Jump to ratings and reviews
Rate this book

অর্ক

Rate this book

Unknown Binding

17 people want to read

About the author

Harishankar Jaladas

64 books97 followers
Harishankar is a promising Bangladeshi author. The most significant point to notice is that all the four novels produced from Harishankar's pen sketch the life of the downtrodden, some of whom are from among fisherfolks, some from among prostitutes and some others are the 'harijons' or 'methors'.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
1 (8%)
4 stars
5 (41%)
3 stars
3 (25%)
2 stars
3 (25%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 3 of 3 reviews
Profile Image for আহনাফ তাহমিদ.
Author 36 books80 followers
April 8, 2017
জেলেপল্লীর এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান দিবাকর। অন্যান্য ছেলেরা যখন পড়াশোনা বাদ দিয়ে বাবার সাথে জলে জাল ফেলছে দু'মুঠো অন্নের আশায়, দিবাকর তখন পড়াশোনা করে অনেকদূর যাবার স্বপ্নে বিভোর। বাবা তাকে নিয়ে বেশ সন্দিহান ছেলেটা কদ্দূর যেতে পারবে। এইসময়ে আলোকবর্তিকা নিয়ে এগিয়ে আসেন স্কুল হেডমাস্টার। নতুন স্বপ্নের সারথি হয়ে যাত্রা শুরু হয় দিবাকরের।
মুক্তিযুদ্ধ, দেশমাতৃকার প্রতি অদম্য ভালোবাসা নিয়ে দিবাকর যাত্রা শুরু করে। গল্পের মাঝে একধরণের আচ্ছন্নতায় ধরে রাখতে বেশ পারঙ্গম হরিশংকর জলদাসের "অর্ক" নিয়ে যাবে এক অনাস্বাদিত ভুবনে।
আপনাকেও স্বাগতম
Profile Image for Lutfun Naher.
34 reviews
May 18, 2025
হরিশংকর জলদাস এর "অর্ক" উপন্যাসটি একটি মূর্ত চরিত্রের নামে নয়, বরং একটি প্রতীকী শব্দ ‘অর্ক’—যার মানে "সূর্য" বা "আলোক"। এই আলো খোঁজে উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র দিবাকর জলদাস। চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গা গাঁয়ের জেলেপল্লীতে যার জন্ম। দারিদ্রতা, বিভিন্ন শোষণ, বঞ্চনা ও অসম সামাজিক কাঠামোর বেড়াজালের মধ্যদিয়ে বেড়ে উঠা ছোট্ট দিবাকরের প্রতিবাদি কিশোরে পরিনত হওয়ার চিত্র প্রস্ফুটিত হয়েছে “অর্ক” এর মধ্য দিয়ে। যেন লেখক এখানে নিজের জীবনের কাহিনীই তুলে ধরেছেন এই দিবাকরে মাধ্যমে। ১৯৫৫ সালে হরিশংকার জলদাস এই পতেঙ্গা গাঁয়েরই এক জেলাপল্লীতেই জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দেখেছেন ঐ সময়ে তৎকালীন জেলাসমাজের সবাই কিরকম জন্ম থেকেই শোষণ, বঞ্চনা ও অসম সামাজিক কাঠামোর শিকার হয়ে আসছে। লেখক সমাজের নিম্নবর্গের মানুষদের জীবনসংগ্রাম, তাদের বেদনা এবং স্বপ্নের কথা তুলে ধরেছেন “অর্ক” উপন্যাসের মধ্যেমে।

