Jump to ratings and reviews
Rate this book

ঢাকার স্মৃতি #1

ঢাকার স্মৃতি-১

Rate this book

126 pages, Hardcover

Published February 1, 2001

21 people want to read

About the author

Muntassir Mamoon

272 books42 followers
Muntassir Mamoon (Bangla: মুনতাসীর মামুন) is a Bangladeshi author, historian, scholar, translator and professor of University of Dhaka. He earned his M.A. and PhD degree from University of Dhaka.
Literary works

Mamoon mainly worked on the historical city of Dhaka. He wrote several books about this city, took part in movements to protect Dhaka. Among his historical works on 1971 is his Sei Sob Pakistani, in which many interviews with leading Pakistanis was published. Most of them were the leading Pakistani characters during the liberation war of Bangladesh.

জন্ম এবং পরিবার
মুনতাসীর মামুনের জন্ম ১৯৫১ সালের ২৪ মে ঢাকার ইসলামপুরে নানার বাড়িতে। তাঁর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার গুলবাহার গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মিসবাহউদ্দিন এবং মায়ের নাম জাহানারা খান। পিতামাতার তিন পুত্রের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ। তিনি ১৯৭৫ সালে বিয়ে করেন। তার স্ত্রী ফাতেমা মামুন একজন ব্যাংকার। মুনতাসির মামুনের দুই ছেলে মিসবাহউদ্দিন মুনতাসীর ও নাবীল মুনতাসীর এবং কন্যা রয়া মুনতাসীর।

কর্মজীবন
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই দৈনিক বাংলা/বিচিত্রায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন মুনতাসীর মামুন। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে অধ্যাপক পদে কর্মরত আছেন। এর পাশাপাশি ঢাকা শহরের অতীত ইতিহাস নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন। এছাড়া তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের 'মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ গবেষণা ইন্সটিটিউটে' সন্মানিক প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে ১৯৯৯-২০০২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। কৈশর থেকে লেখালেখির সাথে জড়িত হয়ে ১৯৬৩ সালে পাকিস্তানে বাংলা ভাষায় সেরা শিশু লেখক হিসেবে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার পর অনুবাদ, চিত্র সমালোচনা ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রচনা করেন অনেক বই। তাঁর লেখালেখি ও গবেষনার বিষয় উনিশ, বিশ ও একুশ শতকের পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশ ও ঢাকা শহর।

সাংগঠনিক কর্মকান্ড
স্বাধীন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ডাকসুর প্রথম নির্বাচনে মুনতাসীর মামুন ছিলেন সম্পাদক। একই সময়ে তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি। ডাকসুর মুখপত্র "ছাত্রবার্তা" প্রথম প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদনায়। তিনি বাংলাদেশ লেখক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও যথাক্রমে প্রথম যুগ্ম আহ্ববায়ক ও যুগ্ম সম্পাদক। তিনি জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ড ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী এবং জাতীয় আর্কাইভসের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন। ঢাকা নগর জাদুঘরের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ঢাকার ইতিহাস চর্চার জ্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন সেন্টার ফর ঢাকা ষ্টাডিজ (ঢাকা চর্চা কেন্দ্র)। এ কেন্দ্র থেকে ঢাকা ওপর ধারাবাহিক ভাবে ১২টি গবেষণামূলক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি বাংলা একাডেমীর একজন ফেলো এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিনেটের নির্বাচিত সদস্য হয়েছেন কয়েকবার। '৭১-এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির তিনি একজন প্রতিষ্ঠাতা ও সক্রিয় সদস্য। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী ফাতেমা মামুন প্রতিষ্ঠা করেছেন মুনতাসীর মামুন-ফাতেমা মামুন ট্রাস্ট। এ ট্রাস্ট গরিব শিক্ষার্থী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের নিয়মিত সাহায্য করছে।

সাহিত্য কর্ম
মুনতাসীর মামুনের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ২২০+। গল্প, কিশোর সাহিত্য, প্রবন্ধ, গবেষনা, চিত্র সমালোচনা, অনুবাদ সাহিত্যের প্রায় সব ক্ষেত্রেই মুনতাসীর মামুনের বিচরণ থাকলেও ইতিহাসই তার প্রধান কর্মক্ষেত্র। ।


পুরস্কার
বাংলা একাডেমী পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, সিটি আনন্দ আলো পুরস্কার, একুশে পদক, নূরুল কাদের ফাউন্ডেশন পুরস্কার, হাকিম হাবিবুর রহমান ফাউন্ডেশন স্বর্ণপদক পুরস্কার, ইতিহাস পরিষদ পুরস্কা, অগ্রণী ব্যাংক পুরস্কার, অলক্ত স্বর্ণপদক পুরস্কার, ডঃ হিলালী স্বর্ণপদক, প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৩), মার্কেন্টাইল ব্যাংক স্বর্ণপদক, এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অর্লিয়েন্স শহর তাঁকে 'অনারেবল ইন্টারন্যাশনাল অনারারী সিটিজেনশিপ' প্রদান করে।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
0 (0%)
4 stars
1 (33%)
3 stars
2 (66%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 of 1 review
Profile Image for Shadin Pranto.
1,487 reviews569 followers
June 3, 2022
স্মৃতির শহর ঢাকাকে নিয়ে লেখাজোখা কম হয়নি। ব্রিটিশ আমলে অনেকের আত্মকথা, স্মৃতিকথায় ফিরে ফিরে এসেছে ঢাকার স্মৃতি। কিছু মানুষের লেখায় পুরানো দিনের ঢাকার বর্ণনা পাওয়া যায়। মুনতাসীর মামুন সেইসব লেখা নিয়ে বের করেছিলেন ঢাকার স্মৃতি সিরিজ। এই সিরিজের প্রথম বই এটি।

