Jump to ratings and reviews
Rate this book

শ্রেষ্ঠ কবিতা

Rate this book

160 pages, Hardcover

First published January 1, 2002

9 people are currently reading
105 people want to read

About the author

রণজিৎ দাশ

9 books8 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
17 (53%)
4 stars
12 (37%)
3 stars
1 (3%)
2 stars
1 (3%)
1 star
1 (3%)
Displaying 1 - 8 of 8 reviews
Profile Image for Arupratan.
236 reviews385 followers
May 10, 2022
রণজিৎ দাশের কবিতা পড়ে আমি আবিষ্কারের আনন্দ লাভ করেছি! বৈশাখদিনের ছুটির দুপুরবেলা অতর্কিত বৃষ্টিপতনের শব্দ ছিল চারিদিকে। ভেজা ঘাসের সবুজ কিন্তু তীক্ষ্ণ উজ্জ্বলতাকে পায়ে মাড়িয়ে কবিতাগুলো হেঁটে যাচ্ছিল পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা অতিক্রম করে।
দুঃখের ভিতরে আমি সুখ খুঁজি, পথ থেকে পথে
রাংতা কুড়ানো এক ফুটপাতবালকের মতো...

দুঃখকে সুখের মতো ব্যবহারও করতে শিখেছি
যেভাবে সাপের বিষ, সূক্ষ্ম মাপে, অসুখ সারায়

এভাবেই ঘুরে ঘুরে, আজীবন
কেবলই পৌঁছেছি এক পথের জলসায়
গভীর শীতের রাতে, যেখানে কাছে ও দূরে
অসংখ্য দুঃখের স্তূপ জ্বলে, আর গরিবেরা আগুন পোহায়
যেখানে শ্রোতারা খুব শান্ত, অন্তর্মুখী
ঘুমচোখে বুঝে নেয়—
গানটি দুঃখের, কিন্তু গায়িকাটি সুখী।

এমন বুদ্ধিদীপ্ত কিন্তু অজটিল কাব্যভাষা আমি অনেকদিন পরে খুঁজে পেলাম। যদিও কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭৭ সালে, কিন্তু আমারই দেরি হয়ে গ্যালো তাঁকে খুঁজে পেতে।
শহরে যখন কেউ পাগল হয়, তখন সে ট্রাফিক পুলিশ হয়ে যায়। নিজের খেয়ালে, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে, ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে, দিনের পর দিন। নিখুঁত তার হাতের মুদ্রা, অটুট তার গাম্ভীর্য। কেবল তার নিয়ন্ত্রিত গাড়ি-ঘোড়াগুলি সম্পূর্ণ অলীক। সেসব গাড়ি-ঘোড়া কাউকে চাপা দেয় না, কোনো প্রিয়জনকে বাসস্টপে নামিয়ে দিয়ে যায় না...

রণজিৎ দাশের কবিতায় একটি বিশেষ লক্ষণ আমি খেয়াল করেছি, যা সম্ভবত অন্য কোনো বাঙালি কবির কবিতায় আমি এযাবৎ পাইনি (অন্তত এই মাত্রায়)। তা হলো, কবিতার ভাষায় যৌনতার ইঙ্গিতবাহী অনুষঙ্গ। আমি অবাক হয়েছি কবির দ্বিধাহীন প্রকাশভঙ্গি দেখে। সম্পূর্ণ ট্যাবু-বিস্মৃত কলমে তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন দৈহিক আকাঙ্ক্ষার অক্ষরমালা। আমার ভালো লেগেছে কবির এই অকপট অকৃত্রিম আত্মউন্মোচন।
যে বাক্য পেয়েছি স্বপ্নে, তাকে খুব সাবধানে
তোমার ঘুমন্ত পিঠে নিঃশব্দ আঙুলে লিখে রাখি।
বাক্যটি তোমার মধ্যে মিশে যায়, স্নায়ুকোষে, চুম্বকের টানে।
ভোরবেলা জেগে উঠে, আমার ঘুমন্ত পিঠে, বিদ্যুৎ-আঙুলে,
তুমি যে বাক্যটি লেখো, সেটিই দ্বিতীয় পঙক্তি, সহস্র জোনাকি !
কবিতার জিহ্বা দিয়ে তুমি-আমি চুম্বনে লিপ্ত হয়ে থাকি।

