অত্যন্ত সাধারণ জীপনযাপনে অভ্যস্ত ইফতির জীবন হঠাৎই বদলে যায় এক আকষ্মিক ঘটনায়। সাইকেল চালিয়ে বাসা থেকে অফিসে যাবার পথে সে সাক্ষি হয়ে যায় এক ভয়ঙ্কর অপরাধের। নিজের করণীয় ঠিক করার আগেই ঘটনার ঘনঘটায় জড়িয়ে পড়ে সে। একদিকে নষ্ট রাজনীতির ক্ষমতায় মদদপুষ্ট ক্ষমতাবান প্রতিপক্ষ, অন্যদিকে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার মনস্তাত্তিক দ্বন্দ্ব। এমন অবস্থায় সবকিছু নির্ভর করছে একজন সাধারণ সাইকেল আরোহীর ব্রেক, পেডাল আর গতির ওপরে। আরোহীর আসনে আপনাকে স্বাগতম।
অন্ধ প্রহর: দেশের অন্যতম প্রভাবশালী পরিবারের একমাত্র ছেলেকে ব্ল্যাকমেইল করতে গিয়ে নিজেদেরই বিপদ ডেকে আনে দুই যুবক। ঘটনার ক্রমণিকায় তাদের সাথে জড়িয়ে পড়ে আরো অনেকেই। একটি মিথ্যে যেভাবে একাধিক মিথ্যের জন্ম দেয়, ঠিক একইভাবে একটি অপরাধের প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় আরো অপরাধের। কিছু মানুষের ভুল-ভ্রান্তি, লোভ-লালসা আর অপরাধের বিস্তৃত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় এক জটিল লোকিক সমীকরণের। যে-সমীকরণের সমাধান নিহিত আছে এক অন্ধ প্রহরে।
রবিন জামান খান একজন বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক । রবিন জামান খানের জন্ম ময়মনসিংহ শহরে, পৈত্রিক নিবাস নেত্রকোনার কেন্দুয়ায়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে পড়ালেখা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষাতত্বে দ্বিতীয় মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি। পড়া-পড়ানো, শেখা-শেখানোর চর্চা থেকেই শিক্ষকতাকে পেশা ও লেখালেখিকে নেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংকলনে বেশকিছু মৌলিক ও অনুবাদ গল্প লেখার পাশাপাশি লিখেছেন একাধিক টিভি নাটক। তার মৌলিক থৃলার উপন্যাস শব্দজাল, ২৫শে মার্চ, সপ্তরিপু, ব্ল্যাক বুদ্ধা, ফোরটি এইট আওয়ার্স, দিন শেষে, আরোহী ও অন্ধ প্রহর ইতিমধ্যেই অর্জন করেছে বিপুল পাঠক প্রিয়তা। বাংলাদেশের পাশাপাশি কলকাতা থেকে প্রকাশিত তার মৌলিক গ্রন্থ ২৫শে মার্চ, সপ্তরিপু ও শব্দজাল পশ্চিম বঙ্গের পাঠক মহলে ভালোবাসা কুড়িয়েছে। ভারতবর্ষের ইতিহাসের রহস্যময় ঘটনাবলী, সেইসাথে মানব মনের জটিল মনস্তত্ত্ব বিষয়ে আগ্রহ থেকে উনি বর্তমানে কাজ করে চলেছেন একাধিক ইতিহাস নির্ভর ও সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার উপন্যাস নিয়ে। এরই প্রেক্ষিতে খুব শিঘ্রই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তার মৌলিক থ্রিলার উপন্যাস বিখন্ডিত, রাজদ্রোহী, ধূম্রজাল, সিপাহী, অশ্বারোহী, মুক্তি। রবিন জামান খান ঢাকায় প্রথম সারির একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবষেণা করছেন তিনি।