ঢাকার স্মৃতির পয়লা খণ্ডে সাহিত্যিক নবীনচন্দ্র সেন, দীনেশচন্দ্র রায়, মনোদা দেবী, অক্ষরচন্দ্র সরকার, সুধীরা গুপ্তা, বঙ্গচন্দ্র রায় ও সুধীররঞ্জন দাসের লেখা স্থান পেয়েছে।

নবীনচন্দ্র সেন চাটগাঁয়ের মানুষ। পরে কলকাতায় গিয়ে ইংরেজের অধীনে ডেপুটিগিরির চাকরি নেন এবং লেখালিখি করে সাহিত্যিক খ্যাতি অর্জন করেন। নবীনবাবু অফিসের কাজে ঢাকায় এসেছিলেন। তখন উৎফুল্ল এবং সাহিত্যমোদী ঢাকাবাসী বিরাট সংবর্ধনা দিয়েছিল নবীনচন্দ্রকে। তিনি তখনকার গিঞ্জি ও নোংরা ঢাকার কথা স্মরণ করেছেন। তুলনা করে লিখেছেন কলকাতার চাইতে ঢাকা অনেকবেশি অনগ্রসর।

দীনেশচন্দ্র সেনের জন্মস্থান মানিকগঞ্জ। ঢাকায় তিনি পড়তে এসেছিলেন উনিশ শতকের শেষেরদিকে। তখনকার ঢাকায় কলেরার মহামারি আকারে আবির্ভাব ছিল নিত্যদিনের বিষয়। কলেরার উপদ্রবের সময় জনজীবনে যে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল তা দীনেশচন্দ্রের বয়ানে স্পষ্ট হয়েছিল। মৃত্যুভয়ের কাছে হার মেনেছিল মানবতা। লোকে প্রাণ বাঁচাতে সপরিবারে ঢাকা থেকে নৌকাযোগে পালিয়ে যাচ্ছিল। আর, এই সুযোগে মাঝিরা ২ টাকার ভাড়া ৪০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছিল!

মনোদা দেবীর শৈশব ও কিশোরবেলা কেটেছে পুরানো ঢাকায়। তার পিতামহ ঢাকার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। সেই সুবাদে বেশ সুন্দর একটি বাসায় থাকতেন তিনি। পড়তেন ইডেন বালিকা স্কুলে। গেণ্ডারিয়া, আজিমপুরের চমৎকার বর্ণনা তার লেখায় পেয়েছি। সত্যি বলতে এটি এই সংকলনের অন্যতম সেরা লেখা।

বঙ্গচন্দ্র রায় ঢাকার সন্তান। শুরু থেকেই তার সংযোগ ব্রাহ্মসমাজের সাথে। তিনি ঢাকার কথার চাইতে ঢের বেশি লিখেছেন ব্রাহ্মসমাজ আর ধর্মতত্ত্বের কথা। কোন বিবেচনায় 'ঢাকার স্মৃতি'তে ব্রাহ্মসমাজের কার্যবিবরণী স্থান পেল তা বুঝিনি। সংকলনের নিকৃষ্ট লেখা।

ঢাকার র‍্যাঙ্কিন স্ট্রিটে থাকতেন সুধীরা গুপ্তা। ছোট্ট সুধীরা গুপ্তা খানিকটা বড় হতেই কলকাতানিবাসী হয়েছেন। কিন্তু ঢাকার খাবার-দাবার, মানুষদের মধ্যকার হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের কথা কখনোই ভোলেননি। কলকাতাকে বড়বেশি কৃত্রিম, সহমর্মিতাহীন আর দেখানেপনার শহর মনে হয়েছে ঢাকার তুলনায়। কলেবরে ক্ষুদ্র কিন্তু বিচার-বিবেচনায় বইয়ের সেরা লেখার একটি সুধীরা গুপ্তার।

সুধীররঞ্জন দাস ঢাকার অধিবাসী নন। তার মামা ঢাকায় ব্যবসা করতেন। পরীক্ষার ছুটিতে তিনি ঢাকায় বেড়াতে আসেন। সুধীররঞ্জন দাসের মামা নির্মাণসামগ্রীর কারবারি ছিলেন। এই মামাবাবু ঢাকার অন্যতম প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক স্থাপনা ছোট কাটরা ভাড়া নিয়েছিলেন। সেখানেই পরিবারসমেত থাকতেন। ছোট কাটরা আজ প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কিন্তু তখনও এত দু্র্দিন আসেনি ছোট কাটরার। রূপ-যৌবনের ছিঁটেফোঁটা বাকি ছিল। তা দেখেই মজেছিলেন সুধীররঞ্জন দাস। অনবদ্য বর্ণনা দিয়েছেন ছোট কাটরার। যারা বর্তমানে ছোট কাটরা দেখেছেন, তারা সুধীররঞ্জন দাসের লেখাখানা পড়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলবেন নিজের অজান্তেই।

ঢাকা নিয়ে অনেকেই কাজ করেছেন এবং করছেন। মুনতাসীর মামুন সেইসব গবেষকদের মধ্যে অগ্রগণ্য। ঢাকা সিরিজ তার আরেকটি চমৎকার সংযোজন। 'প্রাচ্যের রহস্য নগরী' নিয়ে আগ্রহী যে-কোনো পাঠক ঢাকা সিরিজ পড়তে পারেন।
Displaying 1 of 1 review

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.