কবিতাই জয় গোস্বামীর সর্বক্ষণের সঙ্গী। কবিতা লেখার পাশাপাশি জয় গোস্বামী অন্য কবিদের কবিতা পড়েও চলেছেন বিস্তর। সেইসব কবিতা সম্পর্কে তাঁর ব্যক্তিগত ভাবনা চিন্তা, ভালোলাগার কথাও অকপটে জানিয়েছেন এই গ্রন্থে। ব্যক্তিগত জীবন ও সমাজ জীবনের নানা অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে নিয়ে কবি নিজের মতো করে বুঝতে চেয়েছেন কবিতাকে। এই বই কবিতার ইতিহাস নয়, সমালোচনাও নয়। কবির কবিতা পাঠের আনন্দের অকৃত্রিম প্রকাশ। সেই আনন্দ তিনি ভাগ করে দিতে চেয়েছেন অন্য সকলের মধ্যেও। যাতে তারাও কবিতাকে ভালোবেসে গ্রহণ করেন তাদেরই জীবনে। শুধুই যে প্রতিষ্ঠিত কবিদের কবিতার কথা বলা হয়েছে এই গ্রন্থে তা নয়, অল্পবয়সি, অপ্রতিষ্ঠিত কবিদের কবিতার কথাও স্থান পেয়েছে। লক্ষ করার বিষয়, কবিতার প্রতি কতটা ভালোবাসা থাকলে, শ্রদ্ধাবোধ থাকলে, যে-কোনো কারও কবিতাকেই মায়ের মতো মমতায় এভাবে বুকে তুলে নেওয়া যায়, কবির নাম সেখানে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারই নয়। সেদিক থেকে বাংলা ভাষায় এক নতুন ধরনের বই। রোববার পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত এই লেখা পাঠককে প্রথম থেকে তীব্রভাবে আকর্ষণ করে আসছে। নিজে একজন বড়ো কবি বলেই কবিতার ভিতর থেকে তিনি এমন সব আশ্চর্য মণিমুক্ত তুলে আনতে পেড়েছেন যা লক্ষ করে পাঠক বিস্মিত হয়েছেন, নিজের অজান্তেই কবিতা কীভাবে পড়তে হবে তা যেন বুঝতে পেরে গেছেন। দুটি খণ্ড আগেই প্রকাশিত হয়েছিল, এবার বেরোল তৃতীয় খণ্ড।
ভারতীয় কবি জয় গোস্বামী (ইংরেজি: Joy Goswami নভেম্বর ১০, ১৯৫৪) বাংলা ভাষার আধুনিক কবি এবং উত্তর-জীবনানন্দ পর্বের অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবি হিসাবে পরিগণিত।
জয় গোস্বামীর জন্ম কলকাতা শহরে। ছোটবেলায় তাঁর পরিবার রানাঘাটে চলে আসে, তখন থেকেই স্থায়ী নিবাস সেখানে। পিতা রাজনীতি করতেন, তাঁর হাতেই জয় গোস্বামীর কবিতা লেখার হাতে খড়ি। ছয় বছর বয়সে তাঁর পিতার মৃত্যু হয়। মা শিক্ষকতা করে তাঁকে লালন পালন করেন।
জয় গোস্বামীর প্রথাগত লেখা পড়ার পরিসমাপ্তি ঘটে একাদশ শ্রেণীতে থাকার সময়। সাময়িকী ও সাহিত্য পত্রিকায় তিনি কবিতা লিখতেন। এভাবে অনেক দিন কাটার পর দেশ পত্রিকায় তাঁর কবিতা ছাপা হয়। এর পরপরই তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। কিছুদিন পরে তাঁর প্রথম কাব্য সংকলন ক্রিসমাস ও শীতের সনেটগুচ্ছ প্রকাশিত হয়। ১৯৮৯ সালে তিনি ঘুমিয়েছ, ঝাউপাতা কাব্যগ্রন্থের জন্য আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন। ২০০০ সালের আগস্ট মাসে তিনি পাগলী তোমার সঙ্গে কাব্য সংকলনের জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।