Shamsur Rahman (Bengali: শামসুর রাহমান) was a Bangladeshi poet, columnist and journalist. Rahman, who emerged in the latter half of the 20th century, wrote more than sixty books of poetry and is considered a key figure in Bengali literature. He was regarded the unofficial poet laureate of Bangladesh. Major themes in his poetry and writings include liberal humanism, human relations, romanticised rebellion of youth, the emergence of and consequent events in Bangladesh, and opposition to religious fundamentalism.
সত্তরের দশকে স্কুলে (তখন এতো রকমের মাধ্যমের স্কুল ছিল না) বাংলা পাঠ্যবই (আমার বই)-এর সাথে একটা দ্রুতপঠন বই থাকতো, তার নাম 'চয়নিকা'। চয়নিকার মজাটা হচ্ছে এই যে, সেটা মূল পাঠ্যবইয়ের মতো কাঠখোট্টা নয়, বরং সেখানে মজার মজার সব গল্প আর কবিতা থাকতো, সেই সাথে মজার ছবি। চয়নিকার আরও মজা হচ্ছে সেখানে গল্প/কবিতার শেষে প্রশ্নমালা বা অনুশীলনী ধরনের কিছু থাকতো না, পরীক্ষাতেও ওখান থেকে কোন প্রশ্ন থাকতো না। তবে স্কুলে সপ্তাহে একদিন চয়নিকার ক্লাস হতো; আর আমি পারলে প্রতিদিন গোটা চয়নিকা বইটা একবার করে পড়তাম।
প্রথম শ্রেণীর চয়নিকাতে এই বইয়ের 'জুতোর বাহার' আর দ্বিতীয় শ্রেণীর চয়নিকাতে 'কাকের ছায়া' ছড়া/কবিতা দুটো ছিল। সেখান থেকে কবিতাগুলো প্রথম পড়া। ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত প্রথম সংস্করণটি হাতে পাইনি। যেটা পেয়েছিলাম সেটা শিশু একাডেমি নাকি মুক্তধারা বের করেছিল মনে নেই। এই বইয়ের কবিতাগুলো মানে ১৯৭৭ সালের 'ধান ভানলে কুড়ো দেবো' বা 'গোলাপ ফোটে খুকীর হাতে', অথবা ১৯৯৪ সালের 'রঙধনুর সাঁকো'র পর্যায়ের নয়। তবু ছোটদের কবিতা/ছড়ার নামে বছর বছর যে কয়েক টন আবর্জনা উৎপাদিত হয় সেগুলোর তুলনায় এর কবিতাগুলো ঢেড় ভালো। শামসুর রাহমানের ছড়া/কবিতাগুলো মাত্রা-ছন্দে খুব সহজ নয়, সেটা বাল্যকালে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে পড়ার সময় টের পেতাম। এখনো একটু খেয়াল করে না পড়লে উল্টোপাল্টা হয়ে যায়। তাঁর ছড়া/কবিতার মজাটাও বোধকরি এখানে।
পাঁচ তারার তিনটা কবি'র জন্য, আর বাকি দুটো হাশেম খান'কে তাঁর অলঙ্করণের জন্য।
ছোটদের জন্য শামসুর রহমানের অনবদ্য এই ছড়ার বই। সময় থাকতে ছোটদের হাতে এই রত্ন তুলে দেওয়া উচিত। কবি নিজেই বলেন,
আমার ছড়ার এ-বই পড়তে দেব কাদের? এ-বই পরার মতো সময় আছে যাদের, তাদের, তাদের, তাদের।
যারা জোছনা-রাতে দেখে পরীর নাচ, যারা জানালা দিয়ে দেখে সোনার গাছ, যারা হয় রে মাঝি নায়েব মতো চাঁদের, চাঁদের, চাঁদের, চাঁদের। আমার ছড়ার এ-বই হাতে দেব তাদের, তাদের, তাদের, তাদের।