শাস্ত্রমতে, সম্পূর্ণ মিলনই মর্ত্য-জীবের জীবন, তার জন্যই জগৎ রচনা। পুরাণমতে, বিবস্বান এবং সংজ্ঞার স্বর্গের অসম্পূর্ণ সঙ্গম পূর্ণতা পেয়েছিল এই মর্ত্যে। তবু, মিলনের সম্পূর্ণতা নয়, অভিশাপের সঙ্গে পাপের সম্পূর্ণতাই ‘জল মাটি আগুনের উপাখ্যান’। কথার ভিয়েনে সাহিত্য, মাটির ভিয়েনে মৃৎপাত্র। মৃৎপাত্রেরই শিল্পী কুম্ভকার মদন পাল। সুন্দরী মৃন্ময়ী তার ধর্মসাক্ষী স্ত্রী, তন্তুবায় মদন তার ধর্মসাক্ষী মিতে। সেই সুবাদে মৃন্ময়ী তাঁতি মদনের ‘মিতবউ’। ‘মিতবউ’ কি কিছুটা বউ, যেমন বরের পাশে ‘মিতবর’? শিক্ষিত তন্তুবায় মদন তাঁর বংশগত পেশা ছেড়ে একদিকে খোঁজে বিকল্প জীবিকা, অন্যদিকে মিতবউয়ের মধ্যে বিকল্প স্ত্রীকে। মৃন্ময়ীকে ঘিরে এই দুই মদনের প্রেম, যৌনতা এবং দ্বন্দ্বের কাহিনী যেমন এই উপন্যাস, সেইসঙ্গে ‘মদনের ছদ্মনামে যে-কোনও মদন’-এরও। এক মদনের মধ্যে ছয় মদনের এই আশ্চর্যস্বাদ, পরীক্ষামূলক উপাখ্যানে পুরাণ, শাস্ত্র, কথকতার সঙ্গে মিশেছে ভৈরব নদী ও তার প্রতিহিংসার আগুন, নদীতীরবর্তী মাটির গন্ধমাখা জটিল তবু বাস্তব এক জনজীবন।
আবুল বাশারের জন্ম ১৯৫১ খ্রীস্টাব্দে। ছয় বছর বয়সে সপরিবার গ্রাম তাগ। মুর্শিদাবাদের লালবাগ মহকুমার টেকা গ্রামে বসবাস শুরু। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যের স্নাতক। হিন্দিভাষা-সাহিত্যেরও ডিপ্লোমা। গ্রামের স্কুলে ১০-১২ বছর চাকুরি। কাজ করেছেন সাপ্তাহিক ‘দেশ’ পত্রিকায়। দারিদ্র্যের চাপ আর সামাজিক বিষমতা ও পীড়ন কৈশোরেই লেখালেখিতে প্ররোচিত। উত্তীর্ণকৈশোরে, ১৯৭১ সালে, প্রথমে কবিতাগ্রন্থের প্রকাশ। নাম : ‘জড় উপড়ানো ডালাপা ভাঙা আর এক ঋতু’। পরবর্তী এক দশক লেখালেখি বন্ধ। জড়িয়ে পড়েন সক্রিয় রাজনীতিতে। বহরমপুরের ‘রৌরব’ পত্রিকাগোষ্ঠীর প্রেরণায় লেখালেখিতে প্রত্যাবর্তন। কবিতা ছেড়ে এবার গল্পে। প্রথম মুদ্রিত গল্প ‘মাটি ছেড়ে যায়’। ‘ফুলবউ’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন ১৩৯৪ সালের আনন্দ-পুরস্কার।