প্রথমে নামকরণ নিয়ে বলি, আরোহী আর অন্ধপ্রহর দুটো উপন্যাসিকার ক্ষেত্রেই নামকরণ একদম স্বার্থক । দু'টোর ক্ষেত্রেই চোখে পড়েছে রবিন ভাইয়ার লেখনীর ধরণ নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট । আরোহীর নাম যদি আরোহী বাদে অন্য কিছু হতো, কিংবা অন্ধ প্রহরের বদলে অন্য কিছু তাহলে মানাতো না বোধহয় ।
আরোহীর গল্পটা শুরু রাজপথে, আবার শেষও রাজপথেই । এই ঢাকা শহরে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া শত শত অপরাধের মধ্য থেকে একটি অপরাধের আখ্যান । উপভোগ্য ছিল, অ্যাকশন আর থ্রিলের যথেষ্ঠ উপাদান বিদ্যমান ।
বেশি ভালো লেগেছে অন্ধ প্রহর, যদিও প্লটটাও কিঞ্চিৎ ক্লিশে, তবুও যেভাবে অনেক গুলো ঘটনা একই সুতোয় গিয়ে মিলল - ভাইয়া বাহবা পাওয়ার দাবিদার । দুটো গল্পই অন্যায়ের সাথে যুঝতে থাকা আপাত ন্যায়ের গল্প, যেখানে পরাজয় কার ঘটবে তা বলা যাবে আগে থেকেই, তবুও সে পরাজয় দেখার মধ্যে আলাদা তৃপ্তি কাজ করবে - দিন শেষে ন্যায় বিচারই তো কাম্য সবার, তাই না? বাস্তবে সেটা যত অলীকই হোক না কেন :)
আরোহীঃ এক ভদ্রলোক সাইকেল চড়ে অফিসে যান। তার রাস্তায় রোজ অনেক ঘটনার মুখোমুখি হবেন তিনি, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সব ঘটনা গল্প হবার যোগ্যতা রাখেনা। যদি আপনার সামনের গাড়ির বনেট থেকে মৃত কিংবা অজ্ঞান কোন মেয়ের হাত বেরিয়ে পড়ে রাস্তার ঝাঁকিতে, তখন সেটা ঘটনা আর সে ঘটনার পিছু নিলে তৈরি হয় গল্প। ক্ষমতার বিরুদ্ধে নির্ভীক জেদের গল্প।
(এই অনুচ্ছেদের একটি লাইন স্পয়লার গন্ধ দেয় হালকা করে) “আরোহী” গল্পটার নতুনত্ব তার প্লটে। রাস্তায়, রাস্তায় একটা থৃলার ঘটে গেল। থৃলারের মোড়গুলো পাল্টে গেল কিছু সময় পরপর। শেষে গিয়ে আপনার সাসপেক্ট পাল্টে গেল। গল্প পছন্দ হবার জন্যে এই উপাদানগুলো কম জোরালো নয়। রইলো লেখনী। লেখনী নিয়ে দুই গল্পের “কমন” অংশে বলবো।
অন্ধপ্রহরঃ গল্পটার নতুনত্ব ওয়ে অব এক্সিকিউশানে। বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা এক বিন্দুতে এসে মিললো যেভাবে, সেটা বাংলা সাহিত্যে সহজলভ্য নয়। একটি অপরাধ, সেই অপরাধকে কেন্দ্র করে এবং না করে আরও কিছু ঘটনা ঘটে যায়, যার প্রসূতি নিতান্তই ব্যক্তিস্বার্থ আর শেষ পর্যন্ত সবকিছু মিলে গল্পের একটা পরিণতি নির্ধারণ করে দেয় অন্ধপ্রহর এ। শিরোনামটা বড় বেশি মানানসই।
এবং রবিন জামান খান আর তার লেখা-লেখিঃ এই অনুচ্ছেদের প্রয়োজন, লেখককে তার লেখা দিয়ে আবিষ্কারে নিহিত। নির্মাতা, তার একটা সিনেমা নির্দেশনার জন্যে অস্কার পান আবার জীবনভর সিনেমায় কন্ট্রিবিউশান আর সে জার্নি’র জন্যে পান। খেয়াল করলে দেখবেন, রবিন জামান খান “দিনশেষে” থেকে গল্প বলার কায়দা নিয়ে নিরীক্ষা করে যাচ্ছেন। নিয়ত ভাঙছেন নিজেকে। যেমন জানি, প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল “ফরটি এইট আওয়ার্স” থেকে কিন্তু মাফ করবেন, বইটা পড়া হয়নি এখনও আমার।
