ঐতিহাসিক নটরাজ মূর্তির খোঁজে একদল গেল বান্দারবানে। ভারত থেকে আসলো আরেকটি অনুসন্ধানী দল। মাঝখানে মূর্তিমান দুষ্টগ্রহের মতো এসে দাঁড়ালো এক বিদেশী। শুরু হল এক জটিল থ্রিলার গল্প।
বান্দরবানের আন্ধারমানিক রিজার্ভ ফরেস্ট নিয়ে কয়েক বছর আগে একটি ব্লগ দেখেছিলাম, জায়গাটাতে যাওয়ার অনুমতি সম্ভবত এখনও নেই। সেই থেকে আন্ধারমানিক মানেই গা ছমছমে শিহরিত একটা ভাব মনে কাঁটা হয়ে ছিল। সেই জায়গাটা নিয়েই যখন উপন্যাস, তখন কৌতূহল স্বভাবতই বেড়ে গেল।
প্রাচীনকাল থেকেই এই দেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার অভ্যন্তরীণ ছলচাতুরীতে চলে যায় বিদেশি জাদুঘরে। সেইরকম এক আবিষ্কার এবং কৌশলে পাচারের ষড়যন্ত্র নিয়ে উপন্যাস। চোলদের সাম্রাজ্য নিয়ে জানাশোনা মুগ্ধকর; এছাড়াও কৌতূহল মেটাবার মতো রসদ (জ্ঞানগর্ভ আলোচনা) যথেষ্ট ছিল, তবে কোথাও যেন ফাঁকা রয়ে গেল। বিশেষত জট খোলাটা হড়বড়িয়ে না বলিয়ে আরেকটু রসিয়ে বললে উপভোগ্য হতো। বেশকিছু অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা ও অহেতুক হিউমার তৈরির চেষ্টা আছে। তবে লেখকের প্রথম বই হিসেবে ছাড় দেওয়া যায়।
লেখকের ইতিহাস বলার ধরণ সত্যিই অসাধারণ। ইতিহাস এর মত কাঠখোট্টা বিষয়কে এত সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা অনেক দক্ষতার বিষয়। তবে বইটাকে হিস্ট্রিকাল থ্রিলার বলতে হলে আরো অনেক কিছু দরকার ছিল আসলে। শেষ দিকে অনেক দ্রুত কাহিনী আগায়। অনেক কিছুই খাপছাড়া লাগে।
৯০ দশকের লেখা বই হলে ভালো বলা যেতো। কিন্তু বর্তমান পাঠক দেশ বিদেশের বই পড়ে এত বেশি রিদ্ধ যে অগোছালো লেখা দিয়ে তাদেরকে খুশি করা যায় না। কিছু জায়গা রীতিমত ছেলেমানুষী লেগেছে। আরেকটু সময় নিয়ে গুছিয়ে লিখলে চমৎকার একটা বই হতে পারতো।
একটা গল্প পড়তে গেলে তার লেখার ভঙ্গিটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর সেটা যদি এলোমেলো, শিশুসুলভ মনে হয়, তাহলে গল্পের দিক থেকেই মন সরে যায়। তার সঙ্গে কাহিনিটাও খাপছাড়া। সব মিলিয়ে সময় নষ্ট।
৩.৫🌟 লেখকের পরের বইগুলোর অনবদ্য লেখনী পড়া থাকায় তাঁর প্রথমদিকের কাজ কিছুটা কম ভালো লাগাটাই স্বাভাবিক। তবুও বলবো চমৎকার এক আর্কিওলজিকাল থ্রিলার এই নটরাজ৷ দেশী প্রেক্ষাপটে চোলদের ইতিহাস, মহাভারতের পান্ড্যদের কথা, সাথে টানটান উত্তেজনার অভিযান। সবে মিলে এক বসায় পড়ে ফেলার মতো বই।
গল্পের প্লট সুন্দর। তবে গল্প বলার ধরন পছন্দ হয়নি আমার। কাহিনীর অনেক অংশেই কি হলো, বা কি হচ্ছে বুঝতে পারিনি (অগোছালো লেখনীর ফলে)। সাথে আছে পুরো বই জুড়ে বানান ভুলের ছড়াছড়ি।
বইটি এই উপমহাদেশের চোল জাতির ইতিহাস আর হারিয়ে যাওয়া চোল সাম্রাজ্যের শেষ নিদর্শন নিয়ে, যে ইতিহাস চোল আদিভূমির বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। চোল আদিভূমির নিয়ে যে বিতর্কের সূত্র ধরেই এই বইয়ের কাহিনীর শুরু। বান্দরবানের গহীনে খুঁজে ঐতিহাসিক নটরাজ মূর্তির পেছনে একদল আর্কিওলজিস্টের ছুটে চলা, সাথে ভারত থেকে আসা আরেক অনুসন্ধানী দল। এর মাঝেদিয়ে চিরায়ত ভিলেন হিসেবে স্বার্থসিদ্ধিকারী আরেক বিদেশি মূর্তি শিকারীর দলও এসে যোগ হলো। এছাড়াও ঘটনাক্রমে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে উঠে কাহিনীতে জড়িয়ে গেলো স্থানীয় এক বিপজ্জনক বম আদিবাসি। জেনে না জেনে হাজার বছরের ইতিহাসের স্বাক্ষী এক নটরাজ মূর্তির সাথে জড়িয়ে গেলো এরা সবাই। কিন্তু ঘটনার একেকটা মোড়ে চরিত্রগুলোর মুখোশ যেন বদলে যাচ্ছে, ভালো খারাপের সীমারেখাটাও আবছা হয়ে যায়।
পাঠ প্রতিক্রিয়া :
