কাছে থেকে দেখা (১৯৭৩-১৯৭৫), প্রথমা থেকে প্রকাশিত স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশ নিয়ে বই। প্রয়াত লেখক, মেজর জেনারেল এম খলিলুর রহমান রচিত বইটিতে ফুটে উঠেছে বঙ্গবন্ধুর শাসনমালের দিনগুলোর কথা।
লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত যখন এই দেশের মাটি, ঠিক তখনি ভেঙ্গে পড়া একটা দেশকে টেনে তোলার মহান দায়িত্ব হাতে নেন বঙ্গবন্ধু। সদ্য ভূমিষ্ঠ এই দেশটি আস্তে আস্তে হাঁটতে শুরু করে জাতির জনকের হাত ধরে। এসবই ইতিহাসের কথা। কিন্তু কেমন ছিল যাত্রাটি? ইতিহাসের সেই বাঁক বাদলের মুহূর্তগুলো নিয়েই পুরো বই।
লেখকের কলেজ জীবনে বেকার হোস্টেলে থাকার সুবাধে খুব কাছের ছিলেন শেখ মুজিব। ছাত্ররাজনীতি থেকে একটা জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা হয়ে উঠা একটা মানুষের গল্প এই বই। পাঠক এখানে দেখতে পাবেন এক তুখোড় ছাত্ররাজনীতিক শেখ মুজিবকে, পিতৃসুলভ শেখ মুজিবকে, প্রবল আত্নসম্মানসম্পন্ন মুজিবকে, আর সব কিছু ছাপিয়ে পাঠকের চোখে ধরা পড়বে অন্ধভাবে দেশের মানুষকে ভালবেসে যাওয়া এক শেখ মুজিব।
যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন লেখক, এরপর ৭৩ সালের ফিরে আসেন দেশে। দেশে ফেরার পরেই বঙ্গবন্ধু তার হাতে তুলে দিনে তৎকালীন বিডিআর এর দায়িত্ব। প্রথমেই দায়িত্ব নেন তিনি এলোমেলো বাহিনীকে ঠিক করার। লেখক আস্তে আস্তে নিয়ন্ত্রনে আনেন চোরাচালান। দায়িত্ব এবং বন্ধুত্ব, দুই সূত্র ধরেই শেখ মুজিবের কাছে নিয়মিত আসা যাওয়া হত তার। আর সেই সবেরই স্মৃতিচারনা এই বই।
ছয় অধ্যায়ের এই বইয়ে, লেখকের বন্দিদশা থেকে মুক্তি, বিডিআরের তখনকার অবস্থা, বিডিআরের তখনকার অবস্থা, চোরাচালান দমন ও বিডিআরের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, বঙ্গবন্ধুর কয়েকটি শেষ প্রশাসনিক কার্যক্রম, পররাষ্ট্রনীতি ও বঙ্গবন্ধুর ব্যাক্তিজীবন, স্বাধীনতা-উত্তর রাজনীতিতে শেখ মুজিব ও আওয়ামীলীগ - এই বিষয় গুলো আলোচিত হয়েছে।
লেখক নিজ দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষন করেছেন ঘটনাবহুল তখনকার দিনগুলোকে। লেখকের আলোচনায় একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে উঠে, তখনকার আওমীলিগ সম্পূর্ণভাবে ভুলে যায় দেশের প্রতি তাদের মহান দায়িত্বের কথা। চারদিক শুধু 'খাই খাই' বাহিনীতে ভরে যায়। গরীবের রিলিফে এরা ভাগ বসায়। বঙ্গবন্ধু হতাশ এক পর্যায় বলতে বাধ্য হয়, "চাটারের দল"। শেখ মুজিবকে হত্যার পরেও আজকের "মহা" দলপ্রেমিক আওমিলীগাররা তখন পালন করেছিল 'রহস্যজনক' ভূমিকা। অথচ যারা শেখমুজিব জীবিত থাকতেও তাকে করেছিল নানাভাবে অসহযোগিতা।
সেসময়ে আমলাতন্ত্র ভরে যায় অযোগ্য লোকে, দেশে ছিল যোগ্য লোকের ভীষন অভাব। যারা যোগ্য ছিল, তাদের কারনে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়ে, তখন আস্তে আস্তে বঙ্গবন্ধু কোণঠাসা হয়ে পড়ে। সুবিধাবাদী মহল আস্তে আস্তে তাকে আলাদা করে তাজউদ্দিন সহ সব জানু রাজনীতিকদের কাছ থেকে। তাদের জায়গা দখল করে তাহেরউদ্দিন ঠাকুরের মত দালালেরা। বঙ্গবন্ধু এক সময় প্রশ্ন করে, "আমরা সেই দেশপ্রেমিক জনতারা কই? যারা ৭১ এ দেশটা স্বাধীন করেছিল।"
বঙ্গবন্ধু একজন অসাধারণ নেতা ছিল, যারা আর কোন ভার্সন হয়ত এই অভাগা জাতি কোনদিন দেখবে না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ছিলেন বেশ দুর্বল প্রশাসক। আর এই জাতি তাকে অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগটুকু পর্যন্ত দেয়নি। তিনি যখন আস্তে আস্তে সবকিছু ঘোচাতে শুরু করেন, ঠিক তখনি তার উপর চূড়ান্ত আঘাত হানে ঘাতকেরা। অথচ এর বিস্পোরন ঘটেছিল ৭৪ এ ভুট্টো যখন বাংলাদেশ সফরে আসে।