গল্প, নিছক গল্পটার ওপর নির্ভর করে পাঠকের কাছে জায়গা করে নেয়না সবসময়। কখনও গল্প বলা ছাপিয়ে যায় গল্পকে। “দিনশেষে”, “আরোহী”, “অন্ধপ্রহর” পড়বার পর এই গল্পগুলোকে আমি “গল্প ছাপিয়ে যাওয়া গল্পবলা”র দলে ফেলবো। কতই বা বয়েস রবিন জামান খান’র। তাকে নিয়ত নিজেকে ভেঙে, গল্প আর গল্পবলায় নিজেকে ঝালিয়ে নেবার সময়টা দিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, এখনও তার সেরাটা পাঠক পায়নি। নিজেকে যাচাই করে, শ্রেষ্ঠ জায়গায় তাকে পৌঁছতে দিতে হবে। তিনি নিজেও যে সেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন, যার জন্যে শ্রদ্ধা আসে খুব।
“আরোহী” গল্পের শেষটা যেমন ছিল, সেটা ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার জন্যে ভাল কিন্তু পড়বার বেলায় জোর পাওয়া যায়না তেমন। আবার “অন্ধপ্রহর” গল্পের উদ্দেশ্যটাও (শুরু আর শেষটা) ক্লিশে ধরণের; বহুবার দেখা, পড়া। কিন্তু তাতে লেখকের অগ্রযাত্রা কি ব্যাহত হয়? জার্নি’র নিয়মই এটা। যে কোন শিল্প মাধ্যমের শিল্পীর জার্নির ই। এর ভেতর দিয়ে সবাইকেই যেতে হয়। নিজের প্রসঙ্গ টেনে বলবার জন্যে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। নাটক লেখা শুরু করলাম যখন, তখন থেকে এখনকার তফাৎটা টের পাই। না, বলছিনা উৎকর্ষতার শীর্ষে আছি বরং আমার বক্তব্য হল, ৬ বছরের জার্নিটায় এই উপলব্ধি হয়েছে যে, জার্নিটা জরুরী। প্রতিনিয়ত নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে আবিষ্কার করা খুব দরকার। রবিন জামান খান সে প্রক্রিয়াতেই আছেন & I BELIEVE IN HIM.
এ তো গেল কেবল গল্প বলার স্টাইল নিয়ে কথা। নতুনভাবে তাকে আবিষ্কার করেছি, দর্শন দিয়ে। অন্ধপ্রহরে এবং আরোহীতেও, ঘটনার সম্পূরক লেখকের নিজস্ব দর্শন মুগ্ধ করেছে। “২৫শে মার্চ” এর তূলনায় লেখকের উত্তরণ ঘটেছে এখানে। সাধুবাদ জানবেন রবিন জামান খান। “ফরটি এইট আওয়ার্স” ছাড়া আপনার আর সব বই পড়েছি বলে, আপনার উত্তরণ খুব স্পষ্ট দেখছি। এই জার্নির জন্যে স্যালুট। এর ভেতর দিয়ে যেতেই হয়।
সংশ্লিষ্ট নভেলা দুটোতে ভিজ্যুয়ালের প্রভাব প্রকট। খুব করে চাইবো, “অন্ধপ্রহর” এ যে কায়দায় গল্প বললেন, আমার কোন টেলিছবি বা সিনেমায় সেই তরিকায় গপ্পো ফাঁদতে। আমার কাছে আপনার এই গল্পটি ভীষণভাবে স্বার্থক তাই, উজ্জীবিত করতে পেরেছেন পাঠককে। নিয়ত আপনার নিজেকে ভাঙার এই চেষ্টায় সাথে আছি, অপেক্ষায় রইলাম সেরাটা দেখার। গল্প বলার আরও নতুন নতুন কায়দা দেখান, পাঠকের উত্তরণ ঘটুক।