আমার বরাবরই ইতিহাস আর ধর্মীয় বিষয়ের উপর ভিত্তি করে লেখা থ্রিলার পড়তে ভাল্লাগে। কাল্ট থ্রিলার অনেক পড়া হলেও আর্কিওলজিকাল থ্রিলার আমার আগে পড়া হয়নি বললেই চলে। ইন্ডিয়ানা জোনস আর ন্যাশনাল ট্রেজারের মতো মুভিগুলো দেখে যে ধারণা হয়েছে, সে অনুযায়ী কাহিনী, উদ্দেশ্য আর টুইস্টের দিক এই বই মোটামুটি ভালোভাবেই উৎরে যায়। চোল সাম্রাজ্য নিয়ে লেখক যেই বিস্তর পড়াশুনা করেছেন, তা বইটা পড়লেই টের পাওয়া যায়। যথারীতি অন্য কাল্ট বাঁ আর্কিওলজিকাল থ্রিলারের মতোই এই বই পড়ে আমার মতো জ্ঞানপিপাসু পাঠক চোল সাম্রাজ্যের ইতিহাস, উত্থান-পতনসহ বিষয়গুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবেন। একদিক দিয়ে এই বইটি অনেকটা গবেষণাধর্মী বইও বলা চলে, কেননা ইতিহাসে যে চোলদের আদিভূমি এই বঙ্গের দিকেই ইংগিত বহন করে, সেটাই লেখক এই বইয়ে জানাতে চেয়েছেন। রিসার্চ করে নিজের হাইপোথিসিসের যেই ভিত্তি দাঁড় করে এই বই লিখেছেন, সেই ভিত্তি মোটেও উপন্যাসের জন্য তৈরী অথবা সম্পূর্ণ কাল্পনিক বলে উড়িয়ে দেওয়া যায়না, বরং সেটা যৌক্তিক ও বিশ্বাসযোগ্য মনেহয়। আমার কাছে এই বিষয়টাই বইয়ের সেরা দিক।
সবসময় পশ্চিমা মুভিতে আর্কিওলজিকাল ট্রেঞ্জার হান্ট বা অ্যাডভেঞ্চার হিসাবে আমরা যেসব দেখে থাকি, আমাদের উপমহাদেশীয় প্রেক্ষাপটে সেগুলো বেশ ভালো লেগেছে। বান্দরবানের রেমাক্রিতে শিবমন্দির, শিবলিঙ্গ, ওম এর মতো সনাতন ধর্মের চিরচেনা বিষয়গুলো নিয়ে যেভাবে ধাঁধাঁ ও মিস্ট্রি সলভিং এ কাজে এসেছে, তা প্রশংসাযোগ্য। আর্কিওলজিকাল ও ইতিহাসের বিষয়গুলো বোঝানোর জন্য বেশ কিছু জায়গায় ছবি ও ম্যাপ দেওয়ার বিষয়টি ভালো লেগেছে। বইয়ের একটা অংশে ইন্সপেক্টর কায়েস চৌধুরীর ডিডাকটিভ কথোপকথনের অংশটা তেমন প্রয়োজনীয় না হলেও বেশ ইন্টারেস্টিং মনেহয়েছে, তার কথাবার্তা হোমস কিংবা ফেলুদার কথা মনে করিয়ে দেয় সেজন্যই বোধহয়।
বইয়ের যে দিকটি তুলনামূলক দুর্বল মনে হয়েছে, সেটা হলো বর্ণনা। কাহিনী ও চারিত্রিক বর্ণনা, এক্সপ্রেশন-ইমোশন গুলো আরেকটু ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা গেলে পড়ে আরও মজা লাগতো। সবসময় ড্যান ব্রাউন অথবা দেশের মাশুদুল হক যেভাবে ইতিহাস আর ধর্মের কঠিন বিষয়গুলো কাহিনীর বাঁকে বাঁকে একটু একটু করে আমাদের গিলিয়ে দেয়, সেভাবে চোল ইতিহাসগুলো বোঝানো হলে আরও ভালো হতো। একবারে বেশি তথ্য একটু কঠিন মনে হয়েছে। আর বইয়ের শেষে টুইস্টের উপর টুইস্ট বিষয়টা ভালো লাগলেও, সে অংশটা বেশ তাড়াহুড়ো করে শেষ করে লেখা বলে মনে হয়েছে। আর প্রচ্ছদ তেমন পছন্দ হয়নি, আরও ভালো হতে পারতো।
বইটি দ্রুতগতির বই, একবসাতেই শেষ করা যায়। লেখক বইটা আরও বড় করে বেশি বর্ণনাসহ লিখলে অভিযোগ অনেকাংশেই কমে যেত। পৃষ্ঠাসংখ্যা ১২২। কাগজের মান ও বাঁধাই বেশ ভালো হলেও, ২৪০ টাকা দাম একটু বেশি লেগেছে। এছাড়া এই বইটিতে কোন ক্লিফ হ্যাংগার নেই, যদিও লেখক এই চরিত্রগুলো নিয়ে আরও বই লিখতে পারবেন।
সবমিলিয়ে এই আর্কিওলজিকাল থ্রিলার ঘরানার বইটি লেখকের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বাতিঘর, আদী থেকে বেশকিছু অসাধারণ দেশি মৌলিক থ্রিলার লেখা হলেও এই আর্কিওলজিকাল থ্রিলার বিষয়টা অধরা থেকে যাচ্ছিলো। দেশের মৌলিক থ্রিলার পাঠক হিসেবে চাইবো লেখক সিদ্দিক আহমেদ যেন তার সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠে এই ঘরানার আরও বই লিখতে পারেন।
কে কে বুঝতে পেরেছেন হাত তুলুন! অবশ্য আমার মতো শুধু ‘বাহুবলি বিগেনিং আর কনক্লুশন’ দেখা তামিল মুভির যারা দর্শক রয়েছেন তারা আশা ছাড়তে পারেন! ‘এ কম্মো আপনার জন্য নয়!’ তবে যারা পাড় ভক্ত আছেন, দেখুন না চেষ্টা করে? প্রায় চার হাজার বছর আগের তামিল ধাঁধাটির সমাধান করতে পারেন কিনা!