এই বইয়ের ভূমিকায় কবিতার পাঠকদের তিনি সম্বোধন করেছেন "শুদ্ধ, নির্জন, অলৌকিক মানুষ" হিসেবে। কবিতার পাঠক তো আমি বটে, কিন্তু এই তিনটের একটাও নই। যদিও তাঁর কবিতাগুলো পড়ে ক্ষণিকের জন্যেও, নিতান্ত মিথ্যে হলেও, নিজেকে এমনটা বিশ্বাস করতে ভালো লাগছিলো আমার।
তোমার মনে জমেছে এত বিষ, তুমি
আমাকে ছোবল মারো
আমিই সেই মহিষ, যার গহনকালো পিঠে
মাঠের সকল গোখরো এসে নিশীথবিষ ঢালে
তবেই তাদের শঙ্খ লাগে, মাথার মণি জ্বলে...

তোমার মনে জমেছে এত বিষ, তুমি
আমাকে ছোবল মারো
আমিই সেই আকাশ, যার গহনকালো পিঠে
তারা ফোটে, রাত্রিভর, একটি ছোবল একটি তারা,

এভাবে, হাজারো

আমার প্রিয় কবিদের সরণিতে ঢুকে পড়েছেন কবি রণজিৎ দাশ। তাঁর শব্দচয়ন, ছন্দসমাবেশ এবং ভাষাগঠন আপাতআধুনিক। কিন্তু তাঁর কবিতার অন্তর্লীন ইঙ্গিতগুলো অভিনব অথচ চিরাচরিত। এবং সুদূরপ্রসারী!
তরুণী কেবলই তার প্রেমিক পালটায়, সে
মুহূর্তেই বুঝে নেয় পুরুষের ভীরুতা ও ফাঁকি
আমি শুধু তরুণীর প্রতিটি মুডের জন্য
আবহসংগীত ধরে রাখি।

যতদিন সে না খুঁজে পাবে তার প্রকৃত প্রেমিক,
ততদিন আমি তার স্বপ্নের ভিতরে
অক্লান্ত বাজিয়ে যাব শুদ্ধ ও বিষন্ন মিউজিক।


[সংযোজন : আজকে সকালে রণজিৎ দাশের একটি সাক্ষাৎকার পড়ছিলাম। সেখানে কথাপ্রসঙ্গে তিনি কবিতার দুর্বোধ্যতা বিষয়ে কয়েকটি কথা বলেছেন, যা একেবারে আমার নিজস্ব মতামতের সঙ্গে মিলে যায়। সাক্ষাৎকারের সেই অংশটুকু এখানে তুলে দিলাম।

আলতাফ : এক সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছেন, ‘আমি সত্যিই বিষয় ছাড়া কবিতা লিখতে পারি না, লিখতে চাইও না।’ বিষয় ধরে কি কবিতা লেখা সম্ভব?

রণজিৎ : তাহলে কী ধরে কবিতা লেখা সম্ভব? কবিতা যে মুহূর্তে একজন লিখছে, একটা বাক্য লিখছে, সেটার মধ্যে একটা বিষয় ঢুকবে, সে তুমি যত প্রহেলিকা লিখতে যাও না কেন। যত খুশি অনর্থ তৈরি করো না কেন। কবিতা কি এমন: একটা দুর্বোধ্য ভাব আসবে, তাতে ততধিক দুর্বোধ্য কবিতা হবে? শোনো, ওই সব দুর্বোধ্য কবিতা কেউ পড়েও না, আহা-উহুও করে না। আমি খুব সচেতনভাবেই বলছি, যে কবিরা প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, প্রত্যেকে, সেই আদিকাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত, প্রত্যেকের কবিতা অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাবার্থসম্পন্ন। সেই ভাবার্থটাই বিষয়। যে কল্পনাটি আসছে সেটি বিষয়, যে চিত্রকল্পটি আসছে সেটি বিষয়।]
'হয়তো আমাদের এই গ্রহ অন্য কোনো গ্রহের নরক।' বলেছিলেন হাক্সলি, শিউরে ওঠার মতন কথা। হয়তো সেজন্যেই এই পৃথিবীতে অধিকাংশ মানুষ দুঃখী, অধিকাংশ জন্তু হিংস্র, অধিকাংশ পোকা হিজড়ে, এবং অধিকাংশ জল লোনা। হয়তো সেজন্যেই এই নরক শাসন করে এক উলঙ্গ দানবী, যার নাম 'অতৃপ্ত বাসনা'। হয়তো এমন আরেকটা গ্রহ আছে, যেটা আমাদের গ্রহের নরক। হয়তো সেই গ্রহের বর্ণনাই লিখিত হয়ে চলেছে আমাদের বেদ-বাইবেল-কোরানে, দান্তে ও মিলটনে, ব্যাংকের পাসবুকে আর রাতের দুঃস্বপ্নে, নিরবচ্ছিন্নভাবে আমাদের ছোট ছোট পদস্খলনে।
Profile Image for Harun Ahmed.
1,669 reviews440 followers
December 8, 2022
১.আমরা নিখুঁত নই। একটা ঘাসফড়িং নিখুঁত, একটা সন্ধ্যাতারা নিখুঁত, একটা বৃষ্টির ফোঁটা নিখুঁত। নিখুঁত একটা বসন্তের রাত। কিন্তু আমরা জন্ম থেকেই পঙ্গু, বেঢপ, মূর্খ এবং দিশাহারা। আমরা ধূর্ত, জালিয়াত, ভঙ্গুর, ভিখারি। আমরা জন্মাই শুধু ভুল স্বপ্নে ভুল কামে ভুল শহরে হেঁটে নিজেদের ধ্বংস করার জন্য, ভুল মানুষকে ভালোবেসে এবং আঘাত পেয়ে, বুক ভেঙে মরে যাওয়ার জন্য। শুধু, সবশেষে টের পাই, আমাদের ভুলগুলি কি মারাত্মক নিখুঁত!