আরোহীঃ কেমন হয় যদি দেখেন যে একটা দামি গাড়ির বনেটের ভিতর থেকে একটা মেয়ে মানুষের হাত বের হয়ে আছে? কি করবেন আপনি? পিছু নিবেন গাড়ির? নাকি ৯৯৯ এ একটা ফোন দিয়ে গাড়ির নাম্বার দিয়ে নিজের দায়িত্ব শেষ হয়ে গেছে মনে করে নিশ্চিন্ত মনে নিজের পথেই যাবেন? নাকি 'তাতে আমার কি?' ভাব নিয়ে দেখেও না দেখার ভান করবেন? আপনারা কে কি করবেন সেটা না জানলেও আমাদের গল্পের নায়ক ইফতি যে কিনা পেশায় একটা বেসরকারী ইউনির লেকচারার সে গাড়ির পিছু নিয়ে এর শেষ দেখতে আগায়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে যা হয় আর কি কেচো খুড়তে গিয়ে সাপ বের হতে আসে। যদি গল্পে হ্যাপি এন্ডিং হয়েছে তবে আমি ১০০% শিওর দিতে পারি বাস্তবে মোটেও এমন হয় না।
অন্ধপ্রহরঃ রিভিউএর দরকার নাই। এটা "পিপড়াবিদ্যা" এর যেন আরেক রূপ। তবে কাকতালীয় ঘটনা যেন বড় বেশী সাধারন ভাবে দেখানো হয়েছে।
আরোহী শেষ করেছিলাম দুইদিন আগে। এরপর এখন মাত্র শেষ করলাম অন্ধপ্রহর।
আরোহী’র শুরুটা বেশ ভালো ছিল। বেশ রহস্য ঘনীভূত হয়েছিল। রবিন জামান ভাইয়ার পরিচিত ইঁদুর-বিড়াল দৌড়াদৌড়ি পেয়েছি এবং বেশ উপভোগ করেছি। কিন্তু বইটার শেষটা একদমই ভালো লাগেনি। বলতে গেলে প্রথমের তুলনায় শেষটা ছিল একেবারে উলটো। হতাশ! হতাশ!
অন্ধপ্রহর’র বেশ গতিসম্পন্ন একটা একশন থ্রিলার গল্প। এতে টুইস্টের কোনো বালাই নাই। একশন থ্রিলার পছন্দকারীরা পড়তে পারেন। অরোহী থেকেও অন্ধপ্রহর আমার কাছে আরেকটু ভালোই লেগেছে বলতে হবে। শেষটা মোটামুটি। বলতে গেলে এভারেজ একটা বই।
প্রতিনিয়ত আমাদের সকলকেই বাইরে বেড়োতে হয়। কেমন লাগবে যদি আপনি বাইরে চলাকালীন দেখেন আপনার পাশ দিয়ে চলে যাওয়া কোনো গাড়ির বনেট থেকে কোনো মানুষের হাত দেখা যাচ্ছে? কৌতূহল তো নিশ্চয় হবে বিষয়টা নিয়ে। কিন্তু কী করবেন তখন? ভাবতে একটু অদ্ভুত লাগছে তো? হ্যাঁ এরকমই এক অদ্ভুত ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়ে এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ইফতি।
ঢাকার এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হলো ইফতি। একদিন সাইকেল চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে সে এক অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী হয়।
ইফতির চোখে পড়ে একটি গাড়ির বনেটের ভেতর থেকে একটি মানুষের হাত বেরিয়ে আছে। বনেটের ভেতরের মানুষ জীবিত না মৃত বোঝার উপায় নেই। এমতাবস্থায় নিজের ঠিক কী করণীয় তা ঠিক করার আগেই সে ঘটনার ঘনঘটায় জড়িয়ে পড়ে। সাইকেল নিয়ে অনুসরণ করা শুরু করে সে গাড়িটিকে। কী রহস্য লুকিয়ে আছে এর পেছনে, কার হাত দেখা যাচ্ছে ওই বনেটের ভেতর থেকে,জানতে উৎসুক হয়ে যায় সে। ইফতি কি এই রহস্যের সমাধান করতে পারবে নাকি সে নিজেও জড়িয়ে পড়বে কোনো ভয়ঙ্কর বিপদের মধ্যে?