জ্বি পাঠক - প্রাচীন তামিল, বম আর প্রাকৃত ভাষার অাশ্চার্য এক জগতে প্রবেশ করতে চলেছেন আপনি। সিদ্দিক আহমেদের ‘নটরাজ’এ আপনাকে স্বাগতম।
সেমিস্টার ব্রেক’এ তিন বন্ধুর বান্দরবান অভিযান দিয়েই গল্পের শুরু। আন্ধারমানিকের রহস্যময় বনে হারিয়ে গেলো তাদের একজন। ঐ রাতেই ছেলেটাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হলে আজব এক গল্প শোনালো সে। ক্যামেরায় ছবি তুলে এনে দেখালো কালো পাথর কেটে বানানো একটা শিব মূর্তি; চার হাজার বছর আগে হারিয়ে যাওয়া এক উপকথার শেষ নিদর্শন, নটরাজ! ঢাকায় ফিরে আসার সাথেই নিজ বাসায় খুন হলো ছেলেটি। মেরে ফেলা হলো তার পোষা কুকুরকে। এদিকে ঐতিহাসিক সেই মূর্তির খোঁজে একদল লোক গেলো বান্দরবানে। ভারত থেকে আসলো আরেকটি অনুসন্ধানী দল। মাঝখানে মূর্তিমান আতঙ্কের মতো উদয় হলো এক বিদেশী। খুন হলো বম গাইড পাতেং বম। আকাশ-পাতাল এক করে শুরু হলো খোঁজ। চার হাজার বছর আগের ধাঁধার কথাই বলুন, কিংবা লোক মুখে ছড়িয়ে পড়া কিংবদন্তী – হারিয়ে যাওয়া সেই শিব মূর্তিটি আবিষ্কার হলে নড়ে যাবে মানব সভ্যতার ভিত। ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হবে চোল সম্রাজ্যের ইতিহাস।
আমি যেভাবে বন্ধুত্বকে সংজ্ঞায়িত করি ‘নটরাজ’এর চরিত্রগুলো তেমনি। সিহাব, নাবিলা আর জিতু’র গল্পটা আমাকে ‘আমার’ বন্ধুদের কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে। চোখ বন্ধ করলেই যেন আমি ‘হিমেল, শাওন, হাবিব, নূপুর, নীলা’কে দেখতে পাচ্ছিলাম। অন্য চরিত্রগুলোও বেশ গুরুত্ব পেয়েছে বইটিতে। রাশাদ নায়ক হয়েও তেমন ‘সুপার পাওয়ার’ পায়নি, জয়িতার সাথে তার অলিখিত রসায়ন ভালো লেগেছে (!)। রমণ বালামুরগান গল্পের প্রয়োজনেই অনেক জ্ঞানী, গম্ভীর। মেজর কামরান, রিজওয়ান নাদভী, পালিয়ান বম – চরিত্রগুলো বেশ গুছিয়ে লেখা।
বাংলায় মৌলিক থ্রিলারের শাখা গুলো বেশ ‘পুষ্ট’ হলেও ‘আর্কিওলজিকাল থ্রিলার’ বিষয়টা নিয়ে লেখার মতো দুঃসাহস তেমন কেউ দেখাননি। সিদ্দিক আহমেদকে ধন্যবাদ এজন্য, চার হাজার বছর আগের মিথকে তুলে এনে ইতিহাস অবিকৃত রেখে গল্প সাজানো নিশ্চয়ই সহজ ছিল না। চোল সাম্রাজ্য নিয়ে লেখকের বিস্তর গবেষণা বইটা পড়লেই বোঝা যায়। বাজি ধরে বলতে পারি, Tomb Raider কিংবা Indiana Jones, ‘নটরাজ’ কোন অংশেই কম নয়।
এই প্রথম ‘আলোঘর প্রকাশনীর’ বই পড়লাম। বইটি বেশ সাজানো গোছানো আর সুমুদ্রিত। কাগজের মান আর বাঁধাই প্রশংসা করার মতোই। ফন্ট বাছাই ও কম্পোজ পরিচ্ছন্ন। তবে শতাব্দী জাহিদের প্রচ্ছদ সাদামাটা লেগেছে, ফখরুল ইসলামের গ্রাফিক্স মার্জিত, গল্পের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পরের সংস্করণে আমি প্রচ্ছদে কিছুটা পরিবর্তন আশা করছি।
