ঐতিহ্যপূর্ণ প্রাচীন জনপদ দেউলপুর। কলকাতা থেকে খুব দূরে নয়, শান্ত গঞ্জ এলাকা। এখানেই বড় হওয়া মেধাবী ছাত্র নীলার্ক আড়াই বছর পর আমেরিকা থেকে বাড়ি ফেরে ছুটি কাটাতে। দেউলপুরের বাতাসে তখন ভাসছে তাদের পরিবারের কেচ্ছা। লোকের মোবাইলে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটি অশ্লীল ভিডিও ক্লিপিংস, যেখানে দেখা যাচ্ছে নীলার্কর পরিবারের এক সদস্যকে। এটা কি প্রযুক্তির কারসাজি, না কি সত্যিই নীলার্কদের বাড়র মহিলাটির অংশগ্রহণ করেছিল ওই নীলছবিতে? কারাই বা ছড়াল ওই ভিডিও ফুটেজ? সাইবার ক্রাইমের নিপুণ ছোবল যে বিপন্নতা তৈরি করে, তারই বাস্তব চিত্র ‘বটতলা’ উপন্যাসে। নীলার্কদের চ্যাটার্জি পরিবার কি ফিরে পাবে হৃত সম্মান? সবকিছুর সাক্ষী থাকে দেউলপুরের ক্ষীনতোয়া সরস্বতী।
সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম ২১ জানুয়ারি ১৯৬১, হুগলির উত্তরপাড়ায়। পিতৃপুরুষ বিহারে প্রবাসী। মাতৃবংশ বাংলাদেশের দিনাজপুরে। স্কুল-কলেজের পাঠ উত্তরপাড়ায়। ফটোগ্রাফি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। একটি ফটোপ্রিন্টিং সংস্থার কারিগরি বিভাগের প্রধান। ছাত্রজীবনে লেখালিখির শুরু। দেশ পত্রিকায় প্রথম গল্প প্রকাশিত হওয়ার পর বৃহত্তর পাঠক মহলে সমাদর লাভ।শ্রেষ্ঠ উপন্যাস রচনার জন্য ১৯৯৯ ও ২০০২ আনন্দ-স্নোসেম শারদ অর্ঘ্য, শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ও শ্রেষ্ঠ ছোটগল্প রচনার জন্য ২০০৩ সালে আনন্দ-ন্যাশানল ইনসিয়োরেন্স শারদ অর্ঘ্য এবং শ্রেষ্ঠ ছোটগল্প রচনার জন্য ২০০৬ সালে ডেটল-আনন্দবাজার শারদ অর্ঘ্য পেয়েছেন। এ ছাড়া ১৯৯৭-এ পেয়েছেন গল্পমেলা পুরস্কার, ২০০১-এ সাহিত্যসেতু পুরস্কার, ২০০৫-এ বাংলা আকাদেমি থেকে সুতপা রায়চৌধুরী স্মারক পুরস্কার, ২০০৭-এ শৈলজানন্দ জন্মশতবর্ষ স্মারক পুরস্কার, ২০১৩-এ তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় সাহিত্য সম্মান, ২০১৪ সালে গজেন্দ্রকুমার মিত্র ও সুমথনাথ ঘোষ স্মৃতি পুরস্কার।
সাহিত্যিক সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় কি বাংলা সাহিত্যজগতে কিছুটা হলেও উপেক্ষিত? আনন্দমেলা পূজাবার্ষিকির পাতায় ওনার লেখা আমরা সকলেই কোনো না কোনো সময় পড়েছি। পরবর্তী সময়ে শারদীয়া দেশ বা পত্রিকাতেও। কিন্তু তাকে নিয়ে সেইরকম আলোচনা শুনতে পাই না কেনো? কেনই বা এত বছর পরে বড় কোনো পাবলিশার্স থেকে তার লেখা উপন্যাসের সংকলন বেরোয় না?