আমাদের ইতিহাসের সবথেকে ঘটনাবহুল অস্থির সেসব দিনগুলো নিয়ে এই বই অনেকটা কোতূহল মেটাবে। নানা নীতির, নানা আদেশের মৃদ সমালোচনা বইটিতে যোগ করেছে অন্য এক মাত্রা।
সবশেষে একটাই আফসোস বইটি পড়ে, আজ যারা নিজেকে বঙ্গবন্ধুর "অনুসারী" বলে গলা ফাটায়, তারা যদি এই নেতার জীবন থেকে ৫০ শতাংশও অনুসরন করত, তাহলে এই জাতির অবস্থা আরো ভালো হত।
এ বইতে কিছু আগ্রহোদ্দীপক তথ্য আছে, যেগুলো আগে জানতাম না। লেখকের কিছু অভিমত আছে, যেগুলো ইতিহাস-সমর্থিত তথ্যের বিপরীতে যায়। যেহেতু প্রথমা প্রকাশন সম্পাদিত ও প্রকাশিত বইতে অসত্য কথা অভিমত আকারে গুঁজে দেওয়ার একটা প্রবণতা দেখা যায়, তাই এসব অভিমত সন্তর্পণে যাচাই করে নেওয়াই নিরাপদ।
খলিলুর রহমান সামরিক আমলা হিসেবে দক্ষ, বই পড়ে এমনটা মনে হয়েছে।
তিয়াত্তরের নভেম্বরে পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে ফেরার পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বিডিআরের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন লেখক। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রাজনৈতিক পালাবদলের ফেরে নতুন দায়িত্বে যাবার আগ পর্যন্ত এই দায়িত্বে তাঁর অভিজ্ঞতাগুলো লিখেছেন। বিবরণটা একটু খাপছাড়া, মাঝে মাঝে ঘটনার ক্রমবিন্যাস নেই। কিন্তু চমৎকার কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর উপলব্ধি আছে। বঙ্গবন্ধুর সাথে মুহূর্তগুলো, সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ করতে গিয়ে অভূতপূর্ব সমস্যাগুলো আর জনপ্রশাসনের সাথে সামরিক বাহিনী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণলব্ধ মন্তব্যগুলো পড়ে ভালো লাগলো।
Good. The author had huge administrative experience as the former Director General of Bangladesh Rifles of Sheikh Mujibur Rahman regime and the Chief of Defense Staff of Khondaker Mostaq Ahmad regime.
This book is a fantastic read for anyone who wants to understand the timeline between 73 to 75 with some flashbacks of his early life. M Khalilur Rahman former BDR boss shared his view on how he sees Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman's actions and different activities. He was also his college friend, so he had known him for a long time. He showed how the character who is considered the greatest leader of all time turned towards fascism by creating Bakshal. He also shared his different opinions on Major Ziaur Rahman as well. I loved the way he handled many difficult situations during his service time. I think the Bakshal concept would work if he applied it at the beginning of 1972. Not in 1974-75 when his government reputation had become so bad already. Understanding character strengths and weaknesses is quite important for everyone. From this book, you will understand B.S. Mujibur Rahman's good and brave decisions. And also his poor decisions, especially his weakness toward a few people who ruined everything in that era.