প্লটে এতো সফলতার পরেও সংলাপ নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি থেকেই যায়। লেখক ইচ্ছে করলেই সংলাপে কিছু শব্দ বাদ দিতে পারতেন। তাছাড়া, গল্প বলার ধরনেও কিছুটা ‘ছেলেমানুষী’ চোখে পড়েছে। বর্ণনায় আরও একটু কাজ করা যেতো বোধহয়। প্রথম দিকে তাই কিছুটা detailing miss করলেও অনেক জায়গায় আবার গল্পটাকে টেনে বড় করা হয়েছে। যেমন, রাশাদের সাথে কায়েস মাহমুদের কথোপকথন স্পষ্টত বিরক্তির জন্ম দিয়েছে। বাক্য চয়নে ‘করে দিলো, বাম হাত ঢুকিয়ে দিলো’ এই বাক্যগুলো ঠিক থ্রিলারের সাথে যায়নি। কিছু জায়গায় রাশাদ-রাশেদ হয়ে গেলেও ভুল বানান খুব বেশি চোখে পড়েনি তবে অনেক জায়গায়ই ইতিবাচক বাক্য শেষে ‘প্রশ্নবোধক চিহ্নের (?)’ এর প্রয়োগ প্রুফ রিডিং নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই পারে।
যারা এখনো ‘নটরাজ’ পড়েননি তারা অবশ্যই পড়ে দেখতে পারেন। আলোঘর প্রকাশনীর hard cover বইটিতে পৃষ্ঠা রয়েছে ১২২ টি, ছাড় ছাড়া মুদ্রিত মূল্য ২৪০ টাকা। আমি bookstreet থেকে বইটি কিনেছিলাম, তাই bookstreet’ই recommend করবো। আপনারা চাইলে rokomari.com, bibidho কিংবা পাশের কোন book shop’এ খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। ভালো থাকুন সবাই, ধন্যবাদ।
জঙ্গলের মধ্য দিয়ে ছুটে চলেছে সবাই। রাজপুরোহিতের কোলে চোল বংশের শেষ উত্তরাধিকার, চোলরাজা কুলোতুঙ্গের একমাত্র পুত্রসন্তান। পেছনে অন্য পুরোহিতরা বহন করে আনছেন বিপুল ধনসম্পত্তি আর পান্ড্যদের কুলদেবতার মূর্তি। যে মূর্তি ফিরে পাবার জন্য পান্ড্যরা যুগ যুগ ধরে আক্রমণ করে আসছে চোলরাজ্য।
চোলদের রাজধানী চোলামপুর প্রায় দখল করে নিয়েছে পান্ড্যরা। যখন বুঝতে পারলেন শেষরক্ষা হবে না, রাজা নির্দেশ দিলেন তার পুত্রকে আদিভূমিতে নিয়ে যাওয়ার। সেই আদিভূমি, যেখান থেকে নৌপথে তামিলনাড়ুতে এসে পান্ড্য আর পল্লবদের হঠিয়ে রাজ্য স্থাপন করেছিল চোলরা।
জলে-স্থলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আদিভূমিতে পৌঁছুতে পারলেন চোল পুরোহিতদল। স্থাপিত হলো শিবমন্দির। তারপর কেটে গেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী। কালের গর্ভে হারিয়ে গেলো চোলবংশ, সেই মন্দির, চোলদের ধনসম্পদ আর কিংবদন্তির পান্ড্য কুলদেবতা। কিন্তু সবাই ভোলেনি, আজো কিছু লোক তার খোঁজ করছে হন্যে হয়ে।
সেমিস্টার ব্রেকে বান্দরবান ট্যুরে এসেছে তিন বন্ধু - জিতু, নাবিলা, সিহাব। সাঙ্গু নদীর উৎপত্তিস্থল আন্ধারমানিক জঙ্গল দেখতে যাবে। গাইড পাতেং বম বারবার মানা করলো। বমদের প্রবাদ আছে, আন্ধারমানিকের গহীনে যে যায় তার মৃত্যু অনিবার্য!
জঙ্গলের ভেতর প্রাচীন এক স্থাপনা খুঁজে পেল জিতু। চাঁদের আলোয় দেখতে পেল কালো পাথর কেটে বানানো এক মানুষ সমান শ্যাওলায় ঢাকা শিবমূর্তি। মূর্তিটা চিনতে পারলো জিতু, নামটাও মনে পড়লো 'নটরাজ'!
ঢাকা। সাংবাদিক রাশাদ মাহমুদ ভারত থেকে ফোন পেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী আর্কিওলজিস্ট জয়িতার। জিতুর ফেসবুকে 'নটরাজ' মূর্তির একটা ছবি দেখেছে জয়িতা। বিখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ রমণ বালামুরগান ও তার সহকারী জয়িতা বাংলাদেশে আসছে, সেই মূর্তির খোঁজে। অভিযানে যুক্ত হলো রাশাদও।
কিন্তু যাত্রা শুরুর আগেই টের পেল, তারা একা নয়। আরো অনেকেই হাতাতে চাইছে মূর্তিটা। হয়ে গেছে দু দুটো খুন, চুরি হয়ে গেলো মূল্যবান কাগজপত্র। বিপদ মাথায় নিয়ে বান্দরবানের পথে রওনা হয়েছে অভিযাত্রী দল।
দেখা কি মিলবে নটরাজের?