আজকের এই বটতলা যাত্রাটাও, হয়তো কিছু সহজ উত্তরের খোঁজে।
গন্তব্য দেউলপুর। কলকাতা ছাড়িয়ে অবস্থিত এক ঐতিহ্যশালী জনপদ। শহরঘেষা এক ছিমছাম গ্রাম্য উপনিবেশ। যার অলিতেগলিতে খুজে পাওয়া যায় সাবেকি প্রাচীনত্বের ছোয়া। আদর্শ ও নৈতিকতায় মোড়া প্রতিটি প্রস্তরখন্ড। যার বুক জুড়ে বয়ে চলে সরস্বতীর ক্ষীণতোয়া স্রোত। রামরাজ্যই বটে। কিন্তু সত্যিই কি দেউলপুর এক অপার্থিব ইউটোপিয়া? নিরীহ একখানা আতশকাচ তুলে ধরলেই অবশ্য ছবিটা কিছুটা বদলে যাবে। কাছ থেকে দেউলপুরের মানুষগুলোকে নিরীক্ষণ করলে এক অন্য ছবি উদ্ভাসিত হবে পাঠকের কাছে। সে ছবি অন্ধকারের।
২০১৩ সালের মালায়ালাম ছবি 'দৃশ্যম'-এর কথা মনে পরে? অশালীন এক ভিডিওকে কেন্দ্র করে কিভাবে ছাপোষা একটি পরিবারের ওপর অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। শুরু হয় অস্তিত্ব রক্ষার মরিয়া লড়াই। জিতু জোসেফ পরিচালিত ছবিটি না দেখে থাকলেও, অজয় দেবগন অভিনীত হিন্দি রিমেক সিংহভাগই দেখেছেন। ব্লু ফিল্ম, নীল ছবি, এম-এম-এস, ভিন্ন ভিন্ন নামের এই অভিশাপ অতর্কিতে নেমে আসে নিরীহপ্রাণ মানুষের ওপর। থমকে দাঁড়ায় জীবনের গতি। ডেকে আনে সুনামি ন্যায় সর্বনাশ। যতিচিহ্নটা সেভাবে পড়লো পর্ণার জীবনেও।
মাত্র দশ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ। অশালীন, কলঙ্কময় ছবিটিতে ঘনিষ্টাবস্থায় দেখা যাচ্ছে তাকে। সম্ভ্রান্ত চট্টোপাধ্যায় পরিবারের বড়বৌ পর্ণাকে। এ যেন এক অদ্ভুত প্রহসন। এক লহমায় মিথ্যে হয়ে দাঁড়ায় তার কদিনের সাজানো সংসার। বিশ্বাস হারায় প্রিয়জনদের। পাশে পায় না কাউকেই। চারিত্রিক ক্লিনচিট হারিয়ে তাই আজ সে ব্রাত্য, ভীষণ একা। অপর দিকে মাসদুয়েকের ছুটি হাতে দেশে ফেরে পরিবারের ছোট ছেলে নীলার্ক। আমেরিকা ফেরত নিলু পরিবারের সম্মানহানী মেনে নিতে চায় না। বিশ্বাস করতে চায় বৌদিকে। চেষ্টা চালায় সত্যিটা খুজে বের করার। চায় পরিবারকে ভরাডুবি থেকে বাঁচাতে। ভিডিওর মেয়েটা কি সত্যি পর্ণা? সে কি পারবে ব্ল্যাকমেলের এই নোংরা পাঁক থেকে বেরিয়ে আসতে? নাকি একবিংশ শতাব্দীর এই স্তিমিত মহাকাব্যের শেষলগ্নে অগ্নিবলয়ে বসবে আরেক নারী?