কৌতূহল, যখন স্বাভাবিকের থেকে আলাদা কিছু চোখে পড়ে তখনই মানুষের কৌতূহল দেখা দেয়। এই কৌতূহল মেটানোর তাড়নায় মানুষ কখনও খুব বড়ো বিপদের মধ্যে পড়ে যায়, আবার এই কৌতূহলই মানুষকে অনেক সময় অনেক বিপদ থেকে উদ্ধারও করে। কৌতূহলের তাড়নায় আবার অনেক সময় কেচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটেও বেড়িয়ে আসে। কিন্তু এক্ষেত্রে কোন সত্য বেড়িয়ে আসবে? এক সাধারণ সাইকেল আরোহীর ব্রেক, প্যাডেল আর গতি কি পারবে তা জানতে?
৮০ পাতার ছোটো একটি উপন্যাস। পড়তে বেশি সময়ও লাগেনি। কিন্তু থ্রিলারে যে টানটান উত্তেজনাটা থাকা উচিত সেটার কিছুটা ঘাটতি পরিলক্ষিত হলো। ঘটনা খুব সহজ সাধারণ, ঘটনার পরবর্তী মোড়ে কী হতে পারে, তা থ্রিলার যারা পড়ে খুব সহজেই ধরতে পারবে। সারপ্রাইজ হওয়ার মতো বিষয় কম পেলাম। বা বলা ঠিক হবে সারপ্রাইজ হওয়ার মতো বিষয়গুলো বড্ড সাধারণভাবে এবং দ্রুত দেখানো হয়েছে বলেই সেটা ঠিক অনুভব করা গেল না। শব্দচয়ন, বাক্যগঠন একটু বেশিই সাধারণ। থ্রিলার হিসেবে আরও একটু জোড়ালো লেখা আমার ভালো লাগে।
যাই হোক, উপন্যাসটি আমার না খুব খারাপ লেগেছে আর না খুব ভালো লেগেছে। ঐ মোটের ওপর ঠিকঠাক লেগেছে। তবে হ্যাঁ একবার পড়া যেতেই পারে। পাঠকরা চাইলে একবার পড়ে দেখতে পারেন। পাঠে থাকুন।
কোন একজনের পোস্টে রবিন জামান খান ভাইয়ের এই তিনটা বই দেখতে পাই। আগেই জানতাম নভেলাগুলো আলাদা বই আকারে আসছে। নিতাম কিছুদিন পরে। কিন্তু সেদিন বইছবিটা দেখে এইতই ভালো লেগেছিল যে স্টোরিতে শেয়ার করে গিফট চেয়েছিলাম। আশ্চর্যের বিষয়, ১ ঘন্টা পার হওয়ার আগেই ধী এর সত্ত্বাধিকারী দিবা আপুর মেসেজ, আমার ঠিকানা চাইছেন। আমি তো রীতিমতো অবাক। শুক্রবারে জুমার নামাজের পর স্টোরি দিয়েছি। স্টোরি দেখেছেন মাত্র ৭ জন। এর মধ্যে গিফট করার বান্দা একজনও না। যাই হোক, দিলাম ঠিকানা। বই চলে আসলো। কিন্তু পড়া হয়ে উঠেনি। রমজানের শুরু থেকেই ইচ্ছা ছিল অনেক বই পড়বো, অনেক কাজ করবো, অনেক পড়াশোনা করবো। সে আশায় গুড়েবালি দিয়ে প্রথম সপ্তাহ চলে গেল কোন বই হাতে না নিয়ে, কোন কাজ না করে, পড়াশোনা না করে। অনেকটা জেদের বশেই সেদিন বই পড়া শুরু করলাম। আলহামদুলিল্লাহ, আগের স্পিড আছে।