সিদ্দিক আহমেদের লেখা উপন্যাস 'নটরাজ' একটি ট্রেজার হান্টিং থ্রিলার। পাশাপাশি উপন্যাসে রয়েছে প্রত্নতত্ত্ব ও ঐতিহাসিক আবহ পুরোদমে। লেখকের লেখনীতে প্রচুর ত্রুটি ছিল। দুই-তিনটি বাক্য একসাথে জুড়ে দিয়েছেন। অনেক বাক্য ছিল খাপছাড়া ও অসম্পূর্ণ। সাথে ছিল প্রচন্ডরকমের বানান ও যতিচিহ্নের ভুল। একজন লেখকের 'ই' এবং 'য়' এর ব্যবহারে ভুল করাটা পীড়াদায়ক। কিন্তু এইসকল ত্রুটি বিচ্যুতি লেখক উৎরে গিয়েছেন গল্পের বিষয়বস্তু দিয়ে।
চোলবংশের ইতিহাস আর হিন্দু পুরাণের বিভিন্ন উল্���েখ 'নটরাজ' উপন্যাসের মূল ভিত্তি৷ দক্ষিণ ভারতে পান্ড্য বংশকে হারিয়ে চোল বংশ প্রতিষ্ঠা, চোলদের উৎপত্তি আর আদিনিবাস নিয়ে আলোচনা বেশ চিত্তাকর্ষক। বিভিন্ন মুদ্রা ও লিপির পাঠোদ্ধারের সাহায্যে গল্পের পট রচিত হয়েছে। মুদ্রাগুলোর ছবি সংযুক্ত থাকায় বোঝাও সহজ ছিল।
জঙ্গলের মধ্যে প্রত্নতত্ত্ব খোঁজার অংশটাও ছিল দারুণ রোমাঞ্চকর। বুবি ট্র্যাপ, ধাঁধার সমাধান, হিন্দু পৌরাণিক বিভিন্ন চিহ্ন ও রীতির ব্যবহার করে করে রহস্যভেদ অসাধারণ লেগেছে। টুইস্টেরও কমতি রাখেননি লেখক। গল্পের কিছু মোড় অবশ্য গতানুগতিক, এধরণের গুপ্তধন খোঁজার অভিযাত্রায় যেরকম পরিণতি হয় সেই পুরনো ফর্মুলাই অবলম্বন করেছেন লেখক।
বইটির মূল আকর্ষণই হলো, লেখক প্রচুর পড়াশোনা করে চোলদের নিয়ে তাঁর তত্ত্ব দাঁড় করিয়েছেন। রহস্য সমাধানে যে পৌরাণিক উল্লেখগুলো তিনি ব্যবহার করেছেন, সেখানেও এর প্রতিফলন রয়েছে। শুধুমাত্র থ্রিলের জন্য পড়তে গেলে অতটা ভালো না লাগলেও, যারা ইতিহাস ভালোবাসেন, তারা একটু মনোযোগ সহকারে পড়লে চোল সাম্রাজ্য ও নটরাজ মূর্তি সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবেন।
বাংলার প্রাচীন ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে লেখা এই উপন্যাসটি নিঃসন্দেহে আমাদের দেশীয় মৌলিক থ্রিলারের তালিকায় একটি ভিন্নধর্মী উদ্যোগ। রাশাদ - জয়িতাকে নিয়ে লেখা লেখকের পরবর্তী উপন্যাস 'দশগ্রীব' পড়ারও আগ্রহ রইলো।
বইটা পড়তে পড়তে আমার মনের গহীনে যে একটা ভিজ্যুয়াল তৈরি হচ্ছিল সেটা অনেকটা হ্যারিসন ফোর্ড এর ইন্ডিয়ানা জোন্স অথবা অ্যাঞ্জেলিনা জোলির টুম্ব রাইডার এর মত। তুখোড় অ্যাডভেঞ্চার এ ভরা।
কিন্তু বই পড়তে গিয়ে অনেক সময়ই বিরক্ত লেগেছে। অনেক বানান ভুল। লেখার স্টাইল কেমন যেন, একটু ইয়ে টাইপের আরকি।
তবে, গল্পের প্লট টা দুর্দান্ত। বাংলা মৌলিক মিথলজিকাল থ্রিলার খুব কম পড়েছি। লেখক যদি আরেকটু যত্নশীল হতেন তবে ফাটায় দিতে পারতেন।
বইয়ের নাম: নটরাজ লেখক : সিদ্দিক আহমেদ প্রকাশনী : আলোঘর প্রকাশন। জনরা : আর্কিলজিক্যাল থৃলার। প্রকাশ কাল: নভেম্বর ২০১৬। প্রচ্ছদ :শতাব্দী জাহিদ। পৃষ্টা সংখ্যা: ১২২। মূল্য :২৪০ টাকা গায়ের দাম।
কাহিনী সংক্ষেপ::
অতি বড় বৃদ্ধ পতি সিদ্ধিতে নিপুন কোন গুন নাহি তার কপালে আগুন।। ------ ঈশ্বরী পাটুনীকে পার্বতী নৌকা পার হওয়ার সময় তার পতীর এই গুনটি বলেছিলো। কপালে আগুন তো সেই ধ্বংসের দেবতা শিব, তার আরেক পরিচয় নটরাজ। থাক সে কথা আলোচনায় আসি সিদ্দিক আহমেদ এর নটরাজ বইটিতে।
পরীক্ষা শেষে কোন ফ্রেন্ড সার্কেলই না ট্রুর এ না যায়? জিতু,সিহাব, নাবিলা ওদের সেমিস্টার শেষ। তাই ওরা টুরে গেলো বান্দরবন। তারপর জিতু একটি বিপদের সম্মুখীন হলো আর বিপদ থেকে উদ্ধার পেয়ে হঠাৎ দেখে ফেলল একটি নটরাজ এর মুর্তি। খাচাখচ ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে তুলে ফেলল কয়েকটা ছবি। তারপর ফেইসবুকে আপলোড দিলো এবং সেই ছবিই তার জন্য কাল হয়ে দ্বারালো। অন্যদিকে ভারত থেকে আর্কিটেক্ট রমন বালামুরগান পান্ডীয়া আসেন বাংলাদেশে। তার সহকারী বাংলাদেশী বংশভুত জয়িতা।