লেখকের সাবলীল গদ্য উত্তর দেয় ধীরে। পাঠকদের সময় দেওয়া হয় দেউলপুরের আবহাওয়ায় মানিয়ে নেওয়ার জন্যে। দেখা মেলে নানাবিধ চরিত্রদের। দুর্যোগের সময়ে যাদের প্রকৃত রূপ না চাইতেও বুক চিতিয়ে অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়। পরিবার, প্রিয়জন, কাছের মানুষ, সম্পর্কের সকল সমীকরণ হঠাৎই যেন বদলে যায়, অচিরেই নড়ে ওঠে সম্পর্কের ভীত। মুখের ওপর বন্ধ হয় একের পর এক দরজা। পর্ণা পাশে পায় না কাউকেই। তথাকথিত ভদ্রলোকেরা এড়িয়ে বাঁচতে চায় তাকে। তার উপস্থিতি অপযশস্কর। তার অস্তিত্ব, ভীষণ অপ্রীতিকর। ধন্যি ডবল স্ট্যন্ডার্ডস্।
সমাজ তবু সমাজের ন্যায় এগিয়ে যায়। যেই সেক্সুয়াল লিবারেশনের দ্বারা আমেরিকায় আজ থেকে ৫০ বছর আগে এক সুবিশাল তোলপাড় ঘটে। সেইরূপ হুবহু চিন্তাধারা ভারতীয় আবহাওয়ায় প্রত্যাশা করাটাও অন্যায়। তবু এই পোড়া সমাজব্যবস্থার উন্নতি ও অবনতির ফাঁকে নারী শরীরের নির্লজ্জ অবজেক্টিফিকেশন এবং নারীমনের সূক্ষ্ম দিকগুলোর প্রতি দেদার উদাসীনতা, যে আকছার ঘটেই চলেছে, লেখক যেন পর্ণার এই ছোট্ট উদাহরন দিয়ে সেই হিসেবটাই আরেকবার বুঝিয়ে গেলেন আমাদের।
"ছেলেরা মেয়েদের থেকে ঠিক কী চায় বােঝে না পর্ণা। শুধুই কি শরীর? বিয়ের পর পর্ণার মনে হয়েছিল অভিজিৎ তাকে খুব ভালবাসে। যখনই কেচ্ছাটা রটল পাড়ায়, অভিজিৎ সরে গেল দূরে। আর এক বিছানায় শােয় না। পর্ণা মানে যেন শুধু শরীর। কেন, মাথার কাছে বসে দুটো সান্ত্বনার কথা বলা যায় না? মনের কষ্ট কেন একা বইতে হচ্ছে পর্ণাকে?"
বইটির প্রচ্ছদ বেশ মনোরম। অল্পের মধ্যেও যে অনেকটাই তুলে ধরা যায়, তারই জাজ্বল্যমান নিদর্শন। আর্টিস্টের নামের উল্লেখ কোথাও পেলাম না বলে আফসোস হয়। উপন্যাসের পরিসমাপ্তিও বেশ ভিন্নমার্গের। কেবল চোখে লাগে কিছু চরিত্রদের প্রতিকূলাচরণ। মাঝে মধ্যেই যা হয়ে ওঠে একটু মেলোড্রামাটিক। তবে যাইহোক, সুপাঠ্য এই উপন্যাসে সাইবার ক্রাইমের মতো এক ঘৃণ্য অপরাধকে কেন্দ্র করে এক অসহায় নারীর গল্প বলতে চেয়েছেন সাহিত্যিক। পর্ণার শেষ অবধি জিত হলো না হার, সেই উত্তর পাওয়ার জন্যে বইটি অবশ্যই পড়ুন। তবে পরিসমাপ্তি যাই হোক, পর্ণাদের পাশে দাড়ানোটা আমাদের কর্তব্য। সেই ক্ষেত্রে যেন আমরা নিশ্চল রই।
কিছু উপন্যাস পড়লে বুকটা শীতল হয়ে যায়। অনেকটা প্রচুর গরমে এক গ্লাস ফ্রীজের পানিতে বানানো লেবুর শরবত খেলে যে তৃপ্তি পাওয়া যায়, ঠিক ঐরকম।
খুবই সমসাময়িক একটা ইস্যু নিয়ে গল্প। একটা মেয়ের যখন ন্যুড ভিডিও বের হয়, কাটাছেড়া হয় তার চরিত্র নিয়ে। সে দায়ী বা দায়ী না হলেও ধ্বংস করে দেয়া হয় তার সাজানো সংসার, একজন সুখী ঘরের বৌ, সম্মানিত স্ত্রী কিংবা নিটোল শিশুর মা হওয়ার আজন্মলালিত সাধ। নীলার্কের বৌদি পর্ণার জীবনের গল্প অনেক মেয়ের সাথেই মিলে যায়। তারপরেও সব প্রশ্নের চেয়ে বড় প্রশ্ন যেটা তা হলো, যদি কারো জীবনে কোন দুর্বল মুহূর্তে এরকম কিছু ঘটেই যায় তাহলে কেন শুধু নারীদেরকেই টার্গেট করা হয়? এই অধিকার কে দিলো সমাজকে!
