তারা পা বাড়াবে না এবং একইসাথে এই বিষয়ের গভীরতা কতটুকু সেটাও উপলব্ধি করতে শিখবে।
Profile Image for নাহিদ  ধ্রুব .
143 reviews27 followers
March 27, 2022
ঘোলা কাঁচের বাইরে থেকে দেখা একটি জগতের মধ্যে ঢুঁকে লেখক সন্ধান দিয়েছেন একটি স্বচ্ছ জগতের এবং ঐ জগত সম্পর্কে জানতে জানতে বদলে গেছে অনেক ভুল ধারনা। ব্যক্তিগতভাবে আমি একবার একটা ডকুমেন্টারি কাজে ময়মনসিংহের গাঙ্গিনার পাড়ে অবস্থিত ব্রোথলে গিয়েছিলাম... এই বইয়ে উল্লেখিত কিছু গল্প তাই আমার জানা গল্পের সাথে ওভারল্যাপ করেছে... তবে লেখক আনোয়ারা সৈয়দ হক'এর এই কেইস স্টাডি ধরণের বইটি আগে পড়ে গেলে আমার ঐ ডকুমেন্টারিটি অনেক ভালো হতে পারতো, এই বিষয়ে আমি এখন মোটামুটি নিশ্চিত। আনোয়ারা সৈয়দ হক খুবই মিষ্টি এবং আপন আপন ভাষায় বলে গেছেন ভয়ঙ্কর সব সত্যি গল্প, নিজের অস্বস্তি এবং নিজের চিন্তার জগতকে নতুন করে লেখক করেছেন আবিষ্কার এবং এই আবিষ্কারের গল্পও তিনি বলে গেছেন অকপটে। রেফারেন্স বুক হিসেবে এই বইটা পড়া যেতে পারে।
Profile Image for Salman Sakib Jishan.
274 reviews160 followers
February 20, 2024
পরিচয়টা পাবার পর তার গ্লাসে পানি, তার খাটে বসা বা হালকা একটু ছোঁয়া লাগা, এসব কি আর বরদাস্ত করতে পারি? আমি 'সুশীল', 'ভদ্র', এলিট মানুষ। আমার একটা জাত, পাত, লেবেল আছেনা? সমাজে এদের সম্মান(!) করে পতিতা, বেশ্যা, বারবনিতা...নানান ট্যাগ তো দিয়ে সরিয়ে রেখেছি নিজের পবিত্র স্ত্রী সন্তান থেকে। এরা যেনো সমাজে ফিরতে না পারে সেই রাস্তা ভালোমতো বন্ধ করেছি। রাতে অবশ্য প্রয়োজন হয় হোক, দিনে এদের ছুঁই কি করে?

লাখো সাহিত্য রচনা হয়েছে এদের নিয়ে। অসং্খ্য এনজিও চালু আছে মরণঘাতী ব্যাধি সমাজে ছড়াতে দেবেনা বলে। দেশে দেশে সংগঠন, মিটিং, মিছিল...তবুও নারীদের এখনো চালিয়ে যেতে হয় আদিমতম এই পেশা। কারণ আসলেই আমরা চাইনা সমাজে বেশ্যাবৃত্তি বন্ধ হোক। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নিকৃষ্টতম উদাহরণ হয়ে শত শত বছর ধরে পতিতালয় টিকে আছে কৃষ্ণগহবরের মতো। কারণ দিনে যত বড় বড় কথাই বলুক এরা, আলো নিভে গেলে তো শরীরের চাহিদা মেটেনা।

অর্থনৈতিক মানদন্ড যে মানুষের জীবনকে আক্রান্ত করে ফেলেছে প্লেগের মতো, তা হয়তো আমরা খালি চোখে বুঝতে পারিনা। অর্থাভাবে কেউ খেতে না পেরে, সংসার টিকাতে নিজেকে বিক্রি করে দিয়েছে। কেউ অর্থের লোভে গ্রাম থেকে কিশোরীদের ঝকঝকে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিক্রি করে দিচ্ছে এইসকল 'কোথায় যাওয়ার নেই' ঘরে। কেউ ধর্ষিতা হয়ে স্থান পাচ্ছেন। আবার স্বেচ্ছা পতিতা জীবন বেছে নিচ্ছেন এমন নারীর সং্খ্যাও এখন নেহায়েত কম নয়। কি বিচিত্র তাদের জীবন। সারা শরীরে ঘেন্না মেখে, সারা মন কলুষতায় নিষ্পেষিত করে সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে কত স্বপ্নকে ধূলিসাৎ হতে দেখছেন তারা প্রতিদিন।