'থ্রিলার নভেলা' যাকে বলে, একদম অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন লেখক। দ্রুত কাহিনিতে ঢুকে পড়েছেন, অল্প কথায় চরিত্রায়ন করেছেন কিন্তু মনে হয়নি কিছু বাদ গিয়েছে। প্রতিটা কাহিনির চরিত্রগুলোর আলাদা পার্সপেক্টিভ আলাদাভাবেই বর্ণনা করেছেন। শেষে গিয়ে টুইস্টগুলোও ছিল মোক্ষম। সোজা কথায়, ভালো লেগেছে। অন্যধারার প্রোডাকশন বরাবরের মতোই ভালো। তবে একটা জিনিস খারাপ লেগেছে, (কেবল পাঠকের দৃষ্টিকোণ থেকে বলছি) বই তিনটা আলাদা আলাদা না করে একটা বইতেই করা যেত। সেক্ষেত্রে দাম হতো আরো অনেক কম। যদিও আলাদা হিসেবেও মুদ্রিত মূল্য ২০০-২৪০ এর মধ্যেই আছে৷
দিন শেষে অন্ধ প্রহর আরোহী লেখক: রবিন জামান খান প্রচ্ছদ: রুদ্র কায়সার প্রকাশনী: অন্যধারা মুদ্রিত মূল্য: ২৪০+২৪০+২০০ টাকা
বুক রিভিউ বই: আরোহী অন্ধ প্রহর লেখক : রবিন জামান খান পেজ: ১৯০ পারসোনাল রেটিং :০৭/১০ . আরোহী- - ইফতি যেকোনো একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। সাইকেল দিয়ে যাওয়া আসা করে। যাতে করে শরীর স্বাস্থ্যও ভালো থাকে এবং জ্যামেও পড়তে হয় কম। বিশ্ববিদ্যালয়ের যাওয়ার সময় ধানমন্ডি ৬ নাম্বার রোডে এক ঢং দোকানে দাঁড়িয়েছে চা সিগারেট খাওয়ার জন্য।দোকানের সামনেই স্পিড বেকার। হঠাৎ এক কালো রং এর প্রিমিও গাড়ি বেশ জোরে স্পিড বেকারের সাথে বাড়ি খেলো। যার কারণে গাড়ির পেছনের বনেট অনেক উপরে উঠে যায়। এবং ইফতি দেখতে পেল একটা হাত বনেটের ভেতর, তাও হাতে কাঁচ পরা মানে কোনো মেয়ের। তারপর থেকে গাড়িটাকে ফলো করতে থাকে সে, একটা সময় এ ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়ে এবং বিরাট ঝামেলায় পড়ে যায়।কিভাবে ঝামেলা থেকে রক্ষা পায়? - অন্ধ প্রহর -
স্থানীয় এমপি হারুন ওর রশিদের ছোট ছেলে জাকেরের ড্রাইভার মফিজ। জাকের এক উঠতি অভিনেতার সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িত, এক সময় অভিসারের লিপ্ত থাকার সময় তা দেখে ফেলে মফিজে এবং ভিডিও ধারণ করে। এ ভিডিও নিয়ে মফিজের বন্ধু কাদের আর সে মিলে, জাকর এবং অভিনেত্রীকে ব্লেক মেইল করে৷ এবং দুজনের কাছ থেকে ১ কোটি টাকা দাবি করে। এ টাকা দেয়ার সময়। কাদের আর মফিজে মিলে এমপি পুত্র জাকেরকে মেরে, টাকা, গাড়ি, অভিনেত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যায়। তারপর তারা পড়ে যায় আরেক ঝামেলায়,... - পাঠক প্রক্রিয়া : রবিন জামান খান বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় থ্রিলার লেখক৷ আমার পড়া তার প্রথম বই এটি। আরোহী টা অনেক ভালো হয়েছে। আর অন্ধ প্রহর জগাখিচুড়ি টাইপ হয়ে গেছে। আর মনে হচ্ছিলো যেন বাংলা কোনো সিনেমা দেখছি৷ তবে গল্পগুলো পাঠক ধরে রাখার মতো৷ কি থেকে কি হয়। তা জানার জন্য অধির আগ্রহে পড়েছি।