২.আমাদের শহরে
প্রত্যেক ধর্মের মানুষদের জন্য
ভিন্ন ভিন্ন দেবালয় ;
কিন্তু সকল ধর্মের মানুষদের জন্য
একটিই বেশ্যালয়
কোনো সমস্যা নেই ।


উপরোক্ত "আমরা নিখুঁত নই" আর "আমাদের শহরে" কবির দুইটি প্রতিনিধিত্বশীল কবিতা। এই যে সহজ ভাষায় গল্প করতে করতে শেষে এসে একটা ধাক্কা, সামান্য বিষয়ে কথা বলতে বলতে গভীর বোধের স্তরে পৌঁছে যাওয়া - এটা রণজিৎ দাশের কবিতার সাধারণ বৈশিষ্ট্য। কবি ঋষির মতো নির্বিকার, ঈশ্বরের মতো উদাসীন অথচ জীবনের প্রতি তার সুগভীর ভালোবাসার প্রমাণ ছড়িয়ে আছে কবিতাগুলোর শরীরজুড়ে। মহৎ সাহিত্য রচনা করতে যে detachment (ঘটনা থেকে নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে তা নিস্পৃহভাবে অবলোকন এবং বর্ণন) দরকার তা রণজিতের আছে পুরোমাত্রায়। যার একজন "দূরসম্পর্কের ঈশ্বর" আছেন তিনি তো লিখতেই পারেন, "এই জীবনে, সুস্থতাই রোগ, পাগলামিই তার চিকিৎসা।"

(৩০ জুন,২০২২)
Profile Image for Zihad Saem.
125 reviews6 followers
April 13, 2025
রণজিৎ দাশের কবিতায় আমি বারবার মোহিত হই। কবিতা তো একেবারে পড়ে শেষ করা যায় না। বারবার কবিতার কাছে ফিরে যেতে হয়। তেমনই রণজিৎ দাশের কবিতার কাছে আমাকে অজস্রবার ফি��ে যেতে হবে।ফিরে যাবো।
Profile Image for Adham Alif.
335 reviews80 followers
January 5, 2024
4.5/5
“প্রতিটি প্রেমের গায়ে
এক্সপায়ারি-ডেট লেখা থাকে।
চুম্বন করার আগে
অন্ধের আঙুলে তুমি পড়ে নিয়ো তাকে।”


রণজিৎ দাশের ১১ টি কাব্যগ্রন্থ থেকে বাছাই করা কবিতা দিয়ে সাজানো। তার কবিতায় যৌনতা, ধর্ম, প্রেম এবং বিষণ্ণতার জয়গানের প্রভাব স্পষ্ট। বহু কবিতা আছে যা মনে দাগ কেটে যায়। বারবার আওড়াতে ইচ্ছে করে। সেরকম কবিতা থেকে কয়েকটা লাইন তুলে রাখলাম।


১. “ফূর্তির চেয়ে অশ্লীল এবং বেদনার চেয়ে পবিত্র এই জগতে কিছু নেই।”


২. “প্রতিটি মানুষ তার
নিজস্ব গানের মধ্যে বেচে থাকে— মাথা-নাড়া পাগলের মতো।

সে-গান শুনতে চাও?
শুধু তার বুকে কান পাতো!”