বটতলা অসাধারণ একটা উপন্যাস। আমি খুব খুশি হবো যদি এই গল্পটা নিয়ে দহনের মতো একটা ছবি হয়। এবং উপন্যাসটা আরো বেশি বেশি মানুষ যেন পড়ে, তাদের বোধোদয় হয়।
বটতলা লেখক - সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় প্রকাশক - আনন্দ / শারদীয় দেশ ১৪২৩ মূল্য - ২০০/- টাকা।।
বছরের ৪৩ নম্বর উপন্যাস সাহিত্যিক সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় লেখা একটি অসাধারণ উপন্যাস বটতলা।। উপন্যাসটি ১৪২৩ সালে শারদীয় দেশ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় তারপর আনন্দ পাবলিশার্স এর থেকে বইটি প্রকাশিত হয়।। সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় এর লেখা বটতলা আমার পড়া লেখকের প্রথম উপন্যাস এর আগে আমি লেখকের একটি ছোট গল্প সংকলন পড়েছিলাম।।
উপন্যাসের বিষয় টি বর্তমান সময় এর সাথে খুব ই প্রাসঙ্গিক এবং বাস্তবমুখী।। সাইবার ক্রাইমের নিপুণ ছোবল একটা সাজানো গোছানো সংসার এ যে বিপন্নতার সৃষ্টি করে তারই নিদর্শন এই উপন্যাস।। এই উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে একটি জনপ্রিয় সিরিজ ও হয়েছে।।
ঐতিহ্যপূর্ণ প্রাচীন জনপদ দেউলপুর।। কলকাতা থেকে খুব দূরে নয়, শান্ত গঞ্জ এলাকা।। এখানেই বড় হওয়া মেধাবী ছাত্র নীলার্ক আড়াই বছর পর আমেরিকা থেকে বাড়ি ফেরে ছুটি কাটাতে।। দেউলপুরের বাতাসে তখন ভাসছে তাদের পরিবারের কেচ্ছা।। লোকের মোবাইলে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটি অশ্লীল ভিডিও ক্লিপিংস, যেখানে দেখা যাচ্ছে নীলার্কর বৌদি পর্না কে।। এটা কি প্রযুক্তির কারসাজি, না কি সত্যিই অভিজিত এর বউ পর্ণা অংশগ্রহণ করেছিল ওই নীলছবিতে? কারাই বা ছড়াল ওই ভিডিও ফুটেজ? সাইবার ক্রাইমের নিপুণ ছোবল যে বিপন্নতা তৈরি করে, তারই বাস্তব চিত্র ‘বটতলা’ উপন্যাসে।। নীলার্কদের চ্যাটার্জি পরিবার কি ফিরে পাবে হৃত সম্মান? সবকিছুর সাক্ষী থাকে দেউলপুরের ক্ষীনতোয়া সরস্বতী।। পর্ণার এই ভিডিও ছড়িয়ে যাওয়ায় অভিজিৎ ও পর্ণা অভিযোগ জানায় থানায়।। এই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার পিছনে কি কারোর হাত আছে না পর্ণা নিজেই ?? আসল রহস্যটা কি ?? নীলার্ক কি পারবে পরিবার থেকে এই কলঙ্কের ছায়া দূর করতে ??