যিনি জিতুর ফেইসবুক এর পোস্ট এ যে নটরাজ মুর্তি দেখেন এবং এরই সাথে রমন এর গবেষনার মিল পেয়ে যান, আর এই সূত্র ধরেই রমন এর বাংলাদেশে আশা। জয়িতা বিষয়টা তার ক্যাম্পাস লাইফের বন্ধু সাংবাদিক রাশাদকে জানায়। রাশাদ পেশায় সাংবাদিক হলেও তার নেশায় সেই আর্কিলজি। রাশাদ তাদের সাথে যোগদেয়। এভাবেই সেই পোস্টের সূত্রধরে বের হয়ে আসে অজানা সত্যি। বের হয়ে আসে শিব এর প্রতিকি চরিত্র নটরাজ এবং চোল সাম্রাজ্য। তারপর রাশাদ, জয়িতা, রমন এবং অন্যান্য সদস্য মিলে যায় সেই বান্দরবন এর আন্ধারমানিক নামক জায়গায়। উৎঘাটন করতে নটরাজ, পান্ড্যদের কুল দেবতার মুর্তি এবং চোল সাম্রাজ্য এর নির্দশন। আর তারপরেই জঙ্গলের এডভেঞ্চার আর ইতিহাস এবং প্রত্নতত্ত্ব এর নিদর্শন।
নটরাজ :: নটরাজ শিব এর একটি প্রতিকি রূপ। কথিত আছে নৃত্য ও সঙ্গীত শিবের সৃষ্টি।তিনিই নৃত্যনাট্য নৃত্যকলার প্রর্বতক। সহস্রনামে শিবের নর্তক ও নিত্যনর্ত নামদুটি পাওয়া যায়। পুরাণের মতে শিবের স্ত্রী সতীর মৃত্যুর পর শিব তান্তব নৃত্য করেছিল। এই তান্তব নৃত্য পর ধ্বংশ হয়ে পৃথিবী নতুন ভাবে সৃষ্টি হয়। তাই শিবের আরেক নাম নটরাজ।
চোল সম্রাজ্য:: চোল দক্ষিন ভারতের একটি রাজবংশ। দক্ষিণ ভারতের কোনো কোনো অঞ্চলে এই সাম্রাজ্যই ছিল, সর্বাপেক্ষা দীর্ঘকালীন সাম্রাজ্য। চোল রাজবংশের প্রথম নথিভুক্ত উল্লেখ পাওয়া যায় খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে লিখিত সম্রাট অশোকের শিলালিপিতে। বিভিন্ন অঞ্চলে এই রাজবংশের শাসন খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দী পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। অতপর আপতদৃষ্টি তে যেসকল প্রশ্ন এর উৎঘাটন হয় তা হচ্ছে , নটরাজ এর রহস্য? চোল সাম্রাজ্য এর ইতিহাস, চোল সাম্রাজ্য এর সাথে বাংলার কি সম্পর্ক?, জিতুর কি হলো? আর রাশাদ জয়িতা, রমন এর প্রত্নতত্ত্ব খোঁজায় কি বের হয়ে আসলো। সকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে সিদ্দিক আহমেদ ভাইয়ের নটরাজ বইটিতে।
পাঠ প্রতিক্রিয়া :: নটরাজ। সিদ্দিক আহমেদ ভাইয়ের লেখা আমার পড়া প্রথম বই। বইটা সেই ২০১৬ তে বের হলেও আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি। সাম্প্রতিক প্রীতম পাভেল ভাইয়ের আলোচনা দেখে আমি লোভ সামলাতে পারিনি, আর ইতিহাসের প্রতি ক্রেজি আমি সেই বাচ্চা কাল থেকেই, তাই নীলক্ষেত বাংলাবাজার ঘুরে এসে যখন বইটা পাইনি তখন বাধ্য হয়ে রকমারি.ডম কে অর্ডার দিয়েছি। এবং ডেলেভারি পাওয়ার সাথে সাথেই পড়ে শেষ করে ফেলি। তো এবার আসি বইটার গল্পে, প্রথমত্ব বলতে হয় লেখক সিদ্দিক আহমেদ ভাই সুন্দর একটি গল্প সাজিয়েছেন, ইতিহাস প্রত্নতত্ত্ব এর আলোকে চমৎকার একটি গল্পের প্লট দার করিয়েছেন। এক্ষেত্রে আমি ইম্প্রেস। আবার থৃলার গল্প হিসাবেও লেখক সাকসেস। গল্পের প্রয়োজনে নটরাজ এবং চোল সাম্রাজ্য এর যে ইতিহাস লেখক তুলে ধরছেন তা পাঠক এর জানার পরিধি বাড়াবেই। আবার জঙ্গলের এডভেঞ্চার এবং প্রত্নতত্ত্ব খোঁজের বর্ননা সত্যি অসাধারন লেগেছে। তো সর্বাপরি বলতে হবে বইটা দারুন লেগেছে। তথ্য ইনফরমেশন এ কিছুটা ত্রুটি রয়েছে। তবে সেটা মূখ্য নয়। সর্বাপরি বইটা প্রশংসা এর দাবি রাখে। ১২২ পেজের বইয়ে বানান ভুল ছিলনা বললেই চলে। বইয়ের বাঁধাই ছিল ভালো, এবং ক্রিম কালার এর পেজ যা চোখের জন্য সত্যি খুব আরামদায়ক। ত্রুটি বিত্রুটি থাকার স্বত্বেও বইটি আমার ভালোই লেগেছে। রেটিং দিলাম ৪/৫। প্রচ্ছদ শিল্পী শতাব্দী জাহিদ এর করা নীল ব্যাকগ্রাউন্ডে শিবের নৃত্যরত প্রচ্ছদটিও ছিল নজর কাড়ানো।
ইতিহাসের আলোচনা বেশি, থ্রিল নেই বললেই চলে। তার উপর যতটুকু থ্রিলার/ক্রাইম এলিমেন্ট ছিল সেটুকুও অগোছালো লেখনশৈলীর জন্য উপভোগ করা যায়নি। চরিত্রগুলো ভালো লাগেনি।
লেখক অনেক পড়াশোনা করেছেন বোঝাই যাচ্ছে, তার জন্য অভিবাদন। তবে উপস্থাপনা একদম বাজে। যেন পাঠককে ঠেসে ধরে জ্ঞান দিচ্ছেন। লেখকের জন্য এই এপ্রোচ আত্নঘাতী।