আনোয়ারা সৈয়দ হকের লেখা 'ব্যবহৃতা' একটি অসাধারণ বই। গুডরিডস এ ঘেঁটে ঘেঁটে ডুব দিয়ে অতল তলানি থেকে আমি মাঝেমধ্যে এমনসব বই এর সন্ধান পাই, নিজেরই গর্ব হয়। প্রচলিত অর্থে ছিমছাম, আন্তরিক, মিষ্টি ভাষায় লেখা এই বইটি অর্থগত ভাবে ভয়ঙ্কর। সমীক্ষা উপন্যাস বলতে কি বোঝায় আমার জানা নাই, এটি একটি সমীক্ষা উপন্যাস। এবং এটি পুরোপুরি সত্য ঘটনা নিয়ে লেখা বই। লেখিকা একজন সাইকোলজিস্ট, নিজে ঘুরে ঘুরে ব্রোথেল গুলোতে সেইসব নারীদের সাথে নিজে কথা বলে বের করেছেন ফ্যাক্ট! এক ফোঁটা মহৎ সাজার চেষ্টা করেন নি লেখিকা। মানুষ হিসেবে নিজের সীমাবদ্ধতা প্রতি পদে পদে স্বীকার করেছেন অধবদনে।
আর দশটা নারীবাদের বই থেকে এই সাধারণ বইটিকে আমি উপরে রাখতে পারি নির্দ্বিধায়। কেনো বারবনিতাদের নিয়ে লেখা একটি বইকে নিয়ে এরকম বলছি তার অনেক সঙ্গত কারণ রয়েছে। বইটি পড়লে বিষয়টি সহজে বোঝা যাবে।

পতিতালয়ে নেমে আসা নারীরা কাওকে ভয় পান না। তাদের হারানোর আর কিছু নেই। পুরুষের পাওয়ার গেমে হেরে তার স্থান হয়েছে হয়তো এই অন্ধকারে। কিন্তু সেই পুরুষ কি আর পারে এখন তার সাথে? যেসব 'সতীত্ব' ট্যাগে পুরুষ ক্যাটাগরিতে সাজিয়েছে নারীদের সুপারশপের মতো এই দুনিয়ায়, সেই পুরুষদের তেজ কতদূর তারা জেনে ফেলেছে। সমাজের যে পুরুষেরা একদিন তাদের এই পথে নামিয়েছে তাদের শারীরিক অক্ষমতাকে বুড়ো আঙুল দেখানোতেই আজ তাদের যত গৌরব। যত অহংকার। এই হচ্ছে পুরুষের শয়তানীর উপযুক্ত উত্তর।

"বিকৃতির ভেতরেই বিকৃতির কবর! পাওয়ারফুল পুরুষের ওপর নিজের শরীরের সুপিরিয়রিটি খাটানোটাই হচ্ছে নারীর পাওয়ার গেম! নারী-পুরুষের সম্পর্ক তাহলে কতই না জটিল আকার ধারণ করতে পারে।"

আরো বহুলপাঠ্য হবে বইটি, সেই আশাই রাখছি।

4.5★
Profile Image for Ivan Kadery.
84 reviews
August 7, 2022
কোন বই পড়তে গিয়ে এতবার থেমে থেমে চিন্তা করেছি বলে মনে পড়ে না, আদিম পেশাজীবীদের একেকটা কেস এবং তাদের নিয়ে লেখকের নিজস্ব চিন্তাভাবনা পড়ার পর বিষয়গুলো নিজে না চিন্তা করে থাকতে পারিনি, বারবার থামতে হয়েছে। বইটা পড়ার পর কবিতা ইসলামের মতো পাঠকদের চোখেও এই সভ্য ভব্য পুরুষতান্ত্রিক সমাজের মুখোশ খুলে পড়ে তার ভিতরের কুৎসিত রূপ ধরা পড়ে, যেটা খুব সহজে আর ভোলা সম্ভব না।
Displaying 1 - 6 of 6 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.