পাঠ প্রতিক্রিয়া -
উপন্যাসটির সবচেয়ে আলাদা বিষয় হল প্লট, প্লট টি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত।। এই ধরনের ব্ল্যাকমেইল বা এমএমএস-এর মত জঘন্যতম কাজ আজকাল কার ডিজিটাল যুগে অহরহ ঘটে চলেছে।। এই ব্ল্যাকমেল এর প্রভাব একটি সচ্ছল মধ্যবিত্ত পরিবারের উপর কি প্রভাব ফেলতে পারে তাই লেখক অত্যন্ত সাবলীল ভাবে উপন্যাসে ব্যাখ্যা করেছে।। পুরো উপন্যাসটি কখনও অভিজিৎ, নীলার্ক, তনয়া, কখনও আদলা কিম্বা পর্না এর দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে ব্যক্ত করা হয়েছে, তাই একঘেয়ে লাগেনি।। এই সকল দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে দিয়ে লেখক যে বক্তব্য রেখেছেন সেখানে একবারও কেউ নিজেদের সন্মান যন্ত্রণা ছেড়ে পর্না এর কথা ভেবে দেখেননি, একমাত্র আদলা একটি চরিত্র লেখক বুনেছেন যে আধা পাগল ঘোছের তার দৃষ্টিভঙ্গিতেই একমাত্র পর্না সম্পর্কে কথা ভাবা হয়েছে।। উপন্যাসটি অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় লেখা, আদলার চরিত্রটি আলাদা করে প্রশংসার দাবী রাখে, আসলে যে পাগল বলে পরিচিত সমাজে, তার অন্যায় কে অন্যায় বলতে, দোষী কে দোষী বলতে ভাবতে হয় না।। সব মিলিয়ে দারুন একটা উপন্যাস।। যারা এখনো পড়েননি পড়ে ফেলুন।। আশা করি নিরাশ হবেন না।। বর্তমান সমাজের এই ঘৃণ্য ক্রিয়াকলাপ আর তার ফলশ্রুতি হিসেবে মানুষ কি করতে পারে টা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লেখক দিয়েছেন।। উপন্যাসের শেষটি মুগ্ধ করেছে আমাকে ,পাঠক হিসেবে উপন্যাসের সম্ভাব্য শেষ নিয়ে অনেকবার দোলাচলে পড়তে হয়েছে কিন্তু লেখক যেখানে লেখাটি শেষ করেছে তার থেকে ভালো এন্ডিং হয়তো হত না।।
আনন্দমেলাতে দীপকাকু ও ঝিনুককে নিয়ে গোয়েন্দা লেখাগুলো ছাড়া, সুকান্ত বাবুর সামাজিক বা অন্যান্য লেখা খুব একটা পড়িনি। তাই গত দশ বারো দিন থেকে ওঁর যে সমস্ত বই গুলো পাওয়া গেল, জোগাড় করে পড়া শুরু করলাম।
নীলার্ক বিদেশে পড়ে। বাড়ি এসে দেখে তার বৌদির অশ্লীল ভিডিও লোকের মোবাইলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটা কি প্রযুক্তির কারসাজি, না কি সত্যিই নীলার্কেদের বাড়ির বৌদি অংশগ্রহণ করেছিল ওই নীলছবিতে? কারাই বা ছড়াল ওই ভিডিও ফুটেজ? সাইবার ক্রাইমের নিপুণ ছোবল যে বিপন্নতা তৈরি করে, পরিবার, সমাজ, কাছের মানুষজন যে অসহায় হয়ে যায়, ছেড়ে চলে যায় এই বিপদের সময়, প্রেম - ভালোবাসা উধাও হয়ে যায় - তারই বাস্তব চিত্র 'বটতলা' উপন্যাস।
ছোট এই উপন্যাস - মেদহীন, অহেতুক বর্ননা বিহীন খুব সুন্দর গতিতে এগিয়ে চলে। সহজ সরল ভাষায় লেখা। খুব চমৎকার ভাবে উপন্যাসটা শেষ হয়েছে। শেষ অংশটা পড়ে মনটা হালকা হয়ে গেল।
এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে পর্ণার বিয়ে এক এক সম্ভ্রান্ত যৌথ পরিবারে। খুব সাজানো ছিলো তার সংসার, শ্বশুরবাড়ি আর চারপাশের পরিবেশ। শুধু ১০ সেকেন্ডের একটা ভিডিও ক্লিপ তছনছ করে দেয় সবকিছু। কি হবে এবার পর্ণার? কেউ কি বিশ্বাস করবে তাকে? কেউ কি পাশে থাকবে তার? 🍁 পুজোর ছুটিতে বিদেশ থেকে বাড়িতে ফিরে আসে তার খুড়তুতো দেওর নীলার্ক। এয়ারপোর্টে নেমে অভিদা কে দেখা, বাড়ির লোকের ব্যবহার, প্রেমিকা তনয়ার কথাবার্তা থেকে সে আঁচ করতে পারে তাদের পরিবারের ছন্দ কেঁটে গেছে। সমস্যা জানতে পেরে পর্ণার পাশে কি সে থাকবে? 🍂 পর্ণার জীবন কি আর কখনও স্বাভাবিক হবে? আধুনিক যুগের অন্যতম বড়ো অভিশাপ সাইবার ক্রাইম কে ঘিরেই বেড়ে উঠেছে এই গল্প। পড়তে বেশ লেগেছে। ব্যক্তিগত রেটিং ৪.৫/৫