১১৯ পৃষ্ঠার গ্রাফিক নোভেল পড়লাম না তো! মনে হল শর্টকার্টে বায়োপিক মুভি দেখলাম। প্রচ্ছদের ঐ লোকটি আলেক্সেই মারেসিয়েভ, সোভিয়েত ইউনিয়নের বীর উপাধি প্রাপ্ত। কারণ, ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে মরতে মরতে আবার দেশের জন্য ফিরে আসা যায়! ইউরি গাগারিনকে তো প্রায় সবাই চেনেন! আর তিনি মহাকাশ জয়ের ক্ষেত্রে সকল দ্বিধা আর ভয়কে জয় করতে পেরেছিলেন আলেক্সেই মারেসিয়েভের জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েই।
গ্রাফিক নভেল। অতিকায় উপন্যাস, ব্লকবাস্টার মুভি কি মহাকাব্য—আলেক্সেই মারেসিয়েভ হতে পারতেন সবকিছুরই যোগ্য উপজীব্য। হয়ত গ্রাফিক নভেল বলেই ক্ষুদ্রতার মাধ্যমে তার সঙ্গে পরিচিত হতে পারলাম। বড় ধাঁচের হলে তো রাশিয়ান বলে, বিদেশী বলে অপ্রাসঙ্গিক ভেবে ঠেলে দিতাম। এভাবেও ফিরে আসা যায়। এভাবেই খুঁড়িয়ে, খুঁড়িয়ে না পারলে গড়িয়ে, তাও না পারলে হাতে ভর দিয়ে এগুনো যায়। অদম্য বুঝি একেই বলে... শিখলাম! মহাকাশ জয়ের প্রথম মানুষ কেন মনোবল ও সাহসের শিক্ষা পায় একজন পা-বিহীন বৈমানিকের কাছে। পৃথিবীর বাইরের সাহসিকতার খোরাক পৃথিবীর ভেতর থেকেই। অনুপ্রেরণা বড় ও শক্তিশালী হওয়ার জন্য পটভূমি বড় ও গুরুরত্বপূর্ণ হওয়া একটি নিছক অনাবশ্যকতা।
প্রথম কোনো রুশ গ্রাফিক নভেল পড়লাম। অ্যালেক্সেই মারেসিয়েভ নামক যুদ্ধাহত সোভিয়েত ফাইটার পাইলটের কাহিনি এটা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক মিশনে গিয়ে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মারসিয়েভ তাঁর পা হারান। একটা সময় তিনি জীবন নিয়ে আশা ছেড়ে দেন।
কিন্তু তাঁর হাসপাতালের কর্মীরা তাঁকে অনুপ্রাণিত করতে থাকেন। একটা সময় কৃত্রিম পা নিয়ে তিনি চলাফেরা করতে শিখেন। প্রবল ইচ্ছেশক্তির মাধ্যমে তিনি স্কোয়াড্রন কমান্ডার হন। অংশগ্রহণ করেন ওরিয়ল-কুর্সক রণাঙ্গনে। এ সুবাদে তিনি বীরত্বসূচক খেতাবও পান।
সবমিলিয়ে অসাধারণ গ্রাফিক নভেল। পড়ে দারুণ লেগেছে।
আলেক্সেই মারেসিয়েভ একজন সোভিয়েত বীর। যুদ্ধক্ষেত্রে চরমভাবে আহত হয়েও পঙ্গুত্বকে তিনি কিছুতেই মেনে নেননি।তাই তো আবারও তিনি অসীম মনোবল নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে যান।তাই এঁকে বিশ্বাস করা চলে।