আরোহীঃ মোটামুটি মানের গল্প। প্রেডিক্টেবল আর সাধারণ কাহিনী। পড়ে মনে হয়েছে এই ধাঁচের গল্প এর আগেও কেথাও পড়েছি। কিন্তু মনে নেই! ফিনিশিং মনে হয়ে বাংলা মুভির স্টাইলে দিতে না চেয়েও দিয়ে ফেলেছেন :3
অন্ধ প্রহরঃ তুলনা করলে এটি অনেকটাই এগিয়ে থাকবে। ছয়টি রেখা এক বিন্দুতে খুব নিপুণভাবে মিলিয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে চরিত্র দাঁড় করবার বর্ণনা আমার কাছে বিরক্তিকর লেগেছে। নভেলাতে কোনো নির্দিষ্ট কিছুর অতিরিক্ত বর্ণনা অসহ্য লাগে। ওভারঅল, প্লট আর ফিনিশিং খুবই চমৎকার।
আরোহী এর কাহিনীটা জমলো না। কিন্তু অন্ধ প্রহর টা ভাল ছিল। অন্ধ প্রহর গল্পে অনেকগুলা ঘটনাকে এক সূত্রে গাঁথা হয়েছে। কিন্তু আমার কাছে কিছু কিছু জায়গায় অনেক বেশি কাকতালীয় মনে হয়েছে। এছাড়া পুরো নভেলাটা উপভোগ্য ছিল।
রবিন জামান খান স্যারের বই আগে পড়া হয় নি, বইমেলায় গিয়ে নতুন কিছু ট্রাই করার বাহানায় এইটা কিনে আনা হয়। রেটিং গুডরিডস এ কম হলেও, আমার এতটা খারাপ ও লাগে নাই। খালি ফিনিশিং টা বাংলা ছায়াছবির মত হয়ে গেছে
আরোহী একটু ব্যাতিক্রম ধর্মী গল্প বলা যায়। ঢাকা শহরের জ্যাম নিরসনে গাড়ির পরিবর্তে সাইকেলে ব্যবহার খুবই সার্থক। ফেসবুক বা অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাইভ টেলিকাষ্ট কিংবা গুগুল এসিটেন্স ব্যবহার এগুলা লেখা অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। গল্প ছিল মোটামুটি নাজুক তবে প্রত্যকেটি টার্ম ছিল খুবই গুরুত্ব পূর্ন। কাজের মেয়ে রাগের মাথায় খুন এসব হরহামেশায় হয়ে থাকে। গল্পের উপজীব্য বিষয় গুলা সার্থক বলা চলে বিশেষ করে সাইকেলের ব্যাপার টা।
অন্ধপ্রহর। দুটি গল্পের উপজীব্য বিষয় গুলা আমাদের সমাজ এ ঘটে চলা বিষয় গুলা থেকে নেওয়া। সে দিক থেকে বলতে গেলে সার্থক লেখা বলতে হয়। তবে এই গল্পের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে। কোন একটি প্লট খুব জমে উঠেছে কিন্তু পরের প্লটে দেখা যায় আবার সেই গোড়া থেকে শুরু। প্রত্যেক্টি ক্যারেক্টার আলাদা আলাদা পরিচয় করিয়ে দিয়ে তারপর আবার মূল গল্পে ফেরত গিয়েছেন। শেষ অংশ টুকু পুরা বাংলা সিনেমা।