৩.”দুঃখের ভেতর আমি সুখ খুজি, পথ থেকে পথে
রাংতা কুড়ানো এক ফুটপাতবালকের মতো”


৪."আমাদের শহরে
প্রত্যেক ধর্মের মানুষদের জন্য
ভিন্ন ভিন্ন দেবালয় ;
কিন্তু সকল ধর্মের মানুষদের সাথে
একটিই বেশ্যালয়—

কোনো সমস্যা নেই।”


৫. “পায়ে পায়ে ছাই ওড়ে—
এ জীবন, মনে হয়, অগ্নিদগ্ধ পথ।”


৬. “আইডিয়ারা সব সময় ডেঞ্জারাস।
যা বিপদজ্জনক নয়, তা কোনো আইডিয়াই নয়।
নাস্তিকতা, প্রথম প্রেম, ঈশ্বরকণা, চন্দ্রাভিযান,
শ্রেণিযুদ্ধ, নিশ্চেতন মন—
এগুলি আইডিয়া।
কিন্তু মুখোশনৃত্য, গোলাপচাষ কিংবা তিব্বত-ভ্রমণ
কোনো আইডিয়া নয়।”


এরকম লাইন আরো আছে তবে এখন লিখতে গিয়ে খুজে পাচ্ছিনা আসলে। তাছাড়া উনার গদ্যাকারে লিখাগুলোও বেশ চমৎকার। তন্মধ্যে “দ্বিতীয় বেদনা”, “আমরা নিখুঁত নই”, “চিকিৎসা” সবচেয়ে পছন্দের।
Profile Image for Akash.
446 reviews152 followers
December 13, 2024
"মাঝে-মধ্যে ডিপ্রেশন, ছোট ছোট স্পেল-এ, সমুদ্র এবং মনের পক্ষে ভালো।"

রণজিৎ দাশের কবিতা এতোটাই ভার্সেটাইল যে, কোন কোন বিষয়ে তিনি কবিতা লিখেছেন তা বলে শেষ করা যাবে না। আমাদের প্রিয় প্রকৃতি, দর্শন, প্রেম, চিঠি, নিঃসঙ্গতা, বিষণ্ণতা, আধুনিকতা, ধর্মনিরপেক্ষতা, প্রতীক্ষা, জেন, গান, কবিতা, বাবা, বৃষ্টি; আবার অনেকের জন্য অস্বস্তির ঈশ্বরভাবনা, মৃত্যুভাবনা, গণিকা, ডিপ্রেশন, সোশ্যাল মিডিয়া; উত্তরাধুনিক এবং সময়োপযোগী এমন সব কবিতা লিখেছেন যা আমাদেরকে কবিতা ভালোবেসে সভ্য-শুদ্ধ মানুষ হবার যাত্রায় সহায়তা করবে।

"প্রতীক্ষার মধ্যে অদ্ভুত একাকিত্ব আছে, শূন্যতা আছে, শান্তি আছে।"

বা,

"আইডিয়া সব সময় ডেঞ্জারাস।
যা বিপজ্জনক নয়, তা কোনো আইডিয়াই নয়।
উলঙ্গ নারীর মতো
আইডিয়াকে ভয় করতে হয়।"

১৯৬৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত লেখা ১১টি কাব্যগ্রন্থ থেকে বাছাইকৃত কবিতা শ্রেষ্ঠ কবিতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তন্মধ্যে বাবাকে, আন্তর্জাতিক, প্রতীক্ষা, আমাদের শহরে, ডিপ্রেশন, মন ও শরীর, এক্সপায়ারি ডেট, কবিতার জিরো আওয়ার, কবিতা পবিত্র লিপি, এলিয়েন, পার্কের বেঞ্চিতে শুয়ে— আমার ভীষণ প্রিয় সব কবিতা।

"এই জীবনে, কখনও কখনও, সুস্থতাই রোগ, পাগলামিই তার চিকিৎসা।"

কিংবা,

"যখন বিষণ্ণ থাকি
বুঝি, আমি সুস্থ আছি, স্বাভাবিক আছি।
যখন বিষণ্ণ থাকি,
কাছে আসে উষ্ণ রোদ, পাখি, মৌমাছি।"

অধিকাংশ কবিতা পাঠকের মতো আমারও জীবনানন্দ দাশ সবচেয়ে প্রিয় কবি। তারপর ভাস্কর আমার ডিপ্রেশনের বছরগুলোর ক্ষতে ওষধ হিসেবে কাজ করেছে। ভাস্করের পর রণজিৎ দাশ প্রিয় কবির তালিকায় স্থান পাবে।