উপন্যাসের শুরুতে দেখানো হয় দিবাকর সবে এগারো হতে বারো বছরে পা দিয়েছে। সে এখন পতেঙ্গা হাই স্কুলে সিক্সে পড়ে। তার এই হাই স্কুলে ভার্তী হওয়ার গল্প দিয়েই উপন্যাসের যাত্রা শুরু হয়েছে। যার মাধ্যমে লেখক তুলে ধরেছেন সকল সমাজের বাবা-মায়েরেই তাদের সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যত তৈরী করে দিতে কতটা উদগ্রীব থাকে, হোক তা সমাজের অবহেলিত বা হতদরিদ্র পরিবার। তারাও মনে মনে চায় তাদের সন্তানকে যেন অদূর ভবিষ্যতে তাদের মত নির্মম দারিদ্রতা, বিভিন্ন শোষণ, বঞ্চনার জীবন কাটাতে না হয়। দিবাকর লেখা-পাড়ার খুব ভালো ছিল। প্রাইমারি স্কুল থেকে সে ফাইভ পাশ করেছি। কিন্তু হতদরিদ্র জেলে বাবা বলরামের কাছে ছেলেকে পরবর্তীতে হাই স্কুলে পড়ানোর স্বপ্নটা যেন তেলহীন প্রদীপের মত নিভে যেতে থাকে। ঠিক সে মুর্হূতেই হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সেক্রেসারি ও সহকারী শিক্ষকের বদান্যতায় দিবাকরের জীবনে পুনরায় শিক্ষার আলোর অনুপ্রবেশ ঘটে। শিক্ষাকে অবলম্বন করে সে সমাজের এক অন্ধকার গহ্বর থেকে আলোর দিকে যাত্রা করে। ওপাড়ার ছেলেরা যখন জাল কাধে সমুদ্রের দিকে রওনা দিয়েছে, দিবাকর তখন হেঁটেছে স্কুলের দিকে। তার চারপাশের জগৎ এবং নিজের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলে। শুরু হয় দিবাকরের জীবন একটানা সংগ্রামের, আত্মসম্মানের, এবং আত্মপরিচয় নির্মাণের গল্প। এর পরপরেই উপন্যাসটির বাঁকবদল ঘটে। ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে শ্রেণী বৈষম্য ক্রমশ রূপ নেয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায়। বিশেষত ধর্মকেন্দ্রিক উত্তেজনা ও উসকানির মাধ্যমে এদেশের হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে পারষ্পরিক অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়। যার কিছুটা প্রভাব পরে দিবাকরের স্কুলেও। সেখানে হিন্দু ও মুসলিম ছাত্রদের মধ্যেও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। একটা সময় এসে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধও বন্ধ হয় এবং পুনরায় জেলা পাড়ায় মানুষে মানুষে মিল হতে থাকে এবং সময়ের পরিক্রমায় দিবাকরও হয়ে উঠতে থাকে সাহসী, প্রতিবাদী সবশেষে দেশপ্রেমী। মানুষের দুঃখ তাকে পীড়া দিতে থাকে। পরবর্তীতে ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭১ এর ঘটনাবহে দেশের মুক্তি সংগ্রামে রূপ ধারণ করে। সেই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানী বাহিনীর পাশাপাশি এদেশের কিছু সুবিধাবাদি মানুষ কী ভয়াবহ স্বরূপ উন্মোচন হতে থাকে। সমাজের লোভী, ক্ষমতাবান, ভণ্ড, স্বার্থপর চরিত্র চিত্রায়ন হয় ছোবান মেম্বারের মাধ্যমে, যিনি ধর্ম, রাজনীতি ও স্থানীয় নেতৃত্বকে অস্ত্র করে গরিব মানুষদের নিয়ন্ত্রণ করেন। নিজের দেশের মানুষের উপর যে নিজের দেশের মানুষই যে কি পরিমাণ অত্যাচর, শোষোন করতে পারে তার কিছু চিত্র উঠে এসেছে এই অর্কের মাধ্যমে।
সর্বপরি বইটা পড়ে ভালো লেগেছে।
Profile Image for Al Faisal Kanon.
152 reviews1 follower
February 27, 2025
‘অর্ক’ এক তরুণের কাহিনী, ‘অর্ক’ মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী। চট্টগ্রামের পতেঙ্গার নিভৃত এক জেলেপল্লিতে বেড়ে ওঠে দিবাকর। ওপাড়ার ছেলেরা যখন জাল কাধে সমুদ্রের দিকে রওনা দিয়েছে, দিবাকর তখন হেঁটেছে স্কুলের দিকে। তার চারপাশের জগৎ এবং নিজের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এর মধ্য দিয়ে লেখক এক অসহায়, অবহেলিত শ্রেণির স্বর প্রকাশ করেছেন, যারা শিক্ষা, অর্থ এবং সামাজিক মর্যাদার অভাবে বঞ্চিত। চরিত্রায়নের পরপরেই উপন্যাসটির বাঁকবদল ঘটে। ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে শ্রেণী বৈষম্য ক্রমশ রূপ নেয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায়। পরবর্তীতে ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭১ এর ঘটনাবহে তা মুক্তি সংগ্রামে রূপ ধারণ করে। বিশেষত ধর্মকেন্দ্রিক উত্তেজনা ও উসকানির মাধ্যমে এদেশের হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে পারষ্পরিক অবিশ্বাস সৃষ্টির একটা যন্ত্রণাদায়ক চিত্র পাওয়া যায়। লেখক খুব সুন্দরভাবে এই ছবিটি ফুটিয়ে তুলেছেন যে, পাকিস্তানী বাহিনীর পাশাপাশি এদেশের কিছু সুবিধাবাদি মানুষ কী ভয়াবহ কান্ড বাধিয়ে বসেছিল। কিন্তু সেটাই গল্পের সার নয়, বরং শেষপর্যন্ত এই উপন্যাসটি জেগে ওঠার, প্রতিবাদী হওয়ার, দেশমাতৃকার জন্য নিজেদের ত্যাগ স্বীকারের।

এই উপন্যাসে লেখক সমাজের নিম্নবর্গের মানুষদের জীবনসংগ্রাম, তাদের বেদনা এবং স্বপ্নের কথা তুলে ধরেছেন। লেখক একদিকে মানুষের অন্তঃস্থ অনুভূতিগুলোকে সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, অন্যদিকে প্রবল দেশপ্রেমের একটি নির্ভীক চেতনাকে তুলে ধরেছেন। ‘অর্ক’ শুধুমাত্র একটি উপন্যাস নয়, এটি সমাজের এক অবহেলিত শ্রেণির জীবনচিত্র। যারা জীবনসংগ্রাম, শোষণ, দেশপ্রেম এবং মানবতার প্রশ্ন নিয়ে রচিত সাহিত্য পছন্দ করেন, তাদের জন্য অর্ক অবশ্যপাঠ্য।
Displaying 1 - 3 of 3 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.