লেখকের 'দশগ্রীব' ও 'ধনুর্ধর' পড়ার পর এই বইটা পড়লাম জন্যে একটু আফসোস হচ্ছে। কারণ ওই দুটো বই এতটা পারফেকশনের সাথে লেখা, সেই তুলনায় 'নটরাজ' একটু পিছিয়ে।
তবে চোল ও পান্ড্য সাম্রাজ্যের নটরাজ মূর্তি খুঁজতে গিয়ে লেখকের সাথে বান্দরবানের গলিঘুপচিতে পাঠকও ঘুরে আসবেন এই বই পড়তে গিয়ে। জানতে পারবেন কিছু তথ্যসমৃদ্ধ ইতিহাস ও প্রতীকসমূহ। থ্রিল ও সাসপেন্সের সাথে সাথে একটানে পড়ে শেষ করে ফেলবার মতন একটা বই।
"নটরাজ", শিবের আরেক নাম । দুর্দান্ত প্রচ্ছদ আর প্রিয় লেখকের বই - পড়বার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের । অবশেষে আশা পূরণ হলো ।
আর্কিওলজি যারা ভালোবাসেন, তাদের এই বইটি ভালো লাগবে নিশ্চিত করে বলতে পারি । বইটিতে উপমহাদেশের দুইটি পুরানো সম্প্রদায় পান্ড্য এবং চোল'দেরকে নিয়ে বিস্তারিত লেখা হয়েছে ।
ঐতিহাসিক এক মূর্তি, যার জন্য কিনা খুন হতে হয় এক নিরীহ পর্যটককে, ভারত থেকে আসে অনুসন্ধানী দল, আবার তাদেরকে বাধা দিতে চলে আসে আরেক বিদেশী ! সব মিলিয়ে থ্রিলারে টইটম্বুর ।
লেখক সিদ্দিক আহমেদ সিনেমা পাগল মানুষ । তার গল্পের ক্লাইম্যাক্স সিনগুলো এমন ভাবে লেখা, যেন মনে হয় সিনেমার দৃশ্য গল্পের আদলে লেখা হয়েছে ৷ ঘন জঙ্গলের মধ্যে বুবি ট্র্যাপ সম্পর্কিত একটি দৃশ্য ছিল উপন্যাসে, পড়তে গিয়ে গা ছমছম করে উঠেছে ।মনে হয়েছে, বাস্তবিক জায়গাটিতে আমিই দাঁড়িয়ে আছি । দারুণ সিনেমাটিক স্টাইলে লেখা !
কিন্ত কিছু জায়গায় মনে হয়েছে অযথাই খুব তাড়াহুড়ো করা হয়েছে । কিছু থ্রিলিং দৃশ্য আরেকটু লম্বা হলে, আরেকটু গভীর ভাবে বিশ্লেষণ করা হলে ভালো লাগতো । লাষ্টের ট্যুইষ্ট একদমই প্রেডিক্টেবল না হলেও, ব্যাখ্যাটা আরেকটু গুছিয়ে বললে আরো উপভোগ্য হতো ।
উপন্যাসের দারুণ একটি ব্যাপার ছিল পাতায় পাতায় চোল এবং পান্ড্য সাম্রাজ্যের সময়কার মূর্তি, মুদ্রা এবং শাসনামলের সময়কার মানচিত্রের ছবি । প্রচুর পরিমাণে আর্কিওলজিকাল তথ্যের সমাহারে বইটি পরিপূর্ণ হলেও একটুও বোরিং হওয়ার সুযোগ নেই বর্ণনার নিপুণতার কারণে । এক বসায় পড়ে ফেলবার মতোন একটি উপন্যাস ।
বইটির নাম শুনেছিলাম। তবে সেভাবে কোন রিভিউ পড়া হয়নি। ভাবছিলাম পড়ব পড়ব, তবে কেনা হচ্ছিল না। ব্যস্ততায় আর কেনা হয়নি, তাই এক প্রকার বাধ্য হয়ে পিডিএফ পড়লাম। . আর্কিওলজির উপর ভিত্তি করে থ্রিলার এডভেঞ্চার লেখা বেশ কষ্ট সাধ্য বলা যায়। তার উপর সেটা যদি বাংলাদেশ ভিত্তি হয় তবে সেটা আরও কঠিন। কিন্তু লেখক বেশ কষ্ট করে পুরো বইটি লিখেছেন। গল্পে শব্দ চয়ন ও তথ্য গুলো বেশ চমকপ্রদ। . বলা যায় থ্রিলার হিসেবে এই জনরার ভেতর খুব খারাপ নয়। তবে শেষ টুইস্ট এ লেখক বেশ গোলমাল করে ফেলেছেন। এত দ্রুত করেছেন যে পুরো থ্রীলারটাই মাঠে মারা গিয়েছে। আর চরিত্র গুলোর ডেভলপমেন্ট আসেনি। গভীরতা কম। গল্পের গতি যতটা দরকার ছিল সেটাও নেই। . সব মিলিয়ে একে বারে খারাপ বলা যায় না। আবার সময়টা একে বারে খারাপ যায়নি।
বইটার শুরুটা যেমন হুট করে হয় শেষটাও হয় হুট করেই। এর আগে সিদ্দিক আহমেদের লেখা ‘পিপীলিকার ডানা’ পড়া থাকার তার দারুণ সাবলীল হাতের লেখনশৈলী সম্পর্কে ভালোই ধারণা ছিল। কিন্তু এই বইটা প্রথম বই হওয়ায় এখানে লেখনশৈলী অত পরিপক্ক ছিল না। তার উপর সম্পাদনায় ব্যাপক ত্রুটি ছিল। দাঁড়ি এর জায়গায় প্রশ্নবোধক চিহ্ন বারবার ভড়কে দিচ্ছিল। অনেক বানান ভুল ছিল বিধায় কিছুটা অসুবিধা নিয়েই পড়তে হয়েছে। তবুও লেখকের ইতিহাস বলার স্টাইলটাকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হয়। দারুণভাবে ইতিহাস উপস্থাপন করেছেন লেখক। বেশ গতি ছিল বইয়ে। কিন্তু শেষটা ভালো লাগেনি। তবুও রাশাদ চরিত্রটাকে ভালোই লাগলো। সবশেষে বলবো, এভারেজ!