কবি রণজিৎ দাশের মতো আমিও "পার্কের বেঞ্চিতে শুয়ে পরিত্যক্ষ, নিঃসঙ্গ মৃত্যুর সুন্দর বিদায় চাই। হেমন্তের রাতে চলে যাবো। শিউলি ফুলের রাশি রাত্রিভর ঝরে পড়বে মৃতদেহ ঘিরে, সূর্য উঠবে।"

কারণ—

"জীবন মানে এক বানর প্রজাতির প্রাণীর সাদা-কালো চৌষট্টি ছকের বুকের ভিতরে ঈশ্বর এবং শয়তানের দাবা খেলার প্রস্তুতি।"

আর আমিও কবিতা লেখার আগে কবির দেয়া নিয়মগুলো মেনে চলতে ভালোবাসবো।

"কবিতা লেখার আগে বৃক্ষতলে ধ্যান করে এসো
কবিতা লেখার আগে ভিখারিকে দান করে এসো
কবিতা লেখার আগে অনুতাপে দগ্ধ হয়ে এসো
কবিতা লেখার আগে অশ্রুজলে শুদ্ধ হয়ে এসো

কবিতা পবিত্র লিপি-
হৃদয়ের বীজমন্ত্র, নক্ষত্রলোকের প্রত্যাদেশও।"
Profile Image for Zihad Saem.
125 reviews6 followers
October 30, 2025
'কবিতা' শব্দটা আমার কাছে এক মগ্নতা এবং তুমুল একাকিত্বের মাধ্যম। একএকটি কবিতার কাছে আমি বারংবার ফিরে ফিরে যাই। এক-এক বার এক-একটি কবিতা আমার কাছে এক-এক রকম রূপ, গন্ধ, রস নিয়ে আবির্ভূত হয়। আমি তখন তাকে নূতন রূপে আবিষ্কার করি। পুনঃ পুনঃবার এইভাবে আমার সঙ্গে কবিতা ভালোবাসায়-প্রেমে-কামে-প্রত্যাহিকতায় রত থাকে।
রণজিৎ দাশের কবিতা আমি পড়ছি বহুদিন হয়ে গেলো। কখনো রণজিৎ দাশের কবিতা নিয়ে কিছু লিখবো তা ভাবি নাই। আজ বইটা হাতে নিয়ে কিছু লিখতে ইচ্ছে করছিলো। আসলে রণজিৎ দাশ তার কবিতায় প্রথমে শীতের নরম রোদ্দুরে মতো একটা আবহ তৈরি করেন। কিন্তু সেই রোদ্দুরের ঢেউ কখনো কখনো আমাদের মনোজগতে, আমাদের বোধের গোঁড়ায় ভীষণ রকম ধাক্কা মারে। বিশেষত কবি যখন উচ্চারণ করেন চিরকালীন অমোঘ সত্য —

"আমাদের শহরে
প্রত্যেক ধর্মের মানুষদের জন্য
ভিন্ন ভিন্ন দেবালয়;
কিন্তু সকল ধর্মের মানুষদের জন্য
একটিই বেশ্যালয়

কোনো সমস্যা নেই।"

এখানে এসেই আমাদের মনে একটি সাধারণ দৃশ্যকল্প থেকে এক বিরাট ভাবনার আলোড়ন তোলে।তখন আমরা মগ্ন হই, মোহিত হই, আন্দোলিত হই। অথবা যখন দেখি কবিতায় কবি আমারই করোটিতে অহর্নিশ দাপিয়ে বেড়ানো কথা — "দুঃখের ভিতর আমি সুখ খুঁজি, পথ থেকে পথে রাংতা কুড়ানো এক ফুটপাতবালকের মতো" এর মতো বাক্য উচ্চারণ করেন, তখন বুকের ভিতরটা হু-হু করে বেজে উঠে।
October 11, 2025
রণজিৎ দাশ বাংলা কবিতার এক স্বতন্ত্র স্বর। তিনি মানুষের জীবনাচরণ ও দর্শনের একটা অঙ্কে কবিতাকে আঁকেন। তিনি গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে না যে তিনি দুর্দান্ত সব কবিতা লিখেছেন, বরং তার কবিতার স্বর অনেক অনুগামী কবিদের কবিতায় পাওয়া যায়।
Displaying 1 - 8 of 8 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.