কাহিনি ভালো ছিল। ইতিহাস জানতে পারলাম। কিন্তু বার বার মনে হচ্ছিল লেখক ধরে বেঁধে জোর করে জ্ঞান দিচ্ছেন, অনেকটা জোর করে খাদ্য গলধঃকরণের মতো। উপন্যাসে বলা হয়েছে এটা থ্রিলার। কিন্ত থ্রিলারের থ টা ও পেলাম না। যাই হোক এটাকে থ্রিলার না বলে ঐতিহাসিক কিছু বললে ভালো হতো বোধহয়। বইটা লেখার আগে লেখক যে খুব পড়াশোনা করেছেন এই বিষয়ে তা বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু উনি এমন ভাবে কিছু জায়গা বর্ণনা করেছেন যেন নিজের সব টুকু জানা উজাড় করে দিবেন, অনেকটা আমি অনেক জানি এটা প্রমাণ করতে চেয়েছেন যেন। যেন প্রদর্শন করেছেন আমি অনেক জানি....!!!
লেখকের সদ্য প্রকাশিত বইগুলো আগে পড়া হয়েছিল, নটরাজ বইটি লেখকের শুরুর দিকের বই। একারণেই হয়তো সদ্য প্রকাশিত বই এর সাথে একটা অসম তুলনায় ফেলে দিয়েছি। সদ্য প্রকাশিত বই এর তুলনায় বলতে গেলে নটরাজ বইটি অনেকটাই পিছিয়ে, আর এটা স্বাভাবিক, প্রথম দিকে একটু জড়তা থাকতেই পারে। যাই হোক পরবর্তীতে লেখকের লেখা আরও পরিপক্ব হয়েছে এবং “স্বর্ণবাজ” , “ধনর্ধুর”, “চতুরঙ্গের অশ্বারোহী” এর মতো প্রভৃতি দারুণ দারুণ বই এর প্রকাশ ঘটেছে। আশা করি লেখক ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখবেন।
শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে গেল। খুব তাড়াহুড়ো করে শেষ করেছেন বইটা। তবে লেখকের ইতিহাস উপস্থাপন বেশ ভাল লেগেছে। বই লিখার জন্য বেশ পড়াশুনা ও করেছেন । অর্জিত জ্ঞান পাঠকদের কাছে কিছু জায়গায় কম প্রকাশ করলেও পারতেন। নিতান্তই থ্রিলার পড়ার জন্য পড়লে বইটা না পড়াই ভাল হবে। তবে সাধারণ পাঠক হিসেবে পড়তে পারেন, নতুন কিছু জানতে পারবেন ।
এর আগে লেখকের লেখা দশগ্রীব পড়েছি খুব ভালো লেগেছিল। নটরাজ পড়ার খুব ইচ্ছে ছিল। অবশেষে পড়লাম এবং খুব ভালো লাগলো। তবে পৃষ্ঠা সংখ্যা আরো একটু বাড়ালে খুব ভালো হত। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দারুন উপভোগ করেছি। এতটুকু বিরক্তিবোধ আসেনি পড়তে পড়তে। এটি দারুন একটি থ্রিলার বই অবশ্যই ইতিহাসের ছোঁয়া রয়েছে।এক নিশ্বাসে শেষ করার মত একটি বই।
গল্পের প্লটটা অনেক সুন্দর, কিন্তু উনার লেখনভঙ্গি খুব একটা ভালোনা! কোন রকম ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট না থাকায় ক্যারেক্টারের সাথে কানেন্ট হওয়ার সুযোগ নেই। তাছাড়া মুল গল্প খুব যাচ্ছেতাই ভাবে এগিয়েছে। বইয়ের একনাত্র ভালোদিক হচ্ছে ইতিহাসের অংশটুকু, দ্বারুন ভাবে চোল আর পান্ড্যদের ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস আরো সমসাময়িক অনেক কিছু বর্ননা করা আছে।
লেখকের ইতিহাস বলার ধরণ সত্যিই অসাধারণ। ইতিহাস এর মত কাঠখোট্টা বিষয়কে এত সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা অনেক দক্ষতার বিষয়। তবে বইটাকে হিস্ট্রিকাল থ্রিলার বলতে হলে আরো অনেক কিছু দরকার ছিল আসলে। শেষ দিকে অনেক দ্রুত কাহিনী আগায়। অনেক কিছুই খাপছাড়া লাগে।